ASHIM KUMAR CHATTOPADHYAY

 111 total views

গল্প – সাক্ষরতা  – অসীম কুমার চট্টোপাধ্যায়

 

আমার যখন দশ বছর বয়স আমার মা আমাকে আমার মামার বাড়িতে রেখে আসে । আমরা ছিলাম খুব গরিব । দুবেলা খাবার জুটতো না । আমরা চারটে ভাই বোন । আমি সবার বড় । একদিন আমার বড় মামা এসে মা কে বলল ,
তোর এত কষ্ট । সান্টু আমার কাছে থাকুক । পড়াশুনো শিখবে । খাবে -দাবে , ভালোই থাকবে ।
মা খুব খুশি । আমিও মনে মনে ভাবলাম ভালোই হল এবার থেকে দুবেলা খেতে পাবো । তারপর স্কুলে যাবো । লেখাপড়া শিখবো ।
কিন্তু আমার মামার ভাবনা ছিল অন্য । আমাকে দিয়ে বাড়ির সব কাজ করাতো । লেখাপড়া দূরের কথা , দুবেলা ঠিক মত খেতেই দিত না । কাজের পর কাজ । এতটুকু ভুল করলে পিঠের ওপর পড়তো দমাদম । আমি কাঁদতাম । বাড়িতে কিছুই জানায় নি । মা কষ্ট পাবে । সব মুখ বুজে সহ্য করেছি ।
এই ভাবেই কেটে গেল বেশ কয়েক বছর । বয়স বাড়ার সাথে সাথে কাজের বোঝা আরো বেড়েছে । সাথে বেড়েছে অত্যাচার । একদিন গোপনে পালিয়ে গেলাম । কোথায় গেলাম জানি না । তবে একটা শহরে পৌঁছে গেলাম । ক্লান্ত শরীরে হাঁটতে হাঁটতে এসে পৌঁছালাম এক মন্দিরের সামনে । তখন ভোর হবো হবো । মন্দিরের চাতালে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম । সকালে পুজো করতে এসে মন্দিরের পুরোহিত আমাকে দেখতে পেয়ে খবর দেন পাশের বাড়িতে । তাদের জমিতেই এই মন্দির । আমার কাছ থেকে সমস্ত কিছু শুনে সেই বাড়ির বড় মা আমাকে আশ্রয় দেন । সেই থেকে আমার নতুন ঠিকানা ।
ওই বাড়িতে আমার বয়সী কতকগুলো ছেলে মেয়ে ছিল । আমি বাড়ির কাজ করলেও আমাকে সবাই ভালবাসত । জীবনে প্রথম ভালোবাসা পেলাম । সাথে পেতাম পেট ভর্তি করে খাবার । আমিও মন দিয়ে সব কাজ করতাম । আমি লেখাপড়া জানি না বলে ছোট ছোট ভাইবোনগুলো আমাকে নিয়ে মজা করতো । আমি লজ্জা পেতাম ।
নিজের লজ্জা ঢাকতে বলতাম , আমি তো গান জানি । তোরা কি জানিস ? তোরা পারবি আমার মত গান করতে ?
ওরা চুপ করে যেত । একদিন এরকম ঝগড়া হচ্ছে এমন সময় বাড়ির মাস্টার মশাই এসে হাজির । তিনি শুনেছেন আমার কথা । পড়ার ঘরে সবাইকে নিয়ে বসলেন পড়াতে । ।আমাকেও ডাকলেন । ভাবলাম চা দিতে বলছেন ।
বললাম , আপনি বসুন , বড় মা চা করে দিচ্ছে ।
মাস্টার মশাই বললেন , চা চাইছি না । তুই বস আমাদের সাথে । একটা গল্প বলবো । বুঝলি সান্টু , গান খুব ভালো জিনিস । কিন্তু লেখা পড়া শিখতে হবে বাবা তা না হলে তোমার অবস্থা হাবা গোবার মত হবে ।
ছোট বোনটা জিজ্ঞেস করলো , হাবা গোবা কে ?
মাস্টার মশাই বললেন , ওদের গল্পই তো বলবো ।
তারপর মাস্টার মশাই গল্প বলা শুরু করলেন ।
হাবা আর গোবা কখনই বন্ধু ছিল না ।বন্ধু হবেই বা কোথা থেকে ? হাবার বাড়ি উত্তরে নিশ্চিন্তিপুরে আর গোবার বাড়ি সেই দক্ষিণে নিমপাতা গ্রামে । জমিদার বাবুর জমি চাষ করে হাবার দিন চলে । পৈতৃক সূত্রে একটা কুঁড়েঘর ছিল বটে দেনার দায়ে সে আর আজ নেই । দেনা অবশ্য সে করে নি । করেছিল তার বাবা । বাবা মারা যাবার পর জমিদারবাবু হাবার সব কিছু কেড়ে নেয় ।
বলে , আগে দেনা শোধ কর তারপরে সব ফেরৎ পাবি ।
তখন তার বয়স মাত্র দশ কিংবা বারো । প্যান্টুলুন পরে মাথায় বাবার খাবার পুঁটুলি নিয়ে গান গাইতে গাইতে আলের পথ্ ধরে যেত চাষের জমিতে । তবে হ্যাঁ , হাবার গানের গলাটা খাসা । যে শুনতো সেই বলতো বেড়ে গান গায় আমাদের হাবা । গরমের দুপুরে আমগাছ তলায় গিয়ে বসত চাষির দল । পান্তা খাওয়া আর জিরিয়ে নেওয়া চলতো একসাথে । হাবাও তার বাবার জন্য পান্তা নিয়ে হাজির । সবাই মিলে আবদার করতো গান শোনাতে ।হাবার ভালোই লাগে গান গাইতে । একের পর এক গান সে গাইতো । তারপর বাবার খাওয়া হয়ে গেলে ফিরে যেত বাড়ির পথে ।
গোবার বাবার নিজের কামার শালা ছিল । একটু বড় হতেই গোবাকে যেতে হত কামার শালায় । বসে বসে হাপর টানতো । হাপর টানতে টানতে সে নিজেই যেত হাঁপিয়ে । তার মধ্যে আগুনের তাপ আর প্রচন্ড গরম । সমস্ত শরীর জ্বালা করতো গোবার । দোকানে যখন কাজের চাপ থাকতো না ,গোবার বাবা বসে বসে চা আর বিড়ি খেত , গোবা তখন ঝাঁপ দিত দোকানের সাথে লাগোয়া পুকুরে । পুকুরের ঠান্ডা জলে শরীরটা জুড়িয়ে যেত । বেশ খানিকটা সাঁতার কেটে উঠে আসতো ডাঙায় । গা হাত পা মুছে আবার বসা কামারশালায় ।
কামারশালার পাশে ছিল চায়ের দোকান । বিকেলের দিকে ভিড় জমতো দোকানে । গ্রামের মানুষ সারাদিনের খাটা খাটনির পর সব জমা হত একটু গল্প গুজব করতে । ওদের মধ্যে ছিল একজন কানাই বাউল । মাঝে মধ্যেই সে গান গাইতো । বিনিময়ে পেত একটা পাউরুটি আর এক কাপ চা । গোবা দোকানে বসে একটা কাঠের ভাঙা চেয়ারে তাল ঠুকতো । সবাই বলতো গোবার বাজনার হাত টা ভালো । ওই গল্পের আসরে হাজির থাকতো অজিত রুইদাস । বাজারের ভেতরে অজিতের আছে ছোট্ট একটা চালা । অজিত জুতো সারায় । একবার একজন একটা ঢোল সারাই করতে দিয়েছিল কিন্ত পরে আর নিতে আসে নি । পড়েই আছে অজিতের বাড়িতে । পরের ঢোল । দামী জিনিস । দোকানে রাখতে ভরসা পায়নি অজিত । বাড়িতে মাটির দেওয়ালে পেরেক পুঁতে ঝুলিয়ে রেখেছিল । তাও বছর খানেক হতে চলল ।
অজিত বলল , গোবার বাজনার হাতটা এত ভালো,ঢোল পেলে না জানি আরো কত ভালো বাজাবে । শুনতেও ভালো লাগবে । আমার কাছে যে ঢোলটা আছে সেটা আমি গোবাকে দিয়ে দেব ।
সবাই বলল , খুব ভালো হবে ।
গোবা কে বলল , কাল সকালে আমার বাড়ি যাবি । তোকে একটা ঢোল দেব । এখন থেকে আর চেয়ার পেটাতে হবে না । ঢোল বাজাবি ।
ঢোল পেয়ে গোবার আনন্দ আর ধরে না । রাত দিন ঢোল পিটাচ্ছে । কাজে মন নেই । গোবার বাবা একা একা আর কত করবেন ? প্রচুর খাটনির কাজ । হাতে কাজ জমে গেছে অনেক । কাজের সময় গোবাকে খুঁজেই পাওয়া যায় না । শেষ পর্যন্ত রেগে মেগে গোবার বাবা গোবাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলেন ।
বললেন , কাজ নেই । সারাদিন তোমার ঢোল পিটানো । ওই ঢোল তোমার পিঠে ভাঙবো ।বেরিয়ে যা আমার বাড়ি থেকে ।
চলে গেল গোবা বাড়ি ছেড়ে । ঢোলটা একমাত্র সম্বল । কোথায় যাবে ? কোথায় থাকবে ? কিছুই জানে না । রাস্তা ঘাটও তেমন চেনে না । এসে পৌঁছালো এক জঙ্গলের সামনে । গভীর জঙ্গল । ধারে কাছে কোন বাড়ি ঘর নেই । থাকবে কোথায় ? খিদেও পেয়েছে । সকাল থেকে পেটে একটা দানা পর্যন্ত পড়ে নি । খিদের চোটে ক্লান্ত শরীরে একটা গাছের তলায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লো । এইভাবে কতক্ষন ঘুমিয়ে ছিল গোবা জানে না । হঠাৎ ঘুমটা গেল ভেঙে । দেখে সামনে ঢ্যাঙা মত একটা ছেলে দাঁড়িয়ে । ভয় পেয়ে গেছিল গোবা ।
ছেলেটা বলে , কে তুমি ?
গোবা বলে , আমি গোবা । তুমি কে ?
আমি হাবা । তোমার বাড়ি কোথায় ?
নিমপাতা গ্রামে । তোমার বাড়ি ?
নিশ্চিন্তিপুর গ্রামে । তুমি এখানে শুয়ে আছ কেন ?
আমাকে বাড়ির থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে । হাঁটতে হাঁটতে এখানে চলে এসেছি । খিদের চোটে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম ।
আমাকেও তাড়িয়ে দিয়েছে ।
কেন ?
আমি গান ভালোবাসি । সারাদিন গান গাইতাম মনের সুখে । বাড়ির কোন কাজ করতাম না । তাই বাবা রেগে মেগে আমাকে বাড়ি ছাড়া করেছে ।
কি দারুন মিল তোমার আর আমার । তুমি গান গাও আর আমি ঢোল বাজাই ।
গল্পের মাঝে দেখি বড় ভাইটা অনেক্ষন থেকে উসখুস করছে ।
মাস্টারমশাই সেটা দেখতে পেয়ে বললেন , নাবু , তুই কিছু বলবি ?
হ্যাঁ , মাস্টারমশাই ।
কি বলবি ?
আমার কেন জানি গল্পটা খুব চেনা চেনা লাগছে । আমি পড়েছি । তবে অবশ্য গল্পে ওদের নাম ছিল গুপী আর বাঘা । যদিও গল্পটা একটু আলাদা তবুও অনেকটাই মিল ।
মাস্টার মশাই বললেন। হতেই পারে । একই রকম ঘটনা তো কতই ঘটে । তবে শুরুর দিকে মিল থাকলেও শেষের দিকে মিল নেই । পুরো গল্পটা শোন , তাহলেই বুঝতে পারবি ।
আবার শুরু করলেন বলা ।
হাবা বলে , গোবা দা , এই জঙ্গলে থাকবো কোথায় ?
গোবা বলে , আমিও তো তাই ভাবছি । হঠাৎ যদি বাঘ টাঘ চলে আসে দুজনকেই খাবে । তারচেয়ে বরং আর একটু এগিয়ে দেখি এখান থেকে বের হবার রাস্তা আছে কিনা । একটা সরু পায়ে চলা পথ পাওয়া গেল । সেই পথ ধরে এগিয়ে চলল দুজনে । পথটা গিয়ে শেষ হয়েছে একটা নদীর ধারে । ছোট ,সরু নদী । তবে গভীর । একটা গাছের ডালের সাথে একটা ডিঙি নৌকো বাঁধা । সেই নৌকো করেই দুজনে চলে গেল নদীর ওপারে । নৌকোটাকে একটা গাছের সাথে বেঁধে আবার হাঁটা । অবশেষে পৌঁছালো নতুন একটা গ্রামে । তখনও সন্ধ্যে হয় নি । গ্রামের লোকজন হাবা আর গোবাকে দেখে অবাক । যখন শুনলো ওরা গান বাজনা করে তখন ওদের কি খাতির । একজনের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খেতে দিল । থাকতে দিল । খুব খুশি হাবা গোবা ।
পরের দিন সকালে প্রচুর মানুষজন এসেছে সেই বাড়িতে । সকাল বেলাতেই ভিড় । কি ব্যাপার ? যেটা জানা গেল সেটা হল ওই রাজ্যের রাজা খুব সঙ্গীত ভালোবাসেন । প্রতি বছর রাজার জন্মদিনে এক বিরাট উৎসব হয় । বিভিন্ন রাজ্য থেকে নামীদামি সব গায়করা আসেন । যাদের গান রাজার ভালো লাগে রাজা তাদের প্রচুর পুরস্কার দেন । কালকে থেকেই উৎসব শুরু ।
হাবা গোবা ঠিক করলো তারা ওই উৎসবে যোগদান করবে । কিন্তু তাদের তো ভালো পোশাক নেই । যে বাড়িতে ছিল সেই বাড়ির মালিক ভিড়ের মধ্যে দুজনকে কিসব বলল । তারা ছুটলো । ঘন্টা খানেক বাদে খুব সুন্দর ঝলমলে পোশাক নিয়ে এসে হাজির । ওদের একটাই আবদার একটু গান শোনাতে হবে । এ আর এমন কথা কি ? হাবা গান ধরলো । গোবা ঢোল । সবাই খুব খুশি । গ্রামের লোকজন হাবা আর গোবাকে রাজবাড়ী যাবার রাস্তায় পৌঁছে দিয়ে বলল ,
এখান থেকে সোজা রাস্তা ধরে গেলেই রাজবাড়িতে পৌঁছে যাবে । রাস্তায় অনেক ভিড় । অনেক দূর দূর থেকে সব গায়করা আসছেন উৎসবে যোগ দিতে । ওদের সাথে মিশে গেল হাবা আর গোবা ।
পরের দিন সকাল থেকেই উৎসবের সূচনা । রাজ্ সিংহাসনে বসে রাজা । পাশে রানী । প্রথমে রাজার জন্মদিন পালন । তারপর সমস্ত রাজ্যের গায়কদের সম্বর্ধনা দেওয়া হল । শুরু হল বিভিন্ন গায়কদের গাওয়া গান । এক এক করে গাইতে লাগলেন সবাই । কারোর গানই রাজার মনে ধরছে না । রাজা আর রানী ফিস ফিস করে গল্প করছেন । এবারে হাবা গোবার পালা । শুরুতেই হাবা আর গোবা নিজেদের পরিচয় দিল । তারপর শুরু করলো গান । হাবার গান আর গোবার বাজনা শুনে রাজা রানী দুজনে মুগ্দ্ধ । আদেশ করলেন আরো একটা গান গাইতে । উপস্থিত সকলে বললেন ,
দারুন । খুব সুন্দর । অসাধারন ।
রাজা নিজের হাতে ওদের গলায় পরিয়ে দিলেন সোনার মেডেল । তুলে দিলেন প্রচুর উপহার । আর সবার শেষে দিলেন শংসাপত্র ।
রাজা বললেন, হাবা, শংসাপত্রটা পড়ে শোনাও উপস্থিত গুণীজনদের । মুখ শুকিয়ে গেল হাবার ।
ফিসফিস করে বলল , গোবাদা তুমি পড় ।আমি পড়তে জানি না ।
গোবা বলে , আমিও তো পড়তে জানি না ।
মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে দুজনে । উপস্থিত সকলে হো হো করে হাসছে । সবাই বুঝে গেছে এরা লেখাপড়া জানে না । রাজা মশাই বিরক্ত । তার আদেশ অমান্য করা । হুঙ্কার দিলেন ।
কী হল , তোমরা লেখাটা পড়ছ না কেন ?
প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেছে দুজনে । কেঁদে ফেলার উপক্রম ।
মুখ কাঁচুমাচু করে হাবা গোবা বলল , রাজা মশাই,আমরা লেখা পড়া শিখি নি । পড়তে জানি না ।
ওদিকে রাজা মশাই সঙ্গীত প্রেমী হলেও শিক্ষার প্রচন্ড কদর করেন । অশিক্ষিত মানুষ তিনি একদম পছন্দ করতে পারেন না । তার রাজ্যে সকল মানুষ কি নারী কি পুরুষ সকলেই শিক্ষিত । লেখা পড়া জানে । তিনি সবচেয়ে বেশী ব্যায় করেন শিক্ষা খাতে ।
শিক্ষার জন্য তিনি কোন রকম আপোষ করেত রাজি নন । তিনি নিজে বিশ্বাস করেন যে কলমের জোর তলোয়ারের চেয়েও বেশি ।
হাবা গোবা যত ভালো গান করুক না কেন এখন কোন পুরস্কার তারা পাবে না । রাজার নির্দেশে কেড়ে নেওয়া হল সমস্ত পুরস্কার । তাদের আগে শিক্ষিত হতে হবে তারপর অন্য কথা ।
ডাকা হল শিক্ষামন্ত্রীকে । শিক্ষামন্ত্রী সামনে এসে রাজা ও রানীকে কর জোড়ে নমস্কার করে দাঁড়ালেন ।
রাজা তাকে বললেন , শিক্ষামন্ত্রী , আপনি এই দুজন নবাগতর শিক্ষার ব্যবস্থা করুন । আপনার দায়িত্ব ওদের লেখা পড়া শেখানোর । স্কুলে ভর্তি করে দিন । লক্ষ রাখবেন ওদের থাকার এবং খাবার যেন কোন অসুবিধে না হয় ।
গোবা হাতজোড় করে বলল , মহারাজ , আমরা গরিব মানুষ । আমাদের তো কোন টাকা পয়সা নেই ।
রাজামশাই বললেন , কোন প্রয়োজন নেই । আমার রাজ্যে যারা পড়াশুনো করে তাদের সব কিছু ফ্রি । টাকা পয়সা লাগে না । সমস্ত ছেলে মেয়েকে সাক্ষর করাই আমাদের লক্ষ । আমার রাজ্যে সাক্ষরতা সবার আগে । তারপর অন্য কিছু ।
তোমাদের আমি নির্দেশ দিচ্ছি তোমরা কালকের থেকেই স্কুলে যাবে । পড়াশুনো শিখবে । সাক্ষর জ্ঞান হওয়া অত্যন্ত জরুরি । তোমাদের সমস্ত পুরস্কার তোলা থাকবে । যথা সময়ে সব ফেরত পেয়ে যাবে । আগে পড়াশুনো তারপরে গান বাজনা ।
সবাই ধন্য ধন্য করে উঠলো ।
মাথা নীচু করে রাজসভা ছেড়ে বেরিয়ে গেল হাবা আর গোবা ।
গল্পটা বলা শেষ করে মাস্টার মশাই নবা কে বললেন , কী নবা , এখন কি গল্পটা চেনা চেনা লাগছে ?
নবা বলল , না মাস্টারমশাই ।
তারপর আমাকে বললেন , বুঝলে সান্টু , লেখাপড়া ছাড়া গতি নেই । আজকে থেকেই তুমি আমার কাছে লেখাপড়া শিখবে । তোমারও কোন টাকা পয়সা লাগবে না । একদম ফ্রি ।
বাড়ির সকলেই গল্পটা শুনেছে ।
বড় মা চা নিয়ে আসছিলেন ।
বললেন , ঠিক বলেছেন মাস্টারমশাই । আপনি ওকে সাক্ষর করুন । আমি ওর সব কাজ করে দেব ।
সমাপ্ত

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *