Anjan Mukhopadhyay

বিশ্বের বালাই
অঞ্জন মুখোপাধ্যায়

বিজ্ঞাপনে এক শতাংশও মিথ্যে ছিল না।
ফ্ল্যাটটার পূব খোলা মানে, পূব খোলাই।
বড় আবাসনের চারদিক দুই মানুষ উঁচু পাঁচিল মানে বচ্চনের সাইজের দুই মানুষ সমান পাঁচিল।
পাঁচিলের ধার ঘেঁষে চওড়া রাস্তা উত্তর দক্ষিণ মুখী। আর রাস্তা পেরিয়ে কোমর সমান পাঁচিল ও তারপরে প্রমান সাইজের ‘সনাতনী’ ক্লাবের মাঠ। প্রমান সাইজ বলেই এখানে কলকাতা লিগের নীচের ডিভিশনের ফুটবল হয়, বিখ্যাত ক্রিকেটারের ক্রিকেট কোচিং ক্যাম্পও চলে মহা সমারোহে।
‘সনাতনী’ আবাসনের তিনতলার এই ফ্ল্যাট আচমকা হাত বদল হয়েছে। সঞ্জীবনের কাছে প্রস্তাব যেতে এক সেকেন্ড না ভেবেই সে ফ্ল্যাটটা কিনে নিয়েছে ঠিকঠাক প্রাইসে।
আর এসে বুঝেছে এই আবাসনের ব্যাপারে তাকে যা যা বলা হয়েছিল, তাতে কোত্থাও মিথ্যে ছিল না। সব কিছু সুন্দর এখানে, এত বিশাল আবাসনের সব কিছু এত নিখুঁত ও প্রানবন্ত যে বলার নয়।
কিন্তু, রাত প্রায় একটায় নিঝুম চরাচরের মাঠের অর্থাৎ পূর্ব দিকে থেকে মৃদুমন্দ বাতাসেও তিনতলার ঝুল বারান্দায় নির্ঘুম ও মনমরা সঞ্জীবন।
তার পজিটিভ বেরিয়েছে!!
আজ্ঞে না – করোনা পজিটিভ না।
এইচ আই ভি পজিটিভ।
এইডস-এর পদধ্বনি!!!!
লকডাউন না হলে, করোনার হাল্লাবাজি না থাকলে, এতদিনে তার এই বদনামী রোগ নিয়ে নির্ঘাত ঝামেলা হতো এখানে। মাত্র ছমাসের বাসিন্দা সঞ্জীবন গোস্বামীকে নিয়ে কী যে গল্প ছড়াতো কে জানে।
জনতা কার্ফুর আগের দিন রিপোর্টটা নিয়ে অচিন্ত্য প্রায় বেকুবের মতো তার দিকে তাকিয়ে কেঁদে ফেলেছিল।
তার প্রথম প্রশ্নটাই ছিল, শুয়ার, তুই গেছিলি কোথায়? তোকে এতবার বারণ করেছিরে ছাগল… এগুলো এবার বন্ধ কর।
সঞ্জীবনও কম ঘাবড়ে যায় নি। গত দু তিন মাস তার তাকত যেন কোথাও একটা ডাউনে চলে যাচ্ছিল। কাম ফাম সব মনে, শরীর নিচ্ছিল না। কিন্তু ঠিক কোন চক্করে সে ফেঁসে গেল এখনও ভেবে পায় নি।
এক্সপোর্টের বাণিজ্য করতে গিয়ে এদিকে অস্ট্রেলিয়া, ওদিকে চিন, তাকে করতেই হয়। আর তাল বুঝে তার রসও যখন জেগে ওঠে, তখন তো – খ্যাপা ঠিক খুঁজে নেয় নারীর পরশ ………

অচিন্ত্য ফোনে তাকে রোজই তাগাদা দিচ্ছিল, চিকিৎসাটা শুরু করা দরকার বলে। কিন্তু ধুঁয়াধার লকডাউনের প্রথম কদিনের হট্টগোলে কোথায় গিয়ে কী করা যায় ভাবতে ভাবতে সময় চলে গেল গুনে গুনে নব্বইটা দিন।
অচিন্ত্য উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করেছে, কোথাও একটা গিয়ে ওজনটা করে দেখেছিস।
আবাসনেই রয়েছে চমৎকার জিম। যদিও বন্ধ এখন। সেখানে দেখা গেল ওজন কণামাত্র কমেনি তার। তাদের দুই বন্ধুর উদ্বিগ্ন হওয়ার কারন এই সময়টা চলে যাওয়া নিয়েও। কারণ তথ্য বলছে, এইচ আই ভি আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সবার এইডস হয় না। বরং শুরুর দিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা, হালকা জ্বর টর ইত্যাদি হতে পারে। ক্রমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকলে, খেল, খতমের দিকে যায়।
সঞ্জীবন প্রাথমিক ভয় কাটিয়ে ফেলেছে। তার মনে কোথাও একটা গুপ্ত ক্লান্তি ছাড়া কিচ্ছুটিও টের পাচ্ছে না সে। ওই ক্লান্তিতেই তার স্বাভাবিক স্ফূর্তির জায়গাটা ডাউন হয়ে গেছে।
ত্রিপুরা থেকে আনা চমৎকার ইজি চেয়ারটায় বসে সুন্দর একটা হাওয়াতে ঢুলে পড়ছিল সঞ্জীবন। আর ঠিক তখুনি অদ্ভুত ঘটনাটার শুরু।
কীরকম ঘটনা?
ঠিক যেন ফোন কল!!!
তার শরীরের ভেতরে যেন ভীষণ সুদূরের অতি অস্পষ্ট এক কনভারশেসন শুরু হয়েছে মনে হলো তার। যেন দুই পক্ষ ফোনে কথা বলছে!!
এ শালা চার্লি চ্যাপলিনের সিনেমা নাকি বাপ!!

‘আজব!
এমন কখনও দেখি নাই।
এমন কখনও দেখিব, ভাবিও নাই।
আমাতে মনোযোগ নাই মানব জাতির? হরিবোল – এসকল কী হইতেছে!!!
যৌন সংসর্গ তথা রক্তের সংযোগই আমার অত্যন্ত প্রিয় – এক ধারক হইতে অন্য ধারকের রক্তে। ধারক কিংবা ধারিকা – সে ডিক্সনারি বলিবে। আমি খুব কিছু মিউটেশন তথা চরিত্রের পরিবর্তন করি না। তবে আমাতে আক্রান্ত হইয়াছে যে জন, সে অঞ্জন হউক অথবা অনিকেত, তাহার চরিত্রে কালিমা পড়িবেই। প্রতিবেশি তাহাকে অতিশয় লুজ ক্যারেকটকার মনে করিবে, বেপাড়ার নিয়মিত খরিদ্দার মনে করিবে।
এইচ আই ভি ভাইরাস পজিটিভ হইয়াছে – ইহার চাইতে ডেঞ্জারাস বাক্য বিশ্বে আসিতে পারে আমার ধারনা ছিল না।
আমার ধারকের রক্তে প্রবেশ করিয়া কয়দিন তাহার অন্দরের যন্ত্রপাতির পরিমাপ করিতে করিতে হাসিতেছিলাম। এ ব্যাটা বহুত শক্তিমান – লিভার বলো, অগ্ন্যাশয়, ক্ষুদ্রান্ত – ইহার কিডনি দুই বড়ই তেজি, সমান তেজি ইহার ধুকপুকুনি অর্থাৎ ইহার হার্ট। নীরোগ এবং নির্দোষ এক রসের মানুষ, ইহার যৌনাঙ্গ পরিমাপ করিয়া নিয়াছি। রোগ ইহার মস্তিষ্কে – সারাক্ষণ কামজর্জর … অথচ, কয়দিনেই মালুম হইল, আমার আগমন ইহার শরীরে হইয়াছে জ্ঞাত হওয়া সত্বেও বীরপুঙ্গব গৃহেই নিশ্চুপ, এঘর ওঘরে পায়চারি ছাড়া কোনও কর্ম করে না। আশ্চর্য।
ভারী আশ্চর্য।
অতঃপর শুনিলাম তাহার নাম।
এক বাচ্চা ইডিয়ট।
সে নাকি পজিটিভ হইলে সমাজ দূর দূর করিয়া খেদাইয়া দিতেছে পেসেন্টকে। পেসেন্টের পরিবারকে।
আর তাহার সংক্রমণের হার অতি ভয়ানক। অত্যন্ত দ্রুত।
ড্রপলেট … ব্যস?
কিমাশ্চর্যম!!!
একটি ড্রপলেটে বিশ হাজার চল্লিশ হাজার ভাইরাস শূকর ছানার ন্যায়!!!
শূকর ছানা, কুকুর ছানা নাকি বিল্লি ছানা – কী বলিব। সংখ্যায় তারা কোটি কোটি নাকি।
করোনা ইহার নাম। একটি সাহেব সাহেব নামও বলা হইতেছে – কোভিড।
কোভিড আসিয়া নাকি আমাদিগকে – আমাদের সকল রোগবালাইকে একা হস্তে ঢিড করিয়া দিতেছে!!!
আমি এক ভয়ানক রোগের নাম। মানব জাতি বহুত চেষ্টা করিয়াও তল পাইতেছে না। ক্যানসার দাদাও বড় নাম, তাছাড়া ক্যানসার দাদার ইজ্জতও অতি উচ্চে। আমার দুর্বলতা একটিই, আমার রোগটি বড়োই বদনামী।
উহার নাম শুনিয়া প্রথমে গ্রাহ্য করি নাই। অতঃপর কর্ণ কুহরে দিবারাত্র করোনা ‘ধরা পড়িয়াছে’ শুনিতে শুনিতে কিঞ্চিত ঈর্ষা যে হয় নাই – তাহা নহে। কিন্তু অচিরে হতাশা গ্রাস করিল। এ কী কাণ্ড শুনি। বিশ্বের সমস্ত রোগবালাই কোন পশ্চাতে চলিয়া গেল। সমস্ত হসপিটাল, মানুষ, ওই নব্য হনুমানের নামে করিয়া দিতে শুরু করিল। এত আতংক বিশ্বব্যাপী। দুনিয়া এখন নেটযুক্ত, অথচ তাহার নেটওয়ার্কে সক্কলে ‘ধরা পড়িতেছে’ ফটাফট।
বিশ্বের শ্রমিক তো বহুত চেষ্টা করিয়াও ‘এক’ হইতে পারে নাই। বৎসরে একটি দিন বড়জোর পালন করা হয়। কিন্তু বিশ্বের সমস্ত ‘ডিজিজ এক হও’ – এই শ্লোগান তুলিয়া আমি একবার অবশ্যই চেষ্টা করিব।
কবীর দাসের হিন্দি দোহা রহিয়াছে, কাল করে সো আজ কর, আজ করে, সো আভি।
কাহার সহিত প্রথম যোগাযোগ করা যায়?
প্রথম যোগাযোগটি ক্যানসার দাদার সহিত করিব ভাবিয়াও হাত কাঁপিয়া গেল আমার। ওর ওই ব্যারিটোন স্বরে একবার না বলিয়া দিলে এই শুভ কর্মের পরিসমাপ্তি ঘটিবে।
একেবারে তালপাতার সেপাইটিকে আগে ধরি। এক্কেবারে নীচের তলে সেনগুপ্ত মহাশয়ের আজীবনের সঙ্গী।
সে বলিল, হ্যাঁ মহাশয়, আমি আমাশয়। (পাক্কা কর্পোরেট স্টাইল, শিখিয়াছে মন্দ নয়)
আমার পরিচয় পাইয়া প্রথমে সে ভীত ও নির্বাক হইল। তবে সামলাইয়া নিয়া করজোরে (মনঃশ্চক্ষে দেখিলাম) বলিল, কী সৌভাগ্য।
আমি বলিলাম, শোনো ভাই, এসব কথা থাক। পরস্পরের পীঠ চুলকানি পরে হইবে। আগে বলো, ওই হনুমানকে রোধ করিবার কী উপায়?
সে বলিল, মিটিং করা দরকার আমাদিগের – আপনে যেমনটা ভাবিয়াছেন।
মহাশয় আমাশয়কে বাজাইয়া দেখিব বলিয়া বলিলাম, ডর লাগিতেছে?
অবশ্যই।’ অকপট, শতাব্দী প্রাচীন ভাইরাস!
বলিল, ভয় কী জানেন স্যর, কো-মর্বিডিটি শব্দটি কাঁচকলা কেউ জানিত না। এখন জানিয়াছে। আর ও শালা – মাফ করিবেন, গালি দিলাম, আমার সেনগুপ্তের ঘাড়ে আসিয়া পড়িলে উহাকে হাগাইয়া মারিবে। আমি আর কয় বার হাগাই! ঔষধ খাইলে হালকা হাসিয়া সেনগুপ্তের অন্ত্রের একটি কোণে কয়েক সপ্তাহের নিদ্রা দিই, ব্যস। কিছুদিন অন্তে পুনরায় সেনগুপ্তের লুজ মোশন শুরু হয়, হি হি হি।
হাসিও না, উপায় কী?’ আমার প্রশ্ন।
মিটিং।’ সজোরে বলিল সে। ‘বিশ্বের বালাই এক হও’।

বিশ্বের শ্রমিক ধীরে ধীরে ‘মাস্কবাদী’ হয়ে গেলেও – না, বিশ্বের বালাই এক হলো না।

সে এক মর্মন্তুদ কাহিনি। আসলে মানুষের রোগ বলে কথা, স্বভাবও মানুষের মতোই তো হবে!

কোনও কোনও রোগের পারস্পরিক বন্ধুত্ব ব্যাপক, তারা একে অপরের ওপর নির্ভরও করে। আবার কোনও কোনও রোগের সম্পর্ক যেন মমতাকে বিরোধীরা যে চোখে দেখে, সেরকমটা। ‘সনাতনী’ আবাসনের প্রায় তিনশো ফ্ল্যাটের মধ্যে অন্তত দুশো ফ্ল্যাটে অন্তত আড়াইশো বাসিন্দার ডায়াবিটিস রয়েছে। ‘বালাই’রা মেনেও নিয়েছে ডায়াবিটিসের চূড়ান্ত ‘জনপ্রিয়তা’র কথা। সেই ডায়াবিটিসের অবস্থা, এইচ আই ভি ভাইরাসের ভাষায়, এক্ষণে সর্বাধিক শোচনীয় – তাহার সকল ক্রেডিট হাতাইয়া নিতেছে ওই কোভিড। শেয়ার বাজারে কোটি টাকার লগ্নীতে ধস নামিলে যেমন হয় বা ভালোবাসার প্রেমিকা গদ্দারি করিয়া ভাগিয়া যাইলে যেমন হয় – তাহার চাইতেও আনমনা ও বিধ্বস্ত চেহারা এক্ষনে ডায়াবিটিস মহোদয়ের।
সদাহাস্যময়, উদার, রসিক ও দুরন্ত এনার্জির আধার ডায়াবিটিস সত্যিই বিভ্রান্ত এখন।
রোগ বালাইয়ের ‘এক হওয়ার’ প্রস্তাবে এক কথায় ‘না’ বলেও এইচ আই ভির ‘ক্যানসার দাদা’ ডায়াবিটিসের খোঁজ নিয়েছিল। আর বলেছিল, মিটিং-এ আমার ডানপাশে বসে থাকবে খুজলি আর বাঁ পাশে ভগন্দর – আমার পোষাবে? দূরে দেখব দাঁত কেলিয়ে হাসছে হাইড্রোসিল – এ কী মজা নাকি? আমি ব্রাহ্মণ শ্রেষ্ঠরে ভাই – এ সব প্রস্তাব ট্রস্তাব দেওয়ার সময় এটা একটু খেয়াল করতে হবে না?
ওদিকে এক ঘণ্টার মধ্যে এক গবেষণাপত্র পেশ করে নিউমোনিয়া দেখিয়ে দিল, এইডসের নামের মধ্যে রয়েছে ‘ইমিউনিটি’(ইমিউনোডেফিসেন্সি) – মানুষেরা যা নিয়ে এখন বেধড়ক লম্ফঝম্ফ করছে। আর ওই ইমিউনিটির গ্রাফ ফালতু উর্ধগামী মানে জ্বর সর্দিকাশির বাজার খারাপ। তাছাড়া, এইচ আই ভি যা করে তার সঙ্গে করোনার মিল অমিল চমৎকার।
এইচ আই ভির কাজই হলো শক্তিমান মানুষের সর্ব অঙ্গের ‘একে একে নিভিছে দেউটি’ হাল করে দেওয়া। আর তারপরেই ওই অঙ্গে অঙ্গে জলতরঙ্গে ভূতের নাচন। হাতি কাদায় পড়লে যা হয় আর কী। সামান্য উদরাময় ওই মানুষকে তুর্কি নাচন নাচায়। অন্যদিকে করোনা কী করছে বলে শোনা যাচ্ছে?
ব্যাটা নিঃশ্বাসের সঙ্গে ঢুকে প্রথমেই দু হাত বাড়িয়ে, ভাইরে’ বলে জড়িয়ে ধরছে ভেতরে জমিয়ে বসে থাকা রোগ বালাইকে। বিশেষ বন্ধুত্ব করছে ডায়াবিটিসের সঙ্গে। ওর প্রানবন্ত কথায় ওকে জড়িয়ে ধরলেই, ব্যস … আউরঙ্গজেব যেভাবে জড়িয়ে ধরে ছুরি মেরেছিল দারাশুকোর মতো ভাইকে, এ-ও তাইই করছে। তারপর কো-মর্বিডিটি বা অন্য রোগের ফিল্ডে গিয়ে নিজের স্পাইক দিয়ে শেষ খোঁচা!!!
এবং দুজনের ভয়ানক মিল – দুটোই মানুষকে পাড়াছাড়া করে।

অ্যালঝাইমার্সের ভুলো মন হলেও সবাইকে মনে করিয়ে দিয়ে বলেছে, সিনেমার পর্দায় ওরকম ওয়ান ফিল্ম ওয়ান্ডার বহুত এসেছে। একটাই হিট, তারপরে ফুরুত। এই সিজনে নাম কামিয়ে নিক, সামনের সিজনে, মানুষকে তো চেনে না, ওর স্পাইক কামিয়ে ওকে ওই ‘পোলিও’ বানিয়ে দেবে। কিংবা ‘প্লেগ’। কিংবা ওই আমেরিকার জর্জিয়া আর রাশিয়ার এক ল্যাবরেটরিতে বন্দী হয়ে হয়ে থাকা ‘স্মল পক্স’এর ভাইরাস।

এইচ আই ভির ‘বিশ্বের বালাই এক হও’ শ্লোগান ভেস্তে গেল শেষ বক্তা ডেঙ্গির কথায়। ডেঙ্গি দু হাত তুলে কাকে যেন প্রণাম করে বলেছে, আমার বাহক মশারা। কলকাতার মেয়র জানে না, বাংলা ভাষায় ‘মশাই’ শব্দটা যতদিন থাকবে, মশা, ‘মশাই’ থাকবে। আমি একা ও একক, একতা লাগবে না আমার।

আনলক শুরু হওয়ার পর বাইক চালিয়ে অচিন্ত্য এসেছিল সঞ্জীবনের কাছে। দুজনে ডাক্তারবদ্যি করবে বলে বেরিয়েওছিল। আর চায়ের দোকানটায় গিয়েই ভুলটা করে বসল ভর সন্ধ্যেবেলায়।
সঞ্জীবনের দূর্ভাবনা যত বাড়ছিল, এইচ আই ভি-র হাসি পাচ্ছিল ততই যেন বেশি। এইবার দেরি না করে একটু একটু করে ‘কাজে’ নামবে সে। ‘একে একে নিভিছে দেউটি’ – বেড়ে লিখেছেন মধুকবি। কোন দেউটি আগে নেভানো যায় ভাবছিল এইচ আই ভি ভাইরাস।
ঠিক তখুনি চায়ের দোকানে মুখের মাস্ক সরিয়েছে সঞ্জীবন ও অচিন্ত্য। একদম কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়েছিল এক ভদ্রমহিলা। মাস্ক খুলে বিস্কুটের দামটা জিজ্ঞেস করেছে মাত্র।

ঠিক যেন বাড়ির বাইরে পুলিশের সাইরেন!!!
এইচ আই ভি সভয়ে দেখল, গায়ে কাঁটা দেওয়া দুনিয়া কাঁপানো সেই মূর্তি।
গলাটি অদ্ভুত মায়াবী।
যেন গলওয়ানের চিনা কমান্ডার, দুহাত বাড়িয়ে বলল, দাদা ভাই এসে গেছি গো – আমাকে ভাল বাসবে না?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *