Ratan Basak

 10 total views

শিরোনাম – ” যৌথ উদ্যোগে শিশুশ্রম বন্ধ করা প্রয়োজন । ”
কলমে – রতন বসাক

শ্রম আমরা সবাই করি ছোট থেকেই । শ্রম অর্থাৎ কাজ, না করলে আমাদের জীবন এগোতে পারে না । এই শ্রমই মানুষকে অন্যান্য প্রাণীদের থেকে অনেক উন্নত করেছে । জীবনের উন্নতি ও অগ্রগতি বজায় রাখতে গেলে কঠোর শ্রম সবাইকেই করতে হয় । তাই এই শ্রম অর্থাৎ কাজকে আমরা কেউই অবহেলা করতে পারি না জীবনে ।

তবে একটা সমস্যা আছে যখন এই শ্রম অর্থাৎ কাজ অপ্রাপ্তবয়স্ক মানুষ করে অর্থের বিনিময় । যাকে আমরা সবাই বলে থাকি শিশুশ্রম বা শিশু শ্রমিক । সমস্যাটাতো এখানেই হয় যখন একজন শিশু কোথায় পড়াশোনা করবে ও জীবনে এগিয়ে চলবে । তা না করে এই বয়সেই সে কাজ করতে বাধ্য হয় পরিবারের চাপে ও বিভিন্ন সমস্যার কারণে ।

অপ্রাপ্ত ব্যক্তি অর্থাৎ ১৮ বছরের কম, কোন মানুষ যদি সামান্য অর্থের বিনিময় কঠিন পরিশ্রম করতে বাধ্য হয়, তাহলে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকে । পড়াশোনা কিংবা অন্যান্য কিছু না শিখেই সে যদি কঠোর পরিশ্রম করে তাহলে তার ভবিষ্যতও অন্ধকার হয়ে যায় । ফলে নিজেকে আর সমাজের সুযোগ্য করে গড়ে তুলতে পারে না ।

পথে-ঘাটে, বাজারে কিংবা ছোটখাটো ব্যবসায় এসব শিশু শ্রমিকদের দেখা যায় । তারা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে সামান্য অর্থের বিনিময়ে বাধ্য হয়ে । আবার তো কখনো কখনো তাদের অনেক অত্যাচার সহ্যও করতে হয় মালিকদের থেকে, সামান্য কিছু ভুলভ্রান্তির জন্য । আসলে এসব শিশুশ্রমিকদের পারিবারিক অবস্থা এতটাই খারাপ ; যে তারা কাজ করতে বাধ্য হয় বা তাদের পরিবার থেকে করানো হয় ।

সামান্য অর্থের বিনিময় মালিকরা এদের থেকে অনেক অনেক বেশী কাজ নিয়ে নেয় । প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক রাখতে গেলে অনেক বেশি অর্থ দিতে হবে । তাই তারা শিশু শ্রমিকই পছন্দ করে বেশি, ছোটখাটো ব্যবসার ক্ষেত্রে । আজকালতো আমাদের সমাজে শিশু শ্রমিক একটা ব্যাধির আকার নিয়ে নিয়েছে । এই ব্যাধি সারানো সত্যিই মুশকিল হয়ে পড়ছে ।

আজকের সরল, সুন্দর, নিষ্পাপ শিশু কালকের দেশের ভবিষ্যত এটা আমরা অনেকেই ভুলে যাই । এই সব শিশু শ্রমিকরা অল্প বয়সেই অর্থ আয় করার জন্য বিভিন্ন নেশা ও খারাপ কাজ করার দিকে ঝুঁকে পড়ে অসৎ সঙ্গের জন্য । এইসব শিশু শ্রমিকরাই বড় হয়ে যখন অর্থের পরিমাণ তাদের বেশি প্রয়োজন হয় । তখন তারা বিভিন্ন অসামাজিক কাজ করতে এগিয়েও যায় ।

আমি বা আপনি এসব শিশু শ্রমিকদের তাদের অন্যায় ভাবে বাধ্য করা শ্রম থেকে বিরত করতে পারবো না । প্রথমেই সরকারি আইন কঠোরভাবে বলবৎ করতে হবে সমাজে । ১৮ বছরের নিচে কোন মানুষকে দিয়েই ব্যবসায়ীক কিংবা কোন কাজ করানো যাবে না অর্থের বিনিময়ে । সরকারি তরফ থেকে দরীদ্র শ্রেণীর পরিবারগুলোকে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে এসব শিশুদের জন্য । পড়াশোনা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করতে হবে । সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এসব শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে ।

এছাড়া সবশেষে বলবো পাড়ার ক্লাব কিংবা বিভিন্ন স্থানীয় সংস্থার মাধ্যমে দরীদ্র শ্রেণীর পরিবার গুলোকে খুঁজে বের করতে হবে । যারা তাদের সন্তানদের পড়াশোনা না করিয়ে অর্থ উপার্জনের জন্য কাজে যেতে বাধ্য করছে । সামাজিক পুজো কিংবা অন্যান্য আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন কম করে তার থেকে বাঁচানো অর্থ এইসব পরিবারগুলোকে দিতে হবে এবং তাদের ব্যক্তিগত ভাবে বোঝাতে হবে । সরকারি ও স্থানীয় উদ্যোগের মাধ্যমে যদি অত্যন্ত গরীব পরিবার গুলোর জন্য কিছু সহায়তা করা হয় ; তবেই শিশুশ্রম ব্যাধি সমাজ থেকে ধীরে ধীরে কমে যাবে ।

******

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *