Jewel Khan

 18 total views

নীল রংয়ের জিন্স প্যান্ট
জুয়েল খান
স্কুল জীবন থেকেই ভীষণ ইচ্ছে আমার একটা নীল রংয়ের জিন্স পরবো। প্রবাসী বাবা হটাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং পরিবারের দারুণ দারিদ্র্যতা নীল রংয়ের জিন্স প্যান্টের স্বপ্ন শুধু ফিকে হয়েই যাচ্ছিলো।

কলেজ জীবন কেটেছে (HSC) ফরমাল প্যান্ট পরেই।বন্ধুদের জিন্স প্যান্ট গুলোর দিকে আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেছি কত। ম্যাক্স ব্র্যান্ডের জিন্স তখন দারুণ প্রসিদ্ধ ছিল।

টিউশানি করে পড়ার খরচ চালাতাম অনেকটাই। আম্মাও চাকরী করতেন গার্মেন্টসে। অনার্সে ভর্তি হলাম কিন্তু জিন্স প্যান্ট এখনো পড়া হয়নি।
এক কাজিন একবার আমাদের বাসায় এলো দু’দিন থাকবে বলে। চাকরির ইন্টারভিউ শেষ হলেই চলে যাবে। কাজিন জিন্স প্যান্ট পরেই এসেছে হালকা ধূসর রংয়ের।আমি প্যান্টা ধরে দেখেছি বেশ কয়েকবার রাতে।সকালে সে যখন ইন্টারভিউ দিতে বেড় হলো আমি প্যান্টটা পরেছি।জিবনে প্রথম জিন্স প্যান্ট পরেছি বলে আমি দারুণ আনন্দিত। প্যান্ট পরে আমি বসেছে,শুয়েছি এবং তীব্র ইচ্ছে হচ্ছিল রাস্তায় পকেটে হাত ডুকিয়ে হাটি ঠোঁটে একটা সিগারেট ধরিয়ে।

কাজিন সন্ধার পর বাসায় এলো এবং তারাহুরো করে ব্যাগগুছিয়ে বিদায় নিয়ে চলে গেল। জিন্স প্যান্টটি শুধু রয়ে গেল চৌকির একপাশে।
কাজিন চলে যাওয়ার পর আমার নজরে এলে এবং আমার মধ্যে তীব্র আনন্দের ডেউ বয়ে গেল।
মনে আছে সেদিন বিকেলে আমি টিউশনিতে হেটে গিয়েছিলাম পকেটে হাত দিয়ে এবং গাড়ী ভারা বাচিয়ে ২ টাকা দিয়ে সিগারেট কিনে ঠোঁটে ধরিয়েছিলাম।এটাও মনে পরে, যে মেয়েটাকে আমি ভিষণ পছন্দ করতাম তাদের বাসার সামনে গিয়ে অনেক্ষন দাড়িয়েছিলাম শধু একবার যদি সে তাকায়।

মাস্টার্স শেষ করে এখন চাকরি করে অনেক বছর হলো।অনেক রংয়ের জিন্স পরি এবং প্রায়ই সে প্রথম ধূসর রংয়ের জিন্স প্যান্টের কথা মনে পরে..ভিষণ মনে পরে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *