MOHAMMAD SHAHIDULLAH

 8 total views

কোন এক ছেলে ভুলানো গল্প *মোহাম্মদশহীদুল্লাহ*

প্লে ক্লাশের ছাত্রীটি ক্লাশে প্রথম ঢুকেই শুনলো টিচার পড়াচ্ছেন–আমি তোমাদেরকে আজ ব্যঞ্জনবর্ণ পড়াব।কও ত দেখি সোনামনিরা,ব্যঞ্জনবর্ণ কাকে বলে।
একজন ছাত্রী পালটা প্রশ্ন করে_–আচ্ছা ম্যাডাম, ব্যঞ্জন বর্ণ কাকে বলে এটা আপনি বলে দিন না।প্লিজ

ম্যাডামএকটু থামলেন।বাচ্চাটাকে ধমকালেন—-কিপ,সাইলেনস। বাসায় এগুলা শিখা আসবা।নাহলে ডাস্টার দিয়া মাথা ফাটায়া ফালব।
কেজি টু পর্যন্ত সে ফার্স্ট হতো।কেজি থ্রিতে উঠে জানলো এখাানে তার ফার্স্ট হওয়া নিষেধ
কারন নেতার ছেলে শহর থেকে আসা তোতনকে এখন ফার্স্ট বানাবেন ম্যাডামরা।
ছাত্রীটিকে কেজি স্কুল ছাড়িয়ে মাগনা ইশকুলে নিয়ে গেলেন গার্জেন রা।
ওখানে ক্লাশ ফোর পর্যন্ত সে ফার্স্ট হচ্ছিল সে।এবার সভাপতির নাতীকে ফার্স্ট বানাতে লেগে গেলেন।পরীক্ষা র হলে তাকে সবাই বলে,লিখে দেয়।আর ছাত্রীটার কান্না। সে এত করে পড়ে আসলো সব ভুলে যায় হাউকাউ শুনে। মাঝেমাঝে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তিসহ জিপিএ+৫ নিয়ে পেরুলো সে।হাইস্কুলেও সিক্স থেকে শুরু,ধনাঢ্য ব্যক্তির ছেলে একজন তাকে নিয়ে সবাই ব্যস্ত।প্রশ্ন আউট,হলে উত্তর লিখে দিয়ে ছেলেটার পরীক্ষার সিড়ি পেরুতে কেউ কেউ সহায়তা করলো।
ছাত্রীটি এখানেও কাঁদলো।
স্যারদের কাছে প্রাইভেট না পড়ার অজুহাতে তার পরীক্ষায় মার্ক ওঠে না।
শেষ পর্যন্ত জেএসসি,এস,এসসি দুটোতেই সে জিপিএ+৫ নিয়ে এবার কলেজ।সহপাঠী রা নামে বেনামে দামী কলেজে।প্রাইভেট কলেজে।প্রাইভেট পড়ার জন্য ৬মাস আগে থেকেই বুকিংএর দৌড়ে সে পিছিয়ে।বাসা খুঁজতে খুঁজতে গেলো আরো দুমাস।তার আশংকা সে আর এগুতে পারবেনা।মফস্বল থেকে উঠে আসা ছাত্রীটার পোশাক,আচরণ দেখে দুরে জটলা থেকে টিপ্পনী কাটে বান্ধবীরা।

ক্লাশে প্রশ্ন করে বলে স্যারেরাও হেসে বলেন,এসব প্রশ্নের এনসার নো নিড।ওগুলো পরীক্ষায় আসবেনা।আর তুমি প্রাইভেট পড়ছো না কেন।এত বড় সিলেবাস।শেষ করবে কিভাবে?
আমি তো স্যার রোজই ক্লাশ করতে আসি, ক্লাশইতো হয় না।
স্যারেরা এটা বিশ্বাস করেন না।তারা ধমক দিয়ে বলেন তোমরাইত থাকোনা।
এক পর্যায়ে প্রাইভেটে দৌড়ালো সে।ভোর ছয়টা থেকে সন্ধা ছয়টা।প্রতিদিন রিকশা,অটো ভাড়া,প্রাইভেট কসট,আার বিখ্যাত সব অফার অলা গাইড বই।বাসায় বড় একটা লাইব্রেরি হয়ে যাচ্ছে গাইড বইয়ে ঠাসা।মূল বই থেকে ছিটকে পড়লো।ছিটকে পড়লো ফান্ডামেন্টাল নলেজ থেকে।ছিটকে পড়লো আবৃত্তি, ছবি আঁকা,গানের জগত থেকে।ছিটকে পড়লো সংসার থেকে।মাথায় কেবল ভয় আর ভয়।পরীক্ষার ভয়।শরীরটাও শুকিয়ে যাচ্ছে।খেতে অরুচি।ঘুম,অবসাদ তাকে ঘিরে ধরছে।টেস্টে ৩.৯৫পাবার পর রীতিমত আচরনগত পরিবর্তনও লক্ষ করা গেল।
শেষ দুতিনমাস হঠাৎ মনে হোলো তাকে এভাবে থাকাটা ঠিক হবে না।প্রাইভেটটিউটর এর ঝামেলা শেষ।এবার নিজে পড়বে।মূলবই,নোট,গাইড,স্যারদের টিপস সব মিলিয়ে নতুন করে আবার শুরু।নিয়ম করে।প্রচুর পড়া,প্রচুর প্র্যাকটিস।পরীক্ষা র আগে র এই শ্রমের ফসল জিপিএ+৫।সতীর্থ রা অধিকাংশই ৪ পয়েন্ট সামথিং। এখন তাকে আরেক রানিং ট্র্যাকে দৌড়ুতে হবে।ওটাই এখন নিয়ম।রেওয়াজ।এগুচ্ছে তো বটেই।কিন্তু একটা দেশের মেধাবী জনসম্পদ তৈরিতে এই সিসটেম সমাজকে দৈনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা দেশ হিতৈষী মানুষ পাচ্ছিনা।
^^^^^^^
সমাপ্ত

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *