Author

কত দূরে তাও কত কাছে আজ – রণেশ রায়

 26 total views

[post-views]

তোমায় দেখেছি আমি কত কাছে
মুখোমুখি দুজনে কত না কথা
দুজনে পেয়েছি দুজনকে
মিলেছি পরস্পর আলিঙ্গনে
তোমার বাক হারা মুখ
কখনও রাতের নিশানা
আবার সবাক হাস্যধ্বনি ভোরের আলো,
তবু তোমায় দেখি তোমার চোখের ইশারায়
যেন রাত শেষে ভোরের কুয়াশায়।
পেয়েছি তোমায় তাও তুমি রয়ে গেছ অচেনা
সুদুরের সেই নাম না জানা দ্বীপের মত
শিরীষ এর মাথায় জ্বলজ্বলে শিশির
সূর্যের দহনে শরীরে আগুন জ্বেলে
আকাশের ডাকে মিলিয়ে যাও অজান সে দেশে
হাজার যোজন দূরে।

দেখা যায় না তোমাকে
কাছে থেকেও কত দূরের তুমি
সেদিনের তুমি সেই অচেনা
নিশি রাতে অন্ধকার আঁধারে
তুমি ছিলে বিদিশার নিশা
ঘন কালো চুল, পাই নি  তোমার দিশা।

বার্ধক্যের দিন শেষে
হারিয়ে গেছ কত দূরে
সশরীরে পাই না তোমাকে
তাও কত কাছে আজ
এই ঊষালগ্নে আবার মুখোমুখি আমরা
হৃদয়ের দরজা হাট করে খোলা
অশক্ত এ শরীরে কেউ পাই না কাউকে
তাও পেয়েছি দুজনে দুজনকে
মনের সড়ক পথ ধরে
হেঁটে চলি নিশ্চিন্তে
আজ তুমি কত দূরে তাও কত কাছে।

[caption id="attachment_1414" align="alignnone" width="300"]রণেশ রায় রণেশ রায়[/caption]

অণুগল্প – মায়ের মুখ – মহীতোষ গায়েন

 15 total views

[post-views]

আজ  সারা দিন ধরে মেঘলা আকাশ,বাতাস  বইছে না চরাচরে।ডালিম গাছে এসে বসে পিউ কাঁহা পাখি।বাতাসে ভাসে মায়ের শরীরের গন্ধ।এ,টি,এম-এ দীর্ঘ লাইন‌। হাতে টাকা নেই।মায়ের দেওয়া সেই দশ টাকার কয়েন হাতে তুলে নিই।চোখে নামে জলের ধারা।ঐশ্বরিক আনন্দ পাই।চোখ বন্ধ করি, মায়ের মুখ মননে ধরা পড়ে ; মায়ের শুকনো মুখের হাসি হৃদয় বিদীর্ণ করে।পাঁকুড়ের শাখে বসা একটা কাক  তারস্বরে ডেকে ওঠে।

জীবন গাঁথা – সফেদ বিহঙ্গ

 10 total views

[post-views]

মনের মাঝের দূরত্বটা অনেক বেশি
এই কথাটাই ভাবি বোধহয় দিবানিশি
জীবন যেথায় যেমন করে বইছে ধেয়ে
তারই সাথে বইছি আমি স্রোতের বেগে
ওই আকাশে মেঘের সাথে কইবো কথা
লাল সিঁদুরে আঁকায় আমার জীবন গাঁথা
তোমার কাছে থাকতে আমার নেইকো মানা
তোমার পাশেই ঘুরে বেড়াই সর্বক্ষণা
মেঘের সাথে হাওয়ায় মিলে ঘুরে বেড়াই
প্রভাত বেলায় শিউলি ফুলের মুক্ত কুঁড়াই
মাঝ নিশীথে তোমার সাথে গল্প কিছু
এই আশাতেই বাঁধি আমার স্বপ্ন ঋতু।
সময় হারায় মুহূর্ত যায়, যায় না আশা
তোমার সাথে আর কি থাকে দূরত্বটা
ভালোই আছি, হাসি কাঁদি, এই তো ভূবন
নেই অভিমান,নেই পিছুটান,চলছে জীবন।
তুমিও থেকো ভালোই থেকো এই অনুরোধ
শীতের রাতে কুয়াশাতে জ্যোস্না দেখো
পদ্ম পাতার শিশির জলে মুক্ত রেখো
আমার কথা মনে হোলে ক্ষানিক হেসো।
এই অবেলায় কি দেব আর তোমায় আমি
তোমায় আমায় মিলিয়ে কিছু মিষ্টি স্মৃতি
দিলেম তোমায় অঞ্জলি মোর দুহাত পেতে
এই তো ছিল আমার কাছে আর কিছুনে।
ভালোই আছি, ভালোই থেকো, শান্ত বিদায়
অশ্রু জলে সিক্ত হোলাম প্রানের ধারায়।
সফেদ বিহঙ্গ

সাদা কাগজের নৌকো – অমিতাভ মুখোপাধ্যায়

 20 total views

[post-views]

সুমনা আর  বাসবের সঙ্গে অনেক দিন দেখা হয় নি অবিনাশের . কেন জানিনা প্রায়ই মনে পড়ে ওদের কথা. কেউ কারও খোঁজ রাখে নি  বহু বছর. তবুও ভাঙা মন আর  সেই ডুবে  যাওয়া সাদা কাগজের নৌকোটা মাঝে মাঝে নোঙ্গর করে বিকেলের বারান্দায়, না ঘুম আসা রাতের গভীরে. কেন এমন হয় বুঝতে পারে না অবিনাশ.
       একবার কিশোর বেলায়  মামার বাড়ীর নন্দী পুকুরের ঘাটে হোলির রং খেলে চান করতে গিয়ে ছিল ওরা. সঙ্গে সমবয়সী বন্ধু রাও ছিল. হঠাৎ অবিনাশ লক্ষ করে ছিল সুমনা আর বাসব পাশের ঘাটে গিয়ে শান্ত স্থির জলে  একটা সাদা কাগজের নৌকো ভাসাচ্ছে.
অবিনাশ ওদের বলেছিলো , জলে ঢেউ না থাকলে নৌকো চলে না, বেশিক্ষণ ভেসেও থাকে না. ডুবে যায়.
    অবিনাশ স্থির হয়ে থাকা জলটা একটু নাড়িয়ে দিতেই ওদের নৌকোটা ভাসতে শুরু করেছিল . ওরা আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ছিল অনেক ক্ষণ.  বাসবের গালের লাল রং লেগে গিয়ে ছিল সুমনার সিঁথিতে. অবিনাশের তখন মনে পড়ে ছিল রাঙা মাসীর  বিয়ের সিঁদুর দানের মুহূর্তটি.
সুমনা আর বাসবের কোনো কিছু ভাবার বয়স তখন ছিল না. ওরা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ  ছিল মাত্র.
     এর পর অবিনাশের মামার বাড়ীর পাট উঠে যায়. দাদু মারা যাওয়ার পর সব কিছু বদলে যায় . মামার বাড়িতে তালা পড়ে.
অবিনাশ চলে আসে  টাটানগরে – নিজেদের বাড়িতে. তারপর পড়াশোনা শেষ করে লম্বা দৌড়ের ঘোড়ার  মতো তার কর্ম জীবন কাটে কয়েকটি প্রাইভেট কোম্পানিতে. আজ এখানে তো কাল সেখানে. তাই অবিনাশের ঘরও হয় নি, সংসারও হয় নি.
  আজ অবিনাশ অবসর প্রাপ্ত. বেলা শেষে,  জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়া এক অৰ্ধদগ্ধ সৈনিক মাত্র. সাফল্যর থেকে অসাফল্যের পাল্লাটাই  তার বেশী ভারী. তবুও আর পাঁচটা ভুলে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার কোন মিল খুঁজে পায় না অবিনাশ. কেন যে সময়ে অসময়ে  সুমনা আর বাসবের কথা মনে পড়ে –নিজেও বোঝে না.
     সুমনা আর বাসবের সম্পর্কটা কোথায় গিয়ে শেষে  পৌঁছে ছিল তাও অবিনাশের জানা নেই. তবুও  ওদের কথা আজও  ভুলতে পারে না.
      অবিনাশ কী বাসবের মধ্যে নিজের ছবিটাই দেখতে পায়? যাকে বলে প্রতিবিম্ব !মনের সঙ্গে নিয়ত  যুদ্ধ করে পাঁচ জনের মতো সেও  আজ  ক্লান্ত. অথচ লাভ ক্ষতির কোন অংকই এর সঙ্গে জড়িয়ে নেই. কেননা সে আজও নিঃসঙ্গ, একা.
      সেদিনের  সেই সাদা কাগজের নৌকোটা -ই তার স্বপ্নে এখনও মাঝে মাঝে ভেসে আসে.  বেহালার করুণ সুরের মতো একটা মূর্ছনা তৈরী করে.  স্বপ্নের মধ্যে কে যেন বলে, আমি ডুবে যাচ্ছি আমার হাত দুটো ধরো. সেই ডুবে যাওয়া হাত দুটো ধরতে গেলেই অবিনাশের ঘুম ভেঙে যায়.
দু চোখ ঝাপসা হয়ে আসে——-
তাহলে কী ডুবে  যাওয়া ঐ সাদা কাগজের নৌকোটাই অবিনাশের জীবনের সব থেকে দামী?
–না কী ব্যর্থতার দহন পর্ব?
অমিতাভ মুখোপাধ্যায়

কালচক্র – ছন্নছাড়া

 13 total views

[post-views]

সময়ের সাথে সম্পর্ক কত বদলে যায়,
মুখের ভাষা,মনের ভাষা বদলে যায় ,
ব্যবহার কত দ্রুত বদলে যায়,
চেনা মানুষেরা অচেনা হয়,
আপনার জন অপর হয়।

শত্রু তখন আপন হয়,
যখন আপন জনেরা বিশ্বাস হারায়।
সময়ের স্রোতে ভালোবাসা হারায়,
বিশ্বাসভাজন অপ্রিয় হয়
তবু নিজেকেই ঠিক বলে মনে হয়।

নিজের স্বার্থে প্রিয় জনে দিয়ে বলি,
আপন ভাগ্য সযতনে গড়ে তুলি।
“আপনি বাঁচলে বাপের নাম” ভাবতে পারি,
তার জন্য সম্পর্কের বলি দিতেও পারি,
আপন কলঙ্ক ঢাকতে আমি সব পারি,
কে বলেছে আমি কিছু নাহি পারি?

যেদিন আমায় পারবে চিনতে নিজের মত করে
বুঝবে সেদিন ভুল কয় কাহারে?
সেদিন যদি সেটা ভুল বলে মনে হয়,
নিজের বিচার নিজেই কোরো, জেনো তোমার পরিচয়।
সেদিন হয়ত ভুল বলে ভুলটাকে পারবে না মেনে নিতে,
তবু জেনো আসবে না কেউ তা শুধরে দিতে।

বিবেক জ্বালা দংশাবে যখন কঠোর বিক্রমে,
সেদিন জেনো পাবে না তো পার কোনক্রমে।
যাতনা দেবে যা আজ সহজ সরল মনে,
শতগুণে ফিরে পাবে তোমার নিজ জীবনে।
পাপের ফল সবে যাবে ভোগ করে,
কেউ আজ, কেউ বা দুদিন পরে।

জেনো এ নহে অভিশাপ, এ সময়ের কালচক্র,
আজকের এই পাপ, ধ্বংসিবে তোমার জীবনচক্র।
আজকে উপরে উঠে ভাবছ সবাই তোমার নীচে,
“অহংকার পতনের কারণ”, নয় তো এ কথা মিছে।
তোমার পাপের কর্মে আজ হবে যারা বলি,
সেদিন না থাকলেও তারা, তুমি কর্মফল পাবে সকলি।

ছন্নছাড়া

 

আলো – শম্পা সাহা

 16 total views

[post-views]

রণির মন খারাপ, এত করে বলল বাপিকে বাজি কিনে আনতে, কয়েটা চড়কি, তুবড়ি, রং মশাল এইসব, শব্দবাজি তো চায়নি, আর বাড়ি সাজানোর  জন্য  টুনির মালা।  বাপি শুধু কয়েকটা প্রদীপ আর মাত্র দুটো টুনির মালা এনেছে । ধুর্! প্রতিবার কত সুন্দর করে দীপাবলি হয়  !
    ছেলের মুখ গোমড়া  দেখে সাত্যকি  বলেন, “মন খারাপ কেন রণিবাবু? মা লাড্ডু বানিয়েছে ,তাও খেলে না দেখলাম! “,”আমার ভালো লাগছে না”, রণি  মুখ নিচু করে,  “সেটাই তো জানতে চাইছি, কেন ভালো লাগছে না?”,”প্রতিবার কত বাজি পোড়াই,কত লাইট লাগাই , আর এবার মাত্র দুটো  টুনি,  বাজিও আনোনি ? দীপাবলি মানেতো আলোর উৎসব! “,”কেন এই তো সারা বাড়িতে আলো! “,লাইটিং কই? মাত্র দুটো! ‘
     “আমার সঙ্গে  আয়”,সাত্যকি  ছেলেকে নিয়ে ছাদে যান । হেমন্তে বেশ ঠান্ডাঠান্ডা ভাব, আঙ্গুল তোলেন একটা বাড়ির দিকে ,বাড়ির বারান্দায় একটা টিমটিমে আলো আর ঘরের ভেতরেও তাই । উঠোনে তুলসী তলায় শুধু প্রদীপ । “এটা কাদের বাড়ি  জানিস? “,”বারে !জানব না কেন? ওতো আশিষদের বাড়ি!” ,”ওদের বাড়িতে কি আমাদের থেকেও বেশি আলো? “,”না ,কি করে হবে? ওর বাবার তো চাকরি নেই! “,” ওদের  দুঃখের দিনে, বেশি আলো দিয়ে আমাদের বাড়ি সাজানো কি ভালো দেখায়? ওতো তোর বন্ধু !”, রণি এবার বাবার কথাটা বুঝতে পারে , বলে, “ঠিক বলেছ বাবা! আমার আর আলো লাগবে না এই আলোতেই হবে “,বলে ছোটে রান্নাঘরের দিকে, “মা একটা লাড্ডু দাও না….। “
শম্পা সাহা

নতুন ভোর – অভিষেক সাহা

 16 total views

[post-views]

ভাঙা টালির ফাঁক দিয়ে ঢোকা রোদ
আজ আর ঘুম ভাঙায়নি
রোদের আগে এসেছে মণির মা
চা হাতে, সঙ্গে গরম সিঙ্গাড়া
রাস্তার কলে জল নিতে আজ কেউ
বাধা দেয়নি, গোল বাধায়নি
মোবাইলের রিংটোন আজ অবিরাম
খবরটা কালই সবাই পেয়েছে
লটারির টিকিটের সাথে খবরের কাগজে
ছাপা নম্বরটা মিলিয়ে দেখেছে।
অভিষেক সাহা

দমকল – সিদ্ধার্থ সিংহ

 17 total views

[post-views]

আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে‌ কলকাতায় কোনও টেলিফোন ছিল না। ছিল না কোনও মোটরগাড়িও। ফলে কলকাতা শহরের কোথাও আগুন লাগলে, দমকল বিভাগে খবর যেতে যেতে এবং ঘোড়ায় টানা জলের গাড়ি আসতে আসতে ৯৫ শতাংশই পুড়ে ছাই হয়ে যেত। সে জন্য ব্রিটিশ সরকার একটি নতুন পন্থা নিলেন।
শহরের মোড়ে মোড়ে প্রায় হাঁটুর সমান ‌উঁচু লাল রঙের একটা করে লোহার বাক্স বসিয়ে দিল। এই লোহার বাক্সটার ভিতর কাচ দিয়ে ঘেরা থাকত একটা দম দেওয়া মেশিন। মেশিনের তার মাটির তলার পাইপের ভেতর দিয়ে সরাসরি যুক্ত করা থাকত দমকল অফিসের সঙ্গে।
নির্দেশ জারি করা হয়েছিল‌, কোথাও আগুন লাগলে, সব থেকে কাছের এই‌ রকম বাক্সের ভেতরের কাচ ভেঙে তার মধ্যে থাকা হাতলটি ৩-৪ বার ঘুরিয়ে দম দিতে হবে। আর দম দেওয়া মাত্রই সেই সংকেত পৌঁছে যাবে দমকল দফতরে। ফলে দমকল বিভাগ খুব সহজেই জায়গাটি চিহ্নিত করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পৌঁছে যাবে ঘটনাস্থলে।
এই ব্যবস্থা দীর্ঘ প্রায় ১০০ বছর লাগু ছিল কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে। ধীরে ধীরে যখন টেলিফোন আর মোটরগাড়ির ব্যবহার বাড়তে লাগল, তখন দমকল বিভাগে খবর দেওয়ার একমাত্র চটজলদি উপায় হয়ে উঠল টেলিফোন। আর তার সঙ্গে সঙ্গে এই হাতল ঘুরিয়ে দম দিয়ে দমকলকে খবর দেওয়ার কৌশলটাও একটু একটু করে কালের গর্ভে হারিয়ে গেল।
কিন্তু যেহেতু হাতল ঘুরিয়ে দম দিয়ে অগ্নিনির্বাপক বিভাগে খবর দেওয়া হতো, মানে দম দিয়ে কল করা হতো, তাই ওই বিভাগকে বলা হতো দমকল। পরে কালের নিয়মে কলকাতা শহর থেকে দম দেওয়ার সমস্ত বাক্স প্রায় উধাও হয়ে গেলেও, আজও তখনকার সেই ‘দমকল’ নামটাই কিন্তু লোকের মুখে মুখে রয়ে গেছে।
সিদ্ধার্থ সিংহ

সমভাব – সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

 25 total views

[post-views]

ভোলা ল‍্যাঙচাতে ল‍্যাঙচাতে এলো দেশের রাজার কাছে, দেশটার নাম সবপেয়েছি, সভাসদেরা উ‍ৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছে ভোলার দিকে,-ও বলা হয় নি, ভোলা রাজার ব‍্যক্তিগত দূত, ওই খোঁড়া পায়েতেই ও সারা রাজ‍্যের খবর রাখে। রাজা মঙ্গলমনি বড়ই দয়ালু, ভোলার জন্য সুধাঅন্ত সরবৎয়ের ব‍্যবস্থা করে ওকে বসতে বললেন। ভোলার কিন্তু তর সয় না, ও বলার জন্য হাঁকপাক করতে থাকে-“রাজা মশাই–ইয়ে মানে বলছিলাম কী-” রাজা সিংহাসনে ফিরে গিয়ে সুধাঅন্ত সরবতের শেষ ঢেকুরটা তোলার অপেক্ষা করতে থাকে।
ভোলার পেট থেকে কথা আর ঢেকুর দুটোই একসঙ্গে বেরিয়ে আসে-“ভিনদেশী পাগল রাজামশাই।”সমস্বরে সবাই বলে ওঠে-“পাগল” রাজ পন্ডিত কুশল‍্যকরণ মাথা নেড়ে বললেন,”নেহাৎ অভিধানের জোরে আমরা শব্দটি জানি, নাহলে আমাদের রাজ‍্যে নৈরাজ্য নেই, নৈরাশ‍্য নেই, তাই পাগলও নেই,- ব‍্যাপারটা অভিনব বটে।”রাজ অমাত‍্য মাথা নেড়ে বললেন,-“রাজা আজ্ঞা করুন,-শ্রীমান পাগলকে সম্মানপূর্বক রাজসভায় নিয়ে আসি।” সভাসদগণ অমাত‍্যের প্রস্তাবে বলে উঠল,-সাধু সাধু।”
রাজা সমর্থনে বলে উঠলেন,-“রাজবৈদ‍্য যাক সঙ্গে, কখন কী লাগে, দীর্ঘপথ ভ্রমণে অতিথি যদি অসুস্থ থাকেন।” অতঃপর ভোলা, অমাত‍্য ও রাজবৈদ‍্য চলল অতিথি পাগলকে নিয়ে আসতে। পাগল তখন একটা গাছের তলায় বিশ্রামে ব‍্যস্ত,ভোলার ডাকে চোখ মেলে তাকিয়ে বলল,-” আমি তো তোমাদের কোনো ক্ষতি করি নি, আমায় একটু থাকতে দাও।” রাজবৈদ‍্য বলল,-“আমরা আপনাকে সসম্মানে নিয়ে যেতে এসেছি।”-রাজবৈদ‍্য নাড়ি পরীক্ষা করে বললেন-“বড়ই অস্থির নাড়ি।”অগত‍্যা শ্রীমান পাগল চলল ওদের পিছু রাজসভায়। সুন্দর সুরেলা অভ‍্যর্থনায় রাজার দরবারে শ্রীমান পাগলের প্রবেশ ঘটল। রাজা সম্ভাষণ করলেন-“নতুন মানুষ আপনার নাম কী?”
শ্রীমান পাগল উত্তর দিল-“আমার মনে নেই, উপযুক্ত কাগজ দেখাতে না পারায় আমাকে কোন দেশ গ্রহণ করে নি,-আমি বোধ হয় নিরুদ্দেশ।”-বলার ধরণে সভায় হাসির  রোল উঠলে, রাজা বললেন-“আপনি নিশ্চিন্তে এই রাজ‍্যে থাকুন,এখানে থাকতে কোন কাগজ লাগে না।”সবাই বলে  উঠল-“ওনাকে আমরা কী নামে ডাকব?”রাজকবি বলে উঠলেন-“ভাবুক”সবাই এই নাম আনন্দের সঙ্গে মেনে নিল। রাজা এবার বললেন-“আপনি কোথা থেকে এসেছেন ভাবুক।”ভাবুক-“বললাম যে আমার কাগজও নাই,দেশও নাই।”-“ঠিক আছে আপনি আজ থেকে এই সবপেয়েছি দেশের বাসিন্দা।”-রাজামশাই বলে উঠলেন।
অমাত‍্য-“এখানে সবাই  সবাইকে ভালবাসে, পাশে দাঁড়ায়।”-ভাবুক বলল-“আমি তো এরকম একটা জায়গা বহুদিন ধরে খুঁজছি,-এখানে ভালবাসা পেতে কিছু করতে হয় না?-“হ‍্যাঁ হয়,-ভালবাসতে হয়”-রাজকবি বললেন। ভাবুক তাজ্জব,-“শুধু ভালবাসলেই ভালবাসা পাওয়া যায়?-আমি তো তা পেতে গিয়েই পাগল হলাম,”-বলেই ভাবুকের কান্না পেয়ে গেল। কান্না ভোলাতে রাজগায়ক গান ধরল-
                 “হেথায় কেউ কাঁদে না,
                 দুঃখ বলে কিছু নেই,
                 বন্ধু আর নয় কান্না।
ভাবুক মুগ্ধ হয়ে সবাইকে দেখতে থাকল। রাজা বললেন-  “আপনার প্রিয়জন কেউ নেই?”-ভাবুক বলল-শুনেছি বাবা,মা মারা যাওয়ার পর যারা আমার সবকিছু নিয়ে নেয় তারাই আমার প্রিয়জন।” রাজা ভাবুকের কাঁধে হাত দিয়ে বললেন,-“এখন আমরাই আপনার প্রিয়জন চিন্তা করবেন না।” ভাবুক অবাক হয়ে বলল-“মহারাজ আমি যেখান থেকে এসেছি সেখানে রাজারাজরারা গরিবের কাঁধে হাত রাখে না,-রাখলে জানবেন ভোট এসে গেছে।”
রাজ‍্যের অর্থমন্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন-“ওখানে আপনার ভরণপোষণ ঠিক চলত তো?””আজ্ঞে না,কোনরকমে বেঁচে ছিলাম,দেশটায় আর কোন চাকরি নেই,আবার নতুন তালাবন্ধ জীবনে অনেকের চাকরি গেছে। সরকারি  সুযোগ সুবিধেগুলো কোথায় চলে যায় তাও বলতে পারব না।” রাজা বললেন-“কোন চিন্তা নেই,-এই রাজ‍্যে খাদ্য,বস্ত্র উৎপাদনে সবারই স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকে, তার ভাগও সবাই সমানভাবে পায়;-এই দেখ,-আমার যা পোশাক রাজকবিরও তাই, শুধু কাজের ভাগ অনুযায়ী আমরা আলাদা আলাদা ব‍্যাজ ধারণ করি।” ভাবুক এতক্ষণে ভাল করে তাকিয়ে দেখল-সত‍্যিই তো তাই।
রাজবৈদ‍্য জিজ্ঞেস করলেন,-“তুমি যেখান থেকে এসেছো সেখানে চিকিৎসা পেয়েছিলে?” ভাবুক ভাবনায় ডুবে গিয়ে বলল-“ওখানে বড়লোকদের জন্য কিছু চমৎকার ব‍্যবস্থা আছে হয়ত, কিন্তু গরিবদের চিকিৎসা পেতে বড়ই দুর্ভোগ পোয়াতে হয়,- রোগ নির্ণয়, রোগীর শয‍্যা দীর্ঘ লাইন বা দালালের ওপর নির্ভরশীলতা।” রাজসভায় সবাই সমস্বরে বলে উঠল,দালাল সেটা কী বস্তু ভাবুক মশাই।”
ভাবুক তার চেষ্টামতো বোঝাতে শুরু করল-“কোন কিছু সহজে পেতে গেলে যে মানুষদের উপরি পয়সা দিয়ে সে ব‍্যবস্থা পাওয়া যায় তাকেই দালাল বলে,-এ ব‍্যবস্থা শুধু স্বাস্থ‍্যে নয়,সর্বত্র আছে।” রাজামশাই আঁতকে উঠে বললেন-“কী সাঙ্ঘাতিক,আপনাকে আর কোথাও যেতে হবে না,-এখানে সকলের জন্য সমান সুযোগ,-আপনি এখানে নিশ্চিন্তে থাকুন।” রাজগাইয়েরা গেয়ে উঠল-
              ভাবুক তুমি আমাদের এই দেশে
              সুখে শান্তিতে থাকো,
              সমান সুযোগ পাবে হেথায় তুমি
              চিন্তা কিছুই নেই কো।
এমন সময় ভাবুকের কানে এল-“এই পাগল ওঠ,-পার্কটা  কি তোর শোবার জায়গা?-কেমন নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে দেখো।”- সিভিক পুলিশের গুঁতো খেয়ে ভাবুক চারদিকে  তাকিয়ে সব পেয়েছির দেশটাকে খুঁজতে থাকল।
সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

দিক হননে যাবেনা কেউ – মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

 15 total views

[post-views]

আমিষগন্ধী সকাল দিয়ে শুরু—
নতুন নতুন সুরাপায়ীর মুখে ফুটছে খৈ।

নিষিদ্ধ তবক দেয়া দুপুরে ঝলসানো  চামড়ায়
অভিজাততন্ত্রের খ্যামটা নাচন,
চলছেই—
অবলোহিত বর্ণের শেষ পোছ দিয়েছি এই বলে যে,
দিক হননের দিন নয় আজ।

দিকভ্রান্ত অকূলদরিয়ার পাড়ে
কান্নার খাড়া ঢাল বেয়ে নামছে
নিষিদ্ধ অজগরের ছা’
রোদ খাওয়া কালো গাভীর দুগ্ধবতী ওলানের দিকে
মাথা বাড়ালো সে।

রূপান্তরিত পৃথিবীর খাতাগুলো
প্রত্যাহার না করে,
সঠিকতর ফুটেজে,
সুন্দরই তো শোভা পায়।
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

মিনতি – রায়হান আজিজ

 16 total views

[post-views]

দিদি,

হয়তো ভারি রেগে আছ আমার ওপর । আমার ফোন নম্বরটাও হয়ত এতক্ষণে তোমার ব্লকলিস্টে চলে গেছে । কিন্তু, বিশ্বাস কর দিদি, তোমাকে বিরক্ত করবার কোনও ইচ্ছে আমার ছিলনা । তুমিতো জান, সেদিন হাসপাতালে মানে তোমার অফিসে পৌঁছুতে আমার দেরি হয়ে যাওয়ায় তোমার সঙ্গে দেখা করতে পারিনি । অবশ্য দেখা করবার ইচ্ছেটা আমারই বেশি ছিল । এরপর, একদিন তোমার অফিসের কাছে আমার একটি কাজ থাকায় তোমাকে একটি টেক্স্ট পাঠাই । তুমি অফিসে ব্যস্ত আছ ভেবে তোমাকে কল না করে টেক্স্ট করি । কিন্তু টেক্স্ট  পেয়ে প্যানিকড হয়ে তুমি আমাকে কল কর । জানতে পারলাম সেদিন তোমার ডিউটি ছিলনা । আমি ভারি বিষম খেয়ে যাই । জানি তুমি খুব রাগ করেছ । তুমিতো আমাকে খুব কাছ থেকে দেখেছ দিদি । দেড়টি বছর তোমার সঙ্গে কাজ করেছি । আমি কি এতই খারাপ দিদি? আমিতো কোনওদিনই তোমাকে অসম্মান করিনি । মাঝে মাঝে তোমাকে একটু ফোন করি, তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই । এটি কি অপরাধ? তুমিতো সেদিনের পর আমাকে আর কল করলেনা দিদি ।

আমি না হয় একটা ভুল করে ফেলেছি । তাই বলে আমাকে অমন করে ফেলে দিতে পারলে দিদি? ছোটভাইয়ের সঙ্গে দিদিরা কি অত রাগ করতে পারে? তুমিই বল?

একটা ভক্ত না থাকলে তোমার হয়ত কিছুই হবেনা দিদি ।কিন্তু মাথার ওপর থেকে তোমার হাতটা সরিয়ে নিলে যে আমি মরে যাব দিদি!

কখনও কোনও ভুল করে ফেললে খুব করে বকে দিও দিদি । তবুও আমাকে দূরে সরিয়ে দিওনা ।তোমার একটা ফোনেকলের অপেক্ষায় রইলাম । 

ইতি

তোমার অবুঝ ভক্ত । 

রায়হান আজিজ

 

পরিচিতিঃ

রায়হান আজিজ ১৯৯২ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর পুরনো ঢাকার একটি সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । বাবা ব্যবসায়ী মোঃ ইউসুফ হোসেন ও মা গৃহিনী কামরুন নাহারের তিন সন্তানের মাঝে লেখকই সবার বড় । তিনি রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে ফার্মেসীতে সম্মানসহ স্নাতক এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে ২০১৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন  করেন ।

পরবর্তীকালে তিনি রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে একজন ফার্মাসিস্ট হিসেবে যোগদান করেন এবং বছর দেড়েক সেখানে কর্মরত ছিলেন । বর্তমানে তিনি বাবার সঙ্গে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করছেন । ছেলেবেলা থেকেই বই পড়ার প্রতি তার একটি ঝোঁক ছিল যে অভ্যাসটি গড়ে দিয়েছিলেন তার ছোটফুপু মিস কারিমা বেগম ।

লেখক ২০০৩ সালে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত স্কুলভিত্তিক বইপড়া কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে “স্বাগত পুরস্কার” লাভ করেন । ২০১৭ সালে দৈনিক জনকণ্ঠে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে লেখক রচিত একটি কলাম প্রকাশিত হয় এবং সে বছরই দৈনিক সমকালের ক্রোড়পত্র “চারমাত্রা”য় তার লেখা একটি গল্প ছাপা হয় । সম্প্রতি ঢাকার “জলতরঙ্গ পাবলিকেশন্স” থেকে লেখক রচিত একটি যৌথ গল্পগ্রন্থ “জলছোঁয়া”(২০২০) প্রকাশিত হয়েছে । নাট্যপ্রেমী এ লেখক আমৃত্যু নিজেকে লেখালেখি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখতে চান ।

 

নিয়তির শেষ খেলা – কবি কাজল মাস্টার

 25 total views

[post-views]

আনন্দ আর অশ্রু ২০ বছরের সংসার তাদের।সুখেই কেটে যায় তাদের দিন।কিন্তু নিয়তি বড়ই নিঠুর।নিয়তির একটু হোচটে আজ তাদের জীবন বিপন্ন। হঠাৎ আনন্দ অসুখে পড়ল।আয় রোজগার সব বন্ধ। কিন্তু সংসারের খরচ কম না।একছেলে আর একমেয়ে। পড়াশুনা,খাওয়া খরচ মেটাতে অনেক টাকা ঋণ হয়ে যায়।পরে লাভে টাকা ধার নেয়।আস্তে আস্তে অনেক ঋণ হয়ে যায়।কোন পথ না পেয়ে অশ্রু দূর প্রবাসে পা বাড়ায়।ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কস্টে কাটতে থাকে আনন্দের জীবন।ভালো কাজ ও পায় অশ্রু।  থাকা খাওয়া ভালো।বেতন একটু কম।
তবে নিরাপদ।আনন্দ বলে সমস্যা নেই।সব যখন ভালো বেতন একটু কম তাতে কি।দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিল আগে ঋণের বোঝা কমাতে হবে।যেই কথা সেই কাজ। অশ্রু যা দেয় তা দিয়ে আনন্দ ঋণ দেয় আর নিজে যা কামায় তা সংসারে খরচ করে।মোটামুটি ভালো ভাবে বছর কাটে।ঋণের বোঝা ও অনেক কমে যায়।ভাবতে থাকে এভাবে দিতে থাকলে তারা ঋণ থেকে মুক্তি পাবে।এখানে বলা দরকার অশ্রু টাকা দিলে ও আনন্দকে অনেক কথা শুনায়।তারপর ও আনন্দ কোন কিছু বলে না।মুখ বুঝে সব সয়ে যায়।কারন তাকে তো আগে ঋণ থেকে মুক্ত হতে হবে।আগে ধার শোধ কিসের এত মান অপমান।
আস্তে আস্তে অশ্রুর বেতন বাড়তে থাকে।ওর মন মানষিকতার পরিবর্তন হতে থাকে।আনন্দ বুঝতে পারে অশ্রু এখন পিছ পা হতে চায়।বুঝে ও না বুঝার ভান করে।ভাবে অশ্রু যদি সুখ খুঁজে পায় তাতে তাঁর সমস্যা নেই।
অশ্রু আজকাল আনন্দের তেমন খোজ নেয় না।ও এখন সব সময় কাজের অজুহাত দেখিয়ে কেটে পড়ে। মাঝে মাঝে কথা বললে ওর মাকে তুলে বকা খেতে হয়।অপমান করে। মুখে যা আসে তাই বলে তারপর ও আনন্দ ভাবে ও সংসারের জন্য এতটা করে  মনকে সব ভুলিয়ে সামনে এগুতে থাকে।অশ্রু একদিন জানিয়ে দেয় ও আর কোন টাকা দিবে না।আনন্দ ভাবে নিয়তি যা করে তাই হবে।অশ্রু আজ কাল দিন  রাত ইমুতে,লাইকিতে,ফেইসবুকে পড়ে থাকে।
আনন্দ কে নিয়ে তার কোন খেয়াল নেই।আনন্দ ও ভাবে যাক ওগুলো করে অশ্রু যদি সুখি হতে পারে হোক। যে কথা সে কাজ।আনন্দ তাঁর জীবনকে ছেড়ে দিয়েছে নিয়তির হাতে।অশ্রু এখন ভিডিও ছাড়ে লাইকিতে।আনন্দের ওগুলো দেখে খুব কস্ট হয়।অশ্রুকে বোঝায়।অশ্রু আরো বেশি বেশি ছাড়ে যেন আনন্দের আঘাত লাগে।অনেকের সাথে কমেন্টে মজার মজার গল্প করে।আনন্দ সব দেখে আর নিরবে নিরবে কাঁদে।
কি তাঁর করা।সব নিয়তির খেলা।অনেক বলার পর ও যখন দেখে অশ্রুর মাঝে পরিবর্তন নেই। তখন নিজ থেকে দূরে সরে যায়। যেন অশ্রু সুখ পায়, শান্তিতে থাকে।অশ্রুর সাথে কথা বলা ছেড়ে দেয়।দেখতে চায় এগুলো করে, আনন্দ কে কাঁদিয়ে অশ্রু কতটা সুখি হতে পারে।রোগে,শোকে,অভাবে কাটতে থাকে আনন্দের দিন,মাস,বছর।এ জন্য তার মনে কোন দুঃখ নেই,কস্ট নেই।সে চায় অশ্রু সুখি হোক।অশ্রুকে সুখি দেখলে তার সুখ।নিজের ভাগ্যকে সে ছেড়ে দিয়েছে নিয়তির হাতে।আনন্দ  দেখতে চায় নিয়তির শেষ খেলা।
কবি কাজল মাস্টার

পরাজিত বিজয়ী – শোয়েব ইবনে শাহীন

 15 total views

[post-views]

ধরে নিয়েছি আমি, প্রতিটা শ্বাস নেবার সময়
হবো তো বিজয়ী!  ঘূর্ণিঝড়ে তছনছ হয়ে যাওয়া জীবনটায়,
কিন্তু আমি যে হারছি!  মুহুর্তেরা বলে প্রতিটি শ্বাস ফেলবার সময়।
ঘুরে ঘুরে চক্রাকারে শুধু কেন তুই-ই আছিস অস্তিত্ব জুড়ে…
ভস্ম করে দে আমায়!  দয়া করে…শেষ হতে দে আমাকে, প্রাণভরে!
দূরে যদি থাকবি-ই,  তবে কেন আমায় ভালবাসা শিখালি?
অপরাধ আমার! নষ্ট হচ্ছে তোর জীবনটা আমার জন্যে, কেমনে তোকে বুঝিয়ে বলি!
তবুও ধরে নিয়েছিলাম আমি একদা হবোই বিজয়ী;
ভাগ্য থাকবে সাথে আমার….কিন্তু হয়তো দগ্ধ হয়ে ছাই হয়ে যাওয়াই আমার আগামী,
আমি, হ্যা আমি !  এক পরাজিত বিজয়ী!

শোয়েব ইবনে শাহীন

রক্ত দান – সবিতা কুইরী

 15 total views

[post-views]

এসো হে নওজোয়ান
হিন্দু মুসলমান
কর সব রক্ত দান
বেঁচে যাক তাজা প্রাণ।

এসো শিখ খ্রিস্টান
গাও মানবতার গান
শুরু হোক নাড়ির টান
কর সব রক্ত দান।

ভেদাভেদ যাই না ভুলে
ওরা যে হাসপাতালে
দুটো ফোঁটা রক্ত দিলে
ফিরবে মায়ের কোলে।

বেশিটাই জল শোণিতে
দান করেও যাবে জিতে
জল খেলে পরিমিতে
হয় পূরণ শরীরটিতে।

চাওয়া – এম.জাকারিয়া আহমেদ

 13 total views

[post-views]

তোমার ঘরের দক্ষিণ জানালার পাশে
ফুল হয়ে আমি ফুটবো,
প্লিজ; আমায় ছিঁড়ে ফেলোনা ?
তোমায় শুধু দেখবো।
তোমার চলার পথে আমি
পাশে প্রজাপতি হবো,
প্লিজ; আমায় ধরে মেরোনা ?
আমি শুধু তোমার পাশে চলবো।
ঘোর নিশীতে জোঁনাক হয়ে
তোমার বেলকুনীতে উড়বো,
প্লিজ; আমায় বন্ধী করোনা ?
আমি শুধু নিভুনিভু জলবো।
ঘুম পাড়ানি মাসি হয়ে
তোমার মাথায় হাত বোলাবো,
প্লিজ; আমায় তাড়িয়ে দিওনা ?
আমি শুধু তোমায় ঘুম পাড়াবো।
প্রভাতী দোয়েল হয়ে আমি
জানালার গ্রীলে বসবো,
প্লিজ; আমায় ঢিল ছোড়না ?
তোমায় শুধু ফিসফিসিয়ে ডাকবো।
ভর দুঁপুরে কোকিল হয়ে
শিমুল গাছে ডাকবো,
প্লিজ; আমায় বেঙ্গ করোনা ?
তোমায় শুধু গান শুনাবো।
বিকেলবেলা কৌতিক হয়ে
তোমার খেলার সাথী হবো,
প্লিজ; আমায় বাদ দিওনা ?
আমি তোমায় শুধু হাসাবো।
সাঁঝের বেলায় বিদায় নিয়ে
দূর অজানায় চলবো,
প্লিজ; আমায় ভুলে যেওনা ?
তোমায় যে আজ ছেড়ে যাবো  !!!
এম.জাকারিয়া আহমেদ
এম.জাকারিয়া আহমেদ

বুক রিভিউ – ২ – তৈমুর খান 

 12 total views

[post-views]

পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ পঞ্চধারার সমন্বয় – তৈমুর খান 

ফ্রানজ কাফকা বলেছিলেন:”Youth is happy because it has the capacity to see beauty. Anyone who keeps the ability to see beauty never grows old.”(Franz Kafka) অর্থাৎ  তারুণ্যই সুখী হয় কারণ তাদের সৌন্দর্য দেখার ক্ষমতা আছে। যে কেউ সৌন্দর্য দেখার ক্ষমতা রাখে না।প্রাচীন বৃদ্ধরা সক্ষম হন না। তরুণ কবিদের  প্রকাশিত এক ফর্মার কাব্যগ্রন্থগুলি পড়তে গিয়ে এই কথাটিই মনে হলো। হ্যাঁ সাহস আছে। দর্প আছে। ভীরুতাও আছে। আড়ষ্টতাও আছে। কিন্তু সময়ের নিরিখে জগৎ-জীবনকে দেখার কৌশল এবং বিবমিষার এক দ্বান্দ্বিক প্রজ্ঞায় আবিষ্ট হয়ে ওঠার উপলব্ধিও আছে। তাঁরা কবিতা লিখতে এসেছেন কবিতাকে ভালোবেসেই। শব্দে শব্দে নিজস্ব অনুজ্ঞাকে বাসন্তিক বসুধার হিল্লোলে দুর্বার করে তুলেছেন।ভিন্ন দিগন্তের অনুসন্ধানও করেছেন। আসুন আমরা পরিচিত হই তাঁদের সাথে।

বুক রিভিউ -২

‘লাস্ট সিন'(অক্টোবর ২০২০) লিখেছেন কবি অর্পণ। অর্পণ কি ছদ্মনাম? না হলে নিশ্চিত কবি নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। কাব্যটি উৎসর্গ করেছেন “যারা ‘ব্যথা’ বানান ভুল লেখে/ যে সেই বানান ঠিক করে দেয়” তাদের। এরকম উৎসর্গ কখনো দেখিনি। সাম্প্রতিক ভাঙাগড়া উত্থান-পতনের ভেতর দাঁড়িয়ে নিজের ছায়ার মাপ দিয়েছেন কবি। যা “গোপনে কবিতা ছাড়ানোর বই”। “ভালোবাসার ক্যাশ অন ডেলিভারি।” দ্রুতগামী বাজারী উল্লাসে সর্বদা এক অভিশাপ গ্রাস করেছে। কিন্তু কবির তো নো পরোয়া। জীবন এক রসিকতা ও ব্যঙ্গের শিকার। সাহসী কলম তখন লিখতে পারে: “দুঃখের মতো অ্যাফর্ডেবল্ আনন্দ আর নেই। একটা প্রিয় কাঁধ বা কোল থাকলেই হল। অন্ততপক্ষে একটা ছাদ। ছাদ না হোক, খোলা মাঠ। অভাব যত বেশি, ততোই প্রকাণ্ড আয়োজন।” সত্য কথাটি নির্ভিকভাবেই উচ্চারিত হতে পারে:”বুদ্ধিজীবীরা পরজীবীর প্রকৃষ্টতম উদাহরণ।” দার্শনিক কথা ও বাস্তবতাও বোধের জারক তৈরি করে। আর অভিজ্ঞতা লেখায় কবিতা:”আমরাই দ্রব্য, আমরাই দোকানদার। আমরাই বিজ্ঞান। আমরাই গিনিপিগ। ডুবতে গিয়েও ভেসে ওঠা কেরামের গুটি।” কবিতা মিশে গেছে জীবনের দ্রবণে। সম্পৃক্ত হয়েছে বেঁচে থাকা। মৃত্যু সেখানে স্থান পায়নি। রতি নীতির সম্মোহন কেটে গেলে কবি দেখিয়ে দিয়েছেন: “বিস্ময়ের পাশে আর কোনও সূচক নেই।” তখন দুঃখই জীবনানন্দ, দুঃখই লালন ফকির হয়ে গেছে। গদ্য ঢঙের চালে বিদ্রুত কবির অগ্রসর মুগ্ধ করে।

পোষা পিচুটির সৎকার

  ২

‘দুঃখ বলে ডাকো'(অক্টোবর ২০২০) কবির নাম বিদিশা দে। “সময় বাঁধে না যাকে, বুকে তার কুমারী রঙ” এই কুমারী রঙের ব্যাপ্তির আত্মপরতায় তার রতি সমগ্র কাব্যেই রূপ সঞ্চার করেছে। লাজুক বিনম্রতা কখনো ধূসর, কখনো ব্যর্থতা, কখনো বিচ্ছিন্নতার মর্মর আবেগে সমর্পিত হয়েছে। একাকিত্ব নিজের কাঁধেই বহন করেছেন। সময় গড়িয়ে দিয়ে ভগ্ন সময়ের স্বর শুনতে পেয়েছেন: “লেখার খাতার পাশে হাতঘড়ি ফেলে রাখি,/ এ পাতা ও পাতা শব্দ গড়িয়ে যায়,/ যতি চিহ্ন—/ ইনসমনিয়া, কিছু আদর, আর স্বপ্ন বিলাস।” তারপর যখন:”দু’হাতে নিজেকে ভাঙতে ভাঙতে/ এখন আমি তোমার গল্পে অস্পষ্ট অক্ষর।” তখন বুঝতে পারেন শব্দেরা ঋতু বদল করে নিল। শব্দের ঋতুবদল এক দুঃখময় পৃথিবীর দিকে ধাবিত। গাছের পাতায় পাতায় নূপুর পরে নেয়। নিজের ছায়া গা ধুয়ে নেয় মেঘের মায়ায়। আত্মিক দুঃখের কাছে স্বপ্নের দহন বিরামহীন হয়ে যায়।

[caption id="attachment_1322" align="alignnone" width="193"]বুক রিভিউ -২ বুক রিভিউ -২[/caption]

 ‘দেবদারু কিংবা ঈশ্বরী'(অক্টোবর ২০২০) কবির নাম সুদেব রায়। কাব্য উৎসর্গে আরও এক সাহসী ঘোষণা:”পবিত্র বেশ্যালয়ের সমস্ত ঈশ্বরীর উদ্দেশ্যে/ যাদের আঙিনার মাটিতে আমার মায়ের/ মূর্তি স্থাপিত হয়।” ‘পবিত্র বেশ্যালয়’ বলতে পারার ভেতর দিয়েই বিদ্রোহের অমোঘ বার্তাটি প্রদীপ্ত। ঈশ্বরী সিরিজ কবিতাগুলিতে প্রত্নসম্পর্কের আত্তীকরণটি চেতনাপ্রবাহে বাহিত হয়। কবি তাই নির্দ্বিধায় লিখতে পারেন: “জেরুজালেমের সেই নগ্ন ঈশ্বর আর মন্দিরের উলঙ্গী।” একদিকে প্রকৃতি এবং নারী মিলে ঈশ্বরী, তেমনি সম্মোহনের আরতি মেঘ-বৃষ্টি গুল্মের পাহাড়ের নদীর বিন্যাসে জাগরুক হয়ে ওঠে। এখানেই মহাপ্রাণ অথবা মানব প্রাণের জন্ম হয়। কবি লেখেন: “আমি ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ি পবিত্র বেশ্যালয়ে।”

বেশ্যালয়= পৃথিবী;

দেবদারু = সচকিত ঘোষণা।

 জন্মান্তর চলতেই থাকে। “প্রত্যেকটি শিকড়ের পাশে দাঁড়িয়ে সংসারী।” শেকড় অন্বেষণই আদি জীবনের অন্বয়। সময়ের প্রচলিত অন্তর্ঘাতকেও কবি উপেক্ষা করতে পারেননি। তাই দেখেছেন ভারতবর্ষের অলিতে গলিতে লাশ ঘোরাফেরা করে। শুধু দেবদারুই সবকিছু মিলিয়ে দিতে পারে। কবিও আপেল গাছ হয়ে যেতে  পারেন। কবিতার ফ্রম ভেঙে অর্থ ব্যঞ্জনা পাল্টে দিয়ে এক শুষ্কতা এবং নিরুদ্যম বৈপরীত্য আমদানি করেছেন।

book

 ‘নিরাভরণ'(অক্টোবর ২০২০) কবির নাম রণজিৎ মাইতি। দুধ সাদা রঙে মৃত্যু রচনা করার মধ্য দিয়েই জীবন শুরু করেছেন কবি। আমরা জন্মাই মৃত্যুবরণের জন্যই। কবি তা বিলক্ষণ জানেন বলেই জয় গোস্বামীর মতন “মৃত্যুটি রচনা করি” কথাটি এভাবে লিখেন: “এবার মৃত্যু রচনা করি দুধ সাদা রঙে”।

 মরণেই শুরু হোক জীবন। এই প্রেক্ষিত থেকেই কবি জেনেছেন “দীনতা আসলে এক গভীর অসুখ”। কবি তুলনা বাচক শব্দ ব্যবহার করেননি। অলংকার ব্যবহার না করার মধ্যদিয়েই কবিতার একটা নতুন ঘোষণা নব্বই দশকেই আমরা পেয়েছি। এই কবিকেও পেলাম। নির্মেদ ও স্পষ্ট উচ্চারণগুলি শব্দমুদ্রায় দৃঢ়তার কাঙ্ক্ষিত ঐশ্বর্য দান করেছে। যেমন:

“জানি, অনেকের অনেককিছু থেকে তবুও নির্ধন

 হেম, হর্ম্য, দম্ভ, আমানত।

 জানি, দীনতা আসলে এক গভীর অসুখ, মনোবিকলন

তেমন সরোবরে কখনোও কি ফোটে কোকনদ,

চারু,কহ্লার?

তাই মূল্যায়নে ঢুকে পড়ে কুয়াশার অন্তরালে ঢাকা মুখ ও মুখোশ

চ্যুতি, দ্যুতি, নির্মোহ মৌলিক দ্যোতনা—

চাঁদমুখ, কিংবা কলঙ্ক চাঁদের অলংকার কিনা”

 শব্দ ব্যবহারের সাহসী পদক্ষেপ সমগ্র কাব্য জুড়ে এক  দৃপ্ত পদচারণা মুগ্ধ করে। জলনূপুর থেকে জলজ শ্যাওলা, কদর থেকে জামাই আদর, চাঁদ চাঁদপানা মুখ, অশ্বডিম্ব থেকে আপন কুলায়, কালমেঘ থেকে বিশল্যকরণী, প্রেম থেকে প্রেমিকও অরূপরতন, জল্লাদের রক্তিম হাত পদ্মকোরক, কালশিটে দাগ চকচকে উজ্জ্বল সবগুলির মধ্যেই রীতি বৈপরীত্যে নিজস্ব এক ভাষাবৈভব গড়ে ওঠে। বোঝা যায় এই কবির ক্ষমতা। নিরাভরণ কবি অলংকার ত্যাগ করে অস্তিত্বকেই চোখের সামনে পরিমাপ করেন। তাই ছিন্ন করেন আবিল আবিষ্টতা। বলে দেন: “আমি নিরাভরণ রূপে মুগ্ধ, মুক্তকণ্ঠে বলে যাই।/ যতো খুশি গালি দাও ‘শালা’।”

 ‘পোষা পিচুটির সৎকার'(অক্টোবর ২০২০) কবির নাম সৌরভ বর্ধন। কবিতার স্বাভাবিক পথ পরিহার করে যাঁরা ভিন্ন পথের সন্ধান করেছেন তাঁদেরই উত্তরসূরী সৌরভ বর্ধন। প্রথম থেকেই বাংলা কবিতায় অধুনান্তিক ধারাকে অনুসরণ করেছেন। তাই তাঁর কবিতায় বিশেষ্য বিশেষণ ক্রিয়ার ব্যবহার পাল্টে গেছে। বিষয়হীন বিষয়, প্রসঙ্গচ্যুতি, অস্বাভাবিকতা, বহুমুখী উৎস ও বিন্যাস, পাঠকের প্রত্যাশাকে ভেঙে দেয় বা উলংঘন করে। ব্যঙ্গাত্মক বা বিদ্রূপাত্মক বিচ্ছিন্নতায় পৌঁছে দেয়। কবিতার কিছুটা  অংশ উদ্ধৃতি হিসেবে উল্লেখ করলে বিষয়টি খোলাসা হয়:

 “পায়ের নূপুর খুলে এসো মদ

 হাতের মরা পাখিটিকে আপাতত বালিয়াড়ি।

 ছল ছল নিতম্ব-তালে দোলা দেয় জ্যোতিষ্ক

 তার রূপ আকিঞ্চনে ঝরে যায়  দুঃস্মৃতি।

 বঁড়শি হাতে পেলে সে

 জলাঞ্জলি সংসার—”

 আগাগোড়া একটি অস্থির বিষয় কবিতার অন্তর্ভুক্ত যা themes of restlessness  অর্থাৎ মুক্ত ফর্ম। শেষদিকে কবিতার লাইন ভাঙা। গঠনও বিশৃঙ্খল এবং সামঞ্জস্যবিহীন। ইতিহাসের মিথ বা চিরাচরিত ধারণা এই কবিতায় পাল্টে যায়। কবিতা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠানবিরোধী। অস্তিবাদকে সমর্থন না করলেও মাঝে মাঝে তা কবিতায় দেখা যায়। কবিতার আরেকটি অংশে লিখেছেন:

 “দুর্বার ক্যানোপি মাথায়

 তুমি জেনারের বসন্তকাল। সেরে ওঠো ক্ষয়।

 ক্ষয়: আত্মার অভ্যন্তরে অনেকক্ষণ সংবিৎ”

 বসন্তরোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারক জেনারের উল্লেখ থাকলেও তা পাঠকের প্রত্যাশাকে ছিন্ন করেছে। বসন্তরোগ বসন্তকাল। দেহের অভ্যন্তরে আত্মা না থেকে আত্মার অভ্যন্তরে সংবিৎ। কবিতার শেষ অংশে লিখেছেন:

 “আমার নাবালক মিইয়ে যাচ্ছে

 আমি মৈথুন খুলে খুলে দেখছি, দেখছি প্রস্তুত

 পোষা পিচুটির সৎকার। এবং

 পরাশ্রয়ী ডেটা ব্যাংক: এই দুটো অস্তিত্বে

 আমাদের মখমল ঘিলুর হনহন—”

 সব কবিতার মধ্যেই আছে open ended বা মুক্ত ফর্ম। জাদুবাস্তবতার প্রভাব। শূন্যবাদী অস্তিত্বের সংলাপ। সাধারণ কবিতার বিপরীতে বা প্রতিষ্ঠান বিরোধী কবিতার পক্ষে এই কবিদের শিল্প সাধনা। সৌরভ  বর্ধন কবিতা পাঠককে নতুন অভিজ্ঞতা দান করেছেন।

*১।লাস্ট সিন:অর্পণ, কচিপাতা প্রকাশন, পানাগড় বাজার, পশ্চিম বর্ধমান, মূল্য ৫০ টাকা।

*২। দুঃখ বলে ডাকো:  বিদিশা দে, ঐ

*৩।দেবদারু কিংবা ঈশ্বরী: সুদেব দে, ঐ

*৪।নিরাভরণ: রণজিৎ মাইতি, ঐ

*৫।পোষা পিচুটির সৎকার:সৌরভ বর্ধন, ঐ

 

তৈমুর খান 

 

 

আর কিছু না দাও – অন্ততো কষ্টটুকু দিও ?? এম.জাকারিয়া আহমেদ

 18 total views

[post-views]

প্রিয়,
      তোমার জীবনের সকল সুখ স্বাচ্ছন্দ তুমি সবাইকে
       দাও। আমি তার ভাগ চাইনা ! তবে কোনদিন যদি        দুঃখ তোমায় আক্রে ধরে তখন আমায় একটু ভাগ
       দিও ? আমি চাই তোমার সকল সুখ যেন সারাটা
       জীবন ধরে তোমায় সঙ্গ দিয়ে যায়। তোমার মনের
      ঘরে ঠাঁই নাই’বা দিলে, তোমার চোখের তারায় স্বপ্ন
        নাই’বা দেখালে। তোমার ইচ্ছায় আমায় নাই’বা
        জড়ালে ! কিন্তু তোমার চির দুঃখের দিনে আমায়
        কাছে ডেকো ? দেইখো ? আর কিছু না পারি
        অন্ততো তোমার দুঃখটা গোছানোর চেষ্টা করবো।         যদি জীবনও দিতে হয় তাও দিয়ে দিবো ! শুধু
        একবার আমার চোখের দিকে তাকিয়ে একটা
        মিষ্টি হাসি দিও ? আমি জানি আমাকে তুমি
        পছন্দ করনা ! কিন্তু জানো ?  পৃথিবীতে মানুষ
        দু’জন মানুষকে সবচাইতে বেশি মনে রাখে,
        এক. মনের মানুষকে, মানে তার প্রিয় মানুষটাকে।         দুই. আর তার শত্রুকে !  মনের মানুষটিকে
        ভালোবাসা দিয়ে মনে রাখে, আর শত্রুকে মনে
        রাখে ঘৃণা দিয়ে ! হয়তো তোমার মনের আয়নায়
        প্রিয় মানুষটি হয়ে ধরা দিতে পারিনি। কিন্তু শত্রু           বলে তোমার জীবন ধারায় শত্রু হয়েতো বাঁধার
        চেষ্টা করেছি ? এর বিনিময়েতো আমায় ঘৃণা               দিয়ে মনে রাখো ? তাই বলছি
        আমায় আর কিছু না দাও
                          অন্ততো কষ্টটুকু দিও ???
        এম.জাকারিয়া আহমেদ

মানবতার বিচ্যুতি – শোয়েব ইবনে শাহীন

 19 total views

[post-views]

সবার জন্য নাকি সবাই আমরা?
অকেজো অথবা ভ্রান্ত কি চেতনা?
দখল নিয়েছে আবেগে আজ- ঈর্ষা,  হিংসা, লোভ, প্রতিহিংসা
আধারে বন্দী রাজবন্দীরা, আঁটছে ফন্দি ; চালিয়ে দেবে মীমাংসা!
নিরীহ মানুষ চকিতে নিমিষ ; ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ!  যুক্তি।
কি অকাট্য যুক্তি,  দোষীরা খালাস!  নিরীহ বান্দার আত্মার মুক্তি……

ভোট চালাচালি ভোট কেন্দ্রতে, একই প্রতিদ্বন্দ্বী’র মাথায় বাড়ি।
গোপন খবর কেউ জানে না……..জানেনা দু’ নেত্রীর রাজনীতি!
কেউ ভালো নয়!  হতে পারেও ভালো তবে দেশকে বেঁচে দিয়ে কালো টাকা এনে,
চলবে না দেশের শান্তু!  হাজারো শান্তি আনবে সত্যি অশান্তি ;
ভালো আর কি হলো?  ভাতে না হলেও হাতে তো মরব!

ধারণক্ষমতাহীন স্থান, তার দখল নিয়ে ষড়যন্ত্র
মা’য়ের কোন দোষ নেই!  যা দোষ সব আমার…মানবতার বিচ্যুতি!
আমি শপথ করতে পারি; কষ্টার্জিত আমার অভাগিনী মায়ের নাম,
অর্ধেকই প্রায় জানোয়ার হয়েছি ; যেকোনো দিন নিজেকেও মেরে বসবো চোখ বুঁজে।
সত্যিকারের মিথ্যে আর বানোয়াট সম্মানের মোহে….!

শোয়েব ইবনে শাহীন

যদি… – মোঃ সাজেদুর রহমান

 20 total views

[post-views]

যদি মনের অজানা কথাগুলি বলতে মন চায়,
তবে বলে ফেল।
যদি মন সায় না দেয়,
মনের বিরুদ্ধে লড়ো।
যদি না বলা কথা থাকে মনে,
তাহলে বলে দিও।
যদি ভুলে যাওয়ার ইচ্ছে থাকে,
তবে মায়ার আড়ালে জড়িও না।
যদি ভাল রাখার ইচ্ছে থাকে,
তবে না পূরণ কর।
যদি সাথে থাকার ইচ্ছা করে,
তবে ছেড়ে যেও না।
যদি ফুল হয়ে মৌমাছির গুঞ্জন শুনতে চাও,
তাহলে মধু আহোরণের সুযোগ দিও।
যদি ঐ মেঘের মত ভেসে যেতে মন চায়
তবে জল হয়ে অপেক্ষায় থাকিও।
যদি কখনো বন্ধু ভাব,
তবে বন্ধুত্বের অবমাননা করিও না।
ছায়া মায়া জল সল নতি প্রতি,
অব্যক্ত আলাপন টানবে একদিন ইতি।

 

ছলনা – ছন্নছাড়া

 14 total views

[post-views]

যে ছিল মোর মনের গভীর মনিকোটায়,
যতনে লালিত -পালিত হত ভালবাসায়।
বুঝতেই পারিনি তার মনেও আছে
কপটতা, লুকিয়ে রেখেছে মনের মাঝে।
স্বপনের জাল বুনে গেছি নিয়ে তাকে,
বুঝিনি কখনও ফাঁকি দেবে সে আমাকে!
তাঁর মনের মাঝে কখনও ছিলাম না আমি,
অর্থ, স্বার্থে তাঁর লোভ, বুঝিনি এটাই আমার বোকামি।
প্রতিদিন, প্রতিক্ষণে তারে সাজিয়েছি মনের গহনে,
বুঝিনি সেটাই হবে কাল, পুরব যন্ত্রণার অনল দহনে।
তাঁর লোভের জালে বন্দী ছিলাম বুঝিনি আগে,
ক্রমশঃ জড়িয়েছি সেই জালে, মনের আবেগে।
দিন দিন প্রতিদিন বিশ্বাস করে গেছি ভালবেসে,
অন্যায় অত্যাচার সহে গেছি মুখ ভরে হেসে।
তাঁর ছলনার মায়াজাল বিস্তার ছিল বিপুলাকার,
আমি নই শুধু, না বুঝেই অনেকে হয়েছে শিকার।
ছলনার রূপ অতি সুন্দর কিন্তু বড়ই যাতনাময়,
এজালে জড়ালে জীবন নরক হবে, সুন্দর কভু নয়।
শান্তির বদলে জীবন দেখবে হবে সাহারা মরুভূমি,
চারিদিক বালুকাময়, জানবে যখন, হবে মৃত্যুকামী।
বিশ্বাস নিয়ে করবে খেলা, করবে সম্মান হানি,
ভালবাসা নিয়ে করবে ছলনা, কাড়বে জীবনখানি।
ছন্নছাড়া

ডিপ্রেশনের মায়াজাল – সুমন নস্কর

 15 total views

[post-views]

সেই নির্জনতার বুকে
     মাঝ রাতের অন্ধকারে
দুঃস্বপ্ন যেন আসে মৃত্যুর বার্তা নিয়ে।
ঘুম আসেনা অবসাদে
    দুঃখ এখন আমার রন্ধে রন্ধে
  বেদনার গান কানে আরাম দেয় ছন্দে ছন্দে।
ফাঁকা রাস্তা, একাকীত্ব, গাজার কল্কে, চুরুট
সবই যেন অমৃতের সুরার পাত্র
উন্মাদ পাগল, বাউলের গান, বোহেমিয়ার মন, যাযাবরের মতো যাত্রা
   এগুলি যেন সবই বেদনা ব্যথায় চরম উদ্দীপনা।।
  লালনের গান, তার মনের মানুষকে পাওয়ার টান
 খাচার ভেতর অচিন পাখি
      আজ তুই কোথায় হারিয়ে গেছিস?
  ফিরে আয় বসে আছি তোর অপেক্ষায়।
 কান্না ভরা চোখ, চোখ থেকে নামা অবিরত অশ্রুস্রোত
  তৈরি করেছে বালিশের সাগরের উপত্যকায় নুনের স্তুপ।
   হতাশা থেকে বেরিয়ে আসার ইচ্ছা সবারই থাকে
     কতজন সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে?
আমিও পারছি না সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে
ডিপ্রেশন আমাকে গ্রাস করছে স্লো পয়জেনিং-এর আলগা বিষে
  টিকটিকির খসে-পড়া লেজ আমার জীবন শেষ হওয়ার সংকেত।।
তলিয়ে যাচ্ছি হৃদয়ের অন্ধকারের অতল সমুদ্রে
   সূর্যের প্রকাশের ন্যায় হাত বাড়িয়ে আমায় ধরো তুলে।
আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব দের কাছে রয়েছে এমন সহযোগিতার দিব্য ওষুধ
   যা দিয়ে দূর হবে এই যুব সমাজের কঠিন সর্বনাশা ডিপ্রেশনের মারণ অসুখ…
সুমন নস্কর
লেখক পরিচিতি
—————–
 সুমন নস্কর।  বয়স একুশ বছর।  দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজে ইতিহাস অনার্স এর তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। লেখালেখি করা – সখ। বহু  ছোটগল্প, অনুগল্প ,কবিতা লিখেছেন ।

থার্মোমিটার – মুক্তি দাশ

 13 total views

[post-views]

সবুজের বড় আকাল চলছে,
বাগানের রং ফিকে
পাখপাখালিরা ভুলে বসে আছে
কূজনের পরিভাষা
অস্তরাগের মায়াবি আলোয়
দেখেছি যে লোকটিকে
একা অসহায় – বুকে তবু তার
দাউ দাউ ভালবাসা।
ভালো আছি কিনা, শরীর কেমন –
এসব চেয়ো না জানতে
বাতাস-আঙুল ছুঁয়ে দিয়ে যায়
শুকনো পাতার গিটার
এদিকে আমার পান্তাটুকুও
ফুরিয়েছে নুন আনতে
শরীরের যত দায়ভার সব
নিয়েছে থার্মোমিটার।
মুক্তি দাশ

সমালোচনা – অভিষেক সাহা

 5 total views

[post-views]

 ” হরিত দা, একবার সম্পাদকবাবুর ঘরে যান, খুব জরুরি।” হরিতের ঘরের পর্দা সরিয়ে শুধু মুখটা বাড়িয়ে কথাটা বলে পিয়ন ছেলেটা চলে গেল ।
পাঁচ মিনিট হল পেপার হাউজে ফিরেছে হরিত। একজন অভিনেতার ইন্টারভিউ ছিল আজকে। অনেক ঝক্কি সামলে তবে ডেট পেয়েছিল।আজ না হলে মুস্কিল হত। ‘দৈনিক সোজা কথা’ পত্রিকার সম্পাদক কুমুদ দা আগামীকাল পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। সময়মত না হলে অন্য কারো হাতে চলে যেত।  কাজটা শেষ করে এসে সবে বসেছে, ওমনি আবার তলব। মনে বিরক্তি, মুখে হাসি নিয়ে উঠে পড়ল হরিত।
” কুমুদ দা আসব ?” সম্পাদকের ঘরের সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করল হরিত।
” আরে হরিত, এসো এসো। আসন গ্রহণ কর।” কুমুদ দা সাদর আমন্ত্রণ জানালেন। কুমুদ দা যখনই এমন করে বুঝতে হবে নিম্নচাপ ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে, যেকোন সময় আছড়ে পড়বে।
” কেন ডাকছিলেন! জরুরি কিছু ?” হরিত জানতে চাইল।
” অবশ্যই। গতকাল রিভিউয়ের জন্য তোমাকে একটা থিয়েটার দেখতে পাঠিয়েছিলাম ।গেছিলে !” কুমুদ দা একটু একটু করে খোলস ছাড়ছে।
” একদম। থিয়েটার শুরু হওয়ার আগেই গেছিলাম। আজকে লেখাটা পেয়ে যাবেন। ” হরিত বলল।
” বাহ্ । খুব ভালো ।ওই থিয়েটারের পরিচালক  আমার বন্ধু কৈলাস একটু আগে ফোন করেছিল , তোমার কথাও বলল। ” সামনে থাকা ফাইলগুলো বন্ধ করতে করতে কুমুদ দা বলল।
” ও কৈলাস বাবু ! তা কী বললেন ?” হরিত উৎসুক হয়ে বলল।
” কৈলাস বলল আমরা যেন ওর নাটকের রিভিউটা এক্ষুনি না ছাপি। ওদের পরের শো- টা দেখে তারপর যেন লেখা  হয় ।” কুমুদ দা উত্তর দিল ।
” সেকি! আমার তো মাত্র চল্লিশ মিনিটের মধ্যেই কাজটা হয়ে যাবে !” হরিত মিনতি করল।
” কৈলাস তো বলল নাটক চলাকালীন ও তোমাকে দেখছে, তুমি তো বেশিরভাগ সময়ই চোখ বুজে ঝিমোচ্ছিলে। তুমি জান কাজের সময় ঘুমানোর জন্য তোমাকে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। আর কৈলাস তো ঠিকই বলেছে, তুমি যখন পুরো নাটকটা দেখোইনি , সমালোচনা লিখবে কী করে ?” বেশ বিরক্ত হয়ে বলল কুমুদ দা ।
দু’বার ঢোক গিলে, মনে জোর এনে হরিত বলল ” আপনিই বুঝে নিন এ নাটকের কী সমালোচনা হবে !”

অভিষেক সাহা

নিসর্গ ২ – সৌম্য ঘোষ

 15 total views

[post-views]

রৌদ্রে আবৃত নির্জনতা‌,
নৈঃশব্দ ,  পাখির কুজন
অজানা নদীর অনুচ্চ শব্দ–
তুলনাহীন !
রৌদ্রস্নাত হচ্ছে
দিগন্তের নীরবতা !
উচ্ছ্বসিত সকালের আলো !
আমার  একক  ভ্রমণ
তোমার অস্পষ্টতার দিকে  ।।

সৌম্য ঘোষ

কবি ফিরে এসো – শম্পা সাহা

 14 total views

[post-views]

লাল মোরাম বিছানো রাস্তা
খোয়াই এর ধার
তার পাশে আজও পরে
মন সংসার।
আমাদের যেই ঘর বাঁধা হল না
 স্মৃতি থেকে তবু তাকে মোছা গেল না।
সেই জোছনা ঢাকা রাত
সেই আধখানা একা চাঁদ
সেই বকুল পলাশ মালা
সেই একলা মনের জ্বালা।
তৃপ্তির শীতলতা মিছে বাহানা
খুনসুটি সংসার অচাওয়া অজানা।
বিরহ যে বড় দামি
খুব ছোট এই আমি
ভালবাসা প্রেম মোহ একথা শোনার
আমি কালোকোলো মেয়ে নেই অধিকার।
শুধু জানি রাঙ্গামাটি তেমনটি আছে
আগুনে পলাশ ফোটে আজও গাছে গাছে।
যৌবন মনজ্বালা শরীর কি নাই?
আমি কালোকোলো মেয়ে বুঝি নাকি ছাই?
শুধু বুঝি কালো চোখ ডাগর গভীর
গায়ে রং কালো হলে
কলমে ওঠে না সে তো
কোনো কবির।
শুধু তুমি একবার কৃষ্ণকলি
নামে ডেকে ছিলে সব
সমাজ ভুলি।
ও গো কবি ফিরে আসো ,আসো একবার
কালো মোরা খেলো নই
এই বোঝাবার
দায় যে সবার হয়ে একলা
তোমার।

শম্পা সাহা

শাপমুক্তি – মহীতোষ গায়েন

 21 total views

[post-views]

পুরোহিত এসে গেছে কাক-ভোরে
পুজোর উপাচার তৈরি,শুরু হবে
পুজো,মেয়েরা শঙ্খ বাজায় জোর-
ছেলেরা ফল ফুল প্রসাদ সাজায়।
পুজো শুরু,শুদ্ধি মন্ত্র-উচ্চারিত…
বেলা বাড়ে,সূর্য ওঠে গোল লাল,
জোরে জোরে মন্ত্র উচ্চারিত হয়
যত পাপ শাপমুক্ত হওয়ার আশায়।
পুজো শেষ হয়,এবার যজ্ঞ হবে
আসে চন্দন কাঠ,ঘি ও কলা,মধু,
বেলপাতা,ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয় দিক-
সুখ ফিরে আসবে এই আশা জাগে।
যজ্ঞ শেষ হয়,মুক্তি-তিলক পরানো
হবে,সবাই এগিয়ে আসে,শান্তি-জল
ছেটানো হয়,বিগ্রহের চোখে তবু জল…
কাঁদে নিষ্পাপ ঠাকুর,ছেলে,মেয়ে সব।
মহীতোষ গায়েন

সত্য – রত্না দাস

 25 total views

[post-views]

 “সত্যেরে লও সহজে”
সহজ হওয়াটাই তো সবথেকে কঠিন!!
সত্য আর সহজ এই দুটি শব্দ আত্মিকতায় আবদ্ধ। একে অপরের পরিপূরক।কিন্তু
দিবারাত্রি এখানে মিথ্যের বেসাতি চলে।
সত্য মরে মিথ্যের দেওয়ালে মাথা কুটে। মুখোশ
পরা মানুষ চারপাশে —
অবিশ্বাসী চোখ…
মিথ্যে জমে জমে পাহাড় হয়ে ওঠে। সত্যের আলো
সে পাহাড় ভেদেনা। সহজ কথা মনে থেকে যায়,
বেরিয়ে আসে শুধু সাজানো কথার চাতুরি!!
ঊর্ণণাভের মতো মিথ্যের জাল বোনা চলে, সে
বুনট এতটাই দৃঢ়, তাকে ছিন্ন করা বড় কঠিন।
তবুও সত্যের অদম্য প্রচেষ্টা হয়তো কোনোদিন
সে জাল ছিঁড়ে ফেলে উদ্ভাসিত করবে
সব আবরণ।

বাবা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, মেয়ে রেস্তোরাঁর পরিচারিকা -সিদ্ধার্থ সিংহ

 19 total views

[post-views]

একটি কৃষ্ণাঙ্গ মেয়ে চাকরির খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন বিভিন্ন কোম্পানির দরজায় দরজায়। সর্বত্রই নো ভ্যাকেন্সি। যে দু’-এক জায়গায় ফাঁকা আছে, কাজের তেমন অভিজ্ঞতা নেই দেখে সেখানে কোনও চাকরিও জোটাতে পারছেন না তিনি।

হঠাৎ তাঁর মনে হল, তিনি তো ভালই খাবার সার্ভ করতে পারেন, তার মানে কোনও রেস্তোরাঁর পরিচারিকার কাজ তিনি ভালই করতে পারবেন। সেই জন‌্য যুক্তরাষ্ট্রের মাসাচুয়েটসের বিভিন্ন হোটেল এবং রেস্তোরাঁয় গিয়ে তিনি ইন্টারভিউ দিতে লাগলেন।

অবশেষে একদিন মাসাচুয়েটসের মার্থাস ভাইনইয়ার্ড দ্বীপের একটি রেস্তোরাঁয় তাঁর চাকরি হয়ে গেল।

প্রথম দিনই ওই রেস্তোরাঁর মালিক ন্যান্সি তাঁকে সতর্ক করে দিলেন, কোনও দিনই দেরি করে আসা যাবে না। দেরি করে এলে চাকরি হারাতে হবে। মালিকের কথায় সায় দিয়ে একদম ঘড়ি ধরে নির্দিষ্ট সময়ের একটু আগেই বরং আসতে লাগলেন সেই কৃষ্ণাঙ্গ তরুণী। সেটা দেখে রেস্তোরাঁর কর্মকর্তারাও যথেষ্ট সন্তুষ্ট হলেন।

কাজেও বেশ মনোযোগী তিনি। কাস্টমারদের অর্ডার নেওয়া, যত্ন করে দ্রুত খাবার পরিবেশন করা, টেবিল পরিষ্কার করা থেকে মাঝে মাঝেই ক্যাশ কাউন্টার সামলানো-সহ সমস্ত কাজই ঝটপট লিখে ফেললেন তিনি। তবু পান থেকে চুন খসলেই গালমন্দ শুনতে হয় তাঁকে। চুপচাপ তাও সহ্য করেন সেই তরুণী।

একদিন রেস্তোরাঁর এক কর্মী দেখলেন, তাঁদের সহকর্মী সেই কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েটি কাজ শেষ করে রেস্তোরাঁ থেকে বেরোতেই মুহূর্তের মধ্যে ছ’জন দীর্ঘদেহী মানুষ তাঁকে ঘিরে ধরলেন। আর মেয়েটিও কোনও প্রতিবাদ না করেই তাঁদের সঙ্গে একটি বিশাল বড় বিলাসবহুল গাড়িতে উঠে পড়লেন।

ওই সহকর্মীটি দুইয়ে দুইয়ে চার করে খুব সহজেই বুঝে গেলেন মেয়েটির স্বভাব চরিত্র কেমন। পর দিনই মুখে মুখে রেস্তোরাঁর সহকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল এই মুখরোচক খবর। শুরু হয়ে গেল গুঞ্জন। ফিসফাস। কানাকানি। যে মেয়েটিকে তাঁরা এত দিন ধরে চিনতেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই মেয়েটি তাঁদের কাছে কেমন যেন রহস্যময় হয়ে উঠলেন।

সবাই আড়চোখে দেখতে লাগলেন তাঁকে। কয়েক মিনিটের মধ্যে খবরটি পৌঁছে গেল রেস্তোরাঁর মালিকের কানেও। এক কান দু’কান হতে হতে খবরটি পৌঁছে গেল স্থানীয় এক সাংবাদিকদের কাছেও।

কে এই মেয়ে? সেই রহস্য উদ্ঘাটন করতে নেমে পড়লেন সেই সাংবাদিক। আর তখনই তাঁরা জানতে পারলেন এই কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েটির আসল পরিচয়। মেয়েটি আর কেউ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ছোট মেয়ে— সাশা ওবামা!

বিষয়টি জানাজানি হতেই গোটা যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। বিশ্ববাসী জেনে যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ছোট মেয়ে সাশা ওবামা নিজের পরিচয় গোপন করে এত দিন ধরে একটি রেস্তোরাঁয় পরিচারিকার কাজ করছিলেন।

কিন্তু কেন? আমেরিকার মতো একটি দেশের প্রেসিডেন্টের মেয়ে হয়ে তিনি ‌কেন এমনটি করলেন?

না, সাশা ওবামা নয়, বারাক ওবামাও নয়, এর জবাব দিলেন বারাক ওবামার স্ত্রী মিশেল ওবামা। সাংবাদিকদের তিনি বললেন, একটি বয়সের পরে আমি আমার সন্তানদের বিলাসিতা ছাড়তে বাধ্য করেছি। আমি তাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার জন‌্য পথে ছেড়ে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, জীবনটা শুধুই হোয়াইট হাউসকেন্দ্রিক নয়। ওদেরও জানতে হবে কী ভাবে কাটছে যুক্তরাষ্ট্রের খেটে খাওয়া মানুষের জীবন। এটা না হলে ওরা যথার্থ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না। তাই গ্রীষ্মকালীন ছুটির ফাঁকে মাসাচুয়েটসের ওই রেস্টুরেন্টে ও চাকরি করতে গিয়েছিল।

সিদ্ধার্থ সিংহ

ইন্টারভিউ – রায়হান আজিজ

 18 total views

.

[post-views]

.

মানিকেশ চক্রবর্তী ”দৈনিক জনমত” পত্রিকার একজন সাংবাদিক । নতুন চাকরি । আজই প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট তার । দৈনিকটির নারী দিবস সংখ্যার জন্য একজন নারীর সাক্ষাৎকার নিতে হবে তাকে ।”দিনটি নারীদের” পাতায় একটি ফিচার কভার করার লক্ষ্যে আজ সে হাজির হয়েছে শহরের একজন উদীয়মান নাট্যকর্মী শারমিন সুলতানার ধানমন্ডির বাড়িতে ।  

অনেকটা ভয়ে ভয়েই শারমিনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করল মানিকেশ । অভিনেত্রীর আন্তরিকতায় ধীরে ধীরে কিছুটা যেন সহজ হল সে ।

জনমত(মানিকেশ)— গুড মর্নিং ম্যাম । কেমন আছেন?

শারমিন— ভাল আছি । তুমি কেমন আছ? আমাকে আপা বললেই চলবে । সরি! তুমি করে বলে 

             ফেললাম ।

জনমত— নিশ্চয়ই আপা! তুমি করেই বলবেন । আমি ভাল আছি । 

শারমিন— এবার শুরু কর ।

জনমত— আপনিতো বেশ কয়েক বছর ধরে অভিনয় করছেন । শুরুটা কিভাবে হল?

শারমিন— আমাদের পরিবারে কোনও সংস্কৃতিকর্মী না থাকলেও বাবা-মা খুবই কালচারাল মাইন্ডেড 

             ছিলেন । তাদের উৎসাহেই মূলত গানে হাতেখড়ি । তারপর বড় হয়ে অভিনয়ে ঝুঁকে 

             পড়লাম ।

জনমত— হঠাৎ গান থেকে অভিনয়ে?

শারমিন— ভার্সিটিতে পড়ার সময় একদিন কৌতুহলবশত মহিলা সমিতিতে মঞ্চনাটক দেখতে

             গেলাম । সেদিন ছিল “মেরাজ ফকিরের মা” নাটকটির শততম মঞ্চায়ন । কিংবদন্তি  

             অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদারের অভিনয় তন্ময় হয়ে দেখলাম । তারপর ক্যাম্পাসের

             ঝর্ণাদিকে খুব করে ধরলাম আমাকে তাদের ট্রুপ ”নাট্যরথ” এর সদস্য করে নেবার

             জন্য।দিদি বললেন, “থিয়েটার কিন্তু খুবই ডেডিকেশনের জায়গা, পারবিতো?” সেদিন

            থেকেই দিদির আদর- শাসনে “নাট্যরথ” এর সঙ্গেই আছি । তাছাড়া, মঞ্চনাটকে তো

            প্রায়ই হারমোনিয়াম বাজাতে হয় । নাটকের পাশাপাশি গানের চর্চাটাও এক-আধটু 

            চলছে।

মানিকেশ— বর্তমানে কি কি কাজ করছেন?

শারমিন—- দুটো ধারাবাহিক অন এয়ার হচ্ছে । এফটিভিতে ”মুখোশ” আর ডিটিভিতে “দ্রোহ”।

মানিকেশ— মঞ্চে নাট্যরথের “পুরাণকথা” প্রোযোজনাটি বেশ আলোচিত হয়েছে । এ সম্বন্ধে যদি

               কিছু বলতেন । 

শারমিন— মহাভারতের কাহিনী থেকে প্রাণিত হয়ে নাটকটি লেখা হয়েছে । আমি যাজ্ঞসেনী 

             দ্রৌপদীর ভূমিকায় অভিনয় করেছি । 

মানিকেশ— সিনেমায় কাজ করার কোনও পরিকল্পনা আছে কি?

শারমিন— দেখ, সিনেমাতো একটি বিশাল প্ল্যাটফর্ম । আপাতত এ নিয়ে ভাবছিনা । 

মানিকেশ— সামনেই নারী দিবস । মেয়েদের উদ্দেশে কিছু বলুন ।

শারমিন— মেয়েদেরকে বলব, আপনারা স্বাবলম্বী হউন । সাহস সঞ্চয় করে আপন শক্তিতে

             বলীয়ান হয়ে উঠুন ।

মানিকেশ— আপনার পরবর্তী পরিকল্পনা কি?

শারমিন— আগামী ২১ তারিখ নাট্যরথের সঙ্গে কলকাতা যাচ্ছি । ২৪ তারিখে গিরীশ মঞ্চে 

             “রক্তকরবী” মঞ্চস্থ করবার কথা রয়েছে । 

মানিকেশ— এত ব্যস্ততার মাঝেও ”দৈনিক জনমত” কে সময় দেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপা । 

শারমিন— তোমাকে এবং জনমত পত্রিকাকে অনেক ধন্যবাদ । 

প্রথম চ্যালেঞ্জটা নেবার পর থেকে বেশ ফুরফুর মেজাজেই আছে মানিকেশ ।

রায়হান আজিজ

              

 

গল্প

 12 total views

 

[post-views]

বৃহস্পতির ঘরে শনির সংসার – রানা জামান

কথা শুনছে না একদম মালিহা-না মা-বাবার, না ধর্মের। পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির মায়াবিজালে আটকা পড়ে গেছে পুরোপুরি। উচ্চশিক্ষার্থে পাঁচ বছর সাইপ্রাস অবস্থান ওকে বেপরোয়া করে তুলেছে শতভাগ। সাইপ্রাসে নাগরিকত্ব পেয়েও হঠাৎ একদিন চলে এলো বাংলাদেশে। সাতদিন ঘুমিয়ে কাটিয়ে এই যে বের হলো আর নিয়ম করে বাসায় আসেনি আজতক। সাইপ্রাস শিক্ষা গ্রহণকালে খণ্ডকালীন কাজ করে বেশ অর্থ কামাই করতে পেরেছে। তাই ও মা-বাবার কাছে এখনো টাকা-পয়সা চাচ্ছে না। 

নানা ধরনের কথাবার্তা শুনছে ওঁরা ওকে জড়িয়ে। কোনো কথাই সুখকর না। সে পাশ্চাত্য ঢঙে চলছে এখানে। মাশরেফ আনোয়ার ও সেলিনা আনোয়ার বিরক্ত মালিহার উপর। প্রতিদিনই বুঝাচ্ছেন; কিন্তু কাজে আসছে না। একটা ফোনকল আসার পরিপ্রেক্ষিতে আজ দু’জন বেশ রেগে আছেন মেয়ের প্রতি। দু’জন বসে আছেন ড্রয়িংরুমে এবং বারবার দেয়ালঘড়ি দেখছেন। ঘড়ির কাঁটা এইমাত্র পেরিয়ে গেলো এগারোটার ঘর। 

কফিপট থেকে কফি ঢেলে সেলিনাকে দিয়ে নিজেও এক কাপ নিলেন মাশরেফ। স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে কিছু বলার জন্য মুখ খুলে ফের বন্ধ করে চুমুক দিলেন কফির কাপে।

সেলিনা আনোয়ার মুখের কফিটুকু গিলে বললেন, কী বলতে চেয়েছিলে?

মাশরেফি কফি গিলে বললেন, মেয়েটাকে সাইপ্রাস পাঠিয়ে মস্ত ভুল করেছি আমরা। ও তো পুরা ওয়েস্টার্ন লাইফ লিড করতে চাচ্ছে। 

ওকে বিয়ে দিয়ে দাও।

ও বাংলাদেশে এসে যা শুরু করেছে, কোনো ছেলে কি ওকে বিয়ে করতে চাইবে?

সম্পত্তির লোভ বড় লোভ। তুমি ছেলে দেখো। আমি মেয়ের সাথে কথা বলবো। 

তুমি একা কথা বলবে কেনো? আমরা দুজনই কথা বলি। ও আসার পর আজই কথা বলি।

ওকে।
তখন কলবেল বেজে উঠলো। মাশরেফি আনোয়ার বললেন, এই এলো আমাদের রাজনন্দিনী! সেলিনা উঠতে চাইলে ফের বললেন, তুমি বসো। আমি খুলে দিচ্ছি। 


মাশরাফি আনোয়ার এগিয়ে গেলেন দরজার দিকে। দরজা খুলে দিলেও ঢুকার পথ আগলে দাঁড়িয়ে থাকলেন। মালিহা টলছে মৃদু। খুব কষ্টে রাগ সামলে রাখছেন তিনি।

বাসায় ঢুকতে না পেরে মালিহা জড়ানো কণ্ঠে বললো, পথ ছাড়ো ড্যাডি। বাসায় ঢুকি।

রাগ সামলে রেখে কিছুটা রুক্ষ কণ্ঠে মাশরাফি আনোয়ার বললেন, গতকাল নিষেধ করার পরও তুমি আজও মাতাল হয়ে রাত এগারোটার পর বাসায় এসেছো। 

সো হোয়াট ড্যাডি! লেট মি ইন।

সেলিনা আনোয়ার মাশরাফি আনোয়ারের পেছন থেকে বললেন, মেয়েটাকে আগে ঢুকতে দাও ভেতরে। পরে কথা বলি।

সেলিনা মাশরাফির হাত ধরে একটু সরিয়ে আনলে মালিহা ভেতরে ঢুকে টলতে টলতে সিঁড়ির দিকে যেতে থাকলে পেছন থেকে মাশরাফি বললেন, এখানে বসো। তোমার সাথে জরুরি কথা আছে মালিহা।

হাটা অব্যাহত রেখে মালিহা জড়িত কণ্ঠে ফের বললো, আমি টায়ার্ড ড্যাডি। আগামীকাল সকালে কথা বলি?

সেলিনা আনোয়ার দরজা আটকে কণ্ঠ উঁচিয়ে বললেন, না! এখনই কথা বলতে হবে! 

মালিহা না থেমে একই স্বরে বললো, মাম্মি তুমিও!

সেলিনা আনোয়ার দ্রুত এসে মালিহার সামনে দাঁড়িয়ে বললো, কী হলো? কথা কানে যাচ্ছে না তোমার?

ধীর লয়ে ‘মা-ম্মি!’ বলার সাথে সাথে সেলিনা আনোয়ার মালিহার গালে জোরে একটা চড় মেরে কর্কশ কণ্ঠে বললেন, ঐ সোফায় গিয়ে বসো!

মালিহা নিচের দিকে মাথা ঝুলিয়ে রেখে বললো, আই নিড টু ইউরিনেট।

নিচতলার ওয়াশরুম থেকে কাজ সেরে আসো।

হোয়াই বোথ অব ইউ আর ইন্সিস্টিং আপন মি!

আর রাগ চেপে রাখতে না পেরে মাশরাফি আনোয়ার এগিয়ে এসে সজোরে থাপ্পড় মারলেন মালিহার ডান গালে। 

অতিরিক্ত মদ্যপানে টলটলায়মান মালিহা দুমড়েমুচড়ে পড়ে গেলো মেঝেতে। আঁতকে উঠে সেলিনা এগিয়ে গেলেন মেয়ের দিকে। মালিহা হয়ে গেছে অজ্ঞান। সেলিনা আনোয়ার ব্যস্ত হয়ে পড়লেন মেয়ের জ্ঞান ফেরানোয়। ওদিকে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে মাশরাফি সোফায় গিয়ে বসলেন। 

মুখমণ্ডলে পানির ছিটা পড়ায় জ্ঞান ফিরে এলো মালিহার। সে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে হাটতে শুরু করলে সেলিনা আনোয়ার ওর পিছে হাটতে হাটতে বললো, কোথায় যাচ্ছিস এতো রাতে?

মালিহা দরজায় হাত দিয়ে বললো, আই উইল নো মোর স্টে হেয়ার!

এতো রাতে কই যাবি?

এনি হোয়ার! ডোন্ট অরি!

মালিহা দরজা খুলে চলে গেলো বাইরে। 

সেলিনা আনোয়ার স্বামীর কাছে এসে ভগ্নকণ্ঠে বললেন, মেয়েটাকে ফেরাও! এতো রাতে বাইরে গিয়ে কোথায় যাবে কী করবে আল্লাহই জানে!

মাশরাফি আনোয়ার বিমর্ষ কণ্ঠে বললেন, নতুন৷ করে কী আর করবে! যেতে দাও। দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো!
মাশরাফি আনোয়ার দু’হাতে মুখ ঢাকলেন। হয়তোবা কাঁদছেন। একমাত্র সন্তানকে মানুষ করতে পারেন নি এই ব্যর্থতায়। সেলিনা আনোয়ার দরজায় তালা মেরে এগিয়ে এলেন মাশরাফির দিকে। পাশে বসে হাত রাখলেন কাঁধে। চেষ্টা করছেন না কাঁদতে। চেষ্টা করে কান্নার শব্দ থামাতে পেরেছেন; কিন্তু চোখের পানি রুখতে পারেন নি। টপটপ করে অশ্রু পড়তে লাগলো মাশরাফির হাতে। মাশরাফি দুই হাতে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন। 

দ্রুত কান্না সামলে নিয়ে মাশরাফি আনোয়ার স্ত্রীকে বললেন, ওকে ভুলে যাও সেলিনা। মনে করো আমাদের কোনো সন্তান ছিলো না। 

সেলিনা একবার নাক টেনে বললেন, মালিহা আমাদের একমাত্র সন্তান।

ডিরেইল্ড হলে বদনাম করার জন্য একটাই যথেষ্ট!

আমাদের সম্পত্তি থেকে ওকে বেওয়ারিশ করে দেবো!

চলো এবার শুতে হবে। রাত জাগলে তোমার প্রেসার বেড়ে যাবে।

আজ দুটো ঘুমের ট্যাবলেট দিও। 

দুজন ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমালে ভূমিকম্প হলেও টের পাওয়া যাবে না। সকালে লোকজন রাবল চাপা অবস্থায় দুটো লাশ দেখতে পাবে!

তাহলে তো ভালোই হবে। সকল যন্ত্রণার অবসান!

আর কথা না! চলো!

না, মাশরাফি আনোয়ার একমাত্র মেয়ে মালিহাকে সম্পত্তি থেকে না-শরীরক করেননি। উল্টো মালিহার খোঁজে একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ নিয়োগ দিলেন। সময় দিলেন তিনদিন। এই তিনদিন দু’জন এলবাম ঘেটে সময় পার করার চেষ্টা করছেন। নিয়মিত বৈকালিক ভ্রমণে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিক্ষার সময় তো কাটতে চায় না সহজে। 

সেলিনা আনোয়ারের পীড়াপীড়িতে তৃতীয় দিন বিকেলে দু’জন বের হলেন বৈকালিক ভ্রমণে। দরজায় তালা মেরে লিফটে ঢুকতে যাবেন তখন লিফট থেকে বের হয়ে এলো প্রাইভেট ডিটেক্টিভ অর্পণ রূপায়ন।

অর্পণ রূপায়ন বললো, আপনারা বাইরে যাচ্ছেন স্যার ম্যাডাম?

মাশরাফি আনোয়ার বললেন, জ্বি।

খবর ছিলো।

ভালো না খারাপ?

ভালোর সাথে জড়িয়ে আছে খারাপ। 

তাহলে চলেন হাটতে হাটতে আপনার সাফল্যগাঁথা শুনি।

চলেন স্যার।

দুই পৌঢ় টুকটুক করে হাটছেন কচ্ছপের গতিতে। পেছনে অর্পণ রূপায়ন মোবাইল ফোন টেপায় ব্যস্ত হয়ে হাটায় রেখেছে শম্বুকগতি। 

ডি-ব্লকের ময়দানে ঢুকে মাশরাফি বললেন, এবার তোমার ইন্ভেস্টিগেশনের রেজাল্ট শুনাও প্রাইভেট ডিটেকটিভ!
সাড়া না পেয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখেন অর্পণ রূপায়ন নেই- রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোন টিপছে। মাশরাফি আনোয়ার ওকে ডাক দিলেন, হ্যালো প্রাইভেট ডিটেকটিভ! তুমি রাস্তায় কেনো? উই আর হেয়ার প্রাইভেট ডিটেকটিভ। কাম ইন।

অর্পণ রূপায়ণ ময়দানে তাকিয়ে লজ্জিত হলো বেশ। দ্রুত মোবাইল ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে বললো, সরি স্যার! 

আমি আসছি!

অর্পণ রূপায়ন হন্টনরত পৌঢ় দম্পতির পেছনে এলে মাশরাফি আনোয়ার বললেন, এবার বলো কী পেয়েছো তুমি।

অর্পণ রূপায়ন বললো, আপনার মেয়ে উত্তরা থানার ওসি আকবর হোসেনের গ্রেপ্তে আছে।

হোয়াট ডাজ মিন ইট?

যেনো মাশরাফির প্রশ্ন শুনতেই পায়নি এমনভাবে অর্পণ বললো, ইউর ডটার ইজ এনকেশিং হার পিজিখ।

হোয়াট আর ইউ সেয়িং প্রাইভেট ডিটেকটিভ? 

সেলিনা আনোয়ার বললেন, ডু ইউ নো দ্য মিনিং অব দিজ সেন্টেন্স?

অর্পণ রূপায়ন দৃঢ় স্বরে বললো, আই মিন ইট ম্যাম!

দু’জন চলচ্শক্তিহীন হয়ে পড়লেও ভেংগে পড়লেন না। মাশরাফি আনোয়ার স্ত্রীর হাত ধরে বললেন, এসব কথা কি আর পার্কে হাটতে হাটতে বলা যায়! তুমি শুধু প্রাইভেট ডিটেক্টিভ-ই হয়েছো; কোন পরিবেশে কোন কথা বলতে হয়, তা আজো শেখো নি! বাসায় চলো। 

ওরা চলে এলো বাসায়। মাশরাফি আনোয়ার অর্পণকে হাত ধরে বসিয়ে বললেন, আমি আমার মেয়ের কাছে যেতে চাই। ইউ উইল এরেঞ্জ ইট। ইট উইল বি এন এনাদার এসাইনমেন্ট।

সরি স্যার!

হোয়াই সরি!

ওখানে কড়া পাহারা স্যার। কমবেট পোষাকে ওসি আকবরের ভাড়া করা গুণ্ডার চব্বিশ ঘণ্টা পাহারা দিচ্ছে। 

আমাকে ঠিকানাটা লিখে দিয়ে যাও প্রাইভেট ডিটেক্টিভ।

অর্পণ রূপায়ন একটা কাগজে ঠিকানা লিখে পারিশ্রমিক নিয়ে চলে গেলে সেলিনা আনোয়ার বললেন, ওর কথা সত্যি না মিথ্যা যাচাই না করেই ফি-টা দিয়ে দিলে! দেশটা ফ্রডে ভরা!

আমার মনে হয় না ও মিথ্যে বলেছে।

তখন মাশরাফি আনোয়ারের মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলে সেলিনা আনোয়ার টি-টেবিল থেকে মোবাইল ফোনটা তুলে নম্বরটা দেখে বললেন, ফিনল্যান্ডের নম্বর।

মাশরাফি আনোয়ার আশ্চর্য হয়ে বললেন, ফিনল্যান্ড থেকে কে ফোন করবে এখন?

মাশরাফি আনোয়ার স্ত্রীর হাত থেকে মোবাইল ফোনটা নিয়ে ওদিকের কথা যা শুনলেন তা এরকম:

-মালিহা আনোয়ার একটা ছয় মাসের শিশুকে বেবিকেয়ারে রেখে পালিয়ে চলে এসেছে বাংলাদেশে। মেয়েটাকে নিতে না চাইলে একটা না-দাবি পত্র পাঠাতে হবে।

সেলিনা আনোয়ার উদ্বিগ্ন স্বরে বললেন, কী হয়েছে? কী বললো? 

মাশরাফি আনোয়ার বললেন, আমাকে এখনই মালিহার কাছে যেতে হবে।

ফিনল্যান্ড থেকে কে কী বললো সেটা বলো আগে। তাছাড়া আমিও যাবো তোমার সাথে।

চলো যেতে যেতে বলছি।

উবারের কারে চড়ে পৌঢ় দম্পতি চলে এলো উত্তরার ঐ ঠিকানায়। সত্যই কড়া প্রহরা। ওঁদের কথা শুনে প্রহরিরা হাসতে লাগলো। হঠাৎ এক প্রহরির বোধোদয় হওয়ায় বললো, মালিহা ম্যাডাম ওসি স্যারের খাস লেডি। ওসি স্যার ছাড়া অন্য কারো উনার ঘরে ঢুকা নিষেধ। দরজার সামনে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। আপনারা আমাকে দশ হাজার টাকা দিলে আন্টিকে আয়ার বেশে ঐ রুমে ঢুকিয়ে দেবো। ম্যাক্সিমাম দশ মিনিট থাকতে পারবেন। 

এতো টাকা কি সাথে এনেছি? 

সেলিনা আনোয়ার বললেন, আমার কাছেও কিছু টাকা আছে। দুজনের টাকা মিলে হয়ে যাবে দশ হাজার টাকা। 

দুজনের টাকা মিলে হয়ে গেলো দশ হাজার টাকা। ঐ প্রহরি টাকাটা নিয়ে সেলিনাকে  আয়ার বেশ ধরিয়ে মালিহার কক্ষটা দেখিয়ে দিলো। সেলিনা কক্ষে ঢুকে দেখে মালিহা খাটে আধশোয়া হয়ে আছে। হাতে মদের গ্লাস। জড়িত কণ্ঠে বললো, হোয়াই ইউ হ্যাভ কাম হেয়ার নাউ। সরি! তুমি তো ইংরেজি বুঝো না! এখন তুমি এসেছো কেনো? ইন্সপেক্টর আকবর হোসেন এসেছে নাকি? এই অবেলায়?

সেলিনা আনোয়ার মুখে আঁচল চেপে কাঁদতে শুরু করায় মালিহা একই স্বরে বললো, আবার কাঁদছো? এবার কে মরলো? একটা কথা। তোমার আত্মীয়-স্বজন এতো মারা যায় কেনো?

মেয়ের এ ধরনের কথায় সেলিনা আনোয়ারের রাগ হলো খুব। তিনি কান্না থামিয়ে মাথার কাপড় ফেলে দিয়ে বললেন, আমি কোনো আয়া না-তোর দূর্ভাগা মাদার! 

মালিহা সেলিনার দিকে চোখ বড় করে তাকিয়ে বললো, ইয়েস! ইউ আর মাই মাদার! মাম্মি! 

তোর ড্যাডিকে নিচে রেখে এসেছি। গার্ড আসতে দিলো না।

ওয়ান্ডারফুল! মাই মাম ইজ মেইড-সার্ভেন্ট হেয়ার এন্ড মাই ড্যাড ইজ গার্ড এট দ্য গেট!

কী বলছিস তুই আবোলতাবোল? যা হবার হয়েছে, আমরা তোকে নিয়ে যেতে এসেছি। 

আমাকে নিয়ে আবার বকাবকি করার জন্য। ফরগেট মি। আই উইল নেভার গো ব্যাক টু দ্যাট জেইল! আই এম এনজয়িং দিজ লাইফ ভেরি মাচ। 

বিং এ প্রোস্টেটিউট অর এ কেপ্ট অব ওসি আকবর?

ইউ আর অলসো এ প্রোস্টেটিউট মাম্মি, এ লিগাল প্রোস্টেটিউট!

বুঝেছি! ইউ হ্যাভ ডিরেইল্ড ফুল্লি! ফিনল্যান্ড থেকে ফোন এসেছিলো। তুই বেবিকেয়ারে একটা বেবি রেখে এসেছিস। তুই বিয়ে করেছিস, বাচ্চা আছে তা তো বলিস নি?

আই এম নট মেরেড মাম্মি!

তাহলে ঐ শিশুর বাবা কে?

আই ডু নট নো! আই হ্যাভ হ্যাড ফিজিক্যাল রিলেশনস উইথ মেনি পিপল!


ইউ আর রিয়েলি এ…. 

রাগে দুঃখে ব্যর্থতায় সেলিনা আনোয়ার বাক্যটা শেষ না করে মালিহার গালে কষে একটা চড় লাগালেন।

[caption id="attachment_1229" align="alignnone" width="300"]রানা জামান রানা জামান[/caption]

মুক্তি – এম.জাকারিয়া আহমেদ

 7 total views

 

[post-views]

জানি তুমি আমার থেকে
দূরে থাকতে চাও,
তাইতো তোমায় মুক্তি দিলাম
যেথা খুশি যাও !
আমায় ভুলে যদি তুমি
সুখকে খুঁজে পাও,
যাকে খুশি তাকে তুমি
আপন করে নাও !
আমায় দেখলে তোমার এখন
ললাটে ভাঁজ পরে,
আমার কথা শুনলে তোমার
মনে ঘৃণার আগুন ঝরে !
তোমার চোখে আমি এখন
বিষধর কালফণী,
যতই আমায় কষ্ট দাও
তুমিই আমার মণি !
তুমিযে আমায় ঘৃণা কর
দেখেই বুঝা যায়,
চিত্ত আমার স্বপ্নেও তা
মানতে নাহি চায় !
যত খুশি আমায় তুমি
দুঃখ দিয়ে যাও,
দুঃখ দিয়ে যদি তুমি
শান্তি খুঁজে পাও !
যত খুশি ব্যাথার তীর
আমার বোকেই মারো,
মনের আশা মিটিয়ে নিও
যতক্ষণে পারো !
দোয়া করি সুখে থেকো
সারাজীবন ভর,
সবাই তোমার আপন হোক
আমিই থাকি পর !
তোমার দেয়া দুঃখগুলো
যতন করে নিলাম,
আজ থেকে তোমায় আমি
মুক্তি দিয়ে দিলাম !
মুক্তি দিয়ে দিলাম !
[caption id="attachment_1235" align="alignnone" width="300"]এম.জাকারিয়া আহমেদ এম.জাকারিয়া আহমেদ[/caption]

দু’টি কবিতা – সৌম্য ঘোষ

 16 total views

[post-views]

জন্মদিন

আসলে নির্ধারিত জন্মদিন বলে কিছু হয়না ,
যে সকালে ঘুম থেকে উঠে
তোমায় নিজের মধ্যে দেখতে পাই
সেদিন-ই তোমার ‘জন্মদিন’ আমার কাছে  ।।
 মেঘলা
আজ সূর্য ওঠেনি ,
    অনুচ্চ স্বরে সকাল এসেছে
    ভীরু রমণীর লাজুক পায়ে ।।

ঢেউ – মহীতোষ গায়েন

 13 total views

[post-views]

ঢেউ আসে ঢেউ যায় সংসারে বেশ
চোখ দেখে বিস্ময়ে থেকে যায় রেশ,
ঢেউ থামে থেমে যায় শেষে একদিন
প্রেম আসে প্রেম যায় থেকে যায় ঋণ।
সবকিছু ভুলে গিয়ে ভালোবেসে ভুল
ঢেউ ভেঙে ভেসে যায় হৃদয়ের ফুল,
হৃদয় নদীতে ঢেউ,ভাসে যত অভিমান,
ভরা ঢেউয়ে ভেসে যায় সোহাগের তান।
ঢেউয়ে ভাসে সব স্মৃতি ঢেউতোলা মুখ
সব আশা জোট বাঁধে ঢেউয়ে ফেরে সুখ,
আবার জোয়ার আসে,ফিরে আসে ঢেউ
ফিরে আসে চুপিচুপি ঢেউ ভেঙে কেউ।

পাপ – অভিষেক সাহা

 18 total views

 

[post-views]

” এই যে দাদা দু’রকম আছে । একটা আঠারো টাকা প্যাকেট , একটা তেইশ।” মুদি দোকানি দুটো প্যাকেট হীশলের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল।
প্যাকেট দু’টো হাতে নিয়ে হীশল ভালো করে নেড়েচেড়ে, উল্টেপাল্টে দেখল। তারপর দোকানিকে বলল ” দু’টো আলাদা কিসে !”
” দু’টো আলাদা কোম্পানি দাদা। তবে তেইশেরটায় বেশি ভালো কাজ হয়, এমনটা কাস্টমাররা বলেছে।” দোকানি উত্তর দিল।
” আঠারোরটায় হবে না !” হীশল জানতে চাইল।
” কেনও হবে না। তেইশেরটায় একদিনে হলে , ওটায় দু’দিনে হবে। কাজ সিওর হবে।” দোকানি জোর দিয়ে বলল।
” তা ঘরে থাকবে না বাইরে যাবে ?” হীশল প্রশ্ন করল।
” আঠারোরটা জানি না ,তবে তেইশেরটা বাইরে যাবেই।” দোকানি আশ্বস্ত করল।
” কিন্তু এতে কার পাপ হবে, তোমার না আমার !” হীশল জিজ্ঞেস করল।
“কারুরই পাপ হবে না ।” দোকানি সাবলীলভাবে বলল।
” সেকি ! তোমার তেইশ টাকার বিষ খেয়ে ইঁদুর ঘরের বাইরে গিয়ে মরবে, আর তুমি বলছ কারুর পাপ হবে না। কারণ যাই হোক, জীব হত্যা তো পাপ, তাই না !” হীশল অবাক হল।
দোকানি একগাল হেসে বলল ” এ বিষ খেয়ে ইঁদুর শুধু বাইরে যাবে, আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, একটাও মরবে না ।”

দুমুখো – শম্পা সাহা

 17 total views

[post-views]

শ্রীলেখা স্যান্যাল একজন চাইল্ড কাউন্সিলর । ওর মূল কাজটাই হলো ছোট বাচ্চাদের মনের ভীতি দূর করা। এজন্য ও বিদেশ থেকে নানা ডিগ্রীও নিয়ে এসেছে। বাবা নামকরা ডাক্তার ডক্টর বিকাশ সান্যাল তার একমাত্র মেয়ে শ্রীলেখা। বিয়েও হয়েছে ডাক্তারের সঙ্গে। সারা কলকাতাতে এমন কোন লোক নেই যে হার্ট স্পেশালিস্ট ডক্টর অরুনাভ লাহিড়ীর  নাম শোনেনি । তাদের একমাত্র ছেলে অণীশ পড়ে ক্লাস নাইনে। অণীশ পড়াশুনাতে এমনিতেই বেশ ভালো তবে ওর সাইন্স এর চেয়ে লিটারেচারে ইন্টারেস্ট বেশি। ছবি আঁকতে ভালোবাসে, গিটার বাজিয়ে দারুন গান করে এবং মজার ব্যাপার এই যে গান, গিটার ও কারো কাছে শেখে না ,পুরোটাই ওর নিজের চেষ্টায় ইউটিউব দেখে দেখে!

    স্কুলের প্রতিটা অনুষ্ঠানে ওর গান বাঁধা ,এমনকি পাড়ার ফাংশানেও অণীশ লাহিড়ী একজন নিয়মিত গায়ক । ওর নিজের একটা ব্যান্ড খোলারও ইচ্ছে । বোর্ড এক্সামটা শেষ হলেই শুরু করে দেবে তবে তারও তো প্রায় বছর দুই বাকি । আগে ছবি আঁকা শিখতো কিন্তু নাইনে উঠার পর তা বন্ধ, বোর্ড এক্সাম এর প্রিপারেশন নিতে হবে । ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার হতে চাইবে না তো কে চাইবে? “ওসব  ধাষ্টামো চলবে না”, শ্রীলেখা এবং অরুনাভ ও দুজনেই জানিয়েছেন সাইন্সই পড়তে হবে, এবং ডাক্তারই হতে হবে।

   একবার অণীশ বলেছিল, “আমি ইংলিশ লিটারেচার নিয়ে পড়বো”, শ্রীলেখা অরুনাভ দুজনেই দুদিন কথা বলেননি ছেলের সঙ্গে , এমনকি খাবারও বেড়ে দেননি, রুনুর মা দিয়েছে !  ফ্যামিলির মান সম্মান বলে তো একটা কথা আছে!

    এখন অণীশ ডাক্তার হতে চায় ,গিটার লুকিয়ে রেখেছে স্টোররুমে । চোখের সামনে থাকলে মন খারাপ করে, রাগ হয়, তারচেয়ে থাক দূরে !

   আজ শ্রীলেখা একটা বিরাট সেমিনারে চিফ গেস্ট। বিষয় ‘আডোলোসেন্স এন্ড চাইল্ড সাইকোলজি’, মূল বক্তা হিসেবে শ্রীলেখাকে বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে। রবীন্দ্রসদনে অনুষ্ঠান, বহু টিনএজারদের বাবা-মা এসেছেন, কেউ কেউ আবার সন্তানদেরও এনেছেন, এ বিষয়ে শ্রীলেখা স্যান্যালের মতামত জানতে । তাতে যদি তাদের ছেলেমেয়েরা সঠিক পথের দিশা পায় বা নিজেরা তাদের ছেলেমেয়েদের যোগ্য বাবা-মা হয়ে উঠতে পারেন ।আজকাল টিনেজ বাচ্চাদের কত রকম ক্রাইসিস, বাবা-মা সব সময় ভয়ে ভয়ে কি হয় !কি হয়! ছেলে মেয়েদের কি করে হ্যান্ডল করব, কিভাবে তাদের মন বুঝবো, কিভাবে পাব তাদের মনের হদিশ? তাই  হল একেবারে উপচে পড়ছে !

   ঠিক সাড়ে পাঁচটা নিজের কালো মার্সিডিজ থেকে নামলেন শ্রীলেখা স্যান্যাল। লাল ব্লাউজ, কালো সিল্ক, মনে হচ্ছে যেন একেই বলে এলিগ্যান্ট বিউটি! কপালে বড় লাল টিপ, অক্সিডাইস জুয়েলারি।  ওনাক দেখলেই মনের বোঝা অর্ধেক হয়ে যায়। আজ অণীশ ও এসেছে। দেখুক ওর মায়ের প্রভাব-প্রতিপত্তি তবে যদি মা বাবার মতন হবার ইচ্ছে জাগে ।

  কর্মকর্তারা দৌড়ে নিয়ে এলেন, তড়িঘড়ি  বসালেন মঞ্চে,  বরণ করে নেওয়া হল পুষ্পস্তবক দিয়ে । অণীশকে যত্ন করে বসানো হলো গেস্ট চেয়ারে, একেবারে প্রথম সারিতেই। প্রেক্ষাগৃহ অন্ধকার শুধু মঞ্চে আলো,  মূল আলোটা শ্রীলেখা সান্যাল এর উপর। পিন ড্রপ  সাইলেন্স ,সবাই একে একে শিখছেন কিভাবে কিশোর মনের পাপড়ি খুলে খুলে জানতে হবে বয়সন্ধিকালের ছেলে মেয়ের মনের গহীন গোপন কথা। এরপর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন স্ট্রেস, তারপর আত্মহত্যার। এ ব্যাপারে ডক্টর স্যান্যাল একেবারে দৃপ্ত কণ্ঠে বলে উঠলেন, “বাচ্চারা নিষ্পাপ, ওদের মন কোমল তাছাড়া এই  পিউবার্টিতে , এখন ওদের নিজেদের মনের মধ্যেই প্রতিনিয়ত ঝড়ঝঞ্ঝা চলছে ,ওরা না বড় না ছোট তাই নিজেদের আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগে। এ সময় বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ খুব স্বাভাবিক,এগুলো মানতে হবে। আজীবন ধরে এগুলো চলে আসছে আর ওদের নিজেদের জীবন ওদের মত করে বাঁচতে দিতে হবে। ওদের ক্যারিয়ার ওরা পছন্দ করবে। ওরা যা চায় তাই হতে দিতে হবে ,জোর করে কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়া যাবে না ,তাহলে তার ফল হবে ভয়ঙ্কর ডিপ্রেশন, স্ট্রেস, প্যানিক অ্যাটাক ইত্যাদি। তারা ডিপ্রেশন বা প্রেসারের কারণে নানা নেশার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়তে পারে , তাহলে তাদের ক্যারিয়ার আশানুরূপ হবে না। তাই ওদের পছন্দের বিষয়ের ক্যারিয়ার ওদের ই বেছে নিতে দিতে হবে।”

   সেদিন বক্তৃতা শেষে প্রেক্ষাগৃহ হাততালিতে ফেটে পড়ছে। সত্যিই এভাবে শিশু-কিশোর টিনএজারদের মনের খবর তো কেউ দেননি । সবাই খুব উৎসাহী, “আর নিজেদের ছেলে মেয়ের ওপর চাপ দেবো না বাবা! যা  হতে চায় তাই হোক ,নিজেদের ইচ্ছে মতো। মাত্র একটাই তো জীবন!”

   বাড়ি ফিরে ক্লান্ত শ্রীলেখা এক কাপ কফি নিয়ে টিভির সামনে বসে । অণীশ পড়ার টেবিলে।

    “অনি, অনি, কি পড়ছো ?”,

     “ইংরেজি”,

      “কেন তোমার অংক কি হয়ে গেছে? “

      ,”না “

     “তাহলে ?”,শ্রীলেখা কৈফিয়ৎ চায় ।

    “কাল করব,  আজ আর ইচ্ছে করছে না”।

     “এভাবে বললে হবে? “, উত্তেজিত শ্রীলেখা ছুটে আসেন ছেলের কাছে ।

    ” রোজই  এভাবে ফাঁকি দিতে থাকলে সাইন্স পাবে কি করে ?ডাক্তারই বা কি করে হবে ?সবকিছু এত সহজ নয় “,

     “আমি ডাক্তার হব না”, মাথা নিচু করে জবাব দেয় অণীশ।

   “হবে না মানে ?”, উত্তেজিত শ্রীলেখা, “যার বাবা-মা দাদু ডাক্তার, সে কি হবে, কবি ? সাহিত্যিক? পেইন্টার না গায়ক ?”, তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে শ্রীলেখা ।

    “কেন মা তুমিই তো আজ বললে ,যে যা হতে চায় তাকে তাই হতে দিতে হবে, তাহলে আমাকে কেন হতে দিচ্ছ না, আমি যা চাই!?”

  “সেগুলো ওদের  বলেছি তোমাকে নয় !”

    শ্রীলেখা রাগে গটগট করে বেরিয়ে যান টিভির ঘরের দিকে আর এক কাপ কফি দরকার মাথাটা বড্ড ধরেছে!

বেহায়া – ছন্নছাড়া

 17 total views

[post-views]

বেহায়া অনেক দেখেছি
লজ্জা তাদের থাকে না,
নিজের নোংরামো ঢাকতে
কোন কিছুই ছাড়ে না।
সময় মতো নাটক তারা
করতে ঠিকই পারে,
দুকান কাটা তবু
স্বভাব না তো ছাড়ে।
নিজের স্বার্থে ধূলায়
তারা গড়াগড়ি দেয়
এমন করেই তারা
সবার মন জিতে নেয়।
তাদের সবাই চিনতে পারে
একটা সময় পরে,
বেলজ্জ, বেহায়া এমন তারা
 তবু স্বরূপ নাহি ধরে।
নিজের ঢাক নিজেই পেটায়
দেখায় সরল সিধা,
আসলে ত বদের হাড্ডি
করতে ক্ষতি, করে না তো দ্বিধা।
স্বার্থে তাদের লাগলে আঘাত
তখন স্বরূপ ধরে,
দেরি হলেও মানুষ তাদের
ক্ষমা নাহি করে।

৩০ বছর ধরে একা-একাই খাল কেটে গ্রামের রুখা-শুখা জমিতে জলের ধারা আনলেন বিহারের কৃষক – সিদ্ধার্থ সিংহ

 30 total views

[post-views]

বিহারের গয়ার কোথিলাওয়ার লাথুয়া অঞ্চলটা প্রায় পুরোটাই জঙ্গল আর পাহাড়ে ঢাকা। এই এলাকার মাটি অত্যন্ত রুক্ষ-শুষ্ক। এখানকার বাসিন্দাদের জীবিকা মূলত চাষবাস আর পশুপালন। অথচ জলের বন্দোবস্ত না থাকায় এখানকার লোকেরা চাষের কাজে খুবই সমস্যায় পড়ছিলেন।

তাই সেই জলের সমস্যা সমাধান করতে একাই এগিয়ে আসেন ওই গ্রামেরই লৌঙ্গি ভুইঞাঁ।

তিনি নিজেও কৃষিকাজ করতেন৷ কিন্তু জলের অভাবে ফলন ঠিকঠাক হত না। তাই কৃষিকাজ ছেড়ে‌ তাঁর নিজের ছেলে-সহ গ্রামের আরও অনেকেই শহরে চলে যায় উপার্জনের জন্য। কিন্তু তিনি বুঝেছিলেন একমাত্র জলই পারে এই উদ্বাস্তু হওয়া আটকাতে।

তাই একটানা ৩০ বছরের অক্লান্ত চেষ্টায় ৩‌ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল কেটেন তিনি। আর এই খালের জন্যই গ্রামের এত বছরের জলের সংকট এখন অনেকটাই মিটেছে।

বছর সত্তরের এই বৃদ্ধ নিজের কাজ নিয়ে তেমন কিছু বলতে চান না। খাল কাটা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে লৌঙ্গি বলেন, ’এটা করতে ৩০ বছর লেগে গেল। গ্রামের পাশের জঙ্গলে গবাদি পশু চরাতে যেতাম। তার ফাঁকে ফাঁকে খাল কাটার কাজ করতাম। একা একাই। এই কাজে আমাকে কেউ সাহায্য করেননি। করবে কী করে? যারা করতে পারে, তারা তো সব কাজের খোঁজে গ্রামের বাইরে চলে গেছে। তাই আমি একাই করতাম।‘

সাহায্য করা তো দূরের কথা, তাঁর এই কাজে বাধাও গিয়েছিলেন পরিবারের লোকজনেরা। কারণ, সেখান থেকে কোনও উপার্জন ছিল না। তবুও তিনি দমে যাননি। সবার বিরুদ্ধে গিয়ে একাই খননের কাজ চালিয়ে গেছেন। তখন‌ গ্রামের অনেকেই তাঁর কাণ্ড দেখে তাঁকে পাগলও বলতেন।

এই অঞ্চলে বর্ষাকালে পাহাড়ের ঢাল দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। সেই পাহাড়ের ঢালেই খাল কাটা শুরু করেন লৌঙ্গি। বৃষ্টির জল সেই খালের মধ্যে দিয়ে গ্রামের একটি পুকুরে গিয়ে জমা হয়।

এই জলের জন্য সেচের কাজে যেমন সুবিধা হয়েছে, শস্যে ভরে উঠেছে চারিদিক, তেমনই গবাদি পশুগুলোও পর্যাপ্ত জল খেতে পাচ্ছে।

শুধু তাঁর গ্রামই নয়, এই জলের জন্য তিন-তিনটি গ্রামের প্রায় ৩০০০ হাজার লোকের মুখে এখন হাসি ফুটেছে। আর এই হাসি ফুটিয়েছেন— লৌঙ্গি ভু্ঁইয়া।

কাঁটা জাল – শুভদীপ হালদার

 20 total views

[post-views]

পাহাড়ে উঠেছি ।
কত ঢালু আর বন্ধুর পথ বেয়ে
পাহাড়ে উঠেছি ।
কত না ক্লান্তি, কতই না ক্লেশ সয়ে ।
তবে হঠাৎ নামার সময়,
কীভাবে যে ফসকে গেল পা এক পাথরের ফাঁক দিয়ে।
ভেবেছিলাম চলে যাচ্ছি,
এবার জগতের সব পার্থিব জিনিস ছেড়ে। কিন্তু কোথা হতে এক কাঁটা জাল ধরল আমায় ঘিরে।
সেই কাঁটা জাল যা মোহতে রচিত
মায়ায় জরিত।
সেই কাঁটা জাল যা আছরে ফেলে
আমাকে অতীতের সেই রূক্ষ মরুভূমিতে
যেখানে যাওয়ায় জন্য আমি কর্মজীবনের
কাজে দিয়েছি ফাঁকি।
আজ আমি সে মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে।
দেখতে পাই এক বুড়িমাকে।
যার স্নেহে আমি জরিয়ে পরেছিলাম ক্ষনিক, কাজের ফাঁকে।
যার বাগানের জাম চুরি আমার আবার চোখে ভাসে।
যার আবছা স্মৃতিচিহ্নি আজ বুকে বাঁধে।
সে আমায় আজ যেন ধরে রয়েছে এ পাহাড়ের বুকে।
আরও মনে পড়ে অনেক অনেক কথা
অনেক অনেক স্মৃতি।
কর্মের চাপে তখন হয়েছিল যা পুরোটাই বিস্মৃতি।
তারাও আমায় বেঁধে রেখেছে আজ
এ ধরনীর বুকে।
তবে তাদের দেখে যে আমার
আসে চোখের কোনে মেঘ
তাই আজ বার্ধক্যের এই কারাগারে চাই,
কর্মের বর্ষনসিক্ত সেই জীবনই।
কারণ আজ যে আমি মিশে যাচ্ছি
অতীতের চোরাবালিতে।
এর থেকে ভালো বিলীন হতে
শূন্য তেপান্তরে।
তবে আজ যে আমি জরিত
জীবনের কাঁটা জালে।।

সদগুণ – ডি কে পাল

 19 total views

[post-views]
একক, দশক, শতক, হাজার
অযুত কিংবা লক্ষ,
অত্ত ছেলে চাই না আমার
একটা পেলে দক্ষ।
সদগুণে যে গুণান্বিত
সত্য ন্যায় এ শীর্ষে;
নিযুত, কোটি অযোগ্যদের
মধ্যে হবে বীর’সে।
আকাশ জুড়ে হাজার তাঁরা
একটা শুধু চাঁদ;
যার কারণে দূর হয়ে যায়
অন্ধকারের বাঁধ।
মূর্খ যারা কেবল তারা
ধ্বংস ডেকে আনে;
একটি মানুষ, মানুষ হলেই
অর্থবহ মানে।

ভালো মানুষ – শ্রী রাজীব দত্ত

 8 total views

[post-views]

ভাল করে চেয়ে দেখো
অন্তত  একবার
কমল দৃষ্টিতে নয়, দৃষ্টি করো তীক্ষ্ণ
সহস্র প্রাচীন বটগাছ দাড়িয়ে আছে
হয়ে  জরাজীর্ণ।
পাচ্ছ কি কোন পোড়া পোড়া গন্ধ?
জ্বলছে  শহর আজ
জ্বলছে  সাধারণের পেট
তবে কিসের এত বিভেদ।
শুধু নিজেকে ভালো রাখার নামই হয় যদি জীবন
সেই জীবনের দরকার নেই
দরকার নেই এভাবে বাঁচার
একবারও কি খোঁজ নিয়েছো
তোমার পাশে ঘর কেন  আধার?
যে ছেলেটি সকাল থেকে রাত রিক্সা টানে
যে চাকর টি বাবু বলে তোমায় মানে।
সে কেমন আছে?
এ দুঃসময়েও সে কিভাবে বাঁচে ।
অর্থের  জোরে তুমি আজ বাবুর সিংহাসনে
অর্থ বিনা তোমায় কেউ কি  মানে?
বড়লোক তো যে কেউ
বড় মানুষ কজন হয় বলো
নিজে ভালো থাকতে, অন্যের করো ভালো ।

অস্তিত্বের নবজীবন – শোয়েব ইবনে শাহীন

 45 total views

[post-views]

বনে গিয়েছিলাম বোকা আমি,
মায়া আর বিভ্রান্তির বেড়াজালে ।
আমার দ্বারা বারবার প্রতারিত হচ্ছো তুমি;
তবু সামনেই ছিলে সারাক্ষণ,  অভিমানে সরে যাওনি আড়ালে।

তোমাকে ফাকি দিয়ে নিজেরই করেছি প্রকৃত ক্ষতি,
উপলব্ধি করিনি কখনো এভাবে, তোমার আন্তরিক ভালবাসা।
আমার আমিতে আমাকে নিয়েই সর্বদা ব্যস্ত আমি;
তবুও যাওনি ছেড়ে,  দাওনি কোন কষ্ট ;- শুধু দিয়েছো সোহাগ ভরা আশা!

এরপরেও আমি বুঝিনা,
কেন আমার অস্তিত্বে আমি বিলীন!
বুঝে যাই চরম এক স্বার্থপর আমি ; যে কি না –
ফলাফলে পেয়েছে টের নিজের অক্ষমতা, অস্তিত্বহীনতা, তোমাকে উপহাস করে আমি আজ সর্বস্বহীন।।

এরপরেও কেন এত ভালোবাসো,?
আমার অস্তিত্বকে সত্যিই তুমি জাগিয়ে দিলে;
সবশেষে বলবো প্রাণভরে ক্ষমা করে এবার একটুখানি তো মুচকি হাসো!
পশু থেকে হচ্ছি ক্রমে মানুষে রুপান্তর; পেয়ে যাচ্ছি এক নবজাত অস্তিত্ব,  এটা স্রেফ তোমার প্রেমেরই ফলে….।।

শোয়েব ইবনে শাহীন

মানুষের মর্যাদা.. – মোঃ সাজেদুর রহমান

 19 total views

[post-views]

মহান রব্বুল আলামিন যখন পৃথিবী সৃষ্টি করলেন, তখন পৃথিবীর কম্পন বন্ধ করতে তিনি পাহাড় সৃষ্টি করলেনফলে পৃথিবীর কম্পন থেমে গেল এটা দেখে ফেরেশতারা আল্লাহকে জিজ্ঞেস  করল,  ‘হে আল্লাহ, পাহাড়ের চেয়েও কি আপনার শক্তিশালী সৃষ্টি আছে? ‘

মহান আল্লাহ জবাব দিলেন, ‘আছে

ফেরেশতারা জিজ্ঞেস করল,’কি সেটা?’

আল্লাহ বললেন, ‘লোহা

লোহার কি এমন শক্তি আছে‘-তারা জানতে চাইলেন

লোহা দিয়ে পাহাড়ের মত বিশাল আর শক্তিশালি জিনিসকে ধ্বংস করা যায়

ফেরেশতারা আবার জানতে চাইল, ‘ইয়া আল্লাহ, হে আমাদের রব, লোহার থেকেও শক্তিশালী কি কিছু আছে আপনার সৃষ্টির মধ্যে?’

আল্লাহ বললেন, ‘আছে

ফেরেশতারা জিজ্ঞেস করল, ‘কি সেটা?’

আল্লাহ বললেন, ‘আগুন

আগুন কিভাবে?’

কারন আগুন লোহাকে ধ্বংস করে গলিয়ে পানির মত তরল করে ফেলতে পারে

ফেরেশতারা অবাক হয়ে আবার জানতে চাইলেন, ‘এর থেকেও কি শক্তিশালী কিছু আছে?’

আল্লাহ বললেন,  ‘আছে

কি সেটা

পানি

পানির কি এমন শক্তি আছে?’

পানি আগুনকে নিভিয়ে দিতে পারে

ইয়া রহমানুর রহীম পানি থেকেও কি শক্তিশালী কিছু আছে?  ‘ –ফেরেশতারা আবার জানতে চাইলেন

আছে‘ 

কি সেটা

বাতাস বাতাস পানিকে তার স্থান থেকে সরিয়ে ফেলতে পারে‘ 

বাতাস থেকেও কি শক্তিশালী কিছু আপনি সৃষ্টি করেছেন

করেছি

সেটা কি

আকাশ বাতাস আকাশকে ছুঁতে পারে না

আকাশের চেয়েও শক্তিধর কিছু কি আছে আপনার সৃষ্টিতে

আছে

কি সেটা

তোমরাফেরেশতারা

আমাদের কি গুন আছে যে আমরা এত শক্তিশালী? ‘

তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত,শক্তিশালি তোমরা আমার আদেশ পালনে সদা তৎপর তোমাদের কোন গুনাহ নেই নিষ্পাপ তোমরা তোমাদের সর্দার জিব্রাইল আমিন যদি একবার চিৎকার দেয় তবে

পৃথিবীর সমস্ত প্রাণ ফেটে মরে যাবেতার পাখার ঝাপটায় ধ্বংস হয়ে পৃথিবীর সমস্ত পাহাড় পর্বত তোমাদের নূর আলোয় ঘুচে যাবে পৃথিবীর সকল আঁধর

তবে কি আমরাই আপনার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, আমাদের থেকে শক্তিশালি সৃষ্টি আর নেই?’

হ্যাঁ, রয়েছে

কি সেটা

মানুষ

মানুষ কিভাবে আপনার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি? তারা তো পৃথিবীতে হাঙ্গামা করছে বিবাদের সৃষ্টি করছে খুন করছেগুনাহ করছে তারপরেও তারা আপনার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি? ‘

হ্যাঁ তারা আমার খলিফা বা প্রতিনিধি তাদের সাথে আমার সম্পর্ক মালিকপ্রভু তারা গুনাহ করছে আবার মাফও চাচ্ছে ফলে গুনাহ মাফ হয়ে যাচ্ছে আমার ভয়ে তারা গুনাহ থেকে বাঁচে, ভাল কাজ করে আমার ভয়ে তোমরাও আমার সিজদাহ কর, তারাও আমার সিজদাহ করেতোমরা আমাকে দেখে বিশ্বাস কর আমার হুকুম মানোকিন্তু মানুষ আমাকে না দেখে আমার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে, না দেখেই আমার সিজদাহ করছে, আমার হুকুম মানছে আমার ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে

তাহলে কি বিশ্বাসের কারণেই তারা আপনার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি? ‘

হ্যাঁ যতক্ষণ তাদের অন্তরে আমার ওপর বিশ্বাস থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা সবার সেরা

আলহামদুলিল্লাহ মহান আল্লাহ কত সম্মান দিয়েছেন আমাদের পাহাড়,আকাশ,ফেরেশতা সবকিছুর থেকেও শক্তিশালী সৃষ্টি বা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন আমাদের

আফ্রিকার এই সুন্দর দেশটির সমস্ত মানুষ কথা বলেন বাংলা ভাষায় – সিদ্ধার্থ সিংহ

 23 total views

[post-views]

বাংলা ভাষা তার সীমানা পেরিয়ে প্রায় ১৫ হাজার মাইল দূরে আফ্রিকার একটি ছোট্ট অপরিচিত দেশে শুধু পৌঁছেই যায়নি, সবার মুখের ভাষা হয়ে উঠেছে।

দেশটির নাম সিয়েরা লিওন। এর উত্তর দিকে রয়েছে গিনি, দক্ষিণ-পূর্বে লাইবেরিয়া আর দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রয়েছে আটলান্টিক মহাসাগর।

এর মোট আয়তন ৭১ হাজার ৭৪০ বর্গকিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭০ লক্ষ। সিয়েরা লিওনে ১৯৯১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তুমুল যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে প্রায় পাঁচ লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা যান। দেশের কাঠামো একেবারে ভেঙে পড়ে। তলানিতে এসে ঠেকে জনগণের গড়পড়তা আয়।

ফলে দলে দলে কুড়ি লক্ষেরও বেশি মানুষ অন্যান্য দেশে শরণার্থী হিসাবে চলে যেতে বাধ্য হন। এখানে প্রায় ১৬টি জাতি বাস করেন। যাঁদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা ভাষা, আলাদা আলাদা সংস্কৃতি।

সিয়েরা লিওনের সরকারি কাজকর্ম মূলত ইংরেজি ভাষায় হলেও এখানে আরও প্রায় ২০টি ভাষা প্রচলিত আছে। তার মধ্যে মেন্দে ও তেমনে ভাষা উল্লেখযোগ্য। প্রায় ১০ শতাংশ লোক ইংরেজি ভাষাভিত্তিক একটি ক্রেওল ভাষা, ক্রিও-তে কথা বলেন।

এই ক্রেওলটি সিয়েরা লিওনের প্রায় সবারই দ্বিতীয় ভাষা ছিল। মেন্দা ভাষা দক্ষিণাঞ্চলে, তেমনে ভাষা মধাঞ্চলে এবং ক্রিও ভাষা প্রায় সার্বজনীন ভাষা বা লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা হিসেবে ব্যবহৃত হত।

এখানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে গৃহযুদ্ধ যখন প্রকট আকার ধারণ করে তখন জাতিসংঘ শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নেয়। বাংলাদেশ-সহ আরও ১২টি দেশ এই মিশনে যোগদান করে। সবাই মিলে সেই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রধানত বাংলাদেশের সেনারা ওখানকার গেরিলা নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করেন। সংঘাত দমন করেন এবং পুনরায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে খুব সহজেই সেখানকার সাধারণ মানুষজনের মন জয় করে নেন তাঁরা। হয়ে ওঠেন আপনজন। আর এই সময়েই কথা বলার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি বাংলা ভাষাও প্রাধান্য পেতে শুরু করে।

ওই সেনারাই ওখানকার সাধারণ মানুষকে বাংলা ভাষার সঙ্গে সঙ্গে বাংলা সংস্কৃতিও শেখাতে শুরু করেন। ফলে অচিরেই এই বাংলা ভাষা আফ্রিকার ওই ছোট্ট দেশটির অন্যতম ভাষায় পরিণত হয়।

শুধুমাত্র বাংলাতে কথা বলাই নয়, এঁরা বাংলা ভাষাতে গান, নাচ, আবৃত্তিও করা শুরু করে দেন। অনেক সময় নিজেদের মধ্যেও মাতৃভাষায় নয়, বাংলা ভাষাতেই ‌কথা বলেন।‌

আর এ জন্যেই সুদূর আফ্রিকার একটি ছোট্ট দেশে ইংরেজির পাশাপাশি কেজো ভাষা হিসেবে দ্বিতীয় সরকারি ভাষার স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে আমাদের এই বাংলা ভাষা। আর এখন ওই দেশের প্রায় সকলেই বাংলা ভাষাতেই কথা বলেন।

সম্পর্ক – অধ্যাপক সৌম্য ঘোষ

 17 total views

[post-views]

 “সম্পর্ক”—– এমন একটি শব্দ যার দ্যোতনা  অনেক বেশি ।গভীরতাও অনেক । সম্পর্ক— শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে হাজারো অর্থ ।সম্পর্ক মানেই  মায়া, আন্তরিকতা টান, ভালোবাসা, মমত্ব ।আমরা যে সম্পর্কে প্রাথমিক ভাবে আবদ্ধ সেখানে প্রথমেই চলে আসে জেনেটিকালি  দাদু -ঠাকুমা ,বাবা -মা ,দিদি- দাদা- ভাই -বোন ইত্যাদি অর্থাৎ পরিবারের কথা। আছে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ।এর বাইরে যে পৃথিবী আছে সেখানে মনের অনুভূতি একগুচ্ছ মিলনে আরো কত মানুষ চলে আসে তৈরি হয় সম্পর্ক ।

                      কিন্তু শুধুই কি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক রচিত হয় ? তা তো নয়। যেকোন বিষয়  সময় ,স্থাপত্য ,নদী ,বালুতট ,গাছ- ফুল- পাখি ——– সম্পর্ক সবার সঙ্গে হতে পারে। প্রয়োজন গভীর অনুভূতি ।

                    সম্পর্কের কত প্রকারভেদ আছে তার সংজ্ঞা আমার জানা নেই ।সম্পর্ক নিঃস্বার্থ হলে দীর্ঘস্থায়ী হয় ।স্বার্থযুক্ত সম্পর্ক ভঙ্গুর ।একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে গেলে দরকার সততা ,বিশ্বস্ততা, স্বচ্ছতা ,বোঝাপড়া এবং অবশ্যই দায়িত্ব ।

                  “সম্পর্ক ” বিষয়ক গবেষনায়  ” The Proceedings Of National Academy Of Science , Canada”  মন্তব্য করেছে :  ” …….  একজন মানুষ তার সম্পর্ক নিয়ে কতটুকু সন্তুষ্ট বা সঙ্গীর প্রতি তার আন্তরিকতা কতটুকু এর উপরেই সম্পর্কের মান নির্ভর করে “। গবেষণায় এও বলা হয়েছে ,একজন মানুষের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের উপর সম্পর্ক নির্ভরশীল ।ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য গুলি হলো , প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা সন্তুষ্টি ,নেতিবাচক মাত্রা, হতাশা ,পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মেলামেশা ইত্যাদি ইত্যাদি ।।

দায়ভাগ – মহীতোষ গায়েন

 14 total views

[post-views]

যদি ভাবো দায়ভাগ,তাহলে নেই…
যদি ভাবো ব‍্যবহার করে নিয়ে দাঁড়ি
টানবে,তাহলেও নেই,যদি ভাবো এই
সময়ের তুমি নিয়ন্ত্রক,মেঘ জমে বাজ।
আকাশের নীল রঙ পাল্টে দিয়ে যদি
ভাবো কালোমেঘে ছেয়ে গেছে দিক,
তাহলে বৃষ্টিরাও বুঝে যাবে,হাওয়ারা
ছুটে এসে তুলে নেবে শিকড় বাকড়।
সময়ের গতি মেপেই অবশেষে নিরালা
নিঝুম ঝরে যাবে ফল,ফুল,পাতা,উপদ্রুত
শিরায় উপশিরায় বিদ্যুৎ চমকাবে,শেষে
নটরাজের নৃত্য শুরু হলে,থামানোই দায়।

বুড়ো – অভিষেক সাহা

 19 total views

[post-views]

নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতায় এসি লাগিয়েছে প্রকৃতি। নরম শীতের ছোঁয়া। শুধু রাত বাড়লে একটু ঠাণ্ডা বাড়ছে বটে, তবে অসহ্য নয়। বেশ মনোরম। করোনার জন্য মাস্ক-গ্লাভস তো ছিলই, ঠান্ডা পড়ায় কান ঢাকা টুপিটাও বউ টুসি ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়েছে হিয়ানের। সঙ্গে কড়া নির্দেশ ” অফিস থেকে বেরিয়ে টুপিটা পড়ে নেবে। শুরুর ঠান্ডা যদি লাগিয়েছ,  আমি কিন্তু বাবা-মার কাছে চলে যাব।কবে ফিরব জানিনা।”

টুসির টুপি পড়ে অফিস থেকে বেরিয়ে লাস্ট মেট্রো চড়ল হিয়ান। স্টেশন থেকে বেরিয়ে শান্তি দা-র  চায়ের দোকানে দাঁড়াল। এখন রাত সাড়ে দশটা। রাস্তা প্রায় ফাঁকা। মানুষের থেকে পথ সারমেয়র সংখ্যা বেশি। তবে একেবারেই কেউ নেই তাও নয় । চায়ের দোকানে সিতাংশু ছিল।

” খবরটা জানিস, জাস্ট মনটা ভেঙে গেল রে।” সিতাংশু বলল।

করোনার জেরে এখন কয়েক মাস যাবৎ মনের মধ্যে সবসময় ভয়ের চড়াই পাখি উড়ছে। নামী-অনামী- পরিচিত- অপরিচিত- আধা পরিচিত মানুষের টপাটপ উইকেট পড়ছে।

” কেন রে কার আবার কী হল!” শান্তি দা-র  থেকে চায়ের ভাঁড়টা নিয়ে এক চুমুক দিয়ে বলল হিয়ান।

” মারাদোনা আর নেই রে। একটু আগেই নিউজে  বলল। নিজের বাড়িতেই হার্ট অ্যাটাক।” সিতাংশু বলল।

” দিয়েগো মারাদোনা ! আমার অল টাইম হিরো। ইস্! সত্যিই এই মৃত্যু মিছিল আর নেওয়া যাচ্ছে না ।” মুষড়ে পড়া হিয়ান বলল।

” তোর মনে আছে যে বছর মারাদোনা ওয়ার্ল্ড কাপ জিতল , সেই ছিয়াশি সালে,  আমরা সবাই রাত জেগে  অবনী কাকুর বাড়িতে খেলা দেখেছিলাম। তখন থেকেই মানুষটা মনের মধ্যে পাথর গেথে বসে গেছে । ” সিতাংশু স্মৃতি হাতড়ে বলল।

” মনে থাকবে না । খুব মনে আছে। শুধু মারাদোনার খেলা  দেখব বলে কী না করতাম। তা বয়স কত হয়েছিল ? ” চা শেষ করে হিয়ানও স্মৃতি-সঙ্গ করল ।

” টিভিতে তো বলল ষাট বছর। এই তো তিরিশে অক্টোবর জন্মদিন ছিল। কিছুদিন আগেই তো হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরেছিল।” সিতাংশু আনমনা হয়ে বলল।

” এমনটাই তো হওয়ার ছিল! ” হিয়ান উত্তর দিল।

” কেন এমন বলছিস! এখন ষাট বছর কী ! কত লোক এই বয়সে ফিটফাট হয়ে চাকরি করছে, বিয়ে করছে ,আর উনি তো ফুটবলের ঈশ্বর !” সিতাংশু অবাক হল।

হিয়ান কষ্ট চেপে ,হালকা হেসে বলল ” ঈশ্বর কখনও বুড়ো হয় না ।”

চলো গল্প লিখি – শম্পা সাহা

 16 total views

[post-views]

কিছু গল্প উড়ে যায় দূরে
কিছু গল্প ফিরে ফিরে আসে
কিছু গল্প চাপা থেকে যায়
কিছু গল্প মুচকি হাসি হাসে।
কিছু গল্পেরা রাত্রি জাগায়
কেউ আবার বড় খোশবাই
কেউ কেউ আঁধার নামায়
কেউ কেউ জ্বালে রোশনাই।
গল্পের মুক্তোর হার
পড়া থাকে গলায় সবার
এ জীবন গল্পের মালা
এ গল্প তোমার আমার।
না থাকুক চমক তাতে
নাই বা নায়কের ভিড়
খোঁচা তবু বহুদূর গত
ক্ষত তবু বড়ই নিবিড়।
ফোঁটা ফোঁটা রক্তের ধারা
গল্পের নাম দিই তাকে
চল আজ গল্প লিখি
নতুন ঘটনা এই ফাঁকে।
ইচ্ছে মতন হই রাজা
তুমি হও পাটরানী তাতে
গল্পটা ইচ্ছে খুশি
কলম যে আমার হাতে।
কলম আজ আমার হাতে।

শীত যেন – মুক্তি দাশ

 14 total views

[post-views]

শীত যেন এক ঘোড়ায় চড়া
অত্যাচারী জমিদার,
টগবগিয়ে আসছে দেখে
হেমন্ত তো পগার পার!
শীতটা এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে
বাঘের দাপট যেমন তো!
বেড়ালছানার মতন ভয়ে
কাঁপছে দেখি হেমন্ত!
শীতটা মোড়া আগাগোড়া
হিমকুয়াশার চাদরে,
যাবার বেলায় হেমন্ত যে
কাঁদছে শীতের পা ধরে।
সাতসকালে ভাঙলো যে ঘুম,
বাইরে এসে দেখি, ওমা!
কান্নাগুলো শিশির হয়ে
ঘাসের ওপর হচ্ছে জমা!

বিনু – নুজহাত ইসলাম নৌশিন

 18 total views

[post-views]

বিনুর রাগ লাগছেভয়াবহ রাগ, কিন্তু প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে নাসভ্য সমাজে থাকার অনেক ঝামেলামুখের উপর ফটাফট কথা বললে বেয়াদব তকমা শোনা লাগেকিন্তু এখন এমন অবস্থা কিছু না বললে আরো পেয়ে বসবেআর কথাটা বলতে গিয়েই  নীল রঙের দোতলা বাড়িতে একটা ছোটখাটো কালবৈশাখী হয়ে গেলো। 

   –দেখেছিস? তোর মেয়ে মুখে মুখে তর্ক করেআমি খারাপটা কি বলেছি, এ্যা। 

নীলুফা বেগম বিনুর নানিকে থামানোর ব্যর্থ চেষ্টা করলেন নাএই মহিলা প্রত্যেকটা কথার শেষে এ্যা  জাতীয় প্রশ্নবোধক ঝুলিয়ে রাখেনিজের মা বলে কিছু বলতেও পারেন না কঠিন করেকিন্তু নাতনির  সাথে কেমন ব্যবহার

   বিনু কথাটা এমন ভাবে বলতে চায়নিকিন্তু মাসের এই কয়েকটা দিন কারো ভালো কথা অসহ্য রকম লাগেমনে হয়, আমায় একটু একা থাকতে দাওসব সময় তো তোমাদের বকবকানি শুনছিইকিন্তু কপাল খারাপ ,এই সময় অকারণ ফালতু কথা গুলো আরো বেশি শুনতে হয়।  আজ একটু আগে যেমন শুনলো আর সহ্য করতে না পেরে উত্তর দেওয়ায় একটা ঝামেলা হল

    সুন্দর সকালটা যেন ছুরির  ফলা দিয়ে কেউ  কেটে দিয়েছেতীব্র ব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙার পর দেখল যা হওয়ার তা হয়ে গেছে।  সাদা ফুল তোলা বিছানায় ছোপ ছোপ রক্তের দাগতার মানে অনেকক্ষণ হল ঘটনাটা ঘটেছেপ্রথম কয়েকটা দিন ব্যথা অসহনীয় পর্যায়ে থাকে বিনুর । 

  আচ্ছা সবার বেলায় কি ব্যথার তীব্রতা এমন থাকেভাবতে ভাবতে তলপেটে হাত দিয়ে চেপে ধরলনাহ্, বাড়াবাড়ি রকম লাগছেআশেপাশে কেউ নেই যে একটা হুট ওয়াটার ব্যাগে গরম পানি এনে দিবেনিজে এই কাজটা করতে গেলে রান্নাঘর অবধি যাওয়া লাগবে, আর  বাকিদের চোখে পড়বে । 

     সকাল নয়টার দিকে আজহার সাহেববিনুর বাবা সোফার রুমে খবরের কাগজটা উল্টেপাল্টে দেখেন।  রান্নাঘরে যেতে হলে এখন বিনুকে তার বাবার সামনে দিয়ে যেতে হবেজামার পিছনে দাগ নিয়ে যাওয়াঅস্বস্তি করআবার এই শীতের সকালে গোসল করা আরেক কাণ্ডতাতেও তো গরম পানি লাগছেই। 

   সাতপাঁচ ভেবে বিনু বিছানাতেই পড়ে রইলতার মায়ের তো এক বার এই ঘরে উঁকি দেওয়ার কথাআসবে নিশ্চয়ই।  

  আসলতবে বিনুর মা নয়বিনুর নানিতসবি পড়তে পড়তে বিনুর রুমে ঢুকে যেই বিছানায় বসে ছিলেন, তার কিছুক্ষণ পর  কাক চিৎকার দিয়ে বাড়ি মাথায় করে তুললেন।  

  ‘ আহহাবিছানাটা নষ্ট করে দিলিসেদিন মাত্র সাদা চাদরটা বিছানো হয়েছেছিঃ,ছিঃনাপাকতুই  তো এখন নাপাকআর আমি এই বিছানায় বসে পড়লামআল্লাহ, এখন কি হবে – ‘

  বিনুর মাথায় খুন চড়ে গেলসকাল থেকে ব্যথা, তারপর আবার এসব কথাতাও নিজের মায়ের মার মুখেতার কাছে বিছানার চাদরটাই বড় হয়ে গেল!  

 বিনু রাগ সামলাতে না পেরে শোয়া থেকে বসে পড়লকেবল এই কথাটাই বলল, ‘ আপনার কি কখনো এসব হয়নি! নারীত্ব নিয়ে তো সন্দেহে পড়ে গেলাম। ‘ শুধু এই কথাটাই হাসির ছলে বলেছে রাগ সামলে।  তারপরই শুরু হয়ে গেল – “এ্যাঁতোর মেয়ে আমায় এসব কী বলল নীলু! আমি নাকি নারী না! তোদের তাহলে পেটে ধরল কে নীলু! মাইয়া মানুষ বেশি শিক্ষিত করলে এমনই হয়নাপাক বলতেই  ছ্যাঁত করে উঠলনাপাক কে তো নাপাকই বলমুহাজার বার নাপাকআহা, আহাআমায় আবার গোসল করা লাগবে – ‘’বলে গজ গজ করে চলে গেলেন। 

 আর বিনু শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে দড়াম করে দরজাটা লাগিয়ে দিল। 

   ভয়াবহ কান্না পাচ্ছে বিনুর।  সকালের ঝামেলাটা তার মা সামলে নিয়েছেকিন্তু মন থেকে নাপাক  এই শব্দটা দূর করতে পারছে নাদুই হাজার একুশ সালেও এমন কথা শুনতে হলনারী  শরীরের স্বাভাবিক একটা নিয়ম  নিয়েআর আরেক প্রায় বৃদ্ধা হয়ে যাওয়া নানি এমন কথা বলতে পারল চিৎকার করেবাসায় বাবা, ভাই ওরা শুনে কি ভেবেছে কে জানেহুহু করে কান্নার ঢেউ  আসছে। 

   প্রতিবারই এমন কিছু না কিছু ঝামেলা হয় পিরিয়ড এর সময়টাতেএই মনটা ভালো থাকে কিছুক্ষণ পরেই কোথা থেকে একদলা মেঘ মনে ভর করে মনে।  সব বিষে বিষাদময় লাগেঅথচ পিরিয়ড নিয়ে টিভি বিজ্ঞাপন গুলোতে দেখা যায় মেয়েরা কত চিলি মুডে থাকে।  এর কতটা সত্যি কে জানেবিনু শুধু জানে তার এই সময় ভয়াবহ একলা লাগে আর কান্না পায়একটা চাপা রাগ কোথা থেকে এসে মাসের কয়েকটা দিন বিনুকে মরিয়া করে তোলে। 

    

   ‘তোমার কি হয়েছে বলবে? ‘

ভার্সিটিতে যাওয়ার পথে বিনুর পাশে হেঁটে রাতুল প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল। 

বিনু ভেতরে ভেতরে দ্বিধায় মরে যাচ্ছেকি বলবেকেন তার এই মন খারাপ রাতুল জানতে চাইছেঅবশ্য জানতে চাওয়ার কারণ আছে।  গত দুই দিন ধরে বিনু ভার্সিটিতে আসেনি, রাতুলের কোনো কল ধরেনিএক বার ধরে অকারণ রাগ দেখিয়ে কেটে দিয়েছে। 

রাতুল শুধু অবাক হয়েছেবিনু খুব ঠান্ডা, সে খুব কমই রাগ দেখায়অথচ সেদিন বলল,’ কেন আমায় বিরক্ত করছো। ‘ এই কথাটাই রাতুলকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।  

  ‘কি হলো, চুপ কেনোবলো। ‘

বিনু আমতা আমতা করে নিচু স্বরে বলল, ‘ আমার শরীরটা ভালো ছিল না।  সরি।‘

আহ্,কি হয়েছে তাই তো জানতে চাইছিআমি কি সত্যি তোমায় বিরক্ত করেছিলাম? ‘

সরিবললাম তো। ‘

আমায় বলতে কি অসুবিধা! কি এমন হয়েছিল যেআমায় বললে বিরক্ত করছিঅথচ তুমি কেন ক্লাসে আসোনি তাই জানতে চেয়েছিলাম – ‘ মুখ গম্ভীর হয়ে গেলো রাতুলের। 

    বিনু মনে মনে ভাবলকি সমস্যা বলতেএটা তো কোনো ছোঁয়াছে রোগ না যে গোপন করে রাখা লাগবে।  

 হাঁটার গতি থামিয়ে বিনু বলল, ‘পিরিয়ড।‘

আরে সেকেন্ড পিরিয়ড এখনো শুরু হয়নি তোশাহানা ম্যামের ক্লাস দশটা কুড়িতে তো। ‘

গাধা, মেয়েদের মাসে মাসে হয় যেটা সেটার কথা বলছিপিরিয়ড। ‘

  রাতুল কিছুক্ষণ চুপ করে হেসে বলল, ‘ এটা নিয়ে এত অস্বস্তি পাওয়ার কি আছে? ফোনে একটা টেক্সট করলেই পারতেখামোখা কতগুলো ধমক খেলামভাবলাম ব্রেকআপ বুঝি করে দাওতোমার ভালো লাগাটা শুধু জানাওখারাপ লাগাটা আজ জানাতে শেখলে না।  আমি তো তোমার সহযোগী হতে চাই। ‘

  বিনু ইতস্তত করে বলল, ‘ না, মানেনানি এসময় বলে নাপাক, এই সেইতুমি আবার কি ভাবো –‘

রাতুল একগাল হেসে বলল,  ‘ তোমার নানিকে বলে দিও এই হিসেব করলে সারা পৃথিবীর মানুষই নাপাকপ্রকৃতির ডাকে সাড়া তো তোমার নানিকেও দিতে হয়বর্জ্য গুলো তো আমাদের শরীরই বহন করে তাই না! ‘

  বিনু হেসে দিল।  হাসলে বিনুর গালে ডাবল টোল খায়আজ পিরিয়ডের চতুর্থ দিনব্যথাকে চাপিয়ে কি একটা সুখ ভর করছেরাতুল তাকে বুঝতে পেরেছে। 

  ‘আমি কি মহারানীর হাতটা ধরতে পারি। ‘

কোনো কথা না বলে চুপচাপ বিনু হাতটা বাড়িয়ে দিলএকেই বলে বোধহয় সুখের মতো অসুখ। 

বয়েলিং ফ্রগ সিন্ড্রাম -রায়হান আজিজ

 18 total views

[post-views]

আজ শুক্রবার । পায়েলের আজ ছুটি । সে রাজধানীর সাধনা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষিকা । ৩৫ বছর বয়সী মিস পায়েল নাহার ইস্কাটনের বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে । পায়েলের পায়েলের বড়বোন দোয়েল নাহার বিয়ের পর দোয়েল শিকদারে রূপান্তরিত হয়েছে । এখন সে দু’ মেয়ের মা । 

বহুদিন পর আজ নিজবাড়িতে আগমন ঘটল দোয়েলের । 

পায়েল— কিরে আপা! এত মনমরা হয়ে আছিস কেনরে?

দোয়েল— কই? নাতো!

পায়েল— রাশেদের বদঅভ্যাসটা বুঝি এখনও গেলনা!

দোয়েল— রাশেদ কিরে! দুলাভাই বলতে পারিসনা?

পায়েল— এত ভাল হোসনেরে আপা! আর কত অত্যাচার সহ্য করে যাবি? এবার প্রতিবাদ কর!

দোয়েল— দেখরে বোন! আমরা মেয়ে । আমাদেরকে সব জায়গায় মানিয়ে চলতে হয় । চাইলেও 

            প্রতিবাদ করা যায়না ।   

পায়েল— মেয়ে বলেই সব মেনে নিতে হবে, তোকে একথা কে বলেছেরে আপা? তুই হয়ত বয়েলিং 

            ফ্রগ সিন্ড্রোমে ভুগছিস ।

দোয়েল— বয়েলিং ফ্রগ সিন্ড্রোম! এটি আবার কিরে? আগেতো কখনও শুনিনি!

পায়েল— আপা, শোন তবে! ব্যাঙের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে । প্রাণীটি পরিবেশের তাপমাত্রার 

           সঙ্গে নিজের দেহের তাপমাত্রাকে অ্যাডজাস্ট করে নিতে পারে । একটি ব্যাঙকে যখন 

ফুটন্ত পানির পাত্রে ছেড়ে দেয়া হয়, তখন সে লাফ দিতে না পারলেও তা না করে পানির উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেবার জন্য নিজের দেহের তাপমাত্রাকে বাড়াতে থাকে । একসময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, ব্যাঙটি আর অ্যাডজাস্ট করতেন পারেনা । গরম পানি থেকে লাফ দেবার শক্তিটুকুও সে হারিয়ে ফেলে । এভাবেই সে মারা যায় । দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, আমাদের সমাজে মেয়েরা বিশেষত বিবাহিত মেয়েরা এ ধরণের ভুল করে থাকে। মুখ বুঁজে অত্যাচার সহ্য না করে প্রতিবাদ করতে হবে । 

দোয়েল— বেশ চমৎকার জিনিস শেখালিতো! কিন্তু আমার কি আর মুক্তি হবে?

পায়েল— শোন আপা! সমাজ অনেক কথাই বলবে । মেয়েদেরকে সাহস করে নির্যাতনকারীদের     

           বিরূদ্ধে লড়াই করতে হবে । আমি তোর সঙ্গে আছিরে আপা । 

দোয়েল— তোর কথা শুনে খুব শান্তি লাগছেরে! আচ্ছা! এতটা কথা বলতো? তুই এত কনফিডেন্ট 

            হলি কিকরে?

পায়েল— চারপাশে বধূ নির্যাতন দেখে সতর্ক হয়েছি । তাছাড়া, আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিস

           হাজেরা আকতার আপাকে দেখে আমার মাঝে একা পথ চলার প্রত্যয় জন্মেছে । তুইতো 

           জানিস, তিনি আমাদের স্কুলের হেডমিস্ট্রেস ছিলেন ।তখন থেকেই তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব 

           আমাকে চুম্বকের মত টানতো । 

দোয়েল— স্যালুটরে বোন! জীবনভর মাথাটা এভাবেই উঁচু করে চলিস ।

 

[caption id="attachment_1138" align="alignnone" width="300"]রায়হান আজিজ রায়হান আজিজ[/caption]

পরিচিতিঃ

রায়হান আজিজ ১৯৯২ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর পুরনো ঢাকার একটি সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । বাবা ব্যবসায়ী মোঃ ইউসুফ হোসেন ও মা গৃহিনী কামরুন নাহারের তিন সন্তানের মাঝে লেখকই সবার বড় । তিনি রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে ফার্মেসীতে সম্মানসহ স্নাতক এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে ২০১৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন  করেন । পরবর্তীকালে তিনি রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে একজন ফার্মাসিস্ট হিসেবে যোগদান করেন এবং বছর দেড়েক সেখানে কর্মরত ছিলেন ।

বর্তমানে তিনি বাবার সঙ্গে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করছেন । ছেলেবেলা থেকেই বই পড়ার প্রতি তার একটি ঝোঁক ছিল যে অভ্যাসটি গড়ে দিয়েছিলেন তার ছোটফুপু মিস কারিমা বেগম । লেখক ২০০৩ সালে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত স্কুলভিত্তিক বইপড়া কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে “স্বাগত পুরস্কার” লাভ করেন । ২০১৭ সালে দৈনিক জনকণ্ঠে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে লেখক রচিত একটি কলাম প্রকাশিত হয় এবং সে বছরই দৈনিক সমকালের ক্রোড়পত্র “চারমাত্রা”য় তার লেখা একটি গল্প ছাপা হয় । সম্প্রতি ঢাকার “জলতরঙ্গ পাবলিকেশন্স” থেকে লেখক রচিত একটি যৌথ গল্পগ্রন্থ “জলছোঁয়া”(২০২০) প্রকাশিত হয়েছে । নাট্যপ্রেমী এ লেখক আমৃত্যু নিজেকে লেখালেখি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখতে চান ।

 

মোঃ সাজেদুর রহমান – স্বরচিত কবিতা

 13 total views

[post-views]

সুখ কোথায় ?

সাদাকালো ছেড়ে রঙ্গিন অসু
আমরা ছেড়ে আমি ভাবনা
মাটি ছেড়ে দালানকোঠা
আপন ছেড়ে নিজ ধ্যান
পরিতুষ্টি ছেড়ে অসন্তোষ আর অসীম চাহিদা,
স্রষ্টা ছেড়ে সৃষ্টির আরাধনা
সেরা হয়েও হীনতর কার্য
সুখের জন্যে এতকিছু
সময় নেই তাকানো পিছু
তবুও সুখ কোথায়?
যদি সাদাকালোর চেয়ে রঙ্গিন অসু,

 

মাটির চেয়ে দালানকোঠা
আমরা হতে আমি
স্রষ্টা থেকে সৃষ্টি
কল্যাণকামী হয়!
তবে এত অশান্তি আর অস্থিরতা কেন?
কেন এত চাই চাই?
কোথায় সুখ?
তবে কি এতসবের কোনটিই সুখের অদূরে নয়?

 

প্রতীক্ষা

 

দিন রাতের আবর্তে মসৃণতা আর দুঃসহ পোরা,
হৃদয় নিঙ্গড়ানো অতৃপ্তি আর অচেনা জল্পনা,
নিলুপ্ততা, অপটুতা, নির্জনতা, চটুলতা
বহুদূর ফেলে,অজানার পথে তৃপ্ত শ্বাস,
চিত্তের নিগূঢ়তার গহীনে প্রলুদ্ধ মায়া,
ক্রমশ ঝঙ্কার দিচ্ছে।
তবুও প্রতীক্ষা…!
এ যে শেষ হয়েও না হওয়ার মতন হাল,
কোন এক অপরিচিত মূহুর্তের প্রমাদে,
হারাতে অবাধ্য না হলেও….
প্রতীক্ষা….!
জানি একদিন হবে প্রতীক্ষার অবসান!

 

চাপা হাসি

দুপুরের রোদের উত্তাপ যখন কমতে থাকে,
ঠিক যখন বেলা গড়িয়ে যায়,
সূর্য যখন হেলে পড়ে পশ্চিমে,
সময়টা কাটে হেলে পড়া রক্তিম সূর্য দেখে।
দিনটা অন্য সব দিনের মতই
ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি মাখা একজন
শিউরে ওঠার মত চাহনি, তাকিয়ে আছে।
বেলা গড়িয়ে যায়,
তার সেই চাপা হাসি ফুরায় না।

 

পরদিন, সকাল কয়েকবার সেই হাসির দেখা
কিন্তু সেই হাসিতে, চাহনিতে কি যেন নেই!
বুঝার বিফল চেষ্টা।
বিষণ্নতার আড়ালে বন্দি সে।
যে ছোটদের আদর করতে পারে,
কাছে টেনে নিতে পারে এত সহজে,
তার সেই বিষণ্নতা বড়ই অবাক করার মতই ব্যাপার।
নিজেকে গুটিয়ে রাখতে ভালবাসে সে,
নিজের কষ্টে নিজে পুড়তে জানে,
মনে হয় এটা তার সয়ে গেছে।
কারণটা যে জানা নেই
সে কি কিছু আড়াল করছে?
পরদিন শীতমাখা সকালে জানা গেল
তার বিষণ্ণতায় ডুবে থাকা,
ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি,
কিসের অভাব তা
‘মা’ নেই তার
বুকটা হু হু করে উঠলো।
অযত্ন আর অবহেলাই তার বিষণ্নতার
কারণ
দিনগুলো ব্যস্ততায় কাটলেও,
রাত যেন তার কাটেই না।
মা বলতেও তার ঠোঁট জড়িয়ে যায়
চিৎকার করে বলতেও পারে না!
কি নিষ্ঠুর পৃথিবী!

 

 

অবহেলা

একটা সময় কারো খবরদারির খোঁজ রাখা হত না,
হত না বললে ভুল হবে, দরকার ছিল না!
কে সুখের ভাগিদার, কে বা দুর্দশার দাবিদার,
জানার স্পৃহা ছিল না।
সময় তার গতিতেই মশগুল
অনেক দিন, মাস, বছর কেটে গেছে!
অযত্ন অবহেলায় মরিচা ধরেছে মনের কিনারে।
অপেক্ষা…
মরুভূমির তপ্ত বায়ুর মত,
যদি ঝড় আসে বা নাই বা আসে,
তবুও মনে জানার ব্যাকুলতা।
সৌন্দর্য কদর্য, শুরু শেষ অজানা,
তাহলে কি কালের আবর্তে শূন্য মানসের হবে আসান?

 

ফিরতে চাই এখানে – বিশ্বনাথ পাল

 17 total views

[post-views]

 

মাঝে মাঝে মনে করি
আর যদি না ফিরি
এই শ্যামল সুন্দর উদ্যানে ঘেরা বাংলার কোলে।
যদি  আর না মেশে এই গলা হাটের হট্টগোলে,
সামাজিক নাম দিয়ে  অসামাজিক দূরত্ব রচনায়
তৎপর বলে কেউ যদি  না বলে, আয় শুধু আয়
তবে কী এই খেলাঘর বিষন্ন বালুর ওপর
পেয়ে যাবে শুধুই অনাদর।
আনমনে লুটাবে চাদর সিয়াকুল কাঁটার ওপর
পা হতে ওপড়াতে কাঁটা মা ছাড়া দেখাবে ওজোর?
শুধু মাটি নয়,মায়ের জন্যেও আমার ফেরা,
সুভদ্র আচরণে সব সময় যারা দেয় পাহারা
লাভ -অলাভ না বুঝে সেই সব মানুষের টানে
জন্ম জন্ম ধরে ফিরতে চাই আমি এইখানে

 

বুক রিভিউ

 81 total views

[post-views]

ছড়ামণি নতুন ছড়ার সম্ভার – তৈমুর খান.

শিশুসাহিত্যিক মিহির পালের ‘ছড়ামণি'(প্রথম প্রকাশ ২০২০) ৪৯টি নতুন ছড়ার সম্ভার। দীর্ঘদিন ছড়া নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলেছেন তিনি। এই গ্রন্থটি সেই পরীক্ষারই চূড়ান্ত নির্মাণ বলা যায়। ছড়া মূলত বর্ণনাত্মক কবিতা। ছন্দই সেখানে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে। বাংলা ছন্দের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে যে মাত্রা গণনা পদ্ধতি এবং অন্ত্যমিলের ধারা তাতে ছড়ায় স্বরবৃত্তই একমাত্র ছন্দ। মিহির পাল এই ধারার মধ্যে থেকেও এক নতুন পথের সন্ধান করেছেন। প্রতিটি ছড়াতেই তিনি যে অতিপর্বের ব্যবহার করেছেন তাতে সম্মুখ মিলের মধ্যেও মাত্রা গণনায় সামঞ্জস্য এনেছেন।  আবার  এই অতিপর্বগুলি যেমন ক্রিয়াপদে, সর্বনামে, বিশেষ্যপদে অথবা অব্যয়পদে নির্মিত হয়েছে। খুব সচেতনভাবেই বুদ্ধিদীপ্ত এই কাজটি করেছেন। হয়তো নতুনরা তাঁর কাছ থেকেই প্রেরণা পাবেন। দু একটি উদাহরণ নিলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়:

“উঠলো    রবি পুব আকাশে

 ছুটলো    ঘোড়া সবুজ ঘাসে।

 ফুটলো    কুসুম ভোরের বেলা

 জুটলো    অলি সুখের মেলা।”

 উল্লেখ্য উঠলো ছুটলো ফুটলো জুটলো সবগুলিই ক্রিয়াপদ এবং সবগুলি সম্যক স্বর। শ্বাসাঘাত এর ফলে তারা যেমন স্বরবৃত্ত তেমনি দু মাত্রার অতিপর্ব বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। পুরো কবিতাটিতেই এভাবে নিখুঁত নির্মাণ চোখে পড়ে।

    আর একটি ছড়ায় লক্ষ করা যায় সম্মুখ স্বরের অতিপর্বটি বিশেষ্য:

“চাঁদ    উঠেছিল গগনে

 ফাঁদ   দেখলো দুই নয়নে।

 বাদ    সাধল কানাই-বলাই

 সাধ    মিটাতে মালা গলায়।

 ছাদ    বেয়ে নামলো পরী

 বাঁধ     ভেঙে সমান করি।”

 চাঁদ ফাঁদ বাদ সাদ ছাদ বাঁধ প্রভৃতি শব্দগুলির মাত্রাও একই।

   কোনো কোনো ছড়ায় অতি পর্বটির মাত্রা গণনা একই রেখেও পদগুলির মধ্যে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিশেষ্য বিশেষণ ক্রিয়া অব্যয় সর্বনাম মিশ্রভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এরকমই একটি ছড়া:

“ছড়ি     হাতে স্যার ঘোরে

 ঘড়ি      দেখে রয় দোরে।

 হরি      কাকা দেয় ঘন্টা

 দেরি     করে আসে মন্টা।

 চড়ি      গাছে আম খেতে

 ভরি      ব্যাগে নেবো সাথে।”

 ছড়ি ঘড়ি হরি দেরি চড়ি ভরি প্রভৃতি শব্দগুলির মধ্যে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে, কিন্তু মাত্রায় কোথাও গড়মিল নেই।

 এরকম একটি ছড়ার বই সত্যিই বিরল। শুধু শিশুদেরই নয়, বড়দের কাছেও বিষয়টি নিয়ে ভাববার অবকাশ আছে। বাংলা সাহিত্যে কবি মিহির পালের এই কাজ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।  জীবনের নানা অনুষঙ্গ, প্রকৃতি, ভালোবাসা, স্নেহ-মমতা, আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন এবং আমাদের চারিপাশের পরিজনদের কথা ছড়াগুলির মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। বইটির বহুল প্রচার কামনা করি। প্রচ্ছদ  এবং বাঁধাই আকর্ষণীয়। যে কোনো শ্রেণির পাঠককেই আকৃষ্ট করবে।

 ছড়ামণি: মিহির পাল, সহযাত্রী প্রকাশনী, ৮ পটুয়াটোলা লেন, কলকাতা-৯, মূল্য:১৩০ টাকা। প্রচ্ছদ শিল্পী: মামণি পাল।

storyandarticle.com

খেলাঘরের ঝাড়বাতি নিভে গেল (ফুটবলের রাজপুত্র মারাদোনার স্মৃতিতে) – মহীতোষ গায়েন

 21 total views

[post-views]
ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো,চলে গেলে অসময়ে
তোমার বাঁ পায়ের যাদুতে ধরাশায়ী ছিল বহু দেশ,
ফুটবলের কিংবদন্তী তুমি,৯১ ম‍্যাচে ৩৪ গোল,মনে
রেখেছে বিশ্ব,আজও বিস্ময় হ‍্যান্ড অফ গড রেশ।
রাজকীয় দৌরাত্ম‍্য আর অপার্থিব পাগলামি ভরা
তোমার ক্রীড়াকৌশলে দীপ্ত ছিল ফুটবল বেলাভূমি,
খেলার যাদুতে সমৃদ্ধ করেছিলে বার্সেলোনা,নাপোলি,
রিয়েল মাদ্রিদ,বোকা জুনিয়র,আরো বহু ক্লাব তুমি।
আর দেখা হবে না,এবার আকাশে আবার ফুটবল
হলে,খেলবে তোমার সুহৃদ,ফুটবল যাদুকর পেলে,
মাঠ হারালো,আকাশ হারালো ছিয়াশির যাদুকর…
অদম্য জেদ গোল নিশানা বিষাদ পাখনা মেলে।
বস্তিতে বড় হলে ফুটবলে দিলে বিশ্বজয়ী ধারা
ফুটবলের দলিত আন্দোলনে দিলে অপার শক্তি,
তোমার জন্যে আর্জেন্টিনা সারা বিশ্বে হলো মহান
বিশ্বকাপেতে তাইতো তোমাতে বিশ্বব‍্যাপিতা ভক্তি‌।
রাজপ্রাসাদ-খেলাঘরে আজ ঝাড়বাতি নিভে
গেল,নামলো আঁধার ক্রীড়া-আকাশের ফাঁকে,
তুমি থাকবে হৃদয়ের মাঝে,বিশ্ব খেলার মাঝে,
আজ শতকোটি হৃদয় তাই শ্রদ্ধা শপথ আঁকে।

সময় – অভিষেক সাহা

 31 total views

[post-views]

” তুই আমাদের এতটুকুও সুখ দিতে পারলি না। আমি আর তোর বাবা মুখে রক্ত তুলে পরিশ্রম করি যাতে তোর একটু উন্নতি হয়। খাতা-বই-মাস্টার কোনও কিছুর অভাব রাখিনি। তবু পাশের বাড়ির টুনির চেয়ে এবারও তুই পরীক্ষায় পাঁচ নম্বর কম পেলি। তুই কী আমাদের একবারও সুখী করবি না মা ।” দলা পাকিয়ে ওঠা দুঃখে  প্রায় বন্ধ হয়ে আসা গলায় বছর চোদ্দর মেয়েকে  কথাগুলো বললেন মা।

” আমি তো চেষ্টা করছি। উন্নতিও হচ্ছে। শুধু টুনির চেয়ে কম পেয়েছি বলে এমন করছ কেন ?” বিরক্ত মেয়ে উত্তর দিল।

” টুনির চেয়ে কম পাওয়াটা বড় কথা নয়। বড় কথা হল তোর এই ধারাবাহিকভাবে টুনির চেয়ে  পিছিয়ে পড়াটা।  ।” গম্ভীর গলায় বাবা বললেন।

” টুনি কী ভাবে পরীক্ষা দেয় জানো! ওর স্কার্ট-ব্লাউজ- মোজা সব জায়গায় কাগজ থাকে। পরীক্ষার সময় অন্ততঃ তিনবার বাথরুমে যায়। আর আমি তো নিজে লিখে ওর চেয়ে মাত্র পাঁচ কম পেয়েছি।” মেয়ে কারণ বোঝানোর চেষ্টা করল।

” সেটা কী রেজাল্টে লেখা আছে। কাল টুনির মা যখন গলা তুলে মেয়ের প্রশংসা করবে তখন আমি কী  উত্তর দেব! হে ভগবান বলে দাও।” মা হাহাকার করে উঠলেন।

” বলবে তোমার মেয়ে সৎভাবে পরীক্ষা দিয়েছে।” মেয়ে  দৃঢ় গলায় বলল।

” সৎ-অসৎ আমরা বুঝছি, লোকে তো নম্বর বুঝবে। তাদের কী বলব।” বাবা মেয়েকে প্রশ্ন করলেন।

আত্মবিশ্বাস গলায় ঢেলে মেয়ে বলল ” কাউকে কিচ্ছু বলতে হবে না, কোনও উত্তরও দিতে হবে না , আমাকে আমার কাজটা আমার মত করে চালিয়ে নিয়ে যেতে দাও, একদিন সময়ই আমাদের হয়ে সব উত্তর দিয়ে দেবে।”

তুমি – সৌম্য ঘোষ

 17 total views

তুমি ফুল হও আমার বাগানে
রঙিন প্রজাপতি হয়ে উড়ে বেড়াবো
তোমার চারিপাশে ।
তুমি আকাশ হও
শরতের মেঘ হয়ে ভেসে যাবো
তোমার দিগন্তে !
তুমি নদী হও
তরী ভাসিয়ে চলে যাবো কোন্ অজানা
মোহনায় ।
তুমি জ্যোৎস্না হও
তোমার মায়াজালে সঁপে দেব
স্বপ্নে বিভোর হয়ে ।
তুমি কি আমার শয্যাচিতা হবে ?
তোমার হলুদ আগুনে আবিষ্ট হবো
চিরনিদ্রার অনন্ত প্রহরে।

কথার ফসিল – সুতপা ব‍্যানার্জী (রায়)

 19 total views

[post-views]
যখন সময় থমকে দাঁড়ায়, কোলাহল থেকে দূরে,
না বলা কথার বদ্বীপেরা ভয়ঙ্করভাবে বিচ্ছিন্ন,
পৃথিবীর প্রান্তে কোন এক কুমেরুতে ঘুমন্ত…
জাগিও না তাকে, আগ্নেয়গিরির অস্থিরতায়
কোরো না নিক্ষিপ্ত, আ….ভীষণরকম অস্থিরতা
খেলা করে,- কিছু কথা থেকে যায় একান্ত আপন,
অনুগত, ফসিলের ঘুমে, কি দরকার তাকে
মুখরিত, আলোকিত, সকলের হাটে বিকোবার,
তার থেকে এসো সেই কথার শোকের নীরবতা
পালন করি-মিনিট খানেকের নয়, আজীবনের,
আবশ‍্যিক ভাবেই কথাগুলো হয় ভালবাসাকেন্দ্রিক
সকলের ভাবনায়, ভেবে নাও যার যা খুশি
ভাবনার নদী বয়ে যাক, তখন শুধিও সাগরের কাছে,
সেই মস্ত গর্জনে জবাব দেবে, যত ফেলাছড়া প্রশ্নের,
তখন উত্তর খুঁজো ঝিনুকের কাছে-“হ‍্যাঁ রে-তোর
পেটে কি ভালোবাসার মুক্তো আছে?”
দেখো সেও কেমন এড়িয়ে যায়, লুকিয়ে রাখে খোলকে
তোমাদের যত আঁকাবাঁকা প্রশ্নের উত্তর,
এভাবে যেও আকাশের কাছে, অমনি সে মেঘের আড়ালে
লুকিয়ে ফেলবে তার সব কথা, না হলে বৃষ্টি নামিয়ে
বলবে-“এই নাও তোমার কথার উত্তর।”
তবে আজ থাক “না বলা কথারা”-ঘুমপরীর ঘুমে।

প্রত্যাখ্যান – শম্পা সাহা

 23 total views

[post-views]

“শা…,যতসব! বা….ন্যাকামি! দেখলে ইয়ে পর্যন্ত জ্বলে যায়”, ফোনটা ছুঁড়ে ফেলে খাটের উপর। নিজের মনে বিরক্তিতে বিড়বিড় করতে থাকে সুবীর, সুবীর দাস। আসলে ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে একটা নামি পেজের গল্পের নামে ওর চোখ আটকে গিয়েছিল, ‘কান্না’। ছবিটা বেশ! অত্যন্ত সুন্দরী একটি মেয়ে, চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছে, ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ছবি । কিন্তু তারচেয়েও বেশি কৌতুহলী হয়েছিল লাইক ও কমেন্ট দেখে ,বাপরে বাপ ! এক ঘন্টায় টু পয়েন্ট ফাইভ কে লাইক আর 156 টা কমেন্ট!

   যদিও গল্পটল্প এককালে পড়তো মায়ের চাপে, আসলে ওর মার নিজেরও গল্পের বই পড়ার ভীষণ নেশা তার থেকেই ছেলের মধ্যে চালিয়েছেন কিন্তু এখন ওসব ব্যাকডেটেড! কিন্ডেল বা পিডিএফে প্রচুর ই-বুক পাওয়া যায়, যার দাম খুব কম আর সাজিয়ে রাখারও ঝামেলা নেই । তবুও মা বলেন বইয়ের মাধুর্যই আলাদা। নতুন বইয়ের গন্ধ নাকি অতসী মানে সুবীরের মাকে পাগল করে। আসলে স্কুল টিচার তো তাই ,তার ওপর আবার বাংলার তাই বোধহয় এসব সাহিত্য টাহিত্যের নেশা! প্রতি বছর বইমেলায় 3-4 হাজার টাকার বই মায়ের কেনা চাই ই চাই । সেজন্য মায়ের আলাদা ফান্ড ও আছে!

    আগে সুবীর বই পড়লেও এখন আর এত সময় পায়না । তারপর যদি কাউকে বলে গল্পের বই বা কবিতার বই পড়ছি ঠাট্টা করে মেরে ফেলবে। বরং ই-বুক,বা পিডিএফ পড়ছি বলাটা প্রেস্টিজের।

   সেই পুরনো বই পড়ার নেশাতেই গল্পটা পড়তে শুরু করা। দেখি তো এত ভাল গল্প! এত লোক পছন্দ করেছে! আসলে হাতে কাজ নেই বললেই চলে । মাঝরাত পর্যন্ত প্রতি রাতে ফেসবুক ঘাঁটা এটা এখন একটা ট্রেন্ড হয়ে গেছে বলা যায় । না হলে যেন মনে হয় কি বাদ গেল !কি বাদ গেল!

   গল্পটা একটা কালো মোটা মেয়ের, তাকে  তার ভার্চুয়াল প্রেমিক প্রত্যাখ্যান করে ,যার সঙ্গে ফেসবুকে প্রেম। যদিও মেয়েটি আগে থেকেই  বলেছিল, সে সুন্দরী নয় ,কালো ,মোটা , বিশ্রী দেখতে ! তবু ছেলেটি সম্পর্কের জন্য জোর করে কিন্তু সামনা সামনি দেখে মেয়েটিকে প্রত্যাখ্যান করে আর মেয়েটি ভেঙে পড়ে কান্নায়।

   কমেন্ট গুলো পড়তে থাকে সুবীর । একটু কৌতূহল, পাবলিক কি ভাবছে! যা ভেবেছে ঠিক তাই !সকলে এক্কেবারে মেয়েটির দুঃখে গলে জল ,  আহা! মেয়েদের কত রকম বঞ্চনার শিকার হতে হয়! সত্যিই তো এখনো কেন রূপ কদর পাবে ?ইত্যাদি, ইত্যাদি। নারীবাদীরা তো অনেকে আবার পুরুষ সমাজকে কাঁচা মাংস  লোভীটোভী ও বলেছেন, কেন মেয়েরা কুৎসিত বলেই রিজেকটে্ড? কেউ কেউ সমগ্র পুরুষ সমাজকে দেখনদারি , সুন্দর চেহারার  অন্ধ ভক্ত, গুণের মূল্য দেয় না ইত্যাদি বলেও গালাগাল দিয়েছেন। এসব কমেন্ট পড়ে রাগ হলো না জোরে হেসে উঠল সুবীর। কেন রাগ হবে কেন ?

   এত সব মিথ্যে কথা শুনে নিজের মুখটা আয়নায় একবার ভালো করে দেখে ,মোটা গরিলার মত চেহারা, থ্যাবড়া নাক, তারপরে ও খেতে ভালোবাসে ,তাই ওজন একশোর প্রায় কাছাকাছি আর গায়ের রং পুরো বাবার মত আবলুস কাঠ! অত মোটা আর চর্বির

বাহুল্য ওকে একেবারে আলাদা করেছে ছোটবেলা থেকেই । ছোটতে তবু চোখ গুলো দেখা যেত এখন খেয়ে খেয়ে এমন হয়েছে যে পুরো যেন বেঢপ জলহস্তী !

   তবে দু’বছর আগেও ও এতটা মোটা ছিল না । তখন প্রথম কলেজে উঠেছে, যদিও ছোট থেকেই ওর গরণ একটু মোটার দিকে তবু চলনসই ছিল ,কিন্তু মুখের আদল ,মোটা নাক, ঘন কালো কোঁকড়া চুল ,বন্ধুরা আড়ালে কেউ কেউ সামনেই ওকে অসুর বলে ঠাট্টা করত । প্রথম প্রথম রাগ হলেও পরে বুঝেছিল প্রতিবাদ করে লাভ নেই ,যা সত্যি তা তো বলবেই । কিন্তু বন্ধু তো!তাই অতটা খারাপ লাগত না। কিন্তু চেহারার কথা ভেবে বা মেপেজুপে যদি মনটা চলতো তাহলে তো দিব্যি হতো! তা হলো না , সুবীর প্রেমে পড়ল অম্বিকার।

   অম্বিকাও এমন কিছু আহামরি নয়, বেশ শ্যামলা ঘেঁষা রং, নাক ও চাপা তবে  চোখ দুটো বেশ সুন্দর,  ছিমছাম চেহারা । ও প্রপোজ করাতে অম্বিকা রাজি হয়ে যায়, যদিও ওর দু একজন বন্ধু বলেছিল, “কার প্রেমে পড়লি? তোর চোখ নেই ?”, সুবীর প্রতিবাদ করে ওঠে, “আমি বা কি আহামরি রাজ কার্তিক ?” তারপর ওদের প্রেম একেবারে চূড়ান্ত, চূড়ান্ত ভালোবাসায় ডুবে গেল সুবীর। জীবনের প্রথম প্রেম ভাবতেও কেমন রোমাঞ্চ হত! কলেজে যাবার আগে ও রোজ ওর  অল্প ওঠা দাড়ি নিয়ম করে সেভ করে ,ফর্সা হবার ক্রিম ,বডি স্প্রে মেখে, যে জামা গুলো পড়লে ওকে ভালো দেখায় সেগুলো পরে কলেজে যেত । এমনকি পারলে ছুটির দিনও পড়ার নাম করে দেখা করা চাই-ই চাই ।

সুবীর পাগলের মত ভালবাসত অম্বিকাকে। মিথ্যে কথা কেন বলব ,অম্বিকাও বেশ ভালোবাসতো ওকে।দেখা করতো ,ফুচকা খেতো, সব খরচ যে সব সময় যে সুবীর দিত এমন নয় । অম্বিকা ও খাওয়াতো ,চাওমিন ,চপ, আইসক্রিম । অম্বিকা কে দেখে  সুবীরের পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে বলে মনে হতো । ও ফিরেও তাকাতো না অন্য মেয়েদের দিকে। তাকাবে কেন? যাকে ভালবাসে তাকে ছাড়া অন্য মেয়েদের দেখাটা ভালোবাসায় ধোঁকা দেওয়া। এসবই অম্বিকা ওকে শিখিয়েছে, যদিও ও যে জানতোনা এমন নয়, তবে অম্বিকা বলেছে যে !সত্যিই মেয়েরা কত কিছু জানে !

  সুবীরের বন্ধুরা যতই ঐসব নিয়ে হাসাহাসি করত, “বউ ভক্ত হনুমান ,জাম্বুবান “, এসব বলেও ডাকত  কিন্তু ও এসব গায়ে মাখতোনা। ভালোই জানে ও দেখতে ভালো না ,খুব একটা বড় লোকের ছেলে তাও নয় ,সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের। ভালোবাসাই ওর আছে যা দিয়ে ও অম্বিকা কে আটকে রাখতে পারে।অম্বিকা অবশ্য বেশ বড় লোকের মেয়ে । ওর বাবা বড় ব্যবসায়ী, দেখতে ভীষণ সুন্দর। অম্বিকা ওর মায়ের মত দেখতে। ওর বাবা ওর মা, একমাত্র মেয়ে হওয়ার কারণে শ্বশুরবাড়ির ব্যবসা দেখাশোনা করেন । দাদুর মৃত্যুর পর এখন উনি প্রায় মালিক যদিও ব্যবসা ওর মায়ের নামে ।

   ওদের সম্পর্ক গড়াতে লাগল দু মাস ,চার মাস ,পাঁচ মাস । অম্বিকা যেন ডানা মেলতে লাগলো প্রজাপতির মতো! নিয়মিত পার্লারে গিয়ে কতো কি করতো! জিম টিম ও।

    সে বছর পুজোর সময়ে ওরা সিমলা গেল। সুবীর ওদের বেলেঘাটার বাড়িতেই।  ওদের আর অত পয়সা কোথায় যে পুজোয় হিল স্টেশন বা সি বিচে যাবে!একবার পুরি আর দুবার দীঘা গিয়েছে ,এই তেইশ বছরের জীবনে । তাও পুরি মামা আর একবার সেজ মাসি দীঘা নিয়ে গেছিল, একবারই বাবা খরচ করে দীঘা নিয়ে যায়। তবু একমাত্র ছেলে বলে ওর কোন অভাব ওর বাবা-মা রাখেননি ।

   সেবার পুজোর পর সিমলা থেকে এসে অম্বিকা আর দেখা করতে চাইল না ,ফোনও ধরছিল না ,মেসেজেরও উত্তর নেই। যদিও বলে গিয়েছিল যে কদিন বাইরে থাকবে ফোন মেসেজ না করতে, কারণ বাড়িতে জানাজানি হলে অসুবিধে ।ওখানে পুরো ফ্যামিলি যাবে, বাবার বন্ধুরাও। কিন্তু ফিরে আসা তাও তো প্রায় দিন তিনেক! ফোন না পেয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় সুবীর,’কি ব্যাপার অম্বিকা ফোন ধরছেনা কেন? মেসেজের রিপ্লাই ও নেই ! যাব একবার ওদের বাড়ি?’  কিন্তু সাহস করে উঠতে পারল না।

   কলেজের প্রথম দিন কলেজে গিয়ে ও খোঁজ করতে শুরু করে । ওই তো!  গোলাপি টি-শার্ট ,নীল জিন্স চুল উঁচুতে তুলে বাঁধা ,চোখে সানগ্লাস! কি মিষ্টি লাগছে ! সুবীর দৌড়ে যায় ,”কিরে ফোন ধরিস নি কেন?”, অম্বিকা ওকে দেখে স্বাভাবিকভাবেই বলে ,”এমনি ,আসলে বাড়িতে ছিলাম তো তাই “। কিন্তু এরপর থেকে আর সুবীরের সঙ্গে আগের মত কথা বলত না ,ফোন করতো না,  মেসেজ করলে রিপ্লাইও দিত না ,ফোন ধরতোও না।কি হল ওর? সুবীর বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করত ওরাও কিন্তু কিছু বলতে পারলোনা । সুবীর আর ধৈর্য ধরতে পারে না ।একদিন সরাসরি জিজ্ঞাসা করে, “তুই আমাকে আ্যাভয়েড করছিস কেন ?”,

 “আ্যাভয়েড করছি? “,

 “হ্যাঁ, নিশ্চয়ই করছিস! ফোন ধরিস না, মেসেজের রিপ্লাই দিস না, কলেজে এলে কথা বলতে চাস না, দেখা করা তো দুরের ব্যাপার।”

  অম্বিকা এক মুহুর্ত মাথা নিচু করে যেন নিজেকে প্রস্তুত করে নিল তারপর বলল,

“দেখ আমি আর এই সম্পর্কটা কন্টিনিউ করতে পারবোনা, উই আর জাস্ট ফ্রেন্ড “,

 “জাস্ট ফ্রেন্ড”, সুবীর অবাক ,ওর মাথার মধ্যে কেমন একটা  হতে লাগল, মুখটা মলিন হয়ে গেল চোখ ,জ্বালা করে উঠলো, গলার কাছে একটা কিছু যেন আটকে আছে ,ব্যথা হচ্ছে ভীষণ!

    ও কোনরকমে মাথা তুলে বলল ,”প্লিজ এরকম বলিস না ,আমি তোকে খুব ভালোবাসি “,

  “কিন্তু আমি বাসি না”,

   “তুই যে বলেছিলি তুই আমাকে ভালবাসিস! “,

    “হ্যাঁ , তখন বাসতাম”,

     “আর এখন? ” সুবীর কোন রকমে কান্না চেপে বলে।

      “এখন বাসি না”,

 সুবীর কেঁদে ফেলে, “প্লিজ ,প্লিজ এরকম করিস না! আমাকে ছেড়ে  যাস না। আমি কি করেছি, আমার কি দোষ বল? “,

     ততক্ষণ ওর বন্ধুরা এসে দাঁড়িয়েছে ওদের কাছে। হঠাৎই একটা রোখ চেপে যায় সুবীরের। এই বন্ধুরা  ওকে এই প্রেম নিয়ে কত হাসি ঠাট্টা করেছে আর ওদের সামনে অম্বিকা ওকে ছেড়ে চলে যাবে!  চলে যেতে উদ্যত অম্বিকার বাঁ হাতটা টেনে ধরে সুবীর,

   ” প্লিজ যাস না, আমার কি দোষ? কেন ভালবাসিস না আমায়, অন্তত সেটা তো বলবি”,

   হাত ধরাতে ভীষণ রেগে এক ঝটকায় অম্বিকা হাত ছাড়িয়ে নেয় ,”একবার নিজের চেহারাটা দেখেছিস আয়নায়! তোকে কেউ আমার বাড়িতে মেনে নেবেনা”, গট গট করে চলে যায়  অম্বিকা।আজ সবচেয়ে যন্ত্রণার জায়গায় হাত পড়েছে সুবীরের ও আর কোন উত্তর দিতে পারল না । চেহারার জন্য অনেক কথা শুনেছে, ও নিজেও জানে ও দেখতে খারাপ কিন্তু অম্বিকা এসব দেখেই ত এতগুলো মাস ওর সঙ্গে ছিল, ওকে “ভালোবাসি” বলে ছিল আর আজ হঠাৎ সেই ওর চেহারা খারাপ বলে খোঁটা দিয়ে গেল ।

   তারপর থেকে শুধু খাওয়াই সুবীরের প্রিয় বন্ধু । খেতে তো ও বরাবরই ভীষণ ভালবাসে । আজকালতো সুবীর ভাবে কেউ খাবার বাদ দিয়ে অন্য কিছুকে ভালোবাসে কি করে ?শুধু এই  ধরণের গল্প পড়লে আর দুঃখের কাঁদুনি শুনলে হাসি পায় । আচ্ছা মানুষ কি সত্যিই জানেনা নাকি জানতে চায় না , নাকি জেনেও অজানার ভান করে ,আসলে চেহারা খারাপ বলে প্রত্যাখ্যান শুধু মেয়েরা নয় ছেলেরাও হয় যেমন হয়েছে সুবীর নিজেই।

একটা বাবুই চরিত – মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

 16 total views

[post-views]

আমার একটা ছোট্ট বাবুই পাখির দারুণ  বাসা আছে।
ওপরে তার অগোছালো তালবিরিক্ষির ছাউনি আছে।
তার ওপরে নীল চুয়ানো আকাশ থেকে শিশির পড়ে,
নিশির ঘোরে প্রিয়ার বুকে আদুল রাতের ঝরণা বহে।

তোদের একটা
কাঠ –পাথরের
অট্টালিকা,
পাষাণভারী।
একটা কঠিন
ছাদে তোরা
সুখের নামে
মুদ্রা তুলিস।

আমার নদী ছলাৎ ছলাৎ, জলের ভাঁজে বৈঠা নাচে,
হাজার তারার বাগান জুড়ে পরিযায়ীর আসর বসে,
দখিন হাওয়ার ডানায় ভরে লাল নীল সব পরী আসে,
পাতার ফাঁকে চুপটি বসা ভোরদোয়েলা গল্প বলে।

তোদের ছাদের
মরা বাগান
ধূলোট — দুপুর
চুরি করে।
হৃদয়টাকে
হাট বানিয়ে
কোটিটাকার
ব্যবসা করে।

দুঃসময়ের প্রার্থনা – শিবপ্রসাদ গরাই

 16 total views

[post-views]

আমি বাঁচতে চাইছি
আমি প্রবল ভাবে বাঁচতে চাইছি
এখন অসময়, এখন মারকাটারি দুঃসময়
তবুও আমি ঠিক বাঁচতে চাইছি
আমি প্রবল ভাবে বেঁচে থাকতে চাইছি ।

সময়টা খুবই অসময় আমার কাছে
কোন কিছুই ভাল যাচ্ছে না
কোনকিছুই ঠিক করে করে উঠতে পারছি না কাউকে কিছুই বলা যাচ্ছে না
বললেই রে রে করে তেড়ে আসছে লোকজন।

মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়নি অনেকদিন
মানুষকে দেখা হয়নি অনেকদিন
অনেকদিন ভিড়ের মাঝে হারিয়ে যাইনি আমরা অনেকদিন ভিড়ের মাঝে হাতটা ধরা হয়নি তোমার অনেকদিন তোমার সঙ্গেও দেখা হয়নি আমার।

সময়টা খুবই দুঃসময়, দুর্যোগেরও
মৃত্যুতেও কেমন নীরবতা
সবকিছু যেন সহ্য করতে পারছি বেঁচে থাকব বলেই বেঁচে থাকব বলেই -আমি প্রবল ভাবে বাঁচতে চাইছি।

গাধার সঙ্গ – ডি কে পাল

 19 total views

[post-views]
গাধার সাথে চলতে চলতে
গাধার মত বলতে বলতে
আমিই এখন গাধা!
সবাই যখন  গাধা বলে
চোখ ভিজে যায় চোখের জলে
এ কোন গোলক ধাঁধা?
সেই তো জনম নিলাম মানুষ
এখন সে সব ছিন্ন ফানুস
গাধার সঙ্গ করে;
জানও গেল  মানও গেল
বোকার পিছু ধরে।

অভিযোগ – শোয়েব ইবনে শাহীন

 16 total views

জানিনা কবে গিয়েছিলাম শেষ, সুখের বাড়ি,
ভুলে গেছি প্রিয়তমা…রয়েছি পড়ে আলো আঁধারি
জোছনার স্নিগ্ধ কিরণে, আজ সুবাসিত হয়তো প্রকৃতি!
তবে,  চাঁদের কলঙ্কই আমার কলুষিত ভাগ্যের স্বীকৃতি!

জ্বলতে দাও নিজ নরকে আজ, যেতে দাও আরো অধঃপতনে…. স্বাধীনতা ইচ্ছেরা……!
থেকেও সব ভাংগা স্বপ্ন!  জ্বালিয়ে দাও আরো আমাকে…. তোমরা হে ; আমার আপনজনেরা..!

দিয়েছো ভালোবাসা,  মায়া স্নেহ সবই,
শুনে মনে হতে পারে এসব বুঝি শুধু মিথ্যে অভিযোগ ই..।

নাহ, এসব তো আমার জীবন এর বাস্তবতা
উতসাহ মেলেনি,  পাইনি প্রেরণা,
বঞ্চিত আমি থেকেও সব প্রবাহিত শরীরে তোমাদেরই রক্ত, রক্তের আপনজনেরা ঃ

তোমরা থেকেও কেন নেই…. আমি কেন শুন্য?
আমি কেন আজ…. শুন্য????!!!!????

হে একাকীত্ব ; বলোনা – আমাকে!  কোথায় পাবো সেই সুখের গন্তব্যের গাড়ি….?
যেটাতে সওয়ার হয়ে মনে নেই কবে, গিয়েছিলাম সুখের বাড়ি….!

হেমন্ত – এম.জাকারিয়া আহমেদ

 25 total views

 

হিরের কণা জমছে দেখ
দূর্বা ঘাসের গায়,
ছুটেছে তরুণী মাড়িয়ে শিশির
তাহার উদলা পায়।
হেলে পড়েছে কিরণবালা
দক্ষিণা গগন কোলে,
ঊষার আলোতে ঝলকানি দেয়
নব দোলহানির চুলে।
খাল,  বিল- ঝিল হারাচ্ছে যৌবন
ভাসছে নদীর বাঁক,
সন্ধ্যা বেলায়ই হুক্কা হুয়া
গায় শিয়ালের ঝাঁক।
বুড়-বুড়ি শীতের ভয়ে
বাঁধছে আট – ঘাট,
নবীন শিশু হেসে দেখায়
তাহার ফোকলা দাঁত।
গর্ভধারণ করেছে ওই
মাঠ ফসলের ধান,
কৃষাণ বাড়ীর ঘরে ঘরে তাই
আনন্দের তোফান।
হিম পবনের পরশ পেয়ে
ঝরছে গাছের পাতা,
মেঘ কন্যার বিদায় পথে
মেলছে বেঙের ছাতা।
হবু বধূ চেয়ে আছে তাহার
বিয়ের পন্থ!
কলমের আঁচরে বরণ করলাম
এবারের হেমন্ত।

ভোর – উমর ফারুক

 8 total views

ঐ নদীর পারে জ্বলে ধপধপে আগুন
গন্ধময় বনের মাথায় হাত রেখে
শিশিরপ্রাত টা কেঁপে উঠলো…
কেমন এক আকুল ঘ্রাণ
শীত শুভ্রতাকে বিচ্ছিন্ন করে !
ঐ সবুজ ঘেরা জীবন কাঁটার বন
পৃথিবীর মেঝেতে পা ছড়িয়ে থাকা
ফসল ফলানো মাঠ ও বন।
শীতল স্রোত সুতীক্ষ্ণ বাতাস
কাঁটার মত ফুঁড়ে দিচ্ছে
পাখি উড়ে গান করে শত সুর মিলিয়ে
শান্তি পেল আমার শীতল অন্তর !

খনি থেকে উঠল ৪৪২ ক্যারাটের হিরে, যার দাম প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা – সিদ্ধার্থ সিংহ

 24 total views

[post-views]

৪৪২ ক্যারাটের একটি হিরে পাওয়া গেল দক্ষিণ আফ্রিকার লেজোতোর লেতসেঙ খনিতে। সেখানে কাজ করতে গিয়ে একজন শ্রমিক উদ্ধার করেন এই হিরেটি।

হিরেটি দেখে বিএমও ক্যাপিক্যাল বাজারের একজন জানান, এই মুহূর্তে ওই হিরেটির দাম কম করেও ১৮ মিলিয়ান ডলার। মানে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা।

আকারে বড় এবং দুষ্প্রাপ্য হিরের জন্যই লেজোতোর লেতসেঙ হিরের খনিটি বেশ‌ বিখ্যাত। এখানকার হিরে সব চেয়ে বেশি দামে বাজারে বিক্রি হয়। কয়েক বছর আগে ৯১০ ক্যারাটের গল্ফ বলের মতো বড় একটি হিরে পাওয়া গিয়েছিল ওই খনিতেই। ৪০ মিলিয়ান ডলারে বিক্রি হয়েছিল সেই হিরে। মানে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২,৯৪,৩৬,৭৪,০০০ টাকা।

খনির এক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সোনার দাম কিছুটা কম হলেও, গয়নার চাহিদা কিন্তু মোটেই বাড়েনি, উল্টে কমেছে। ফলে হিরের বাজারেও বেশ  মন্দা। তবে যত কম চাহিদাই থাকুক না কেন, শখ করে কিংবা কাউকে উপহার দেওয়ার জন্য ছোটখাটো গয়না তো হচ্ছেই, আর গয়না তৈরি করতে হলে শুধু সোনা দিয়ে তো হবে না, হিরেও লাগবে। অন্তত ছোট আকারের হিরের তো লাগবেই।

তবে যতই মন্দা থাকুক, বড় হিরের বাজার সব সময় থাকে। এখনও প্রায় একই রকম রয়েছে। আসলে হিরের দাম নির্ধারণ হয় মূলত তার আকার, রং, গঠনশৈলী এবং কাটিংয়ের উপর। এখন এই হিরেটিকে এ ভাবেই আস্ত বিক্রি করা হবে, নাকি ক্রেতা পাওয়া না গেলে ছোট ছোট করে কেটে বিক্রি করা হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে যে ভাবেই হোক, এটা যে সঠিক দামেই বিক্রি হবে সে ব্যাপারে খনি কর্তৃপক্ষ একেবারে একশো শতাংশ নিশ্চিত।

বাস্তবতা – শোয়েব ইবনে শাহীন

 13 total views

ভেবেছিলাম তুমি বহুদূরে; এ জগতে বুঝি আর পাওয়াই যাবে না তোমাকে।
কিন্তু যখন তুমি দীর্ঘকাল বাদে সাড়া দিলে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে, ভাগ্যের কঠোর শিকল নেড়ে….
এবারে আমি স্বাদ পেলাম সত্যিকার বেচে থাকার;  তোমায় ভালবাসাতেই আমার সব প্রাপ্তি!
অনেককাল আগে দেখে দেখতাম তোমায় যেন বহুদূর থেকে,
ভাবতাম তুমি অসম্ভব আমার জন্য ; অবাস্তব দুঃস্বপ্ন দেখছি।

বাস্তবতা!  আমি তোমায় অর্থ করে বলছি..

বাস্তবতার সম্মুখে আমি নিরুপায়, এখন অনিচ্ছা স্বত্তেও ভয়াবহ যুদ্ধ চালাচ্ছি।
বাস্তবতায় এসে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি ; করতে হয় নিষ্প্রাণের মত জিবন যাপন।
দিতে হয় ছোট ছোট শখ, ইচ্ছা স্বপ্ন আর স্বাধীনতার বিসর্জন।
বাস্তবতায় এসে আমি আরো ভালভাবে চিনেছি কাছের মানুষগুলো;
জীবনভর কষ্টের তেরীতে ফেরীতে ভেসে এসে কেমন বড্ড নিষ্টুর খেলছে ভাগ্যের চাকাগুলো!

বাস্তবতায় এসে আমি দেখেছি ভয়!
বাস্তবতায় এসে আমি দেখেছি খারাপের জয়,
বাস্তবতা ; তোমাকে কাছে গিয়ে বুঝতে শিখেছি জীবনটা মোটেও সহজ নয়।

ট্রাফিক জ্যামে হাজারো কিসিমের মানুষের ভীড়ে,
ইচ্ছার বিরুদ্ধে শক্তি যুগিয়ে বাস্তবতাকে ভালোবাসার অভিনয়ের মাঝে,
অনিয়মিত রয়েছি মিশে।

তবে এটা ধ্রুব সত্য,  নিজেকে শোধরাবার মাধ্যম তুমি বাস্তবতা..,
তোমার প্রেমে আত্ম-বিস্মৃত, পুরো বিলীন না হলে তোমাকে জয় করা অসম্ভব বাস্তবতা!

অঞ্জনার দায়িত্ব – (সত্যিকার ঘটনা অবলম্বনে) – সবিতা কুইরী

 16 total views

পরিবারে একাধিক ভাইবোনের মাঝে বেড়ে ওঠা অঞ্জুর আদরের কোন কমতি ছিল না।সে যে ছোট। আদরের ছোট বোন।অন্যান্য ভাইবোনদের সঙ্গে  তাঁর বয়সের পার্থক্য টা খুব বেশি হওয়ার কারণেই বোধহয় তার আদরের পাল্লাটা ভারী হয়ে উঠেছিল একটু বেশি।

অতি দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা অঞ্জুর স্কুলের মুখ দেখা হয়ে ওঠেনি।ভাইবোনদের মধ্যে বড়দি সবচেয়ে বড় পরের তিনজন দাদার মধ্যে ছোটদা শুধুমাত্র হাইস্কুলের মুখ দেখেছিল কিন্তু বেশি দূরে এগোতে পারেনি।
অঞ্জনা ইচ্ছা করলে প্রাইমারি পাশ দিতেই পারত কিন্তু হতদরিদ্র পরিবারে কন্যাশিশুর লেখাপড়া নিয়ে কেউ তেমন মাথা ঘামাইনি।
আদুরে মেয়ে অঞ্জু বাড়ির কাজকর্মে মতি গতি কম ছিল অনেক  বড় প্রায় বছর আট বয়স পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ ছাড়েনি সে।
বেশির ভাগ সময় রাস্তার ধুলো ঘেটে খেলাধূলা করতে পছন্দ করতো।

ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা অঞ্জুকে পাড়াপড়শির বাক্যবানে  ছাড়তে  হয় কিছু আদুরে অভ্যেস নিতে হয় কাজের কিছু দায়িত্ব।কিন্তু বাড়িমুখো গৃহস্থালির কাজে লাগু করা যায়নি তাকে।অগত্যা বাড়ির দুটো গরুকে মাঠে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব উঠল তার ওপর।
ফ্রকের নীচের দিকটা থলের মতো করে তাতে মুড়ি ভরতি করে খেতে খেতে মনের আনন্দে গরু চরাতে যায় প্রতিদিন।মাঠের মধ্যে হ্যালানো শ্যাওড়া আম আরো কত রকম নাম না জানা গেছে দোল খেয়ে অন্যান্য রাখাল বালকদের সঙ্গে খেলা ধুলা করে ভীষণ আনন্দের মাঝে তার কর্মটি পালন করে। বাড়ি ফেরার কথা মনেও আসত না তার।ফিরলেও বাড়ি তে দু ঘন্টা কাটানো মুশকিল হতো কখনো ।কারণ সুদীর্ঘ দু তিন ঘন্টা পার হবে তবে তো বিকেলে আবার মাঠে যেতে পারবে সে।

এইভাবে মাঠে দোল খেতে খেতে কখন বড় হয়ে উঠেছে অঞ্জনা নিজেও জানে না।
পাড়াপড়শিরা ধাঁড়ি মেয়ের ন্যাকামোপনা দেখে গালমন্দ করতে ছাড়ে নি।কিন্তু বাবার কানে এরকম কথা  এলে রক্ষে থাকতো না মুখ উঁচিয়ে লাঠি হাতে ঝগড়া করতেন তিনি।

অঞ্জনা বাড়ির আশকারা পেয়ে  পাড়াপড়শির কথায় কান না দিয়ে একই ভাবে মাঠে যেতে থাকে । বয়সের দোষে তাদেরই সঙ্গী এক রাখাল যুবকের সঙ্গে চোখাচোখি তে প্রেমের টান অনুভব করে সে।রাখাল ও তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
এবার অঞ্জনার স্বভাবে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে।বেড়ে যায় সাজগোজ।কিছুটা ধীর স্থির।বন্ধ গাছের দোল খাওয়া ।শুরু হয় রাতে ঘুমের বদলে জেগে স্বপ্ন দেখা।দুষ্টুমির ছেলেমানুষি কেটে যেন এক নতুন অস্থিরতা ।

ব্যাপারটা ধামাচাপা থাকল না পাড়াপড়শির কাছে।শুরু হল গুঞ্জন, কানাকানি ।খবরটা পৌছে গেল তার বাড়ি অবধি ।গরীব গোড়া পরিবারের অঞ্জনার বাড়ির কেউ মেনে নিতে পারেনি এই অসবর্ণের প্রেম।
হ্যাঁ অসবর্ণ ।রাখাল যুবকের জাতি গোত্র অঞ্জনার থেকে আলাদা ছিল তাঁদের ভাষায় ওর থেকে নীচু জাতের ঘরের।
ব্যাস এখান থেকেই অঞ্জনার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হল।পালিয়ে বিয়ে করল তারা।
যুবকের বাড়ি খুব একটা দূরে ছিল না।চোখের জ্যোতি ভালো থাকলে এ বাড়ি ও বাড়ি কিছুটা আন্দাজ করা যায় ।
যাইহোক বিয়ে হল। পাড়াপড়শির কানাকানি, পরিবারের কান্নাকাটি সবটাই স্বাভাবিক ছিল কিন্তু যেটা অস্বাভাবিক ছিল সেটা হল অঞ্জনার বাড়িতে বিয়ের এক সপ্তাহের মধ্যেই একটা প্যান্ডেল দেখা গেল।
কি ভাবছেন আপনারা তবে কি সবকিছু মিটমাট হয়ে গেল? মেনে নিল এ বাড়ি ও বাড়ি??
ভুল, ভুল সবকিছু ভুল ধারণা আপনাদের।আসলে প্যান্ডেল টা ছিল এক শ্রাদ্ধের আয়োজোন , শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের।জ্যান্ত শ্রাদ্ধ হল অঞ্জনা র।
এটাই নাকি তার জাতের লোকেদের এই অনাচারের কুল রক্ষার একমাত্র শুদ্ধাচার ।

পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ি হওয়ার সুবাদে গোটা ঘটনার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করল অঞ্জনা।আর করারই বা কি ছিল তার।
যাইহোক সবকিছুই মেনে অল্প বয়সের কাঁচা প্রেমের মহিমা তিন চার মাস বেশ রমরমা ভাবেই চলল।তারপর ধীরে ধীরে সংসারের জটিলতায় প্রবেশ ঘটল তার।অবশ্য এই অবস্থায় পৌঁছাতে তাকে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হল না।
শুরু হল অত্যাচার ।শারীরিক মানসিক আরো যত রকম অত্যাচার থাকে কোনটাই যেন বাদ গেল না।চলতি একটা কথা আছে পেটে ভাত না থাকলে ভালোবাসা জানলা দিয়ে পালাই।ঠিক এটাই প্রমাণিত হল অঞ্জনার জীবনে।
এই ভাবেই চলতে চলতে তিন সন্তানের জননী হল সে।
কিন্তু তবুও ফিরে এল না শান্তি ।দুঃখের কথা বাবার বাড়ি গিয়ে বলার অধিকার- এটুকুও নেই তার।সেখানে তো তার কোন অস্তিত্বই নেই।
একটা বড় লোকের বাড়িতে কাজ নিয়েছে অঞ্জনা।এখন দেখা যায় সাদা বিধবার ড্রেসে সেই বাড়ি তে যাতায়াত করতে।
স্বামী যে সুইসাইড করেছে রেলে মাথা দিয়ে।
অঞ্জনা কে মরলে চলবে না তিন সন্তানের দায়িত্ব এখন যে তার ওপর বর্তায় ।

আস্তে কন – অভিষেক সাহা

 17 total views

” সত্যিই আর পারা যাচ্ছে না। কথায় বলে পাগলেও নাকি নিজের ভালো বোঝে! সব মানুষ কী তারও উপরে উঠে গেল !” বেশ বিরক্ত হয়ে বলল হিমেল।
“কেন রে ! আবার কী হল! মানুষ আবার তোর কোন পাকা ধানে মই দিল?” রসিকতা করে বলল ডিউক।
” আমার পাকা ধানও নেই, তাই মই দেওয়ার প্রশ্নও ওঠে না । আমি বলছি মানুষ আর কবে পাশের মানুষের জন্য একটু ভাববে! করোনা এসে সবার কান মুলে লাল করে দিল, তবুও করোর হেলদোল নেই ।” হিমেল আজ বেশ তপ্ত।
“এত ফুটেজ খাচ্ছিস কেন, সোজাসুজি বল ।” কিছুই বুঝতে না পেরে ডিউক জানতে চাইল।
” বলছি। তার আগে তুই বলত কেউ যদি তোর মুখে জোর করে  সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ে তুই কী খুশি হবি?” হিমেল প্রশ্ন করল।
” একদমই না।” মাথা নেড়ে ডিউক উত্তর দিল।
” তবে মানুষ ব্যক্তিগত কথা জোর  করে অন্যকে শোনায় কেন ?” হিমেল জানতে চাইল।
” মানে!” ডিউক অবাক হল।
” মানে , কিছু মানুষ যখন মোবাইলে কথা বলে তখন খেয়ালও করে না  পাশে লোক আছে। চিৎকার করে কথা বললে  তাদের অসুবিধা হতে পারে।” হিমেল খোলসা করে বলল।
” ঠিকই বলেছিস। প্যাসিভ স্মোকিং নিয়ে যতটুকু কাজ হয় এ বিষয়টা নিয়ে তেমনটা শুনিনা। কিন্তু এটাও একটা সমস্যা। মানুষ সচেতন না হলে মুক্তি নেই।” ডিউক সম্মতি জানাল।
” মানুষ নিজে থেকে সচেতন হয় না। করতে হয়। যেমন আজ একজন করল।” হিমেল বলল।
” কীভাবে!” ডিউক উৎসুক হয়ে জানতে চাইল।
 হিমেল বলল ” এখন যে বাসটায় আমি এলাম, একটা লোক উঠে থেকে এত চিৎকার করে কথা বলছিল যে, বাসের মাথায় কেউ থাকলে পরিস্কার শুনতে পেত।ওর পাশে দাঁড়ানো এক কাকু অনেকক্ষণ  সহ্য করার পর  জোরে ধমক দিয়ে বলেন,  একটু আস্তে কন দেহি ।”

লজ্জা – শম্পা সাহা

 20 total views

বিক্রি করি সুখকে আমি বিক্রি করি দুঃখকে
আমি বিরাট কবি ভেবে রোজই দেখি লোক ঠকে
ব্যক্তিগত যা কিছু সব উজাড় করি হাটবাজার
অকিঞ্চন খুদকুঁড়ো সব এক মাণিক ধন সাত রাজার
সবই বেচার জন্য ফেলি কোন খানা খায় পাবলিকে
আমি বড্ড নাম কিনেছি মনের গোপন সব লিখে
ভাবছো বুঝি কবি আমি ভাবের ঘোরে কবিতা
লিখছি শুধু বুঝছি না তো হচ্ছে কি সব অবিদ্যা
হুঁ! হুঁ! বাবা সব বুঝেছি তবুও ন্যাকা সাজতে চাই
অশ্লীলতার আসর সাজাই শিল্প রসের তকমা পাই
এই ভাবে রোজ একটা চুমু দুটো ঠোঁটের ফুলঝুড়ি
আরো আছে এদিক ওদিক নানান রস ও সাত ভরি
সব মিলিয়ে জবর রকম ডজন খানেক ছাই আর পাঁশ
লিখছি আমি গিলছে সবাই সত্যি যেন না হয় ফাঁস।
যার যা খুশি লিখবে তাতে আমার কি আর যায় আসে
তবু কোথাও তীব্র রসে মনের কোমল হাঁসফাঁসে
হোক কবিতা কোমল মতন হোক কবিতা জ্যোৎস্না যে
সত্যি কবির কদর যেন সত্যি পাঠক ঠিক বোঝে
সস্তা চমক, সস্তা খ্যাতি, সস্তা বিবেক বিকছে তাই
নয়তো কবি, পাঠক হয়ে ভীষণ রকম লজ্জা পাই
বড্ড বেশি লজ্জা পাই।

অভিমান – শ্রী রাজীব দত্ত

 7 total views

চিঠির ভাষায় বলি
আমি আর ভালো নেই।
যদিও তোমার তা আজ
জানার প্রয়োজন টুকুও নেই।
কেমন আছো জানতে চাই?
উত্তরের আশায় শান্তিটুকু পাই।
হঠাৎ করে লিখতে বসা ভালোবাসার ভাষায়
আবার নতুন করে বাঁচার আশায়।
অভিমান আর বিদায় বেলায়
যদি একটিবার দেখতে গো ফিরে
হৃদয় আমার গেছিল সেই বেলাতেই ছেড়ে ।
বন্দী হতে দিলাম ধরা
জীবন যেন আকাঙ্ক্ষাতে গড়া।
টোল পড়া গালে মুচকি হাসি
গভীর রাতে মন উদাসী।
অভিমান তো শুধু তোমারি একার
আমার কী ভাগ্য বল
এমনই অভিমান হল তুমি হলে অন্য কারো।
আজ আবার যদি তোমার মন কেমন হয়?
একটিবার ডেকে দেখো
বহুরূপী সাজে হাসাবো তোমায়
আগের মতন হবো আবার উদয়।

গুজরাটের দলিত কবি – নীরব প্যাটেল – সৌম্য ঘোষ

 18 total views

মধ্যযুগের গুজরাতে হিন্দুদের থেকে আলাদা রাখার জন্য অস্পৃশ্যদের তিন হাতার জামা পরা বাধ্যতামূলক প্রথা ছিল । কথিত আছে, বীর মায়ো দেধ এই প্রথা না মানায় তাঁকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল ।
                   নীরব প্যাটেল ( ১৯৫০– ২০১৯) । ইংরেজি সাহিত্যে পিএইচডি । ব্যাংক অফিসার । গুজরাতি দলিত সাহিত্য জগতে একজন পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব ।  প্রকৃত নাম,  সোমা হীরা চামার । জন্মেছিলেন গুজরাটের আমেদাবাদ জেলায়। জাতপাতের নৃ:শংস দৃষ্টিকোণ থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য তিনি বাধ্যতামূলক পরিস্থিতিতে নীরব প্যাটেল হন ।  কলেজে পড়ার সময় থেকে কবিতা লেখা শুরু । ১৯৭৮ সালে ” আক্রোশ” নামে একটি দলিত ম্যাগাজিন সম্পাদনা শুরু করেন। তিনি ইংরেজি ও গুজরাতি দুটো ভাষাতেই লিখতেন । তাঁর উল্লেখযোগ্য বই : Burning From Both the Ends ,  Why Did I Do To Be Black and Blue ,  Bahishkrnt  Phulo .
                         প্রথম দুইটি ইংরেজি ভাষায় এবং শেষেরটি গুজরাতি ভাষায় । পরবর্তীকালে একাধিক দলিত ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছিলেন। যেমন, Swaman . জার্মান ভাষাসহ  ভারতীয় নানা ভাষায় তাঁর কবিতা অনূদিত।
                    নীরব মোদির একটি বিখ্যাত কবিতা —– ” সুরতহাল ” । তৎকালীন গুজরাতে দলিত সমাজের প্রতি হীন নজর , আর্থসামাজিক বঞ্চনা, রাজনীতির তীব্র চাপ , পীড়ন ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে তাঁর বাস্তববাদী প্রতিবাদী বিদ্রুপাত্মক কবিতা  :
“তার নাভিতে কোন কস্তুরী পাওয়া যায়নি । তার চামড়া পোড়ানো হয়েছিল , কিন্তু কোন সোনার পাতা পাওয়া যায়নি। তার চামড়া শুধু চামড়া দিয়ে তৈরি। তার বড় মেদবহুল পেট থেকে কোন গুপ্ত মুক্ত পাওয়া যায়নি । আর তার উর্বর মস্তিষ্ক থেকে পুরাণের একটা পাতাও পাওয়া যায়নি।
তার পচা হৃদয় থেকে বীরোচিত কোন কিছু পাওয়া যায়নি ।
তার হৃদয়ের বিষাক্ত রস থেকে পুণ্যের কোন অমৃত পাওয়া যায়নি। পরমাণুর আকার তাকে কেটেও তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ে পৌঁছানো যায়নি ।
হ্যাঁ, তার বিশাল হৃদয় থেকে একটা নেকড়ের রূপোলি হৃদয় পাওয়া গেছে। আর আঙ্গুলের ডগা থেকে থাবার শিকড় পাওয়া গেছে । তার চোখে ভর্তি ছিল কুমিরের অশ্রু ।
তার সনাতন রক্তের ধমনীতে ঠান্ডা সবুজ সুরাসার শুয়েছিল।
এইটা হল একজন “আর্য পুরুষে” র মমির সুরতহাল ।।”
__________________________________________
কৃতজ্ঞতা-সূত্র:
Indian literature ( No.312 – July- August, 2019) সাহিত্য একাডেমী, নিউ দিল্লি।

অলীক সুখ – ছন্নছাড়া

 16 total views

বুকের পাঁজর মাঝে যারে দিয়েছিলাম ঠাঁই,
তবু কেন তাঁর কাছে যাতনা বারে বারে পাই?
না জেনে পরিচয় দিলাম ঠাঁই যারে  আপন মনে,
মোর পরিচয় দিয়ে পরিচিতি দিলাম সবার সনে।
সেই কিনা অবশেষে ঠেলে দিল আপনারে,
যাতনা স্বরূপ অসীম সাগর মাঝারে।
তবে কেন এসে মোর ধরেছিলে হাত?
যদি দিতে নাহি পার জীবন মরণের সাথ।
জানি তব ঘৃণা আজ ভুলিয়েছে সকল সে সব!
ঘৃণায় পরেছে ঢাকা , চাপা পরে গেছে ভালবাসার রব।
তবু কি পরে না মনে? মোর হাতে রেখে হাত,
অঙ্গীকার করেছিলে ছাড়বে না মোর সাথ।
ক্ষুদ্র স্বার্থ আজ এতটাই বড় হল তোমার সনে-
হয়ত আমিই ভুল, এ বাসনাই ছিল চিরদিন তব মনে।
সুযোগ বুঝে খাঁচা টারে করে দিয়ে খান খান,
উড়ে যাবে সেথা, যেথা তব আপনার স্হান।
বুঝিতে করেছি ভুল, সে আমার দোষ,
সময় পেরিয়ে এসে তাই করছি আফসোস!
মান দিয়ে যারে দিলাম ঠাঁই মনের ঘরে,
সে দিল ফিরায়ে সব, অপমান ভরে।
মোর মনে জায়গা তাঁর বড্ড অল্প, ভেবেছিল সে,
নাপসন্দ তাই , ভেঙে খাঁচা উড়ে গেল অসীম আকাশে।
ভাঙা খাঁচা মোর আজ দেখি ধূলায় লুঠায়,
মুক্ত বিহঙ্গ সে আজ, ডানা মেলে উড়িয়া বেড়ায়।
সার্থক হোক তোমার স্বপন যত ছিল বন্দি আমার খাঁচায়,
পরাণের যত ব্যথা ভুলিব,  তোমার সুখের বাঁচায়।
আমার পাঁজর ভেঙে যদি হও তুমি আরও সুখী,
তাতেই আমার সুখ,  হব না কখনও আমি দুঃখী।

অঘ্রানের সনেট – মহীতোষ গায়েন

 21 total views

[post-views]
মনের মানুষ চলে গেছে জীবনতলার হাটে
সারাটা দিন সারাটা রাত অস্থিরতায় কাটে,
হৃদয়-পাখি গুমরে কাঁদে ভুবনডাঙার মাঠে
সুখের আকাশ চুরি গেছে সূর্য গেছে পাটে।
অঘ্রানের শীতের রাতে উদাসী মনে আশা…
আবার ঠিক আসবে ফিরে ছিন্ন ভালোবাসা,
মানুষ আবার ফিরে পাবে হারানো সব বাসা
হলো জনজীবনে উচ্চারিত মুক্তিপথের ভাষা।

বউয়ের নাক ডাকার ভয়ে খাটের নীচে সুড়ঙ্গ – সিদ্ধার্থ সিংহ

 18 total views

[post-views]

রাতে ঘুমের মধ্যে স্ত্রী নাক ডাকেন, সেটা আর সহ্য হয় না স্বামীর। তাই সেই নাক ডাকার থেকে রেহাই পাবার জন‌্য এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করলেন স্বামী।
স্ত্রীর নজর এড়িয়ে বাড়ি থেকে ৮০০ মিটার দূরে অবস্থিত মদের দোকানে যাওয়ার জন্য গোপন রাস্তা খুঁড়েছিলেন তিনি।
কোমরের সমস্যার জন্য বউ যেহেতু নিচু হতে পারেন না, তাই শোয়ার ঘরের খাটের তলা থেকে একটি সুড়ঙ্গ করেছিলেন তিনি। সুড়ঙ্গের অন্য প্রান্তটি ছিল মদের দোকানের পাশের এক শৌচালয়ের ভিতরে।
দীর্ঘ পনেরো বছর এই ভাবে চলার পরে অবশেষে ধরা পড়লেন স্বামী, তার নাম— পাটসি কে। ধরা পড়েও কোনও তাপ উত্তাপ নেই তাঁর। তিনি সোজাসুজি বলেছেন, তাঁর স্ত্রীর বিরক্তিকর নাক ডাকার হাত থেকে বাঁচার জন্য এবং রাত্রবেলায় মদ খাওয়ার জন্য তিনি এই পথ বেছে নিয়েছিলেন!
স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়লে তিনি চলে যেতেন সেখানে। ফিরে আসতেন ঘণ্টাখানেকের মধ্যে। পাটসি জানিয়েছেন, মদের দোকানের মালিকও তাঁর আসা-যাওয়া দেখে অবাক হতেন। তিনি বুঝতেই পারতেন না, কোন পথ দিয়ে হুট করে তিনি সেখানে আসেন। কোন পথ দিয়েই বা ফিরে যান।
১৯৯৪ সালে স্টিফেন কিংয়ের লেখা গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত শশাঙ্ক রিডেম্পশন সিনেমাটি দেখে তিনি এই রকম একটা কাজ করার অনুপ্রেরণা পান। সিনেমার প্রধান নায়ক যেমন জেলখানার মেঝে খুঁড়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন, তিনিও সে রকম কিছু চমক দেখাতে চেয়েছিলেন।
সুড়ঙ্গ খোঁড়ার জন্য ব্যবহার করেছিলেন কাঁটা চামচ, স্ক্রু ড্রাইভার, ছোট্ট ছেনি থেকে শুরু করে ড্রিল মেশিন। স্ত্রী যখন শপিং করার জন্য বাইরে যেতেন তখন বিভিন্ন জিনিসপত্র দিয়ে তিনি সেই সুড়ঙ্গ খুঁড়তেন। বহু বছরের চেষ্টার পর ২০০৯ সালে তাঁর সুড়ঙ্গ খোঁড়া শেষ হয়। এই সুড়ঙ্গ খোঁড়ার জন্য তাঁকে রোড ম্যাপও জোগাড় করতে হয়েছিল।
তার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই রাত ১১টা নাগাদ ওই সুড়ঙ্গ দিয়েই ৮০০ মিটার দূরের মদের দোকানে তিনি চলে যেতেন এবং সেখানে গিয়ে মদ খেয়ে ঘন্টাখানেক পরেই আবার ফিরে আসতেন।
স্ত্রী তাঁর মুখ থেকে অ্যালকোহলের গন্ধ পেলেও ধরতে পারতেন না কখন, কোথায় গিয়ে তিনি মদ খেয়ে এলেন।
তবে সম্প্রতি ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে ওই সুড়ঙ্গটির ফাটল ধরা পরে। সেই ফাটল অনুসরণ করেই পুরসভার কর্মীরা এসে হাজির হন পাটসির বাড়ি।
তবে হাতেনাতে ধরা পড়লেও পাটসি খুবই খুশি। কারণ, তিনি যেটা করতে চেয়েছিলেন, অন্তত এত দিন তো সেটা করতে পেরেছেন, সেটাই বা কম কী! আর তা ছাড়া তিনি জানতেনও, একদিন না একদিন তিনি ধরা পরবেনই। তাই তাঁর কোনও আফসোস নেই।

হঠাৎ হারায় – বিশ্বনাথ পাল

 25 total views

 

রোজ রোজ সকাল হলেও
কেউ কেউই দেখতে পায়।
অলস কুঁড়ের দল বরাবরই
দেরী করে ওঠে তাই
সূর্য ওঠা ভোরের সৌন্দর্য
দেখতে পায় না বলে
রাগ করে খুব, কখনো বা
চোখ ভরে  যায় জলে,
আমিও কত বার ঘুমিয়ে
মাটি করেছি কত কি!
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ,ভগবান
বুদ্ধের গৃহত্যাগ, ক্লাইভের চালাকি
অঞ্জনা নদীর তীরে সবুজ ঘাস ছেড়ে
গেরস্থে ফিরে গেছে দেশি ঝাঁচি গাই।
যুবতী কৃষাণীর পথের পানে চেয়ে
বাঁশিতে ফুঁ দিত রাখাল বলাই ।
সময়ের পরতে পরতে –এ  দুর্বোধ্য
অঙ্ক  কষাই থাকে।জানে না স্বয়ং কসাই
কোন অঙ্কে কে নেবে বিদায়,কে আয়াসে খায়
তবুও বুড়ো বিড়ি টেনে করে বড়াই।
হাতে অস্ত্র ঝনঝনায়,মন আরো কিছুটা
সময় চায়, শাদা পাতা জমা দিলে
নির্ঘাত কপালে কষ্ট আছে ভাবে।
চোখ মুছে ভুল খুঁজতে গিয়ে খাজুরাহ গেলে
সুড়সড় করে কত জল গড়ায় খড়ের চালে
আওয়াজ  হয় না অত যতটা ছাতাহীন পথিক
বিজন পথে কিম্বা মাঝ নদীতে বালি ঝাপটালে
অসহায়  জন্তুর  মত হারায় নিশানা সঠিক।
রান্নাঘরের চালে কখন বাঁদর বসে
জানে না সব জান্তা বুড়ি পিসি।
পাড়া মাথায়  সার হয় তার
ঝুলি থেকে দামী সব্জি আজ নিয়েছে বেশী।
কম -বেশি, বেশি আর কম
হরদম এই তেঁতো কথা আসে কানে
মিষ্টি স্বাদের মনগড়া কথা
বলার ফুরসত আর কতটা পাব এখানে।
অনন্তের অফুরান ডাক
আসলে কে কখন জানবে।
জানতে পারবো না আমি
বন্ধু  তোমরা সেদিন মানবে।
এক সূর্য  বার বার নিত্য যে আকাশ রাঙায়
ভাটির টানে একদিন সবকিছু হঠাৎই হারায় ।

ছোটো বলে অবহেলা – অনন্যা মিত্র

 18 total views

পরেশ বাবুরা সপরিবারে বেড়াতে গেলেন। ফিরে  এসে বুঝলেন বাড়িতে চুরি হয়ে গেছে। চারিদিক লন্ডভন্ড, অগোছালো প্রায়। কিন্তু পরেশ বাবু বা তার পরিবারের কেউই বিশেষ বিচলিত নন।
               কারোর ভালো কেউই সহ্য করতে পারে না, চুরি হয়েছে অথচ কোনো হাকডাক নেই, পুলিশ এল না সব দেখেশুনে পাড়ার লোকেরা বিশেষ চিন্তিত হয়ে পড়ল।সুধীনবাবু পরেশ বাবুকে বাজারে দেখতে পেয়ে আর না বলে পারলেন না”বলছিলাম দাদা আপনাদের বাড়িতে চুরি হয়ে গেছে না?
“পরেশ বাবু গোলগাল মুখে হাসির রেখা টেনে সুধীনবাবু চিন্তিত মনে জল ঢেলে দিলেন। বললেন”না চোর ঢুকে ছিল তবে আসল জিনিসটাই নিতে ভুলে গেছে ওই ছোট বলে অবহেলা করলে যা হয়”। সুধীনবাবু হাঁ করে চেয়ে রইলেন বললেন মানে?
পরেশ বাবু বললেন “আমার স্ত্রী ভীষণ বুদ্ধিমতী বাড়ির টাকা-পয়সা সোনাদানা যেটুকু ছিল সব রেখে দিয়েছিলেন আমার নাতির খেলার বাক্সে ছোট বলে অবহেলা করলো চোরেরা”।”অথচ খেলনার বাক্সটি ছিল একেবারে সদর দরজার সামনেই।”
             এ কথা বলে পরেশ বাবু হাসতে হাসতে চলে গেলেন। আর সুধীনবাবু মাথা চুলকে থমকে দাঁড়িয়ে থাকলেন।

ভালোবাসা – শম্পা সাহা

 10 total views

” দেখো তো শাড়িটা কেমন ? সাত হাজার টাকা দাম, কাল শুভনীল ম্যারেজ অ্যানিভার্সারিতে গিফট দিলো”, হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠায় সেমন্তী ।
   “জানিস তো এবার না পুজোর পর আমরা  ভাইজাগ যাচ্ছি ,অনেকদিন ধরে সমুদ্র দেখার ইচ্ছে,তাই আরকি! সৈকতটা এত অসভ্য!  আমাকে কিচ্ছু জানায়নি, হঠাৎ করেই ! তুই আমার প্রিয় বন্ধু, তোকে কিছু না বললে  আমার পেট ফুলে যায়! ” সোমা খুশিতে ডগোমগো, ফোনের ওপাড় থেকে খুশি এসে ধাক্কা মারে এ পাড়েও।
   “দেখো এটা”, “ভালো ,নতুন বানালি ?”,”নাগো !কাল ও দিল ধনতেরাস উপলক্ষে! আমি কত বারণ করলাম কিছুতেই শুনলো না”,স্বামী গরবে গরবিনীরা সব নিজের নিজের স্বামীর উপহার দেখায়, ভালোবাসার গল্প বলে, কত আদর সোহাগ এর গল্প!
    জানো, “রিনা দি ,কি বলবো !চান করে বেরিয়েছি আর ওমনি শুরু,যত বলি মেয়ে দেখবে, ছাড়ো !ছাড়ো! কিছুতেই শুনল না! আবার চান করতে হলো !আমাকে নাকি  স্নান  করে  বাথরুম থেকে বের হলে ,দারুন  দেখতে লাগে ,তাই ও সেদিন সামলাতে পারেনি ,অসভ্য! “, এই কথার পেছনের চাপা আনন্দ ঠিকরে বেরোয় চোখ মুখ থেকে।
   বিয়ের আঠারো বছর পর, আজ পর্যন্ত একটা সুতির শাড়িও কোনদিন হাতে করে আনেনি  বিনয় ,নিজের রোজগারে। ওর বিড়ি খরচটা পর্যন্ত আমাকে দিতে হয়! বিয়ের পর এত বছরে সমুদ্র ,পাহাড় তো দুরের ব্যাপার নিদেন গড়ের মাঠেও যাওয়া হয়নি, না একটা সিনেমা!ও সব বিয়ের আগেই চুকেবুকে গেছে!সোনাদানা যা বিয়ের আগে বাপের বাড়িতে পরতাম, তাই আছে কারণ পালিয়ে বিয়ে। বাবা-মা পরে দিতে চেয়েছিল কিন্তু আমি নিইনি আর বৌদিও বলেছিল, “গয়না নিতে হলে তো ভাই তোমাকে অনুষ্ঠান করে বিয়েটা করতে হয়! “, হেসেছিল তারপর ,যেন ঠাট্টা !কিন্তু কথাটা ঠাস করে পড়েছিল আমার গালে । আমার বেড়ানো মানে বাপের বাড়ি ,শাড়ি বলতে তিনশো থেকে পাঁচশো, খুব বেশি দামের একটাই শাড়ি কিনেছি বিয়ের পর, আটশো টাকা দিয়ে । আসলে শাশুড়ি ,ছেলেমেয়ে, বিনয়, মোট পাঁচ জনের সংসারের একমাত্র রোজগেরে আমি। তাও আবার রোজগারের বহু টাকা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যবসার জন্য দিয়েছি ,দুবার দোকানও করে দিয়েছি, বলাবাহুল্য সেই গুলো সবই লস্। শেষে বললাম, “ক্ষ্যামা দাও !আর তোমার কিছু করার দরকার নেই বাবা ,তুমি খাও-দাও  ঘুড়ে বেড়াও ,তবু বাড়তি খরচ তো হবে না। না হলে হাজারো ঝক্কি !
   ছেলে মেয়ে দুটোর ইস্কুল, ছেলেটার ইলেভেন,মেয়েটা নাইন। প্রাইভেট মাস্টার ছজন,তা,ও সবগুলোর জন্য দিতে পারিনি !বিনয় তো নিয়ে বসতে পারে অনায়াসে কিন্তু টিভি দেখেই ওর হয় না ,আর দুহাজার আটশো এগারো রকম রোগের উৎস হচ্ছেন শাশুড়ি,  তার চিকিৎসা আছে । প্রতি মুহূর্তে পস্তাই, কথা শোনাই ,”কেন যে মরতে বিয়ে করতে গেলাম !তোমায় বিয়ে করাই ভুল! তখন মিষ্টি কথায় ফাঁসিয়ে  এখন রোজগারের মেশিন বানিয়ে ফেলেছ!” আমাদের মধ্যে আগুন জ্বলে না আর, সোহাগ সোহাগ প্রাগৈতিহাসিক শব্দ। যখন বলি, ” গুষ্টি শুদ্ধ আমার ঘাড়ে ,লজ্জা ঘেন্না কিচ্ছু  নেই!”,বিনয় মাথা নিচু করে শোনে! আগে ঝগড়া করত, এখন  তাও করে না !কেন যে ওর এতো স্থবিরতা কি জানি? “কাজ না করে ,বসে খেয়ে খেয়ে ,অভ্যাস হয়ে গেছে !ভালোবাসে না ছাই ! বসে বসে খাবে বলে আমার চাকরি দেখে প্রেমের জালে আমায় ফাঁসিয়েছে! “
    হঠাৎ সকালে ঘুম থেকে উঠতে গিয়ে টের পেলাম গায়ে  হাতে প্রচন্ড ব্যথা, গলাতেও,গায়ে জ্বর,  একটা ঘোরের মতো। আমার উঠতে দেরি দেখে বিনয় বিছানার পাশে এসে আমার কপালে হাত দিলো। বিছানাতো অনেক আগেই আলাদা। তবুও কপাল গরম দেখে শাসনের সুরে বলল, “চুপ করে শুয়ে থাকো, একদম উঠবে না”, আমি শুয়ে  রইলাম ,উঠবার ক্ষমতা ও ছিল না।একটু পরে ব্রাশ, গামলা, জল এনে দিল ,”এখানে ব্রাশ করো, আমি চা দিচ্ছি “,ছেলে মেয়েকে ডেকে বলল, “মাকে বিরক্ত করবি না, মায়ের ঘরে যাবি না”! ভয় পেয়ে গেলাম ,”করোণা নয়তো!”, “হোক না, তুমি রোজ রোজ অফিসে বের  হও,হতেই পারে !”,সান্তনা দেয় বিনয়।  “তুমি এখানে এসো না “,বিনয়কে ঘরে আসতে বারণ করে দিলাম।
 রিপোর্টটা আসার সাথে সাথে যখন দেখা গেল যে ,যা ভয় করেছিলাম তাই হয়েছে, আমাকে পর পর গত পনেরো দিন নিয়ম করে যাকে আক্ষরিক অর্থে সেবা বলে, তাই করে গেছে বিনয়। ওষুধ,পথ্য একেবারে ঘড়ির কাঁটা মেনে, যতটা সম্ভব সতর্কতা বজায় রেখে।  ছেলেমেয়েদের দেখেছে, শাশুড়িকেও, রেঁধে খাইয়েছে।
   এখন বেশ ভালো ,গত কদিন তো ভালোভাবে ভাবতেই পারিনি,মাথার মধ্যে কেমন যেন ঘোর কাজ করেছে। আজ সকাল থেকে ভাবতে পারছি । দরকার নেই বাবা শাড়ি ,গয়না ,পুরি ,দিঘা, আমার এই ভাল !অনেকদিন বাদে তা প্রায়  সতেরো বছর পর আদরের সুরে ডাকলাম, “বিনু,বিনু…”,ও দৌড়ে এল, “এই নাও  চা, আজ একটু দেরি হয়ে গেল”, বুঝলাম ভালোবাসা মানে শুধু শাড়ি, গয়না, আদর  নয় ,ভালোবাসা এর চেয়ে অনেক অনেক বড়।

ছড়ার মশাল – ডি কে পাল

 19 total views

কেউ ধান কাটি,কেউ পান কাটি
কেউ কেউ কাটি ছড়া,
সমবেত এক চেষ্টা,দেশের
মানটি উচ্চে গড়া।
কেউ কান কাটি,কেউ তান কাটি
কেউ কেটে যাই দেশ,
খাল কেটে কেউ ”কুমির আনিয়া”
মজা পান তাতে বেশ।
প্রয়োজন হলে , জান কাটে কেউ
লাভালাভ বুঝে ঢের
গতানুগতিক ছড়া কেটে কেটে
কিছু কী পেলেন টের?
ছড়াকার যত ফুঁসে উঠি তত
ছড়ার মশাল হাতে,
ছড়া কেটে শঠ,ধরি পটাপট
আর কত! উৎপাতে।

ঠাকুর বাবা – অভিষেক সাহা

 15 total views

” এই নিন দাদা আজ চায়ের সঙ্গে কেক ফ্রি ।” চা-দোকানি তপন বলল সুকান্তকে।
” কী ব্যাপার তপন, লটারি পেলি নাকি রে! চায়ের সঙ্গে কেক ফ্রি দিচ্ছিস ?” আশ্চর্য হয়ে বলল সুকান্ত।
মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ এর চাকরি করে সুকান্ত। রোজ বিকেলের দিকে তপনের দোকানে আসে চা, বিস্কুট বা কেক খেতে।
তপন লজ্জায় জিভ কেটে বলল ” কী যে বলেন দাদা, লটারি! আজ ঠাকুর বাবার জন্মদিন তাই সবাইকে চায়ের সঙ্গে কেক ফ্রি দিচ্ছি।”
সুকান্ত অবাক হয়ে বলল ” ঠাকুর বাবা আবার কোন দেবতা !”
” কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ । ওঁর কৃপাতেই তো দোকান চলছে ।” তপন উত্তর দিল।
“বলিস কিরে! একেবারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তুই কী নাচ-গান -কবিতা এসব করে চা-দোকান চালাস ।” বেশ মজা পেল সুকান্ত।
একটু লজ্জা পেল তপন, বলল ” ধ্যাৎ, আমি কী ওইসব পারি নাকি।ওই সামনে রবীন্দ্র শিক্ষা নিকেতন, নাচ-গান-আবৃত্তির স্কুল , সে তো ঠাকুর বাবার আশীর্বাদে। ওই ইস্কুলের সব ছেলেমেয়ে, মাস্টার-দিদিমণিরা আমার দোকানের বাঁধা খদ্দের।”

সব শিল্পী-ই শিল্পী হয়ে ওঠেন দ্বিতীয়ার্ধে – পুলক মন্ডল

 37 total views

প্রথমার্ধে থাকে না-হয়ে ওঠার কাহিনী।আর এই কাহিনীর পাতায়-পাতায় থাকে উপেক্ষা, বঞ্চনা, ব‍্যাঙ্গ-বিদ্রুপ, অবহেলা আর পিছন থেকে টেনে ধরে সামনে এগোনোর পথে বাধা দেওয়ার একটা লম্বা সময়ের ইতিহাস। জীবনের ওঠা-পড়ার বহু ক্ষেত্রে এমন ঘটনা হরদম দেখতে পাওয়া গেলেও শিল্প-সাহিত‍্যের ক্ষেত্রে তা সরাসরি আঘাত করে প্রতিভার উন্মোচনে। প্রতিভার পরিচয়-ই তো সৃষ্টিশীল কাজে, উদ্ভাবনী শক্তিতে। সেক্ষেত্রে প্রতিভাকে-ই যদি নিরন্তর আঘাত-উপেক্ষা করা হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয় সমাজ, উত্তরাধিকার।
      যে এলাকায়, যে জনপদে  গুণের কদর থাকেনা, সেখানে গুণীর পরিবর্তে সমাজপতির চারপাশে থিকথিক করে স্তাবকের ভীড়। অনেক সময় একটা সমাজের মাতব্বররা এক বা একাধিক মানুষের তাৎক্ষণিক চাতুর্য‍্য ও উপস্থিত বুদ্ধিকে প্রতিভা রুপে আখ্যায়িত করেন। এতে শিল্প -সাহিত‍্যের প্রতিভা যুগপৎ ব‍্যাথিত  ও বিস্মিত হয়। কারণ কোন প্রভাবশালী নিজের চারপাশে একটা স্তাবক-পরিমন্ডল গঠনের উদ্দেশ্যে কাউকে কবি বা সাহিত্যিক রুপে ঘোষণা করলেই তিনি ‘তা’ হয়ে ওঠেন না। শিল্পী, শিল্পী-হয়ে ওঠেন মানুষের ভালোবাসায়।
     প্রকৃত শিল্পী কখনোই কারো স্তাবকতা করতে পারেন না। তিনি স্বভাবে বিনয়ী কিন্তু অন্তরে জেদি, অহংকারী, মাথা নত করতে না চাওয়া অনড় মনোভাবী। কেননা তিনি ‘শিল্প’ ছাড়া আর কাউকে পরোয়া করেন না। শিল্পী কাউকে তোয়াজ করে চলতে শেখেন নি, কেননা ‘স্তাবকতা’ কিম্বা তোষামোদী’ শব্দ দুটো তাঁর অভিধানে নেই। শিল্পী নিজেকে শুধুমাত্র বাঁচিয়ে বা টিকিয়ে রাখার জন্য আপোষ করে চলতে রাজী নন।
    শিল্পী বাঁধাধরা নিয়ম মানেন না। তাই তাঁর সৃষ্টিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাঁকে নিরন্তর এক একক-লড়াইয়ের যাত্রা করতে হয়।
   সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর ‘ সাহিত্যের কোন শর্ত নেই’ প্রবন্ধে বাঁধাধরা নিয়মনীতি কিম্বা তোয়াজের তাৎক্ষণিক সুবিধা’কে সাহিত্যে মানতে চাননি। জীবনানন্দ লিখেছেন, ‘ একটি পৃথিবীর অন্ধকার ও স্তব্ধতায় একটি মোমের মতন জ্বলে ওঠে হৃদয় এবং ধীরে ধীরে কবিতা-জননের প্রতিভা ও আস্বাদ পাওয়া যায়’।
    সহজ, তরল ও চটুলের মোহে যখন সমাজ ক্রমশ মোহগ্রস্ত হয়ে পড়বে তখন বিশুদ্ধ শিল্প-সাহিত‍্যের চর্চার পথ কখনোই বাধামুক্ত হতে পারেনা। যদি একটা সমাজে প্রতিভাধর কিম্বা শ্লাঘনীয় মানুষের অভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে তাহলে সমাজের কতটা সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সম্ভব! যদি একটা সমাজ বা জাতি কোন প্রতিভাকে তাঁর প্রাপ‍্য সম্মান ও মর্যাদা দিতে না পারে তাহলে সেই সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য কি সবল হয়!
      কিন্তু প্রকৃত শিল্পী, যথার্থ প্রতিভাধর কি এসব কথা ভেবে শিল্প-সাহিত‍্য সৃষ্টি থেকে দূরত্ব রাখেন? না। তিনি  দুঃখ পান, তিনি কষ্ট পান। কিন্তু শেষমেষ       সকল বিদ্রূপ উপেক্ষা করে তিনি তাঁর সৃষ্টিতে মগ্ন হয়ে থাকেন। বোধহয় এই উপেক্ষিত শিল্পীদের জন্যই তিনি লিখেছেন, যিনি বিখ্যাত অভিজাত-ধনী পরিবারে জন্মেও লক্ষ-কোটি সমালোচনা সহ‍্য করতে করতে বিশ্বকবি হয়েছেন, সেই রবীন্দ্রনাথের লেখায় ——–
          ‘ যে তোরে পাগল বলে
            তারে তুই বলিস নে কিছু।
            আজকে তোরে কেমন ভেবে
            অঙ্গে যে তোর ধুলো দেবে
            কাল সে প্রাতে মালা হাতে
            আসবে রে তোর পিছু-পিছু’ ————

বুননের রেশ – সুতপা ব‍্যানার্জী ( রায় )

 27 total views

ঋতিকার মা সোয়েটার বুনতে খুব ভালবাসেন, কাজের অবসরে বাড়ির সবার জন্য সোয়েটার বোনেন। ঋতিকার আগামী শীতে পড়ার জন্য খেজুর পাতা ডিজাইন দিয়ে সোয়েটার বুনছেন।
ঋতিকার পছন্দ কিন্তু মল থেকে কেনা ব্র‍্যান্ডে সোয়েটার। তাই ঠিকঠাক মাপ দেওয়ার ব‍্যাপারে কোনমতেই সহযোগিতা করছে না। বাবা ওদের কান্ড দেখে ঋতিকার মাকে বলেন-“ছাড়ো তো ওরটা তোমায় বুনতে হবে না, তুমি বাড়ির বাকীদেরগুলো বোনো।” শত মুখ ঝামটা সত্ত্বেও বর্ণালী মানে ঋতিকার মা বুনে চলে সেই সোয়েটার। বর্ণালীর বান্ধবীরা কি সুন্দর সব সোয়েটার তৈরী করে তাদের মেয়েকে পড়ায়।
সোয়েটারটা বগলের ঘর ফেলার আগে এসে থমকে আছে। এর মধ্যেই বর্ণালীর কিডনির অসুখ ধরা পড়ল, একটানা বসে কিছু করা বারণ। ফলে সেই সোয়েটার আর শেষ হচ্ছে না। ঋতিকা মায়ের কষ্ট এখন বুঝতে পেরে মাপ দিতে চাইলেও বর্ণালী বেচারি আর পেরে ওঠে না। দিনে দিনে শরীর আরও খারাপ হয়। ভেলোরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করালেও সুফল মেলে না। স্বামী, সংসার, ছেলেমেয়ে ছেড়ে চিরদিনের জন্য চোখ বোজে।
বেহাল সংসারের হাল ধরতে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানো ঋতিকাকে অনেক দায়িত্ব নিতে হয়। এবারের শীতটা একটু বেশী পড়ায় সবার জন্য গরম জামাকাপড় বার করতে গিয়ে হাতে উঠে আসে সেই মায়ের করা অসমাপ্ত সোয়েটারটা। ওটাকে জড়িয়ে ধরে ঋতিকা কাঁদে অনেকক্ষণ, তারপর বিড় বিড় করে বলে-“এ সোয়েটার আমি শেষ করে পড়ব মা, তুমি দেখো আমি ঠিক পড়ব।”
নিজের পড়ার টেবিলে গুছিয়ে রাখে সোয়েটারটা, ইউটিউব দেখে প‍্যাটার্ণটা শিখে নিয়েছে, রোজ একটু করে বোনে। আর ঋতিকার বাবা পর্দার আড়াল থেকে এ দৃশ্য দেখে চোখের জল ফেলেন।

লাউশাক – মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

 43 total views

 

[post-views]

শাক অলা মাইনুল আজো লাউশাক নিয়ে বেরিয়েছে ।ফনফনে টসটসে শাকের ডগায় শিশিরে জবজব।খুবই নাজুক ।শরীরটাও কেঁপে কেঁপে ওঠে ।জীবনের পরতে পরতে পরতে জমে থাকা দুঃখ গুলো সরে গিয়েও ফিরে আসে ।মানুষের লোভটাও এই শাকের প্রতি ।

এক হাজার টাকা কেজি লাউ বীজ।জমিতে ধান করার যে কী— ধকল।সব ধানী জমি আধিয়ারের কাছে বন্ধক ।ধানের চারা থেকে ধান পাকা, পাকা ধান মাড়াই থেকে চাল পর্যন্ত নানান ফ্যাকরা ।দুই মনী জমিতে আট দশ মন এখন ব্যাপার না ।কিন্তু দেদার হাইব্রিড বীজ,হরমোন, কীটনাশক, সার,সেচ,কামলা খরচের জমিদারী হালের সাথে মাইনুলরা পেরে উঠলে তো।এখন ধান ছেড়ে লাউ ,শসা, কুমড়া।

আজকাল বৌ ঝিরা এত সকালে উঠতে চায়না।ধানের পেছনে লেগে থাকেই কখন?অথচ চাচি জেঠি,নানী দাদিরা দোয়েলটার সাথে ঘুম ভাঙ্গত ।সারা উঠোনে ঝাঁট দিতো ।পানি ছিটিয়ে দিত ।ধান মাড়াই,উড়ানো, ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে শরীরের রক্ত কণাগুলো পানি করে ফেলত।
নানা দাদারা দুই গ্রাস পান্তা, শুকনো মরিচ ভেঙে তৃপ্তি নিয়ে খেয়ে গরু ছাগল, লাঙল জোয়াল নিয়ে বেরিয়ে যেত ।সারাদিন ক্ষেতে  পড়ে থেকে চাষবাসের পাঠ ছিল সাধনা ।
আর এখন রাতের ডিশ লাইনে এত সব স্বর্গীয় কাহিনী, পোশাকের বাহার,পাত্র পাত্রীর শরীরে সৌন্দর্যের ডামাডোল দেখতে দেখতে রাত পার।সকালে ক্ষেতে  যাবে কখন?
দেখে আর আফসোস করে ।বড়লোকী স্বপ্নের আঁচ অনুভব করে ।

মনে মনে এবছর লাউশাক বেচার পর একটা ফ্রিজ কেনার আশা। থেকে  থেকে থিরথিরে কাঁপন বুকের ভেতর।
জবানালী পথ আগলে দাঁড়িয়ে বলে—–বাজারের মাইনষেরে  খাওয়াইলে লাব নাই।ট্যাহা ছাড়া নিতাম না।
এক মুডা বিশ ট্যাহা ।
আরে বিশ ট্যাহা, মিশ ট্যাহা  বুঝিনা।আমার তিন মুডা লাগবো।বাড়িত মেমান আছে।
তিনটা বানডেল নিয়ে জবানালী বলে—-বাজার থাইককা ফিরার সময় দেহা কইরা যাইছ।
খাঁচাটা মাথায় তোলার আগেই হুরু জ্যাডা  বলে—আমরা কী দুষ করছি।দে আমারেও দুই মুডা।
এভাবে কেউ দুই,কেউ তিন,কেউ এক মুঠো শাকের বান্ডেল নিয়ে রেডি।
কিন্তু সবারই এক কথা—-ট্যাহাডা পরে নিছ।
শেষে একটা বান্ডেল পড়েছিল।ওটা নিয়ে হেলুর বাপ বললো–আমার পকেডঅ দশ ট্যাহা নগদ আছে।আমি বাহি নেইনা।  ।সহাইল্লা বেলা বাহি নেওন ঠিক না ।
মাইনুলের হাতপা কামড়াচ্ছে।দশ টাকার আধময়লা নোটটা নিয়ে বিড়ির মতো প্যাঁচাতে থাকে।যারা নিয়ে গেছে তারা টাকা এত সহজে দেয়ার লোক না ।
ঠোঁট উল্টে নিজের ওপর রাগ করে —ক্যান যে কারো মুখের  ওপরে কথা বলার সাহসটা সে পেলো না ।

এতক্ষণ তা ই দেখছিলেন   সানু মামা। ওনাকে মাইনুল দেখে এসেছে ছোটবেলা থেকেই ।লোকটার বয়স মনে হচ্ছে স্থির হয়ে আছে ।ত্রিশ বছর হয়ে গেলো সানু মামা একই রকমের দেহ নিয়ে বেঁচে আছেন ।
সমাজে সমবয়সীরা পাশ কেটে  চলছে।  হয়তো ঝিয়ের জামাই,না হয় পুতের নাতির কাঁধে হাতে ভর করে ।অন্যদিকে সানু মামা  রাস্তায়  সকাল বেলার সময়টা পূর্ণ নিঃশ্বাস নিতে নিতে কাটে ।নানা ধরনের ব্যায়াম দেখে এলাকার ডাক্তার ছদরুল সাহেবকেও লজ্জিত করে ।কেননা ছদরুল সাহেব নিজে ডাক্তারী করেন, কিন্তু ব্যায়াম করেন না।ঘুম ভাঙ্গে বেলা দশটার দিকে ।
নাস্তা সেরে পোশাক পালটে গাড়িতে ওঠেন । হাসপাতালে ডিউটি করে করে রাত হয়।কত ধরনের হিসেব নিকেশ তাকে করতে হয়।শুয়ে বসে দিনযাপন মানেই  মেদ, কোলেস্টেরল ।মাথার চুলগুলো গেছে ইন্টার্ণীতেই।চাকরি গরম গরম।পোস্টিং ,বিয়ে ,গ্যাদা বাচ্চা —‘সব গরম গরম ।পেট বেড়ে চাড়ি,ঘাড় গলা থুতনির নীচে চর্বির উৎসবে যেন প্রতিদিনই নবায়ন হচ্ছে ।
ছদরুল সাহেবও সানু মামার পিঠে চাপড়ান—-মামা, আপনে আর বুড়া হইয়েন না।

সানু মামার খাবার  তালিকায়  প্রতিদিন একপোয়া শাক,
একটা ডিম,এক বাটি ডাল কমন ।
বিড়ি সিগারেট ,পাতা পুতা,বাংলা টাংলা ধারেকাছে নেই ।অষ্টম শ্রেণি থেকেই শরীরটা ভালো রকম ফিট ।ভালো হা- ডু -ডু খেলতেন ।এম পি সাহেবের ম্যাডেলটা এখনো হাতড়ান।
কীরে মাইনুল, শাকের টাকা সবাই মেরে দিলো?
না –মামু।মারতোনা।একটু দেরীতে দিব ।ঘুরাইব আরকি ।
আস্থার জায়গাটা বেশ রপ্ত করেছে মাইনুল।
ফিরিজ কিনবি নাকি?
হ মামু।কিন্ত আপ্নে কই হুনছেন?
চেরাগ আলীর পুতেরা কইছে ।আরে খবরটা কি পাতলা?বিরাট খবর।লাউশাক বেইচ্চা ফিরিজ কিনবি ।
কিনমু তো।এহনতো শাকের ম্যালা ট্যাহা বাকি ।কবে দিব তাও কয়না।কিছু ট্যাহা জমাইছিলাম।
আইচছা, কিনলে নারায়ণের শো-রুম থাইককা আনবি তার আগে  আমার লগে  যোগাযোগে করিস।

সানু মামা ফোনটা রিসিভ করার কাজে ব্যস্ত ।
চলে গেছেন।
মাইনুলের হাতপা ঝিম ঝিম করে ।বাড়িতে ফিরেও ভাল্লাগেনা ।মিনিমাম আরো ছ’সাত হাজার টাকা লাগবে ।
সন্ধ্যার দিকে দরজার কাছে চেয়ার পেতে কৈ জাল বুনছে ।পারিবারিক এই শ্রমটুকু সে ই দেয়।একটু কষ্ট করলে জালটা হয়ে যায়।মাসে তিনটা জাল।
বউটা সিমের বিচি ভেজে দিয়েছে ।
একটা পিকাপ এসে থামলো ।
দুতিনটা ছোকরা নেমে মাইনুলের খোঁজ করে ।
সানু মামা ফ্রিজ পাঠিয়েছে ।
কিন্তু আমি তো ফিরিজের দোকানেই যাই নাই ।
ঠিক আছে,  ফোনে কথা কন।
ছেলেটা মোবাইল দিলো ।ওপাশ থেকে সানু মামার কন্ঠ —-হ্যালো –আমি সানু ।ফিরিজডা পাঠাইলাম ।
কিন্তু মামা —এত ট্যাহা কেমনে দিমু?
দেওন লাগবো না ।এইডা তোমার উপহার ।
উপহার !
হ।ওই যে কইছিলাম না—তোমার ছেলে যদি জেলার মইদ্যে ফাস্ট অয় তাইলে তোমারে  একটা উপহার কিন্যা দিমু ।—-
সারা শরীর ঘামছে মাইনুলের ।
সানু মামা আস্তা একটা ডাহাইত ।মাইনষে লাউশাকের ট্যাহাও বাকি ফালায়।আর সানু মামা ——।

নিঃসঙ্গ -নিবেদিতা চক্রবর্তী

 18 total views

প্রবীর  বাবু সন্ধ্যাবেলায় দোতলার বারান্দায় পায়চারি করছেন।মনটা তার আজ বড় অশান্ত।মাঝে মাঝেই আজকাল  এরকম হয়।বিশাল এই বাড়ীটায় একা একা হাঁপিয়ে ওঠেন তিনি।তখন তিনিবসেন ডায়রী নিয়ে ।লেখেন তাঁর মনের কথা।এভাবেই হালকা করেন নিজেকে।আজ ও তিনিনিজের ঘরেএসে বসলেন চেয়ারে।টেবিলের উপরে রাখা ডায়রী টা খুলে লিখতে শুরু করলেন।

       আজ বড় অশান্ত মন আমার ।ফেলে আসা দিন গুলো বড় মনে পড়ছে ।তোমাকে বড্ড মনে পড়ছে নিরুপমা ।এই একাকী নিঃসঙ্গ মূহুর্ত গুলো ভীষণ অসহনীয় লাগছে।লিখতে লিখতে চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে প্রবীর বাবুর। হাত দিয়ে চোখ মুছে আবার  লেখেন-চুপি চুপি কত বছর কান্না বয়ে চলেছি বুকে।কিন্তু বাইরে তা দেখাবার জো নেই।পুরুষ মানুষ যে আমি।আমাকে কাদঁতে নেই ।

          ছোটবেলায় খেলতে গিয়ে পা মুচকে গিয়েছিল।ব্যথায় খুব কেঁদেছিলাম।মা চোখ মুছিয়ে বলেছিল”ছেলেদের কাঁদতে আছে নাকি?তুমি কাঁদলে যে তোমাকে সবাই দুর্বল ভাববে।তারপর থেকে আর জনসমক্ষে কাঁদিনি আমি।যেদিন মা চিরতরে চলে গেলেন,বুক ভেঙে কান্না আসছিল।কিন্তু কাঁদিনি।মনে পড়ছিল মায়ের কথাগুলো-‘ছেলেদের কাঁদতে নেই।’  কাঁদিনি কিন্তু বুকের মধ্যে চলছিল রক্তক্ষরণ।

  তোমাকে নিয়ে শুরু করলাম সংসার জীবন।প্রথমে চলার পথ  বড় কঠিন ছিল ।এত বৈভব, সামাজিক প্রতিষ্ঠা সেদিন ছিলনা।টিউশানির পয়সায় সংসার চলত।বেশিরভাগ টাকাই চলে যেত

বাবার ওষুধে। তাই বেশিরভাগ রাতেই চলত তোমার আমার উপবাস তোমাকে লুকিয়ে চোখের জল ফেলতে  দেখেছি।কিন্তু কাঁদিনি আমি ।মন শক্ত করে লড়ে গেছি।

         এরপর স্বচ্ছলতা যখন এলো,আবির এলো তোমার কোল আলো করে পরম যত্নে দু’জনে বড় করলাম তাকে।ও যেদিন বৌমাকে নিয়ে বিদেশ চলে গেল তুমি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলে।জানো,আমারও মনে হয়েছিল হাউ হাউ করে কাঁদি কিন্তু কান্না চেপে রেখেছিলাম বুকের ভিতর।কাঁদলে চলবে কিকরে?তুমি যে তখন দিশেহারা।তোমাকে ভরসা দিতে হবে যে।যে বুক তোমাকে ভরসা জোগাবে সেই বুক কী করে কান্নায় প্লাবিত হবে?দুহাতে আগলে সেদিন তোমায় বলেছিলাম “আমি তো আছি।আগলে রাখবো তোমায় সারা জীবন।”  আমার কথা আমি রেখেছি নিরু।

 তুমি যেদিন চলে গেলে আমার চোখের জল আর বাঁধ মানলোনা।ছুটে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধকরে অনেকক্ষন কেঁদেছিলাম।বাইরে সকলের সামনে তো কাঁদা যাবেনা।পুরুষ মানুষ যে!তারপর থেকে নিঃসঙ্গ ,একাকী আমি।ছেলে বলেছিল তাদের সঙ্গে যেতে। কিন্তু আমি যাইনি।তোমার স্মৃতি জড়ানো বাড়ী খানা ছেড়ে যেতে পারিনি আমি।জীবনে চলার পথে দুঃখে,কষ্টে আঘাতে  যখনই চোখে জল এসেছে,বারবার মনে হয়েছে আমি কাঁদলে চলবে কেন?আমাকে যে ভরসা হয়ে দাঁড়াতে হবে আমার কাছের লোকেদের,আপন জনদের।তাই প্রকাশ করিনি।চুপি চুপি কান্না বয়ে চলেছি বুকের মধ্যে।

তারপর শুরু করেছি লিখতে- তোমার কাছে আমার মনের কথা।যখন খুব কষ্ট হয়  তখন লিখি।।আমার প্রতিটি অশ্রুবিন্দু অক্ষর হয়ে ফুটে ওঠে পাতার উপরে আর আমার মন হালকা হয়।মনে হয় যেন কেঁদে হালকা হল মন।তোমাদের তো কাঁদা বারণ নয়।তাই কেঁদে মনের কষ্ট লাঘব করতে পেরেছ।কিন্তু আমরা?আমরা ছেলেরা যে কাঁদতেও পারিনা।

শান্তি তুমি কোথায়? – শোয়েব ইবনে শাহীন

 19 total views

কোন কল্পনার বাক্য নয় এগুলি, অসম্ভব রকম বাস্তব।
থেমে গেছে জীবনের আনন্দ; ভেংগে গেছে স্বপ্নগুলো সব।

একাকীত্বের প্রেমে পড়েছি বাধ্য হয়ে, দুশ্চিন্তা -চিন্তারা সব আটক!
যা হচ্ছে তা হতে দাও, পারছিনা সইতে নিষ্ঠুর পৃথিবীতে নরকতূল্য জীবনের শত-সহস্র নাটক!

পথে যেতে হয়নি দেরি আমার, ভুল হয়েছে তবুও।
ধ্বংস আজ এই আমি, মন বলছে ঃ আজ ত্যাক্ত
যেন অশান্তিও…!

পড়ে আছি মৃত মানুষের মত, অসহনীয় পথচলা।
তবুও চলতে হয় বাধ্য হয়ে, কষ্ট বুকে পাথরচাপা দিয়ে, অভিনয়ে পূর্ণ আমার জীবনের বাস্তবতা!

ক্লান্ত আমি আজ হতাশা-পরাজয়ের শ্লোক লিখতে লিখতে,
কল্পনার প্রহর আর নেই, বাস্তবতা দেখাচ্ছে তার প্রকৃত স্বরুপ; প্রতি পরতে পরতে।

শেষ হয়েও অনেক উপাখ্যান, আবারো শুরু হয়েছে কোন না কোন যন্ত্রণার!
স্বপ্নরা বারবার গেছে কালো মেঘে মিশে, কোন ভাষা খুঁজে পাই না আমার সান্ত্বনার।

কাঁধ উঁচু করে চেয়েছিলাম বাঁচতে; তাতেও ঢুকেছে অকস্মাৎ – অনিশ্চয়তা  আর ভয়…!
যতদূর দৃষ্টি যায় দূর দিগন্তের পানে তাকিয়ে থাকি,কালো মেঘের ভীড়ে খুঁজে ফিরি, অমাবস্যার রাতেও অপেক্ষায় থাকি; বলি নিজের মনে, ” শান্তি, এই যে শান্তি!  আজ তুমি কোথায়? “

মাছের মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোক – সিদ্ধার্থ সিংহ

 22 total views

মাত্র একটি মাছের মৃত্যুতে গোটা দেশ জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে বিরোধী‌ দলের নেতা-সহ সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ— সর্বস্তরের লোকই শোকে একেবারে মূহ‌্যমান। কোথাও মোমবাতি জ্বালিয়ে শোক পালন করা হচ্ছে, কোথাও মৌন মিছিল। তার মৃত্যু যেন কেউই মেনে নিতে পারছেন না।
আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশ জাম্বিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় কপারবেল্ট ইউনিভার্সিটির (সিবিইউ) একটি পুকুরে থাকত এই মাছটি। বয়স হয়েছিল প্রায় ২২ বছর। এর মধ্যে ওই পুকুরেই মাছটির কেটেছে কমপক্ষে ২০ বছর। তার নাম ছিল— মাফিশি। স্থানীয় বেম্বা ভাষায় মাফিশি শব্দের অর্থ ‘বড় মাছ’। সেই মাছটিই মারা গেল ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।
আসলে জাম্বিয়ার ওই সিবিইউয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে মাছটি ছিল সৌভাগ্যের প্রতীক। অনেকেই সহজ প্রশ্নপত্র পাওয়ার জন‌্য পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে এই মাছটাকে দর্শন করে যেত। মনে মনে মানত করত, পরীক্ষায় ভাল‌ নম্বর পেলেই মাফিশিকে এই খাওয়াব, সেই খাওয়াব। কেউবা স্রেফ ভালবাসা থেকেই মাফিশির খোঁজখবর নিত।
কপারবেল্ট ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এডউইন নাম্বো তো প্রকাশ্যেই বলেছেন, এই মাছটি আরও অনেকের মতো তাঁর কাছেও ছিল টেনশন থেকে মুক্তি পাবার একমাত্র ওষুধ। মাফিশিকে সাঁতরা কাটতে দেখলে কিংবা জলের  মধ্যে খেলে বেড়াতে দেখলে মনের মধ্যে এমনিই একটা প্রশান্তি চলে আসত।
মাছটির শোকেএকদম ভেঙে পড়া ওই ইউনিভার্সিটিরই ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট লরেন্স কাসোন্দে বলেছেন, মাফিশির মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, মাছটির মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা সবাই মিলে তার বিশাল ছবির সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে তার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। ফুল দিয়েছেন। মৌন মিছিলও করেছেন।
এখনও মাফিশির মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গভীর শোক জানিয়ে তাঁদের কাছে বার্তা আসছে। তিনি জানান, তাঁরা মাছটির মরদেহ সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছেন।
জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট এডগার লুঙ্গু এক শোকবার্তায় ফেসবুকে লিখেছেন, প্রাণীর প্রতি মানুষেরা কেমন আচরণ করছেন তা দেখেই একটি জাতির মহানুভবতা ও নৈতিক অগ্রগতি মূল্যায়ন করা সম্ভব। মাফিশিকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘তোমার জন্য আমাদের মন পুড়বে।’
শুধু প্রেসিডেন্টই নন, প্রধান বিরোধী দলের নেতা হাকাইন্ডে হচিলেমা বলেছেন, ‘মাফিশির মৃত্যুতে সিবিইউয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি আমরা সহমর্মিতা জানাচ্ছি।’
একমাত্র জাম্বিয়া ছাড়া আজ পর্যন্ত পৃথিবীর আর কোনও দেশেই শুধুমাত্র একটি মাছের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এ ভাবে সর্বস্তরের মানুষকে শোকে মুহ্যমান হতে দেখা যায়নি। এমন ঘটনা সম্ভবত এই প্রথম, এই-ই শেষ।