Subrata Dutta

 12 total views

।। বুমেরাং ।।
(অনুগল্প)
সুব্রত দত্ত
————–

পুঁটি আর মানিক। পাশাপাশি বাড়ি। একই কলেজে পুঁটি ফার্স্ট ইয়ার আর মানিক ফাইনাল ইয়ারে পড়ে। দোতলায় পুঁটির জানালার পাশেই মানিকের জানালা। পাশে পড়ার টেবিল। মানিক হঠাৎ জানালা দিয়ে তাকাতেই দেখে পুঁটি ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে। মানিক চোখ সরিয়ে নেয়। কৌতূহলবশত আবার তাকায়। দেখে পুঁটি তাকিয়েই আছে। মানিক বলে,
— “কি রে, তাকিয়ে আছিস যে? কিছু বলবি?”
সম্বিৎ ফিরে পেয়ে পুঁটি বলে,
— ‘নাঃ, কিছু না।”
— “তাহলে তাকিয়ে আছিস কেন?”
— “এমনি!”
— “এমনি মানে? জানালা বন্ধ কর।”
— “কেন? তোমারটা বন্ধ করো।”
— “বন্ধ করলে অন্ধকারে পড়ব কি করে?”
— “আমি কি জানি। Problem টা তোমার।”
— “এই, সাবধানে কথা বলবি। চোপ, পুঁটিমাছের মত এত লাফাস কেন?
— “কি বললে? পুঁটিমাছের মত? দাঁড়াও,দেখাচ্ছি মজা।”
পুঁটি দৌঁড়ে নিচে গিয়ে দুহাত ভরে ইঁটের টুকরো নিয়ে আসে। বড় একটা টুকরো ছুঁড়ে মারে মানিকের জানালা লক্ষ্য করে। সেটা গ্রিলে লেগে শোঁ করে দিক পরিবর্তন করে পড়ল গিয়ে মানিকের বইয়ের আলমারিতে। ঝনঝন করে একদিকের কাচ গেল ভেঙে। মানিকের প্রচণ্ড রাগ হয়। চিৎকার করে বলে,
— “ওই বাঙাল পুঁটি, এটা কি করলি? আমি কিন্তু তোর ঘরের সবকিছু ভেঙে ফেলব।”
পুঁটি বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বলে,
— “এই কাঁচকলা! ঘটি কোথাকার! কিসসু করতে পারবে না।”
— “দাঁড়া!” বলে মানিকও ইঁটের টুকরো জোগাড় করে এনে ওদের জানালায় ছুঁড়তে থাকে। একটা গিয়ে লাগে পুঁটির নাকে। পুঁটি তো “বাবারে, মারে” বলে চেঁচিয়ে কাঁদতে থাকে। ওর বাবা মা হাজির। সব দেখে রেগে আগুন! ওর বাবা বলে,
— ” এই মাইনকা, তুই এইডা কি করলি? অহন আমি তগো বাড়ি ভাইঙ্গা ফ্যালামু।”
— “আপনার পুঁটিই তো আগে ইঁট ছুঁড়ল।”

ইতিমধ্যে মানিকের বাবা, মা আর বোন হাজির হয়। তুমুল চিৎকারের লড়াইয়ে কোনো কথা বোঝা যায় না। প্রতিবেশীরা এসে ঘটতে যাওয়া শারীরিক সংঘর্ষ অবশেষে কোনক্রমে আটকে দেয়। আর পুঁটি তার ঘরে বসে জলে ভরা চোখ আর ফুলে ওঠা লাল নাকে হাত রেখে ভাবে, ওর মনের প্রথম কলি নিজেরই ছোঁড়া এক ইঁটের ঘায়ে ঝরে পড়ল। তক্ষুনি মানিক তার নিজের জানালা জোরে শব্দ করে বন্ধ করে দিল। পুঁটি হাঁপুস নয়নে কাঁদছে আর ভাবছে, এবার সুস্মিতাই মানিককে ছোঁ মেরে তুলে নেবে। হায় ভগবান!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *