Shampa Saha

 16 total views

#আমবুড়ো_পর্ব_৫
#শম্পা_সাহা

(প্রাপ্তমনস্কদের জন‍্য)

বাড়িওয়ালাদের একটা দোকান আছে, মুদিখানা। যার পেছন দিক দিয়ে বেরোনোর রাস্তা ।সেটা আমবুড়োদের পাশের বারান্দা দিয়ে। আসলে ওটা একটা ভাড়া দেবার ঘর। কিন্তু ভাড়াটে ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় রাস্তার দিকের পাঁচিলটা ভেঙে একটা মুদিখানা দোকান দেওয়া হয়েছে।চাল ডাল, নুন তেল,চানাচুর, বিস্কুট লজেন্স মানে প্রয়োজনে কমবেশি সবই পাওয়া যায়। বাড়িওয়ালা নিজে অথবা ছেলের বৌ অতসী বৌদি মাঝে মাঝে বসে।

প্রয়োজনে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যায়। সে তো যেতেই হয়। তখন বাড়ির ভেতরের দিকের দরজা দিয়ে বের হয়ে, দরজা হাট করে খোলা রাখে।
– কি জানি বাবা কেউ যদি দোকান থেকে মাল তুলে নিয়ে যায়! তাহলে?

গত তিন চারদিন ধরে অতসী বৌদির দিনের শেষে টাকার হিসাব মিলছে না! কি ব্যাপার? এরকম তো কোনদিন হয়নি! আজ বহুদিন বৌদি এই দোকান সামলাচ্ছে, সব হিসেব লিখে রাখে, তাহলে? ক্যাশে টাকা কম কেন? বৌদি পড়ল চিন্তায়।খোকনদাকে বলল
– হ্যাঁগো টাকা কম কেন ?তুমি কি নিয়েছো ?
-দূর নিলে আমি তোমায় বলবো না?
– তাহলে কি কেউ চুরি করছে?
– চুরি?চুরি আবার কে করবে? তুমি ভালো করে হিসাব মিলাও।

বৌদি বারবার হিসেব মেলায় কিন্তু কিছুতেই আর ক‍্যাশের সঙ্গে মিল হয় না।হঠাৎ বৃষ্টির দিন, বৌদি যথারীতি বাথরুম থেকে এসে দেখে কাদা পায়ের ছাপ সারা বারান্দায়! বৌদির পায়ে তো হাওয়াই চটি, তাহলে এই পায়ের ছাপ এলো কোথা থেকে?বেশ মাঝারি পায়ের ছাপ, খুব বড় না আবার ছোটও না!

ডাক পরলো বাড়ির সব ভাড়াটের। বাড়িওয়ালা ভগবান,আশি নব্বই টাকায় দয়া করে থাকতে দিয়েছে। কলকাতা শহরে তো এ স্বর্গ।উঠে যেতে বললে পরিবার, ছেলেপুলে নিয়ে কোথায় যাবে? সবাই মিলে হাজিরা দিল। দাগের পাশে পা রেখে রেখে পায়ের ছাপ মেলানো হল। বেশ একটা ছোটখাটো ব্যক্তিগত পুলিশী তদন্ত বসে গেছে ।
-এই তো
-এই তো
– পাওয়া গেছে
-চোর পাওয়া গেছে

আমাদের সুজিত মানে আমবুড়োই হলো চোর!
-ছি ছি
ধিক্কার, মারধর শুরু হলো শেফালী মামীর। -ওলাউটো মর মর!
শান্তি মামা বাবা হয়ে নীরব দর্শক। শেষপর্যন্ত অতসী বৌদিই ছাড়িয়ে নিয়ে গেলেন।
– মেরোনা, মেরোনা।আহা ,ছেলে মানুষ! করে ফেলেছে!

আসামি তোতলা তোতলা ভাষায় কি যেন বলতে চাইল, কিন্তু চিৎকার-চেঁচামেচি হৈ-হুল্লোড়ে
তা চাপা পড়ে গেল। শেফালী মামী মেরে মেরে ছেলেকে শাসন দেখিয়ে প্রমাণ করল চুরি জিনিসটা তার কতটা অপছন্দের আর বেমালুম ভুলে গেল ছেলের আনা নিমকি, বিস্কুট,চকলেট ,ঝাল মুড়ি খাওয়ার গল্পটা।

অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা বিশেষ করে যারা বস্তিতে থাকে তারা ছোট থেকে একটা জিনিস খুব ভালো করে বুঝে যায়, জীবনে বেঁচে থাকতে গেলে বাবা-মা স্নেহ ভালোবাসা আদর তেমন দরকার না হলেও দরকার আছে কাঞ্চনের।আর কাঞ্চনের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়ে কামিনীর প্রসঙ্গ। আমবুড়ো যত বড় হতে লাগল ওর শারীরিক কিছু ত্রুটি লোকের চোখে ধরা পড়তে লাগলো খুব সহজেই ‌।

একে তোতলা, যার ফলে কথা স্পষ্ট নয়। কৈশোরে এসে পৌঁছলেও ওর শরীরের লোম এর অপ্রতুলতা এবং যৌনাঙ্গের অসম্পূর্ণ বিকাশ যা সহজেই দৃশ‍্যমান। এমনকি ঝর্নার মা জেঠিমা তো সবার সামনেই হাতের আঙ্গুল দুই ইঞ্চি লম্বা করে বলতো
-বতি,বতিবাস্ট
হয়তো ভদ্র সভ্য সমাজে, শিক্ষিত সমাজে এ অবাস্তব, অসঙ্গত! কিন্তু এই পরিবার বা সমাজ যেখানে সবকিছুই রাখঢাক বিহীন সেখানে একটা বারো তেরো বছরের কিশোরের যৌনাঙ্গ নিয়ে কথা বলা বা ইয়ার্কি ঠাট্টা করাটা যেন খুব স্বাভাবিক। এমনকি শেফালী মামী মা হয়েও নিজের ছেলের সম্পর্কে ঝরনার মা জেঠিমার এই বক্তব্যে মুচকি হেসে বলতো
-তুমি যে কি বল না দিদি?

আমবুড়ো কিন্তু রেগে যেত। ও আর সবার মত নয় কিন্তু তবুও ওর ব্যাপারটা ভাল লাগত না। মাঝে মাঝে দু একজন কাকিমা জেঠিমাও অত বড় ছেলের প্যান্টে হাত দিতেন এবং সেটা সবার সামনেই । বলতেন
– দেখি দিদি কি বলছে? ঠিক না ভুল?
মজার ব্যাপার হলো এতে কেউ রেগে যেত না, কেউ এতে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখতো না, এটা যে খারাপ বা এরকম আচরণ যে অশ্লীল,অশোভন এটাও যেন কারো মাথাতেই নেই।

এমনকি ওখানে দিব্যি বিবাহিত তিরিশ পঁয়ত্রিশের মহিলারা ব্লাউজ খুলে পাতলা একটা শাড়ির আঁচল বুকে,রাস্তায় বসে স্থান করে, হাঁটুর অনেকটা ওপরে কাপড় তুলে সাবান মাখে। পুরুষরা রাস্তাতেই বা রাস্তার পাশের সেলুনে দুই হাত তুলে চৈতন্য হয়ে তাদের বাহুর লোম পরিষ্কার করে আর নাপিতও অবলীলায় তা করে দেয় ।একবারও তা কারো কাছে অশ্লীল বা অশোভন মনে হয় না। সে সময় হয়তো একটি পাঁচ সাত বছরের বাচ্চা মেয়ে নাপিতের কাঠের বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করছে তার চুলটা কাটবে বা মাথা ন্যাড়া করবে বলে‌।

এরই মধ্যে ঘটে গেল এক কাণ্ড !ওদের বাড়িতেই ছিল এক বিহারী পরিবার ।তারা অবশ্য বছর তিরিশ ওখানেই ।কারণ ওই ভাড়াবাড়ির ভাড়াটিয়ারা কেউই ওই বাড়িতে কুড়ি বছরের নিচে নেই! কারো কারো তো ওই বাড়িতেই শিকড় গজিয়ে গেছে।এতদিন থেকে থেকে ও বাড়ি যেন নিজেদেরই ।

পরিবারের যিনি গিন্নি, তাকে সবাই পেয়ারী মাসী বলেই চেনে। তার বেশ আঁটোসাঁটো গড়ণ। তেপান্ন বছর বয়সে পৌঁছেও তার বক্ষ সৌন্দর্য দেখলে মনে হবে যেন বছর আঠারোর তরুণী। আঁটোসাঁটো শরীর নিয়ে উনি যখন গায়ের ব্লাউজ খুলে রাস্তার কলপাড়ে বসে সাবান দেন, তখন দূরে দাঁড়িয়ে হলেও পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে বহু মানুষ অবাক হয়! ভাবে তিন তিনটে ছেলে মেয়ের মা, মেয়ের আবার বিয়েও হয়ে গেছে, ছেলেরা দুজনেই বড়, কারখানায় কাজ করে,তবু তার সৌন্দর্যের রহস্য কি? মেয়েরা নিজের শিথিল দেহের দিকে তাকিয়ে চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আর পুরুষদের দীর্ঘশ্বাস পড়ে নিজেদের স্ত্রীদের কথা ভেবে!

এক গরমের রাতে সেই পেয়ারী মাসী ঘরের মেঝেতে শুয়ে। গরমের জন্য বাড়ির সবারই দরজা খোলা। ওই ঘুপচি ঘরগুলোতে জানালা বলতে মাত্র এক ফুট দেড় ফুটের ঘুলঘুলি । তাই দরজা দিয়ে যদি কিছুটা হাওয়া আসে। ফ্যান বলতে তো তাদের কাছে ভাতের ফ্যান সহজলভ্য বা পরিচিত।

শানু দা, ওই বাড়িরই ভাড়াটে। যার বাম হাত জন্মের মত কারবাঙ্কলে পঙ্গু,ল‍্যাকপ্যাক করে শুধু দেহের সঙ্গে ঝোলে, ডানহাত অবশ্য শক্ত-সমর্থ ।ভোররাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে উঠে দরজা খোলা, আবছা আলোয় মাসীর অসতর্ক সৌন্দর্য দেখে হাত চালিয়ে দিয়েছে, সামলাতে পারেনি নিজের অসংযমী অসঙ্গত যৌবনচিন্তাকে !নিজের ঘরে তিন তিনটে অবিবাহিত দিদি বোন মিলিয়ে, নিজের পঙ্গুত্ব আর হাঁপানি রোগের জন্য বিয়ের পাত্রী জোটাতে পারেনি কিন্তু শরীর মাঝে মাঝে ওত পেতে থাকে ছোবল দেবার জন্য যে।

ক্রমশ….

©®

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *