Subrata Majumdar

 59 total views

#সুতনুকা

#সুব্রত_মজুমদার

প্রিয় সুতনুকা,
বৎসরের পরে দেখলাম তোমায়,
সেই সে হরিণ আঁখি, কাজলের রেখা গিয়েছে মুছে,
গুছিয়ে পরা শাড়ির আঁচলে খোকার কাজলের দাগ।
তখন নির্মেদ ছিলে তুমি,
যেন পটুয়ার আঁকা পটের সে ছবি; –
আজ সেই সুগঠিত মধ্যমায় চর্বির আস্ফালন।
মনে পড়ে, সেদিনের কথা ?
সেই যে সেদিন কলেজ বাঙ্ক করে ময়ূরাক্ষীর ধারে..?
সেদিন তোমার চোখে ভীরুতা ছিল,
আমাকে চেপে ধরেছিলেন হঠাৎ,
ভেবেছিলাম এ দৃঢ় আলিঙ্গন শিথিল হবে না কোনোদিন,
আমিও বেঁধেছিলাম দু’বাহুর ডোরে।
কাল বলে একটা জিনিস যে আছে খবর রাখতাম না তার,
ভাবতাম দিন যাবে এমনি করেই;
হঠাৎ সে ঝড় এলো এলোমেলো হাওয়া,
উড়ে গেল তিল তিল করে বাঁধা বাসা।
মুরুব্বিরা বলল, চাকরি তো করে না ও, বেকার বাউন্ডুলে।
প্রতিবাদ করোনি তুমিও, – হয়তোবা পারোনি।
শুভ ক্ষণে শুভ লগ্নে বেজে উঠল সানাইয়ের সুর,
মধুবন্তীর আলাপে ভরে উঠল দিগ্বিদিক।
এদিকে আমার কুঁড়েঘরে বাজপড়া কদমের নিচে
মারোয়ায় বেজে ওঠে বাঁশি;
সে সুর আটকে থাকে সন্ধ্যার গুমোট বাতাসে।
‘কি নেই কি নেই’ এর সঙ্গে ‘সব আছে’র অসম লড়াই,
কে জিতল কে হারল তা জানে নাকো কেউ।
এখন আর কবিতা আসে না মনে,
বাঁশি আছে পড়ে বাক্সের গহন অন্ধকারে।
মোড়ের মাথায় চায়ের দোকান, টিমটিম করে আলো জ্বলে।
কি নেবেন ? ছেলের জন্য দুধ ?
পয়সা লাগবে না ম্যাডাম।
শুধু বসে যান দু’দণ্ড গরীবের ছোট্ট এ আশ্রয়ে,
গাড়ি এলে যাবেনই তো চলে, –
চলে যাব আমরা সবাই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *