DIPANKAR BERA

 121 total views

আগামীর ভরসা / দীপঙ্কর বেরা

পরিতোষ বেশ চিন্তায় আছে। ছেলে রহিশ আর ক’দিন পরেই জীবনের সেরা পরীক্ষা দেবে? পড়াশুনায় বেশ ভালই। নম্বরও ভাল পায়।
সহকর্মী পলাশ বলে ওঠে – তাহলে আর চিন্তা কি? টিউশন দিস নি?
পারিতোষ নিজেকে পরিস্কার করতে সঙ্গত দেয় – তা দিয়েছি। বেশ নোট ফোটও দিচ্ছে। সে গুলো বাড়িতে যেটুকু সময় পাই রিভাইজ করিয়ে নিই।
চোখ কপালে তুলে মহীম – কি গুরু, তাহলে ছেলের পেছনে তো ভালই লেগে আছো। তাহলে এত কপালে ভাঁজ কেন?
একটু বিজ্ঞ পরানবাবুও যোগ দেয় – তা তোমার বউ তো উচ্চ শিক্ষিত। সেও নিশ্চয় কিছু সাহায্য করে।
পরিতোষ বেশ মাথা নাড়ল । হ্যাঁ বলল না না বলল বোঝা গেল না। তবে মুখে বলল – আমরা দুজনেই চেষ্টা করছি। পরীই সময় বেশি দেয়। তবে কি জানেন আজকালকার ছেলেমেয়ে একটুতেই পড়া বেশ ধরে ফেলে। রিভাইজ করতে চায় না বলে ও তো জানি। সেটাকে লিখতে বা বলতে কিছু সূক্ষ্ম ভুল থেকে যায়। বলে ওতে কিছু হবে না। পুরো ভালোভাবে জানলে ক্ষতি কি? বলে আমাদের এখন অনেক অনেক রকম জানতে হয়। এতেই হবে?
পলাশ মহীম আশু বিনয় সবাইয়ের মুখে চিন্তার ছাপ। কারো কারো ঘরের সাথে হয়তো মিলে গেছে । তাই পরিতোষ নিজেকে একটু জোর পেল। বলল – ও মা বলে নম্বর তো পুরোই পাচ্ছে। ওত গভীর ভাবনার দরকার কি? পরীর সাথে আমার একটু ভাবনার তফাৎ। আরো বেশি জানলে ক্ষতি কি?
পরানবাবু এবার মুখ খুলল – তোমাদের এই এক দোষ। ছেলেমেয়ের উপর যতটা পারো চাপিয়ে দাও। ওরা ঠিক রাজহাঁসের মত দুধ বেছে নিতে পারবে। চিন্তা বাদ দিয়ে ওকে ওর মত বড় হওয়ার জন্য ওর উপরেই আমাদের ভরসা করতেই হবে। শুধু শেকড়ের মধ্যে আপ্রাণ চেষ্টায় মনুষ্যত্ব ভরে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
মহীম একটু হ্যা হ্যা করে হেসে ওঠে – কি ভাবে পরানবাবু? একটু যদি বুঝিয়ে ……
পরানবাবু তেমনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলল – এই যে টেবিলে বেঁকে তখন থেকে বসে আছ? কি আর বলব?
শুনেই যে যার চেয়ারে বসে কাজে লেগে গেল। পরিতোষ নিজের মনে ভরসা পেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *