Shampa Saha

 4 total views

#আমবুড়ো_পর্ব_১৪
#শম্পা_সাহা

আবার শুরু হল আমবুড়োর সেই একটানা একঘেয়ে জীবন। দিনে কারখানা, রাতে রিক্সা টানা আর জমাতে লাগল শুধু টাকাই ।বউ চলে যাওয়াতে শেফালী মামী বা শান্তি মামা যে খুব একটা কষ্ট পেয়েছে এমন নয়। কারণ এ তো জানাই ছিল!

তাই কেউ কিছু এ বিষয়ে বললে শেফালী মামী মুচকি হেসে বলতো
-বাদ দাও ! আবলদার কথা
শান্তি মামার ও ওই একই বক্তব্য।
-আরে ওর কথা বাদ দাও

আসলে বিয়েটা না দিলে লোকের প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো
-বয়স হয়ে গেলো রোজগেরে ছেলে! কেন বিয়ে দিচ্ছো না?
ইত্যাদি ইত্যাদি
পৃথিবী যতই এগিয়ে যাক না কেন, আমাদের বঙ্গদেশে অভাবগ্রস্থ বাঙালি বাবা থাকবে এবং তারা তাদের মেয়েদের ঘাড় থেকে নামাতে আমবুড়োর মত আবলদা কেও যোগ্য পাত্র ভাবতে কসুর করবে না!

তাই প্রায়ই সম্বন্ধ আসতো ওর জন‍্য।মেয়ের বাবাদের তরফেই ঘটনাটা ঘটতো!তবে ওই ঘটনার পর মেয়ের বাবারা আর ও পথ মাড়াতো না, কারণ মেয়ে যদি ফিরেই আসে তাহলে, পাঠিয়ে আর লাভ কি?

মামা মামী ছেলের বা বলা ভাল ছেলের জমানো টাকা ভর্তি ট্রাঙ্কের একচ্ছত্র মালিকানা ছাড়তে আর চাইলোনা ।ছেলের বিয়ের কথা তারা ভাববে না আর।বাবা! এক ঝক্কি মিটেছে ! হারু বিয়ে করে আলাদা আবার যদি এটাও তাই হতো তো মামা মামীকে কে দেখতো? তাই বউ চলে যাওয়াতে তারা এক রকম খুশি হলো যদিও তা মুখে প্রকাশ করলে না! সব কথা যে মুখে বলতে নেই ।

আমবুড়োর এর পর থেকে মেয়েদের জন্য এক ভয়ঙ্কর বিতৃষ্ণা জন্মালো। যদিও বাস্তব বুদ্ধি জন্মালো কিনা বলতে পারব না?কারণ আচার আচরণে পরিবর্তন খুব একটা নেই !সেই সকালে ঢলঢলে প্যান্ট আর ফুটোফাটা শার্ট পড়ে পার্কসার্কাস আর রাতে সুভাষ গ্রাম ।ওর জীবন আবার পুরনো ছন্দে !

টাকার নেশা চাগাড় দিল আবার! ও ফিরে গেল সেই আগেকার বুড়োতে। ওর বাড়ির লোক ও স্বস্তিতে ।পাড়ায় যাদের ছেলের বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ ছিল, তাদের অভিযোগের আর জায়গা ছিল না। আর মামা মামীও নিশ্চিন্ত, আবলদা যে বিয়ে করে তাদের কোন রকম ঝামেলায় ফেলবে, সে সমস্যাও মিটলো!

এদিকে দিন-মাস-বছর গড়াতে লাগল, কিন্তু আমবুড়োর আর বদল নেই! তবে ওর মালিক ওকে নিয়ে গিয়ে একটা ব্যাংকের বই করিয়ে দিয়েছে! ওর কারখানার কাজের মত, মাসের শেষে একটা মোটা অংকের টাকা ব্যাংকে ফেলাটা ওর নিজের ডিউটি,যেন ওটাও মালিকের চাকরিরই একটা কাজ বলে মনে করত।তাই মাসের শেষে পাওয়া পুরো টাকাটাই যত্ন করে ফেলে আসতো ব‍্যাংকে!

একটা রেডিও ও কিনে নিল। দিনে কারখানার কাজ সেরে সন্ধ্যেবেলা ওই রেডিওটা রিক্সার সামনের রডে বেঁধে গান শুনতে শুনতে রিকশা চালানো। না কোনদিন পান,বিড়ি পর্যন্ত খায়নি। পাড়ার বদমাশ ছেলেছোকরারা অবশ্য চেষ্টা করেছিল বিস্তর! একবার ওর এক বন্ধু রিক্সাওয়ালা বাবু ওর ঠোঁটে বিড়ি গুঁজে দেয়।
বেচারা কেশে, বমি করে নাকাল। আর একবার জর্দা পান খেয়ে ওই পানের দোকানের সামনেই মাথা ঘুড়ে বসে পড়ে । ভাসানের সময় একটু রঙীন তরল কেউ যে খাওয়ায়নি তা নয়, তবে ওই খেয়ে বমি টমি করে উপকারী বন্ধুদেরই গায়ের ওপর। তাই কেউ আর সাহস করে ওকে ও।পথে টানেনা।

তার ওপর মামী ছেলের কাছে রিপোর্ট পেয়ে একদিন এসে পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে ওই মদ খাইয়ে দেওয়া মদনের গুষ্টির চৌদ্দপুরুষ এমনভাবে উদ্ধার করেছে যে সে বেচারা পারলে তখনি পায়ে ধরে।

আমবুড়োর অন্যসব নেশা বাদ, একমাত্র নেশা টাকা। সেটাই চালিয়ে যেতে লাগল মহানন্দে।

ওদের কারখানা একটা নতুন মেয়ে কাজে লেগেছে, বাসন্তী ।ওর বাড়ি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বাসন্তীতে। ওরা খুব গরিব। প্রথম যেদিন ওদের কারখানায় কাজে লাগে সেই দিনই ওকে দেখে আমবুড়োর মায়া হয় ।এমনিতে ও মেয়েদের ভয় পায়।বৌ যা শিক্ষা দিয়েছে!কিন্তু এ মেয়েটা যেন ঠিক অন‍্য মেয়েদের মত না।

ক্রমশ….
©®

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *