Anwar Hakim

ফ্যামিলি।
আনোয়ার হাকিম।

একসময় ফ্যামিলি কনসেপ্টটা ছিল অহংকারের।
মিলেমিশে হাসি-কান্না, সুখ-দুখ, দেওয়া-থোওয়া, ভাগাভাগি আর প্লাস মাইনাসের নীট ফলাফল ভালবাসার দৃঢ় বন্ধনের অপর নাম ছিলো এই ফ্যামিলি।অন্য অর্থে সুখ-দুঃখের হিট প্রুফ,শক প্রুফ কুটির। সময় গড়িয়েছে অনেক। বৈশ্বিক হাওয়া লেগেছে মনোজগতে। সেই সাথে ডিমান্ড-সাপ্লাইয়ের ইকোনমিক্সও প্রবল হয়েছে। কারা যেন কানে কানে মন্ত্র যঁপে দিয়ে গেছে, কিসের ফ্যামিলি? কোন ফ্যামিলি? কার ফ্যামিলি? ফ্যামিলি মানে তো আমার নিজের ঘর , ঘর মানে আমার বাড়ী। সেই বাড়ীতে চিৎকার দিয়ে সন্তান আসবে, আমার সন্তান, আমাদের সন্তান। সেই সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে সেজন্য “চাই চাই,খাই খাই খিদে”। তাই, কিসের একান্নবর্তী ফ্যামিলি? ওটাতো এখন বাবা- মা’ র ফ্যামিলি, আমাদের না। একসাথে থাকলে ঠোকাঠুকি হয়, কমবেশী হয়। কানাকানি হয়, মুখামুখি হয়। নরম-গরম হয়। স্বাধীনতায় কমতি হয়।অনেকের মুখের ভাষা পড়তে হয়, হাওয়া বুঝে চলতে হয়। সবাইকে দিয়ে থুয়ে মানাতে হয়। একান্তই আমার বলে আর থাকেনা কোন কিছু। কি দরকার এতসব বাড়তি প্যারা নেওয়ার? কে বলে ফ্যামিলি আশীর্বাদ? নির্মলেন্দু গুণকে ভর করে বলি, কে বলে হবেনা, হবে সব হবে, বউ থেকে হবে। বাড়ী বরাবর ভাগাভাগি রেখা, আলাদা হেঁসেল আরো কতকি? আমি আর তুমি মাঝখানে শুধু আমাদের সন্তান এটাই ভাল, কি দরকার অযথা রেসপনসিবিলিটির বৃত্ত বড় করে?
এভাবেই ফ্যামিলি ভেংগে নতুন নতুন সিংগেল ফ্যামিলি হয়, যেখানে থাকি শুধু আমরা দু’ জন আর আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম। যতই বিপক্ষের আবেগ ঘনীভূত করেন, দিন শেষে পক্ষের ঘরে বাস্তবতার ব্যালট ভর্তি।

আত্মকেন্দ্রীকতার এই ঘেড়া টোপে পড়ে গেছি আমরা সবাই। এর থেকে পরিত্রাণ কবে জানিনা। আদৌ পরিত্রাণ প্রয়োজন আছে কিনা সেটাও আর অনুধাবন করতে পারিনা। যে পথ অনেকটা পেড়িয়ে এসেছি বুঝে-না বুঝে সেই ফেলে আসা পথে ফিরে যাওয়ার সুযোগ আর উপযোগিতা আছে কি? #

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *