SANKAR BRAHMA

 6 total views

শংকর ব্রহ্ম-র কবিতা
ষট্ ঋতু
————————————
১).
কবি ও কবিতা
[ অণু-নাটিকা]
শংকর ব্রহ্ম
————————–
কবিতা – কেমন আছ কবি?
কবি – ভাল না মোটেও
কবিতা – কেন?
কবি – ( মনে মনে বলে, ন্যকামো ) তুমি জান না?
কবিতা – না তো!
কবি – কবিতাকে ছাড়া কবি ভাল থাকতে পারে
বল?
কবিতা – ( সহাস্যে ) তাই বুঝি?
কবি – (হাসি দেখে মনে মনে পিত্তি জ্বলে যায়)
তবে কি?
কবিতা – আমাকে ছাড়া চলে না বুঝি তোমার?
কবি – যদি তা বুঝতেই
কবিতা – তবে কি হতো?
কবি – ( ছাই হতো,মনে মনে বলে ) এত করে ডাকার পরও, মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারতে না
কবিতা – কি করব বলো, আমার তো তোমার মতো আরও প্রেমিক আছে,তারা ডাকলে পরে তাদের কাছে যেতে হয়, তোমাকে নিয়ে একা পড়ে থাকলে, আমার চলে বলো?
কবি – না, তা চলে না তো, তবে তাদের কাছে যাও
কবিতা – তা তো যাই-ই
কবি – তবে আর আমার কাছে এসেছো কেন?
কবিতা – তুমি ডাকলে, তাই
কবি – যাও,আর ডাকবো না
কবিতা – ঠিক তো?
কবি – হ্যাঁ, ঠিক
কবিতা – পারবে, না ডেকে থাকতে?
কবি – দেখো, পারি কিনা
কবিতা – হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ
————————————
২).
কাব্য জীবন
শংকর ব্রহ্ম
————————

[ কবির শিরোপা আমি চাইনি কখনও
তোমাদের ভালবাসা চেয়েছি কেবল,
ইচ্ছে হলে দিয়ো সই
না দিলেও ক্ষতি নেই কোন,
এই বেশ ভাল আছি, একাকী অনাথ।]

সত্যি করে বল দেখি তুই
কার কথা ভেবে কষ্ট পাস মনে?
তার?
নাকি তার কাজ-কর্ম
যা তোকে একা করতে হয় বলে,সেই কষ্ট,
তার কষ্ট ভেবে তুই ব্যথা পাস মনে?

– সে যে নেই, আমার কি কাজ তবে আর?

– রান্না-বান্না, মাজা-ঘষা,কাচাকাচি তোর,
কে করে এখন?

– সেটা কোন কাজ নয় কবির নিকট,
শব্দ নিয়ে খেলা করি, আমি কবি নামধারী।

– জীবনের কাব্য লেখ, এবার এখন –
শব্দ ছেড়ে নয় তবে,
হাতা খুন্তি, বাসন কোসনের শব্দে
মুখরিত হয়ে থাক
ধ্বনিত হোক তোর কাব্য জীবন
কিছুকাল অভিধান দূরে রাখ ঠেলে।

৩).
কুঞ্জ গড়ে দেব
শংকর ব্রহ্ম
———————-

কার কথা মনে করে আজ কার কথা ভেবে
নিখুঁত যত্নে তুমি সেজেছো যুবতী
কি দারুণ লাগছে তোমাকে অনুভবে।
স্ফূরিত ঠোঁটের পাশে মোহ
আর চিবুকে মায়াবী তিল ওহো
যেন গ্রহণের ভাষা বুঝে গেছে।

এই অপরূপ রূপময় বিভা
তবে আমি রাখবো কোথায়?
ঘর আজ শূন্য নয় আর
সেখানে রয়েছে একজন
বারান্দায় ছন্দ খেলা করে পুনর্বার
তাহলে কি বুকের গভীরে শুধু
তোমার জন্য এক কুঞ্জ গড়ে দেব?
——————————-
৪).
নেই ভাবতে নেই
শংকর ব্রহ্ম
—————————

নেই ভাবতে নেই,নেই ভাবলে ফাঁকা ফাঁকা লাগে,
মনে কর আছে ধারে কাছে কয়েকটি নক্ষত্র ছড়িয়ে,
কিংবা আকাশের বুকে ভেসে আছে চাঁদ
ইচ্ছে হলে ভাব সেও আছে ধারে কাছে
যাকে তুমি গভীর গোপন টানে মনে প্রাণে চাও।

নেই ভাবতে নেই, নেই ভাবলে উর্বর জমিতে ঢুকে পড়ে নোনা জল
বরং ভাব,সারা মাঠে সোনার ফসল ভরে আছে
গাছে গাছে ফুটে আছে ফুল
বিলকুল ভরে আছে সবই,যেখানে থাকার কথা যা যা।

তোমার একান্ত যা চাই সবই আছে মজুত ভান্ডারে
প্রয়োজনে তোমাকে তা বুঝে নিতে হবে।
—————————–
৫).
কবিতার পংক্তিমালা
শংকর ব্রহ্ম
————————–

কার জন্য এতসব আয়োজন,
কার জন্য শীতের সকালে রোদ্দুরের জন্য আকুল প্রার্থনা,
কার জন্য আগুন জ্বালছি আজও শুকনো পাতায়,
সে আমার কে যে হয়?

কার জন্য বিশল্যকরণী খুঁজে হয়রান,
মিথুন লগ্নে সাপের মুখোমুখি হয়ে
সাত রাজার ধন মানিক সন্ধান?
কার জন্য এত সব গূঢ় আয়োজন,
অন্ধকারে নীরবে দাঁড়িয়ে আলোর প্রার্থনা?

কার কথা মনে করে গোপনে বা উচ্চারণে
কবিতার পংক্তিমালা নীরবে সাজানো?
সে আমার কে যে হয়, বোঝাতে পারি না।
———————————
৬).
লক্ষ্মীছাড়া
শংকর ব্রহ্ম
—————–

ইন্দ্রপতন শব্দটা শুনেছিলাম কানে
সহধর্মিণীর মৃত্যুতে তার বুঝে গেলাম মানে।

তুমি নেই ভাবতেই বুকের ভিতর খালি,
একেবারে শূন্য,
নির্ভেজাল নিঃস্ব, যেন খাঁ খাঁ মরুভূমি,
বুক জুড়ে এতখানি ছিলে বুঝি তুমি?
ভুলেও কখনও যে কেন, আগে তা ভাবিনি,
এখন আর ভেবে কোন লাভ নেই জানি।
তবুও যখন তুমি ছিলে কাছে,
বুঝতে পারিনি কিছু
কতখানি ঘর জুড়ে ছিলে শুধু তুমি?

এখন শূন্যতা শুধু,আমাকেই গিলে খায়
নিদারুণ কষ্টের মোচড়ে
একান্তে বুঝিয়ে দেয়
কিভাবে যে দশভূজা হয়ে,
তুমি সুনিপুন ঠেকিয়েছ দশদিক
এখন দিশেহারা হয়ে ভাবি সব
মনে মনে তোমার অভাব
খুব করি অনুভব।

তুমি নেই আশে পাশে কিংবা কাছাকাছি,
লক্ষ্মী শূন্য ঘরে আজ
লক্ষ্মীছাড়া হয়ে,তবু বেঁচে আছি
আর অন্য কিছু নয়,
মরতে পারি না বলে,মনে নিয়ে ভয়
শুধু আজ বেঁচে থাকতে হয়।
————————————

0 - 0

Thank You For Your Vote!

Sorry You have Already Voted!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top