Amir Azam Khan

স্মৃতিময় গীতিময়//

-আমীর আজম খান ।

উনিশশো ঊনআশি সালে সম্ভবত শৈশব ও কৈশোরের মাঝামাঝি তখন আমি। আব্বাকে খুবই বিরক্ত করছি। আষাঢ়ের প্রথমার্ধে কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে এন এস রোডে প্রাচীনকাল থেকেই রথের মেলা বসে। আমি বায়না ধরেছি বাঁশি আর সোলার রঙিন টুপি কিনে দিতে হবে। আব্বা শুধু মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুই এখন ওসব কী করবি?!’ বলেই একটু নরম হয়ে সাথে নিতে রাজি হলেন। আমি অপরিসীম আনন্দিত, এমন সুযোগ পেয়ে! বাড়ি ফিরে এলে মা’ও বিরক্ত হয়ে বললো ‘বড় হচ্ছিস এসব কিনে কি হবে!’ আমি অবুঝ হয়ে খানিক দুঃখিত হলাম। তবু বাঁশি হাতে টুপি মাথায় দিয়ে বাড়ির দক্ষিণ দিকে ( এখানে এখন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হয়েছে, এটা পেরলেই সেচখাল। এবং এই মেডিকেল কলেজ এর সামনে ঢাকা রোড ক্রস করে উত্তর -দক্ষিণ বরাবর সড়কটি এখন আমাদের বাবা আব্দুল মজিদ খান এর নামে চিহ্নিত ) গংগা কপোতাক্ষ প্রধান সেচখালে গোসল করতে গেলাম। যথারীতি সাবান-গামছা-হাফপ্যান্ট সংগে রয়েছে। খালে ঝাঁপ দেওয়ার আগে রোদের ওপর টুপি ও বাঁশি গুছিয়ে রাখলাম। সে সময়ের ঘন্টাগুলো যেন খুব ছোট হতো। কমপক্ষে দু ঘন্টা পানিতে ঝাঁপাঝাপি করে গা মুছে শুকনো প্যান্ট পরে টুপির কাছে গিয়ে দেখি মাঝ বরাবর বড় রকমের চিড় ধরেছে। রোদের তীক্ষ্ণ তাপ সোলা সইতে না পেরে একদম চৌচির! অনেকক্ষণ দেখে খুব কান্না পাচ্ছে। এত পছন্দের জিনিস ভেঙে ছত্রখান হতে দেখে বুকের ভেতর কষ্টে…। মনে তবু সিদ্ধান্ত এলো বাড়ি গিয়ে একই রঙের কাগজের সাথে আঠা দিয়ে লাগিয়ে নেব। ঘরে ফিরেই কাজে লেগে গেলাম। সব সম্পন্ন হবার পর হঠাৎ নিজেকে বড় মনে হলো। এমনকি দুঃখের বদলে লজ্জাবোধ শুরু হলো! সত্যিই তো মা-বাবার কথাই ঠিক আমি বড় হয়ে গেছি। তারপর বেশ কিছুদিন ব্যাপারটা মনে এলে যুগপত শরমে মরমে মিইয়ে যেতাম! এখন বুঝি ওটা আমার শৈশব কৈশোরের সন্ধিক্ষণ!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *