MD SELIM REZA

 164 total views

পানুর ডায়েরী – ৫
মুহাম্মদ সেলিম রেজা

দিনটি ছিল শুক্রবার। দুই পিরিয়ডের পর একঘন্টার লম্বা টিফিন। স্কুল বাউন্ডারির বাইরে গাছতলায় বসে আমরা ক’জন বন্ধু মিলে পরদিন স্কুল ফাঁকি দিয়ে সিনেমায় যাবার ষড়যন্ত্র করছিলাম। এমনসময় দেখি দশ ক্লাসের মেয়ে রুসি তাড়স্বরে চিৎকার করতে করতে মাঠের দিক থেকে ছুটে আসছে। তার চোখমুখে ঘোর অতঙ্ক।
স্কুলের দক্ষিণে, বেশ কিছুটা তফাতে মাঠের মাঝে রায়বাবুদের বিরাট বাগান। উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা বাগানের মাঝখানে একটি পোড়োবাড়ি। ওটা নাকি একসময় নাচমহল ছিল। সংগীত প্রিয় রায়বাবুরা লক্ষ্ণৌ থেকে বাইজি নিয়ে আসতেন। আট-দশ দিন ধরে চলত নাচগানের আসর। কালের করাল গ্রাসে রায়বাবুদের সেই দপদপানি আর নেই, নাচঘরটাও প্রায় ধ্বংসাবশেষে পরিনত হয়েছে।
বাগানকে ঘিরে এলাকায় নানা কথা প্রচলিত আছে। শোনা যায় লক্ষ্ণৌয়ের বিখ‍্যাত মীরাবাঈকে খুন করে বাগানের মধ‍্যে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। মীরাবাঈয়ের অতৃপ্ত আত্মা নাকি এখনও রাতের অন্ধকারে বাগানের ঘোরাফেরা করে। এই ঘটনার সত‍্যাসত‍্য যাচাই করা হয়নি কোনকালেই, তবে মানুষের মনে ভয় থেকে গেছে। তারওপর বছর দুয়েক আগে একটি মেয়ে বাগানের গাছে গলায় ফাঁসি লাগিয়ে আত্মহত‍্যা করে। সেই থেকে বাগানের ধারেকাছে কেউ যায় না।
নানা প্রজাতির ফুল ও ফল গাছের সাথে একটি নারকেল কুলের গাছ আছে সেখানে। ফুল ফুটলে ভ্রমর যেমন মধুর লোভে ছুটে আসে, স্কুলের মেয়েরাও তেমনি কুলে রঙ ধরতে শুরু করলে বাগানের আশেপাশে ছুকছুক করে। তবে কেউ ভেতরে ঢোকে না। পাঁচিলের  এপারে ঝুলে পড়া ডাল থেকে কুল সংগ্রহ করে। কখনও কখনও ছেলেরা তাদের এই কাজে সাহায‍্য করে।
রুসি বাগানের দিক থেকে আসছে। আমরা বৈঠক ভঙ্গ করে তার কাছে ছুটে গেলাম। – কী হয়েছে রে! চিৎকার করছি কেন?
– ভুত!
– কোথায় ভুত?
– বাগানে। গাছের ডালে ঝুলছে।
বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেল নীচু ক্লাসের একটি মেয়েকে সাথে নিয়ে সে কুল পারতে গিয়েছিল। ওরা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল ঠিক তার সমনে পাঁচিলে ছোট একটি ফাটল আছে। হঠাৎ তারা ওই ফাঁক দিয়ে লক্ষ‍্য করে সাদা কাপড় পরিহিত একটি মহিলা গাছের ডালে ঝুলছে। মেয়েটি তৎক্ষণাৎ জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েছে। রুসি কোনরকমে এসেছে তাদের খরব করতে।
খবর তো পাওয়া গেল। কিন্তু ভুতের মুখোমুখি হবে এমন বুকের পাটা ক’জনের কাছে? পানু, আমি আর অচিন্ত‍্য নামের একটি ছেলে বাদে সকলেই ততক্ষণে ফিরতি পথ ধরেছে। অগত‍্য আমরাই রুসিকে নিয়ে অকুস্থলে পৌঁছালাম।
তখনও মেয়েটি চিৎ হয়ে পরে আছে। রুসি ছুটে গিয়ে তার মাথাটা কোলে তুলে নিল। অচিন্ত‍্য ধানের জমি থেকে খাবল খাবল জল তুলে মেয়েটির চোখেমুখে ছিটোতে লাগল। আমি সাইকেল তালার চাবিটা মেয়েটির দু’পাটি দাঁতের ফাঁকে ঢুকিয়ে ধরে বসে আছি, যাতে দাঁতকপাটি লেগে জীভ কেটে না যায়। এই অবসরে পানু টুক করে পাঁচিল টপকে বাগানে ঢুকে গেল। একা যেতে বারণ করলাম,  শুনলো না।
অনেক তদবির-তদারক করার পর মেয়েটি উঠে বসল। তাকে রুসির জিম্মায় রেখে অচিন্ত‍্যকে নিয়ে ছুটে গেলাম বাগানের মূল ফাটকের দিকে। মোটা মোটা লোহার রড দিয়ে বানানো পাল্লা কতদিন খোলা হয়নি, লতাপাতা-আগাছার জঙ্গলে ছেয়ে আছে। জঙ্গল সরিয়ে লোহার রড বেয়ে দরজা পেরিয়ে বাগানে প্রবেশ করলাম।
– পানু। পানু তুই কোথায়? চিৎকার করতে করতে আমরা ছুটে চলেছি বাগানের শেষপ্রান্তে, যেখান দিয়ে পানু পাাঁচিল টপকে বাগানে ঢুকেছে। গাছের ডালপাতায় ধাক্কা খেয়ে আমাদের ডাক প্রতিধ্বনি হয়ে আমাদের কাছেই ফিরে আসছে। শান্তি বিঘ্নিত হওয়ায় বাগানের স্থায়ী বাসিন্দা কাক-শালিকের দল প্রতিবাদে ফেটে পড়ল। তাদের সম্মিলিত কলতানে কান ঝালাফালা হবার জোগাড়। পানু সাড়া দিলেও তা আমাদের কানে পৌঁছানোর কথা নয়।
যেখানে ভুতের ভয় সেখানেই সন্ধ‍্যা হয়। অচিন্ত‍্যর পরনের শার্ট সরু একটা ডালে আটকে গেলে ভুতে ধরেছে মনে করে সে চিৎকার দিয়ে উঠল, বাবারে গেলুম রে! ভুতে খেয়ে ফেলল।
আমি তার থেকে অনেকটা এগিয়ে এসেছি। চিৎকার শুনে পিছন ফিরে দেখি অচিন্ত‍্য হাত-পা ছুড়ে লাফালাফি করছে। তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে তাকে মুক্ত করে, পুনরায় পা বাড়াতে যাব এমনসময় আগাছার জঙ্গল ভেদ করে পানুর আবির্ভাব ঘটল। রুসি কথিত সাদা শাড়ি পরিহিতা মহিলার ঘাড় চেপে ধরে টানতে টানতে নিয়ে আসছে সে।
কিন্তু পানু কাছাকাছি হতে আর এক ভৌতিককাণ্ড ঘটে গেল। সাদা শাড়ি পরিহিতা মহিলা উবে গিয়ে তার হাতে যে এখন এক টুকরো সাদা পলিথিন ঝুলতে দেখছি।
– এ কী কাণ্ড! জানতে চাওয়া হলে পানু পলিথিনের টুকরোটা আমার হাতে গুঁজে দিয়ে একগাল হেসে বলল, ভুতটাকে গাছ থেকে নামাতে খুব কসরত করতে হয়েছে বুঝলি। একেবারে হাপিয়ে উঠেছি।
                          —–
পর্ব- ৬
নবীনবরণ উপলক্ষ‍্যে স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নাচগান, আবৃতি ইত‍্যাদি ইভেন্ট শেষে একটি একাঙ্ক নাটক অভিনীত হবে। বাংলার প্রতাপ স‍্যার একদিন এগারো-বারো ক্লাসের ছেলেদের ডেকে অডিশন নিলেন। ঝেড়েবেছে পাঁচজনকে নেওয়া হল নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করার জন‍্য।
নাটকে একটি নারী চরিত্র আছে, করবী তার নাম। স‍্য‍্যারের ইচ্ছা ছিল নায়িকার চরিত্রে স্কুলের কোন মেয়েকে নেওয়ার। কিন্তু কাউকে রাজি করানো গেল না। শেষপর্যন্ত স‍্যার মেয়ে জোগাড় করার দায়িত্ব নিলেন। তিনি আরও জানালেন ততদিন রিহার্সালে পানু নারী চরিত্রে প্রক্সি দেবে।
জীবনে এই প্রথমবার অভিনয় করা, স্বভাবতই ছেলেরা ভীষণ খুশি ও উত্তেজিত। দু’-তিনদিনের মধ‍্যে সকলে পার্ট মুখস্ত করে ফেলেছে। দেখেশুনে প্রতাপ স‍্যার ও খুব খুশি। তাঁর পরিচালনায় রিহার্সাল শুরু হল, রোজ ক্লাস শেষে একঘন্টার অনুশীলন। দু’দিন শুধু সংলাপ বলা প্রাক্টিস করালেন স‍্যার। তারপর অভিনয়। কয়েক দিনের মধ‍্যে পরিস্কার হয়ে গেল জবরদস্ত মঞ্চাভিনয় হতে চলেছে।
নাটক মঞ্চস্থ হতে আর তিনদিন বাকি। সুমন তালুকদার নামে যে ছেলেটা করবীর স্বামী চরিত্রে অভিনয় করছে সে রিহার্সালের সময় বলল, পানু তো আর স্টেজে অভিনয় করবে না স‍্যার। আসল করবীকে এবার রিহার্সালে নিয়ে আসুন। দু’দিন একসাথে অনুশীলন করলে মঞ্চ শেয়ার করতে সুবিধা হত।
– দেখছি মেয়েটাকে এখনই আনা যায় কিনা। এটুকু বলে স‍্যার প্রমট করা শুরু করলেন। ছেলেরাও আর উচ্চবাচ্য করল না।
পরদিন রিহার্সাল শুরু করার আগে সুসংবাদ দিলেন স‍্যার, আগামীকাল থেকে নায়িকা আসছে। ছেলেদের মধ‍্যে আনন্দলহরী বয়ে গেল। ব‍্যতিক্রম কেবল পানু। সারাক্ষণ মনমরা হয়ে বসে থাকল। রিহার্সালে তেমন আগ্রহ দেখা গেল না। কোনরকমে সময় পার করে শেষবেলায় বলে গেল অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে আর স্কুলে আসছে না। স‍্যার অনেক বোঝালেন, আমরাও অনেক অনেক অনুরোধ করলাম। কিছুতেই তাকে গলানো গেল না।
নায়িকাকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা এবং রিহার্সাল শেষে পুনরায় বাড়িতে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব আমার কাঁধে অর্পন করে স‍্যার সেদিনের মতো বিদেয় হলেন।  পরদিন মোটরবাইক চড়ে অমিভাভ বচ্চনের মতো স্টাইল মেরে স্কুলে প্রবেশ করলাম। বন্ধুরা সব ছুটে এসে ঘিরে ধরল। কেউ কেউ তোয়াজ করতে লাগল যেন তাদের সাথে নায়িকার পরিচয় করিয়ে দিই।
আহা! এযে পরম প্রাপ্তি। খুশিতে মন ডগমগ। যেন হাওয়াই ভাসছি। সারাদিন ক্লাসে মন বসাতে পারলাম না। বারবার মানসচোখে ভেসে উঠছিল একটি দৃশ‍্য, হাওয়ার বেগে ছুটে চলেছে মোটরবাইক। আমার হাতে স্টিয়ারিং, পিছনে বসে নায়িকা। হাওয়ায় ফরফর করে উড়ছে তার মাথার চুল, গলার ওড়না। আমি গাইছি, এপথ যদি না শেষ হয়…..
স্কুল ছুটির আগেই আমি বাইক নিয়ে পৌঁছে গেলাম প্রতাপ স‍্যারের বলে দেওয়া ঠিকানায়। সংবাদ পেয়ে সে বেরিয়ে এল। পরনে লাইট পিঙ্ক কালারের চুড়িদার, গলায় জড়ানো কালো ওড়না। কাঁধে স্টাইলিশ ভ‍্যানিটি ব‍্যাগ। গটগট করে এসে বাইকের পিছনে উঠে বসল সে। এক অজানা অনুভূতির আবেশে আমার সর্বাঙ্গ শিহরিত হয়ে উঠল।
আমাদের গ্রামে প্রতিবছর যাত্রা হয়। গ্রামের ছেলেরা পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করে, মহিলা শিল্পী ভাড়া করে আনা হয়। তাদের রিহার্সাল করতে দেখেছি। রিহার্সালে কেউ মেকআপ করে না। কিন্তু আমাদের নায়িকা রীতিমতো চড়া মেকআপ নিয়েছে। ব‍্যাপার কী? প্রথম থেকেই মনটা খচখচ করছিল। পথ চলতে চলতে একথা সেকথার ফাঁকে কারণ জানতে চাইলে সে বলল, মেকআপ ছাড়া আমার অভিনয় আসে না। কেন তুমি একথা জিজ্ঞাসা করছ? আমাকে কী খুব খারাপ দেখাচ্ছে?
– না না। খুব সুন্দর লাগছে। একেবারে….
– কী?
– রেখার মতো মিস্টি তোমার মুখখানা। ক’দিন আগে রেখা-অমিতাভ অভিনীত সিলসিলা মুভি দেখেছি। চট করে রেখা নামটা মুখে চলে এল।
লুকিং গ্লাসে নায়িকার মুখ দেখতে পাচ্ছিলাম। রেখার সাথে তুলনা করাই তার চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ঠোঁটের কোনায় ফুটে উঠল হালকা হাসির রেখা। তারিফ না করে পারলাম না। বললাম, তোমার হাসিটাও রেখার মতো মিস্টি!
– এই দুষ্টু আয়নায় আমাকে দেখছ, তাই না? পিঠে আলতো করে একটি কিল দিয়ে বলল সে।
– তোমার নাম কি গো?
– করবী।
– সে তো নাটকে। তোমার আসল নাম কী সেটা বল।
– মনে কর সেটাই আমার বাবা-মায়ের দেওয়া নাম। একগাল হেসে বলল নায়িকা।
ততক্ষণে স্কুলের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছি। আমাদের দেখে হৈ হৈ করে ছেলেমেয়েরা ছুটে এসে ঘিরে ধরল।প্রতাপ স‍্যার গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি নায়িকাকে প্রায় হাইজ‍্যাক করে নিয়ে ভিতরে ঢুকে গেলেন। পরের দিনও নায়িকাকে যথারীতি তার বাড়ি থেকে নিয়ে এসে স‍্যারের হাতে তুলে দিলাম। রিহার্সাল বাড়িতে রেখে এলাম।
তৃতীয় তথা অনুষ্ঠানের দিন আর বাইক নয়। নায়িকাকে আনার জন‍্য স্কুল থেকে গাড়ির ব‍্যবস্থা করা হয়েছিল। সন্ধ‍্যা সাতটা নাগাদ নায়িকা রীতিমতো তৈরী হয়ে এসে গ্রীণরুমে ঢুকল। আজ সে আটপৌরে গৃহবধূ। মলিন মুখমণ্ডল। পরনে সস্তা দামের শাড়ি-ব্লাউজ। সিথিতে সিঁন্দুর, হাতে শাঁখা-পলা।
ঠিক রাত আটটায় শুরু হল অভিনয়। প্রথম দৃশ‍্যেই অভিনেতারা দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে। আটশ ছাত্রছাত্রী, তাদের অভিভাবক, আমন্ত্রিত অতিথি মিলিয়ে কমবেশি হাজার দুয়েক দর্শক। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে সবাই নাটক দেখছে।
নাটকের শেষ দৃশ‍্য। করবী বুঝতে পেরেছে স্বামী বিপ্লবী দলে নাম লেখালেও আসলে সে বৃটিশ গুপ্তচর। তার বিশ্বাসঘাতকতায় বিপ্লবী দলের সদস‍্যরা ধরা পরেছে। নিয়মানুযায়ী দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি মৃত‍্যুদণ্ড। কাবেরী নিজের হাতে সেই দায়িত্ব তুলে নেয়।স্বামী বাড়ি ঢুকতেই তার বুকে গেঁথে দেয় বিষ মাখানো ছুরি।
স্বামীবেশী সুমনের বিষের জ্বালায় জর্জরিত হয়ে ছটপট করতে করতে মৃত‍্যুর কোলে ঢোলে পরার আগে স্ত্রীকে ধরতে যায়। কাবেরী ধরা না দিয়ে দ্রূত স্থান পরিবর্তন করে। আর তখনই ঘটে গেল বিপর্যয়। নায়িকার রেশমী মোলায়েম চুল মাথা থেকে খুলে চলে এল সুমনের হাতে।
ঘটনার আকস্মিকতায় সকলে হতবাক। সুমন চুলের গোছা হাতে নিয়ে ক‍্যাবলার মতো দাঁড়িয়ে আছে। কাবেরীর অবস্থাও তথৈবচ। প্রতাপ স‍্যার সম্বিত ফিরে পেয়ে মঞ্চের লাইট অফ করে দিতে বলেন।
গ্রীনরুমে এসে কাবেরী সুমনের পাছায় সজোরে লাথি মেরে বলল, শ্লা তোর মরার কথা। আমাকে ধরতে এলি কেন?
– কে রে পানু!
নায়িকার কন্ঠস্বর শুনে গ্রীনরুমের সবার মুর্ছা যাবার জোগাড় হল।
——-

2 thoughts on “MD SELIM REZA”

  1. PLESASE এই লেখাটি পাবলিশ করবেন না। আগেই পাবলিশ হয়েছে। ভুল বশত পোস্ট হয়ে গেছে।

  2. একসঙ্গে দুটো এপিসোড পোস্ট হয়ে গেছে। প্লিজ ৫ নং এপিসোডটি বাদ দিয়ে পাবলিশ করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *