Satyendranath Pyne

 57 total views

মা কোথায় – সত্যেন্দ্রনাথ পাইন।
তারিখ– ২১ আশ্বিন ১৪২৮!

পলাশীর যুদ্ধের পরেই নাকি বাংলায় দুর্গাপুজোর শুরু। অবশ্য– এটা নিয়ে বহু বিতর্ক হতেই পারে। তবুও যতদূর জানা গেছে প্রথমে ছিল সেটা মাতৃবন্দনা। যদিও তখন পাথর কেটে মূর্তি বানানোর চল ছিল।পাথরের যোগান কম কিংবা ব্যয়বহুল হবার ফলে মৃৎশিল্পের পরিবর্তন আসে। মাটির তৈরি মূর্তি বা অন্যান্য সরঞ্জাম সবই মাটির তৈরি হতো। হয়তো সেই থেকেই মাটির মূর্তির প্রচলন।

আর তখনই রাজা, মহারাজা, জমিদার, বর্ধিষ্ণু ধনীদের পুজো করা মানে হয়ে উঠলো নিজের কেতা দেখানোর ঘণঘটা। নাচ গান ইত্যাদির সাথে বাইজিদের আনাগোনাতে বোঝা গেল কার কত অহংকার। আর সেই থেকেই পুজো রূপান্তরিত হয় বোধহয় “উৎসবের” আঙিনায় । যেটা এখন দুর্গোৎসব নামেই খ্যাতি লাভ করেছে। জানিনা এ ঢেউ কতদিন ধরে রাখতে পারবে বাঙালি! পুজো কার্নিভাল হচ্ছে। যদিও এবারে নাকি “বন্ধ”সেটাও। আগে পুজোর সাথে ছিল আমাদের ছোটদের না পাবার আব্দার।

তবুও আড়ম্বর ছিল। কিন্তু বিলাসিতা ছিল না।
“শিশু” মনের অধিকারী বাঙালি চিরকালই বড়ই আবেগপ্রবণ জাতি। তাই যদি একবার কোনও কারণে সেই আবেগে আঘাত হয় বা কেউ দিতে চেষ্টা করে বাঙালি তার পুরোদস্তুর ফায়দা তুলবেই।
বনেদিয়ানা আর সর্বজনীন বারোয়ারি মন্ডপে এখন থিম পুজোর রমরমা। তাই প্যান্ডেল বা মন্ডপ সজ্জায় বিপুল অর্থের প্রয়োজন পড়ে । এছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার থেকে পুরস্কার দেবার হিড়িক তো আছেই। যার ফলে সাধারণ মানুষদের বড় বেশি পরিমানেই চাঁদার জুলুম হজম করতে হয়। অবশ্য– চাঁদা দেবার ব্যাপারে তাদের অনীহা থাকলেও পুজো মন্ডপ ঘুরে ঘুরে বাজিমাত করতে রাত জেগে ঘোরাঘুরিতে পিছপা নন বাঙালি সভ্য অসভ্য সকলেই।

“অসভ্য” এজন্যই বলা যারা নাকি পুজোতে নতুন পোশাক কিনতে না পেরে পুরোনো পোশাকেই ঘুরতে বাধ্য হয়– তারা নাকি অসভ্য! কিন্তু পুজো উদ্যোক্তাদের কেউ কি ভাবে এদের সাংসারিক দিক।!!! এরা কেউ জাতিতে ঢাকি ঢুলি, ঠাকুর গড়ার মিস্ত্রি পরিবারের কিংবা শোলার কারিগরি বিদ্যায় নিবদ্ধ। । এরা সংসার চালাতে গিয়ে নানান কাজের দক্ষতায় চোখ ধাঁধানো জৌলুস দেখিয়ে তথাকথিত বাবুদের মন জয় করার জন্যে উঠে পড়ে লাগে। এবারের পুজো শেষ হলেই মেতে ওঠে পরের বছরের পুজো উপলক্ষে।

তাই নাকি এরা অসভ্য! হায়রে!
এপার বাংলায় মানুষ এখন যেভাবে যথেচ্ছ খরচ করে এই পুজো উন্মাদনায় তা এককথায় অবিশ্বাস্য। প্রয়োজনাতিরিক্ত কেনাকাটা। অপ্রতুল হয় টাকার যোগানের। কিন্তু তারাই আবার সামান্য অসুখ বিসুখেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে খরচ যোগাতে।

তাই উৎসব হোক— আনন্দ হোক। অবশ্যই এতে মানুষ প্রাণের সন্ধান পাক। কিন্তু জীবন কে খুঁজতে জীবনের সন্ধান পাওয়াটাও খুবই জরুরি নয় কি! দুর্গাপুজো মাতৃবন্দনা থেকে এখন মহা উৎসবে পরিণত হয়েছে। — তা হোক—। কিন্তু গর্ভধারণী মায়ের মতো মাকে প্রতিমার মাঝে প্রতিষ্ঠিত করার বার্তাও যেন থাকে।
তবেই হয়তো মা দশভূজা হয়ে অসুর সংহারে আবার হবেন ধরায় অবতীর্ণ। হবেন দনুজদলনী, মা রনচন্ডি। হবেন মা দুর্গা, মা চন্ডী দশপ্রহরণধারিনী অসুর নাশিনী মহিষমর্দিনী। তবেই আবার নারী হবে শ্রেষ্ঠা। নারীর দেহ হবে পবিত্র মাতৃ স্বরূপা।

আমরা একসাথে গেয়ে উঠবো– “”রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি””।
নাহ’লে পুজো প্যান্ডেলে মাকে তো পাব না। মনে হবে মা কোথায়!?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *