Jakaria F Rahman

জাকারিয়া এফ রাহমান

ফুলকি –

গ্রামের চেয়ারম্যান , উপজেলা পরিষদ এর লোকজন , মেম্বার এবং মাথাওয়ালাদের ভীড়ে আর শান্তনার বুলিতে যখন রহমত মিঞ্চার বাড়ির উঠোন গমগম করছে .. তখন রহমত মিঞ্চার বউ শালু বিবির কান্নায় আকাশ চুম্বি একাকার করে ফেলছে ।
এতো লোকজন যে আসবে , সেতো আর অবাক হবার কথা নয়.. সবাই জানে রহমত মিঞ্চা খেটে খাওয়া মানুষ দিন আনে দিন খায় । তার উপর তিন তিন খানা মেয়ে যার ঘরে , আর তার যদি গায়ে খাটুনি ছেলে না থাকে তাহলে তার জীবন যে বাউলিয়া হবে সেটাই স্বাভাবিক । এইতো সেদিন তিন গাঁ ছাড়িয়ে সবজি ওয়ালা মিন্টুর সাথে সবচেয়ে ছোট মেয়ে চুন্নির বিয়ে টা সেরে দিলো… হোক মেয়ে জামাই সবজি বিক্রেতা .. তার জন্য তো আর জামাই আদর কম হতে পারে না , তাই শেষ সম্বল জমি আর সুদের টাকায় মেয়ে জামাই বিদায় করছে রহমত মিঞ্চা । বাকি রইলো রহমত মিঞ্চা আর তার বউ শালু বিবি .. এটা ওটা কাজ করে এতদিন সংসার চালিয়ে আসছে সে , থাকার মধ্যে এই ঘরখানাই তো ছিলো আর ঘরের মধ্যে দুজনের সাজানো বুড়োবুড়ির সংসার । তাও কাল রাতে সব পুরে ছাই .. কোথা থেকে কিভাবে কি হলো জানে না কেউ , দুজন যে বেঁচে আছে এইতো ঢের ।
মেয়েরা এতক্ষনে খবর না পেয়ে পারে না , আসলেই তো দেখবে তাদের বুড়ো বাপ মা নিঃস্ব হয়ে গেছে .. কই থাকবে কই যাবে , কার কাছে কাকে রাখবে আর কেইবা এতো দেনা শোধাবে .. এসব ভাবতে ভাবতে নীথর হয়ে বসে রইল রহমত মিঞ্চা , সব কিছুর নিস্তব্ধতা ভেঙে চেয়ারম্যান বললেন এই আগুন কি যেই সেই কথা .. ঘরটা তো মিয়া তোমার বাপ দাদার সময়ে , কম বড়ও তো ছিলো না । যাই হোক মিয়া কি আর করবা ?
সামনে আবার নির্বাচন আগিয়ে আসছে .. এই সময়টা চেয়ারম্যান কাজে লাগাতে পারলে যে নির্বাচনে আবার গ্রামের মানুষের একমাত্র পছন্দের প্রার্থীতে সেই বাছাই তাতে সন্দেহ নেই লেশমাত্র ।
আবার চেয়ারম্যান বললেন … চিন্তা কইরো না রহমত মিঞ্চা আমরা আছি কি করতে? গ্রামের মানুষের কষ্ট আমার দীলে সয়না , আমি তোমাগো কষ্ট সহ্য করতেই পারি না ..
তোমার বাপ দাদার ভিটায় আবার ঘর আর তাতে সব ব্যবস্থা করে দিবো মিয়া চিন্তা নাই , কি কও মিয়ারা ??
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও কম যান না তা বোঝা গেল তার বক্তব্যে ..
তিনি বললেন .. আমার দল থেকে নাইলে ঘরের টুকটাক জোগাবে সবই ।
উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় সাবেক চেয়ারম্যান .. সেও হাতছাড়া করলেন না জনগণের সামনে মহৎ হবার এই চমৎকার সুযোগ .. তারা সবাই মিলে মিটিয়ে দিলেন সব ঋন ।
স্বার্থনিয়ে যখন সবাই মত্ত , তখন জলজল চোখে রহমত মিঞ্চার মন ঢেউয়ে খেলে উঠলো .. তার বুদ্ধি কাজে দিয়েছে তা সে ভালোভাবেই বুঝতে পারলেন …
তারই ঘরে নিজের লাগানো একটি মাত্র ষড়যন্ত্রের আগুনের ফুলকিতে মিটে গেলো সব ঋন , আশে পাশের সব রাজনৈতিক দলের থেকেও যে সে কম যান না সেটা ভেবেই চোখে জল আর বুকে অট্টহাসি দিয়ে মেতে উঠলো রহমত মিঞ্চার মন ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *