Ratan Basak

 8 total views

বিভাগ – প্রবন্ধ

শিরোনাম – ” উৎসব শরীর ও মনের জন্য ভীষণ উপযোগী । ”
কলমে – রতন বসাক

যখন সভ্যতার বিকাশ হয়নি মানুষ বনে জঙ্গলে থাকতো । তখন খাদ্যকে কেন্দ্র করে সবাই মিলে একসাথে উৎসব মানাত ; হয়তো এই ভাবেই উৎসব মানানোর সূচনা হয়েছিল । উৎসব মানে হলো কোন একটা কিছুকে কেন্দ্র করে অনেক মানুষ একসাথে মিলেমিশে আনন্দ অনুষ্ঠান করা । সেখানে জোর করে নয়, নিজের মন থেকে গিয়ে সবার সঙ্গে খুশি মানানো ।

সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে উৎসবের বিভিন্নতাও এসে গেছে মানুষের সামাজিক জীবনে । উৎসব ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও ঐতিহ্য গত ভাবে মানানো হয়ে থাকে । কিছু কিছু উৎসব ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়, আবার কিছু কিছু নতুন উৎসব সমাজে নতুন করে সৃষ্টি হয়ে থাকে । উৎসবের দিনগুলো যাতে আনন্দে খুশিতে ও আরো ভালোভাবে মানানো যায় তার জন্য মানুষ আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে থাকে ।

এই উৎসবকে কেন্দ্র করে অনেক সময় মানুষে মানুষের মধ্যে অরাজকতার সৃষ্টিও হয় নিজেদের হিংসা বিদ্বেষের জন্যই । নিজের সম্প্রদায়কে ভালো ও অন্য সম্প্রদায়কে হেয় করার জন্য । আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধর্মের সহবস্থান দেখা যায় । প্রত্যেক ধর্মের আলাদা আলাদা রীতি অনুযায়ী তারা উৎসব মানিয়ে থাকে । বছরের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে এক এক ধর্মের মানুষ এক এক রকম ভাবে তাদের উৎসব মানায় ।

আজকাল রাজনৈতিক, সামাজিক ও ঐতিহ্যগত উৎসবও বিভিন্ন জায়গায় মানানো হয় । সেখানে কোন ধর্মের বেড়াজাল থাকে না । যদিও আজকাল দেখা যাচ্ছে মানুষ তার সংকীর্ণ মনের থেকে বেরিয়ে এসেছে । প্রত্যেকে প্রত্যেকের ধার্মিক অনুষ্ঠানের উৎসবগুলোতে মিলেমিশে সবাই আনন্দ করে একসাথে । ধর্ম বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে মানুষ এখন কিছুক্ষণ আনন্দ করাটাই প্রধান ভাবছে ।

আমাদের প্রায় প্রত্যেকেরই একঘেয়েমি জীবন । সেই একঘেয়ামি প্রত্যেক দিনের জীবন থেকে মুক্তি পেতে মানুষ সবকিছু ভুলে উৎসবে মাতে নিজের মনের আনন্দে । উৎসবের ক’টা দিন দুঃখ কষ্ট সব ভুলে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায় । আর এতে মানুষ নতুন ভাবে বাঁচার প্রেরণা পায় আগামীতে । প্রত্যেকটি মানুষেরই মনের ক্ষিদে থাকে আর সেই মনের ক্ষিদে মেটায় এই উৎসব । উৎসবের দিনগুলোতে আমরা সমস্ত রকম চাপ থেকে মুক্ত হয়ে মন খুলে বাঁচি । আর এটা সুস্থ শরীর ও মনের পক্ষে ভীষণ উপযোগী ।

উৎসব যে রকমই হোক না কেন । ওই সময় আমরা একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে মন খুলে কথা বলে একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করি । ধর্ম, নীতি কিংবা অন্যকিছু যে যার নিজের মতো হতে পারে কিন্তু উৎসব হলো সবার জন্য । সেখানে কোন বিভেদ নীতি থাকতে পারে না । খাওয়া-দাওয়া, নাচ-গান কিংবা অন্যকিছু সবাই মিলেমিশে একসাথে করলে আনন্দটা আরো অনেক বেড়ে যায় । আনন্দ কোন সময়ই একা একা উপভোগ করা যায় না ।

এটা একটা ভালোর দিক যে আজকাল মানুষ অন্তত উৎসবের দিনগুলোতে গরীব-দুঃখী মানুষদের অনেক রকম সাহায্য দান করে থাকে, তাদের অসহায়তার কথা ভেবে । তাদের জীবনে ক’টা দিনের জন্য খুশি ও আনন্দ একসাথে ভাগ করে নেয় । তারা হয়তো ভাগ্য দোষে দোষী । তাদেরও সমাজে উৎসবের দিনগুলোতে আনন্দ করার অধিকার আছে । আসলে সমাজে সবাই মিলেমিশে একসাথে আনন্দ করলেই উৎসবে সার্থকতা আসে ।

**********

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *