Biswaranjan Chakraborty

অনুগল্প:- সেবিকা
কলমে:- বিশ্বরঞ্জন চক্রবর্তী

অপারেশন সাকসেসফুল , কিন্তু বাহাত্তর ঘন্টা আগে দেখা করা যাবেনা। ওয়ার্ডে ফোন করে জানতে পারবে পেশেন্টের অবস্থা। সিস্টার অঞ্জনা, অপারেশন টেবিলে ডক্টরকে সাহায্য করেছে সে, আগবাড়িয়ে রুগীটির দেখভাল করার দায়িত্ব নিতে চাইল। সিস্টার- ইন- চার্জ অঞ্জনার এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়।
মনিটরিং করতে করতে অঞ্জনা পাঁচ বছর আগে সুমনের সাথে তার পরিচয়ের প্রেক্ষাপটে ফিরে গেল। এরকম এক হাসপাতালে সুমনের মা খুব অসুস্থ হয়ে ভর্তি হন। এটেন্ডিং নার্স অঞ্জনার এতো সুন্দর ব্যবহার সুমনকে আকৃষ্ট করেছিল। শনিবার সুমনের মা যখন ছুটি পেলেন, সুমন অঞ্জনার সাথে তাদের ফোন নাম্বার আদান প্রদান করে নেয়। অঞ্জনাই প্রথম ফোন করেছিল -সুমনের মার অবস্থার খোঁজ নেবার জন্য। এরপর সুমনের আগ্রহ অঞ্জনার প্রতি বাড়তে থাকে। অঞ্জনার অফ -ডে দেখে অফিস ছুটি নিয়ে ঘোরা, সিনেমা দেখা সব চলতে লাগল।
বছর দুই মেলামেশার পর অঞ্জনার মা, অঞ্জনার কথা মতো, অঞ্জনার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে সুমনের বাড়ীতে যান।
দেখতে সুন্দরী, তাই অঞ্জনাকে অপছন্দের কিছু নেই। কিন্তু বিয়ের পর আর চাকরি করা যাবেনা। সুমনের মা সেটা স্পষ্ট করে বলে দিলেন। সুমন তার মা-র মুখের ওপর কিছু বলতে পারেনা। ওটাই ওর দুর্বলতা।
পরের দিন বিকেলে মতিঝিলের ধারে, সুমন অঞ্জনার জন্য সেই অশ্বত্থ গাছের নীচে অপেক্ষা করতে থাকে।এই অশ্বত্থ গাছ তাদের অনেক মিলনের সাক্ষী। চারটায় আসার কথা ছিল, সাড়ে চারটা নাগাদ অঞ্জনা এসে পৌঁছায়। চেহারায় যেন কয়েকটা বিনিদ্র রজনী কাটানোর ক্লান্তি -ভাব।
সুমন তাকে মায়ের দাবি বোঝাতে লাগলো। অঞ্জনা প্রস্তুত হয়েই এসে ছিল, ‘দেখো আমি কোন ভাবেই চাকরি ছাড়তে পারব না। আর এটা যেন আমাদের শেষ সাক্ষাৎ হয়‘ এক নিঃশ্বাসে সে কথা গুলো বলে যেন মুক্তি পায়।
সত্যি তারপর একুশ মাস আট দিন পর এই অপারেশন টেবিলে অঞ্জনা সুমনের মুখোমুখি, তাও সুমনের কোন জ্ঞান নেই। সকলের অলক্ষ্যে অঞ্জনার চোখ ভিজে উঠলো। আজ অপারেশনের দ্বিতীয় দিন, সুমনের জ্ঞান ফিরে এসেছে। এবার তাকে বিদায় নিতে হবে। সুমন বা তার আত্মীয় কারোর সঙ্গে সে দেখা করতে চায়না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *