Shampa Saha

 8 total views

#আমবুড়ো_পর্ব_৬
#শম্পা_সাহা

(প্রাপ্তমনস্কদের জন‍্য)

পেয়ারী মাসী এমনিতেই বেশ ডাকসাইটে।মাথায় ঝুড়ি নিয়ে এপাড়া ওপাড়া ঘোরে গোবরের খোঁজে। ঘরের দেওয়ালে সেই ঘুঁটে দিয়ে , তাই বেচে ।রাস্তার কল থেকে অন্তত তিরিশ বালতি জল টানে।বেশ শক্তপোক্ত চেহারা।

হঠাৎই অস্বাভাবিক নাড়াচাড়া দেখে ঘুম ভেঙ্গে দেখে, বুকের ওপর শানুদা ।আচমকাই চালিয়ে দিল এক ঘুষি। তখন শানুদার ডানহাত ব্যস্ত ছিল আর বাঁ হাত তো অকেজো।ঘুষি খেয়েই দৌড় বাড়ির বাইরে।কিন্তু ততক্ষণে মাসীর শক্ত মুঠোয় শানুদার ল‍্যাকপ‍্যাকে বাঁ হাতটা।

ঢি ঢি পড়ে গেল সারা বাড়িতে। অন্তত চল্লিশ জন ভাড়াটে একজোট। ঘটনা এক বিশাল গন্ডগোলের আকার নিল ।মাসীর দুই ছেলে তো এই মারে ,সেই মারে।

যে পুরুষ হাত এতক্ষণ বুকে খেলা করেছিলো সেই হাতই আছড়ে পড়ল মাসীর পায়ে । ওর পঙ্গুত্ব আর বোনেদের হাপুস কান্না দেখে সবাই ছেড়ে দিলো।তবে সতর্ক করা হলো
-আর যদি এরকম হয় তো বাড়ি ছাড়া করবো

মাসীর সঙ্গে এসব কিছুর থেকে আমবুড়ো একটা নতুন জিনিস শিখলো। এতদিন ছেলেবন্ধুরা ওকে নানানভাবে ব্যবহার করেছে আর ও নিজেও কখনো তাতে কিছু বলেনি। স্বেচ্ছায় নিজেকে ব্যবহৃত হতে দিয়েছে ।কিন্তু অন্য লিঙ্গের সঙ্গে যে এ রকম করা যায়, বাস্তবে যে তা হতে পারে,এবং বর বৌ না হয়েও অন‍্য কারো সঙ্গে এ জেনে ওর মনে এক অন্য দিগন্ত খুলে গেল। কিশোর মনে এনে দিল এক নতুন আবিষ্কারের স্বাদ ।এ ভালো কি মন্দ? তা জানা নেই। কিন্তু ওর অবুঝ মন, যাতে ভালো মন্দ, ঠিক বেঠিক আদর্শ, অনাদর, বিচার,বিবেচনা এসবের কোনো ব‍্যাপার ছিল না।যা ছিল ভীষণ রকম বাস্তববাদী ও পার্থিব আনন্দ কেন্দ্রীক। তাতে সংযোজিত হলো আরো এক লোভ। নারী শরীরের লোভ।

এর মধ্যে একদিন টিভিতে শোলে সিনেমা দিয়েছে।সেই দিনই প্রথম টিভিতে দেখাবে সিনেমাটা। ওই সময় রবিবার দুপুরে একটা করে হিন্দি সিনেমা হতো।তাও আবার শোলের মত নামকরা সিনেমা। সে সময় কটা লোকেরই বা ঐ বস্তিতে পয়সা ছিল,যে টিকিট কেটে হলে সিনেমা দেখবে?সিনেমা দেখা বলতে তো পাড়ার ক্লাবে শিবরাত্রির দিন মেয়েরা রাত জাগবে বলে ভি .সি.আর. ভাড়া। তাতে দু টাকার টিকিট কেটে সিনেমা দেখা। কিন্তু এত নামকরা ছবি দেখা হয়ে ওঠেনি ।তাই সেদিন একেবারেই শুনশান দুপুরবেলা, মরুভূমির মতন ফাঁকা ।

সেদিন রবিবার বেশিরভাগ লোকই খেয়েদেয়ে পাড়ার যে কটা হাতেগোনা বাড়িতে টিভি, তাদের বাড়ির উঠোনে বা বারান্দায় ভিড় জমিয়েছে ।এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে আমবুড়ো আর ওর সঙ্গীরা চলে গেল পাড়ার এক দোতলা বাড়ির পিছনে। পাঁচিলের আড়ালে শুরু হলো তাদের নতুন খেলা।

কিন্তু দুর্ভাগ্য,এক কাকুর চোখে পড়ে যাওয়ায় ওকে টানতে টানতে নিয়ে আসা হল বড় রাস্তায় ।আমবুড়োর ইজের প্যান্ট তখনও কোমরের অনেকখানি নীচে, এক হাতে ধরে ।অন্যজন কোন ফাঁকে পালিয়েছে। আবারো শেফালী মামীর বেদম মার, আর ওই এক মন্ত্র জপ
– মর!মর ওলাউটো!মর!

ভুলে গেল যে তাদের চার ছেলেমেয়ে, ওই দশ ফুট বাই দশ ফুটের ঘরে, প্রতি রাতে সাক্ষী থাকে তাদের প্রাত্যহিক যৌন জীবনের, শীৎকারের!

এইরকম এক পরিবেশের মধ্যে বড় হয় আমবুড়োর মতো আমাদের ভারতবর্ষের কোটি কোটি ছেলে মেয়েরা যাদের সত‍্যিকারের শৈশব বলে কিছু থাকেনা। শিশু অবস্থাতেই তারা বুঝে যায় জীবনের সব ঘাৎ ঘোঁৎ। যৌনতা, অর্থ, নেশা, শখ-আহ্লাদ সবই তাদের বড়দের মতো। তারা আসলে শিশু বা কিশোরের শরীরে এক একটা পঁয়ত্রিশ চল্লিশের প্রবৃদ্ধ।

আমবুড়ো চোখের সামনে দেখে খোকনদা আর টুনটুনি পিসী,বন্ধ দোকানে কত কিছু করে । কখনও কখনও রিম্পা কে হাতে একটা চকলেট দিয়ে কোলের উপর বসিয়ে কত কিছু করে সেই খোকনদাই। তারপর রিম্পা একটা চকলেট নিয়ে বের হয়ে আসে। প্রথম দিন থেকেই ও এই ঘটনার সাক্ষী।

যেদিন প্রথম খোকনদা সাত বছরের রিম্পা কে দোকানের ভেতর ডেকেছিল, ও নিছক কৌতুহলী হয়েই ভেজানো দরজার ফাঁক থেকে দেখেছিল, খোকনদা কি কি করলো?শেষে রিম্পা কাঁদো কাঁদো হলে, হাতে একটা দামি চকলেট পুরে বলেছিল
-খবরদার কাউকে বলবি না। এই সময় আসবি যখন সময় পাবি।

দুপুর তখন দেড়টা,দোকান দুটোয় বন্ধ ।অতসী বৌদি এখন স্নান সেরে পুজোতে ব্যস্ত। রিম্পার মা এখনো বাবুর বাড়ি কাজ করে ফেরেনি, বাবা তো রাজমিস্ত্রি ।সেই সন্ধ্যেবেলা ফিরবে ।ছোট্ট মেয়েটা এ ঘর ও ঘর ঘুরে বেড়ায় ।দুপুরে খিদে পেলে অপটু হাতে মায়ের রেখে যাওয়া হাঁড়ি থেকে নিজের হাতেই ভাত বেড়ে খেয়ে,যে থালাটায় খায় সেটা কোনরকমে মেজে রাখে।

আমবুড়ো প্রায়ই , ওই বাচ্চা মেয়েটার এখানে ওখানে শামু কাকা,অতনু দা, দেবানন্দ জেঠুকে হাত বুলাতে দেখেছে। আমবুড়োর কিন্তু ওসব ভালো লাগে না। ওর ভাল লাগে অন্যরকম! কিন্তু ও তো কারো কে জোর করে না?ও আর ওর বন্ধুদের তো এটা খেলা!

রিম্পা তো মাঝে মাঝে তারকের সঙ্গে বর বৌ খেলে। তখন অবশ্য রিম্পা কাঁদে না। তারকের সঙ্গে খেলার সময় কিন্তু ও হাসে। আসলে ওরা যে এসব দেখে দেখেই বড় হয়েছে। কিন্তু কই রিম্পা তো মেয়ে। তবু ওর সঙ্গে এসব করবার জন্য খোকনদাকে তো কেউ মারে না? বা তারক দা কে?

খালি ওকে মার খেতে হয়! কেন? ওদের পয়সা নেই বলে?ও ছোট বলে? তাহলে তো পয়সাটা জোগাড় করতে হবে! আর বড় হতে হবে, আরও!টাকা চাই, অনেক টাকা! কিন্তু কিভাবে? ও দোকান থেকে টাকা চুরি করে একটা মানিব‍্যাগ কিনেছে কিন্তু তাতে টাকা পয়সা আর কোথায়?

সেনবাবু এ পাড়ার সব থেকে বড় লোক ।যখন দোকানে এসে পয়সার ব্যাগ খুলে টাকা দেয় ,তখন ও দেখেছে ব্যাগটা কোলা ব্যাঙের পেটের মত ফোলা ।কিন্তু ওর ব্যাগে তো দু টাকার দুটো নোট পড়ে।

সেন বাবুকে লোকে কত মান্যিগন্যি করে !দোকানে গেলে সবার আগে ওনাকেই মাল দেয়।উনি এক একবারে যে পাঁচশো ,সাতশো টাকা করে বাজার করে। ফট করে নোট ফেলে দেয় দোকানদারের পাল্লার ওপর ।আমবুড়ো তখন হয়তো দু টাকার মুসুরির ডাল, এক টাকার লবণ কিনতে গিয়ে এক কোণায় দাঁড়িয়ে।

ক্রমশ…..

©®

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *