Md. Akabbor Ali PK

 206 total views

বিশ্বের বৃহত্তম ফ্যামিলি।মারা গেলেন বিশ্বের বৃহত্তম পরিবারের কর্তা জিওনা চানা (Ziona Chana)।

#প্রভাষক_একাব্বর_রসায়নবিজ্ঞান।

✓ ৩৯ স্ত্রী, ৯৪ সন্তানের জনক মারা গেছেন বিশ্বের বৃহত্তম পরিবারের কর্তা মিজোরামের জিওনা চানা।

১৯৪৫ সালে বাংলাদেশ লাগোয়া মিজোরামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম জিওনার। মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রথমবার বিয়ে করেন তিনি। আর সব সাধারণ মানুষের মতো একটি বিয়ে করে সন্তুষ্ট থাকতে চাননি। জিওনা এরপর একের পর এক বিয়ে করেছেন। একপর্যায়ে ৩৯ জন নারীকে বিয়ে করেন তিনি।
এতজন স্ত্রী বিশ্বে আর কারো নেই। তিনি এক বছরে সর্বাধিক দশটি বিয়ে করার রেকর্ডও গড়েছেন। আর সব স্ত্রীই তার সঙ্গে থাকেন।

১৩ মার্চ ২০২১ইং লন্ডন ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে প্রকাশিত এক সংবাদে জানা যায়, পৃথিবীর সব থেকে বড় পরিবার প্রধান হলেন জিওনা চানা। তার ৩৯ জন স্ত্রী রয়েছেন। এছাড়াও ৯৪ জন সন্তান, ১৪ জন পুত্রবধূ এবং ৩৩ জন নাতি-নাতনি রয়েছে।

ভারতের মিজোরামে ১৬৭ জনের পরিবার। বিশ্বের বৃহত্তম ফ্যামিলি। ৯৪ সন্তানের জনক, ৩৯ জন পত্নীর স্বামী জিওনা চানা। সম্প্রতি তিনি প্রয়াত হয়েছেন।
পরিবারের ৯৪ জন সন্তান পিতৃহারা হয়েছেন। বিধবা হয়েছেন ৩৯ জন পত্নী। ১৬৭ সদস্যের এই পরিবার সম্প্রতি তাঁদের অভিভাবককে হারিয়েছেন।

মিজোরামের জিওনা চানা সেই বিখ্যাত বাবা। যাঁর ছত্রছায়ায় ছিল এই বিশাল পরিবার। ‘রিপ্লিস বিলিভ ইট অর নট’-এর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর পরিবারই পৃথিবীর মধ্যে সর্ববৃহৎ। ২০১১ সালে এই খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার পরে হতবাক হয়ে যায় গোটা বিশ্ব।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরিবারের প্রধান হয়েও জিওনা এখানে থামতে চাননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবারের কর্তা হতে পেরে গর্বিত। আমি আরো বাড়াতে চাই এই পরিবার। আমার দেখভাল করার জন্য এখন অনেকেই রয়েছে। এটাই পরম শান্তির।
বিশ্বজোড়া দর্শকের সামনে এই পরিবারের মাথা জিওনা সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, শুধু এইটুকু পরিবারেই নাকি খুশি নন জিওনা। পরিবার আরও বড় হোক, তাই চান। তার জন্য আরও যত লাগে বিয়ে করতে তখনও রাজি ছিলেন তিনি। তবে সেই আশা তাঁর আর পূর্ণ হল না।

আপাতত ১৬৭ জনের পরিবারকে অনাথ করে ৭৬ বছর বয়সে চোখ বুজলেন তিনি। রেখে গেলেন মিজোরামের বকতাওয়াংয়ের সেই বিশাল চারতলা বাড়ি। পরিবার বড়, তাই ব্যবস্থাও ততোধিক।

মিজোরাম ও বকতাওয়ং তালাঙ্গনুমে তাঁর পরিবারের কারণে এই রাজ্যে একটি বড় পর্যটকদের আকর্ষণে পরিণত হয়েছিল। মিজোরামের তাঁর বাড়ি একটি অন্যতম ট্যুরিস্ট স্পট হয়ে উঠেছিল। ভিতরে ঘর ১০০ টি। এখানেই সপরিবারে থাকতেন জিওনা। বাকতাওয়াং গ্রামে সেই ৪ তলা বাড়িতেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে থাকতেন জিয়ন। ২০১১ ও ২০১৩ সালে জনপ্রিয় পত্রিকা ‘রিপ্লে’জ বিলিভ ইট অর নট’-এ স্থান পেয়েছিল এই পরিবার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মিজোরামের বাসিন্দা জিওনার বাড়িটিও সংসারের মতোই বড়। ১০০ ঘরের বাড়িতে সবাইকে এক সঙ্গে নিয়ে বাস করেন তিনি। সব স্ত্রীর ঘরই তার ঘরের পাশেপাশে। বিয়ের দিন অনুযায়ী তারা দূরে বা কাছে থাকেন। অর্থাৎ, প্রথম স্ত্রী থাকে সবচেয়ে দূরে আর শেষ বিবাহ করা স্ত্রী জিওনার ঘরের একদম পাশে।

তবে সবারই জিওনার ঘরে ঢোকার অনুমতি আছে।বাড়িতে তাঁর নিজস্ব শোওয়ার ঘরের কাছেই ছিল স্ত্রীদের থাকার ডরমেটরি।সেখানেই থাকতেন তাঁর ৩৯ জন স্ত্রী। তবে সকলকেই সব সময় সেখানে থাকতে হত না। কারণ প্রয়োজন মতো অন্তত সাত বা আট জনের ডিউটি পড়ত শোয়ার ঘরে। কারণ সাত বা আটজনের সাথেই সহবাসে রুচি ছিল এই বিশাল পরিবারের মালিকের!

এই ভাবে বিয়ে কি স্বতঃসিদ্ধ নাকি আইনি মতে নিষিদ্ধ? কিন্তু জিওনাবাবু তো আর সে সবের ধার
ধারেননি। তাঁর কাছে সম্বল তাঁর বাপ ঠাকুরদার প্রচলিত ধর্মবিশ্বাস। বস্তুত এখনও ভারতের বহু প্রত্যন্ত এলাকাতেই কিছু জনজাতির মধ্যে চালু আছে এই বহুবিবাহ। এখানে সংসার করাটা আমাদের মতো প্রাইভেসি মেইন্টেন করা নয়।

জিওনার দাদুই খ্রিস্টানদের এই বিশেষ সম্প্রদায় ‘চানা’র প্রবর্তন করেন বলে শোনা যায়। ১৯৪২ সালে এই সম্প্রদায়ে প্রায় একশো পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন তিনি। সমস্ত পরিবারেই বহুবিবাহ এবং বহু সন্তানের জন্ম দেওয়াটাই এঁদের রীতি। এই রীতি পালনের প্রথম পদক্ষেপ জিওনা নিয়েছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সে। তাঁর প্রথম স্ত্রী ঘরে আনার মধ্য দিয়ে। এরপর একে একে বাড়তে থাকে পত্নীর সংখ্যা। তাঁর সর্বাধিক রেকর্ড আছে এক বছরের মধ্যেই নাকি তিনি ১৭ জনের পাণিগ্রহণ করেন।

সব ছেলেরাই জিওনার বাড়িতে নিজেদের স্ত্রী নিয়ে থাকেন। জিওনার পরিবারে স্ত্রীদের ও ছেলেদের আলাদা ঘর থাকলেও রান্নাঘর একটাই। অর্থাৎ, জিওনাসহ ৩৯ জন স্ত্রী, ৯৪ জন ছেলে মেয়ে ও ৩৩ জনের খাবার এক সঙ্গেই রান্না করা হয়।

জিওনার পরিবারের প্রতিদিন একশ কেজি চাল আর ৭০ কেজির বেশি আলু রান্না করা হয়। আর যেদিন মাংস হয় সেদিন তো ৬০ কেজি আলু আর ৪০টিরও বেশি মুরগি লাগে। জিওনার ছেলেরা সবাই চাষের কাজ ও পশুপালন করায় পরিবারে খাদ্যের অভাব নেই মোটেও। জিওনার পরিবারের মহিলারাও কৃষিকাজ করেন। জিওনা ছানা পেশায় ছুতার ছিলেন।

এইসব স্ত্রী সদলবলে এককাট্টা হয়ে স্বামী এবং নিজেদের সন্তানদের পরিচর্যা করে চলেছেন। কারও সাথে কারও বিবাদ তো নেই-ই, আছে সহযোগিতা।
না হলে এই ১৬৭ জনের তিন বেলার রান্না করা কি মুখের কথা ! যেখানে একবার চা করতেই ৮২ লিটার দুধ,এক কিলো চা পাতা আর দু’কিলো চিনি লাগে। সেখানে নিজেদের মধ্যে মিলেমিশে কাজ না করতে পারলে এই বিশাল পরিবার চলবে কী করে !

জিয়ানা চানার পরিবারের ব্যয়ও যে কোনও সাধারণ পরিবারের চেয়ে বেশি। একটি সাধারণ পরিবারে যতটা রেশন ২-৩ মাস ধরে লাগে, এই পরিবারের প্রতিদিন ততটা রেশন প্রয়োজন। দিনে ৪৫ কেজি চাল, ৩০-৪০টি মুরগি, ২৫ কেজি ডাল, কয়েক ডজন ডিম, ৬০ কেজি শাকসবজি প্রয়োজন হত। পরিবারে প্রতিদিন প্রায় ২০ কেজি ফলও প্রয়োজন হত।

সকালে অ্যাটেন্ডেন্স নেওয়া থেকে শুরু করে রাতে সকলে বিচানায় বালিশ পেল কি না, সব কিছুতে কড়া নজর থাকে বাড়ির কর্ত্রীদের। সন্তানদের বিনোদনের জন্য তাঁদের মধ্যেই আয়োজিত হতো টুর্নামেন্ট। সবাই মিলে একান্নবর্তী পরিবার !

এখন জিওনা চানা চোখ বুজেছেন। পরিবার অনাথ। এবার এই পরিবারের হাল কী দাঁড়ায়, সেটাই দেখার। তবে ইতিমধ্যেই তাঁর নাতি-নাতনির সংখ্যা ৩৩। তাঁরা দাদুর রেকর্ড ভাঙতে পারে কি না, সকলে সে দিকেই তাকিয়ে এখন!

৭৬ বছর বয়সে মারা গেলেন বিশ্বের বৃহত্তম পরিবারের কর্তা মিজোরামের বৃদ্ধ জিয়ংহাকা ওরফে জিয়ন। আইজলের এক হাসপাতালে মারা যান তিনি।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে হাসপাতালের চিকিৎসক লালরিনথুয়াংগা জাহাউ বলেন,
‘‘জিয়নের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ছিল।
৩ দিন ধরে বাকতাওয়াং গ্রামে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আনার কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মৃত্যু হয়।’’

জিয়নের ম়ত্যুর পরে শোক প্রকাশ করেছেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাংগা, রাজ্যের কংগ্রেস সভাপতি লাল থানহাওলা, জোরাম পিপলস মুভমেন্টের নেতা লালদুহোমা প্রমুখ।
মুখ্যমন্ত্রী টুইটে লেখেন, ‘বিশ্বের বৃহত্তম পরিবারের কর্তা জিয়নকে বিদায় জানাচ্ছে মিজোরাম। শান্তিতে থাকুক।

এদিকে পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা স্কুলও বানিয়েছেন জিওনা। সেখানে তার ছেলে-মেয়ে এবং নাতি-নাতিনিরা পড়াশোনা করেছে কিংবা করে। সেই স্কুলটি সরকারের কিছু অনুদানও পায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *