prokash chandra roy

 4 total views

+ স্ত্রৈণ +
:
প্রকাশ চন্দ্র রায়
:
মৌমিতা-তন্বী,তরুণী,স্মার্ট স্টাফ। নামটিও যেমন মধুমাখা,দেখতেও তেমনিই। দীঘল-কালো চুল,গৌরবর্ণের দেহলতা,ডাগর কালো দু ‘চোখের উপরে চিকন জোড়া ভ্রু। পাতলা ঠোঁটের আড়ালে ছোট ছোট দাঁত বিকশিত করে হাসলে বাম গালে ছোট্ট একটা টোল পড়ে।অফিসে সুধাময় বাবুর সামনের টেবিলে বসে ব্যাচেলর মৌমিতা। নানা ছল-ছুঁতোয় প্রায় সুধাময়ের কাছে এসে অমুলক,অবাঞ্ছিত আচরণ করে,হাব-ভাবে প্রতীয়মান হয় যে,সুধাময় বাবু’র প্রতি পূর্ণমাত্রায় আকৃষ্ট সে।বিবাহিত সুধাময় একদম পছন্দ করে না এসব প্রগলভতা,বরঞ্চ মৌমিতার সঙ্গে তুলনা করে নিজের স্ত্রী লীলাবতীর,আর তখনিই অনুকম্পায় কেঁপে উঠে হৃদয় তার।আহা রে!দীর্ঘ বিশ বছরের বিবাহিত জীবনে কী পেল বেচারী লীলাবতী!উদায়াস্ত খেটে খেটে জীবনপাত করছে কেবল।সংসারের যাবতীয় দেখভাল,খাটা-খাটুনি একাই করে আসছে সে। আজ টিফিন পিরিয়ডে সবাই বাইরে গেছে টিফিন সারতে,অফিসে মাত্র সুধাময় বাবু আর মৌমিতা’ই আছে,ওরা অফিসেই টিফিন সারে প্রায় দিনই। টিফিনবক্স খুলে দেখছেন সুধাময়,কয়েকটা সাদা রুটির সাথে আলুর দম সাজিয়ে দিয়েছে স্ত্রী লীলাবতী।আনন্দে মনটা নেচে উঠলো সুধাময়ের,স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে মনোনিবেশ করলো নাস্তা করায়। এমন সময় মৌমিতাও এলো তার টিফিনবক্স নিয়ে,সুধাময়ের চেয়ার ঘেঁষে বসতে বসতে বলল,
:- আজ কিন্তু আমার প্রস্তাবের জবাবটি দিতেই হবে।
:-কোন প্রস্তাব?কৌতুহল প্রকাশ করলো সুধাময়।
:-ঐ যে,বলছিলাম,আমি তোমাকে ভালবাসি,তোমার সাথে ঘর বাঁধতে চাই। এই বলে অকস্মাৎ একটা চুমু দিয়ে বসলো সে,সুধাময়ের গালে।
ঘটনার আকস্মিকতায় বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেল সুধাময়,কিছুক্ষণ থ’মেরে থেকে তড়াক করে লাফিয়ে উঠল সে চেয়ার থেকে,তারপর নাস্তার বাটি টেবিলে ছেড়ে বেরিয়ে এলো অফিসরুম থেকে।বাইরে এসে ভাবছে,কীভাবে সম্ভব!একজন বিবাহিত পূরুষ,বাড়ীতে বউ-বাচ্চা রেখে অন্য নারীর সঙ্গে ল্যাটঘ্যাট করা কিংবা পরকিয়ায় মত্ত হওয়া বা দ্বিতীয় বিয়েতে সম্মত হওয়া! বাড়ীতে বাবা-মা,ভাই,বোন, আত্মীয়-স্বজনকে ছেড়ে এসে অচেনা একজন পুরুষের উপর জীবনভার ন্যস্ত করে যে নারী,তার সঙ্গে এরূপ অন্যায়-অবিচার করা করা কিভাবে সম্ভবপর হয় একজন পুরুষের পক্ষে! ভাবতে ভাবতে হন হন করে হাঁটা ধরলো সে বাসা অভিমুখে। লীলাবতীকে দেখার অদম্য ইচ্ছে কেন যেন জেগে উঠলে মনে। অফিস হতে পায়ে হেঁটে বাসায় পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র পাঁচ-সাত মিনিট,তবুও সে বাসায় না এসে অফিসেই দুপুরের নাস্তা সারে যদিও টিফিন টাইম পাওয়া যায় পুরো একঘন্টা। পাঁচ মিনিটের পথ যেন উড়েই চলে এলো সে। বাসার মেইন গেটটা খোলাই ছিল,ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখতে পেল,কোমরে আঁচল পেঁচিয়ে ঝাঁটা হাতে উঠোন ঝাঁট দিচ্ছে শ্যামাঙ্গীনি লীলাবতী। ঘর্মাক্ত কলেবর,উসকো-খুসকো চুল,সারা শরীর ধূলো ময়লায় আচ্ছন্ন,তবুও কী চমৎকার দাম্পত্য সুখের অনাবিল এক প্রশান্তির দ্যূতি ফুটে উঠেছে তার চোখে মুখে। অসময়ে স্বামীকে দেখে হাতের ঝাঁটা মাটিতে রেখে, বীরদর্পে এগিয়ে গেল সে স্বামীর দিকে,তারপর দু’হাত কোমরে রেখে কপট রাগের সাথে গর্জন করে বলল,
:- আজকেও আসা হল পাগলামী করতে! এজন্যেই তো সবাই তোমাকে স্ত্রৈণ বলে।
:-হাঃ হাঃ হাঃ,আমার মত সব পুরুষই যদি স্ত্রৈণ হতো তবে নারীদের এত হারে আর অপমানিত,নির্যাতিত হতে হতো না গো।
কথা বলতে বলতে স্ত্রীর দিকে এগোতে লাগলো সুধাময়বাবু। কৃত্রিম আতঙ্কে তিন পা পিছিয়ে গেল লীলাবতী। ততোধিক দ্রুতগতিতে ছয় পা এগিয়ে গিয়ে,অপরিচ্ছন্ন দেহের স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরলো স্ত্রী অন্তঃপ্রাণ স্বামী। (সমাপ্ত) ০৩,১১,২০২০ মঙ্গলবার।

0 - 0

Thank You For Your Vote!

Sorry You have Already Voted!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top