Sudip Ghoshal

 84 total views

  • পরকীয়ার সাত সতেরো

    সুদীপ ঘোষাল

    মানুষ ও পশুপাখি, উদ্ভিদজগতের সকলেরই সুনির্দিষ্ট একটি জনন প্রক্রিয়া আছে এবং তাহা লিঙ্গ ব্যাতিরেকে অসম্ভব।লিঙ্গ না থাকলে পৃথিবী কেমন হত? শুধু প্রস্রাব করার জন্য কোন ব্যবস্থা থাকত। ধরা যাক বংশবিস্তার করার জন্য অনুভূতিহীন কোন ব্যবস্থা থাকত।তাহলে পৃথিবী কি এত উপভোগ্য হত মানুষের কাছে।বলতে বাধা নেই এই লিঙ্গের জন্যই সবকিছু নিবেদিত।প্রেম,ভালোবাস,আত্মহত্যা, ধর্ষণ,পর্ণ ব্যাবসা সবকিছুই এই লিঙ্গের উপরে নির্ভর করে টিকে আছে।আসুন লিঙ্গ সম্বন্ধে সবিস্তারে কিছু জেনে নিই।যৌনতা ও যৌনাঙ্গ নিয়ে পৃথিবীতে সত্য, মিথ্যা, জল্পনা আর মিথের ছড়াছড়ি। নারী, পুরুষ নির্বিশেষে এই বিশ্বাস বহু সমস্যার জন্ম দেয়। তবে প্রকতৃ সত্য নিয়ে সঠিক তথ্যের অভাব থেকেই যায়। একটি পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে সাত ধরনের পুরুষ যৌনাঙ্গ, সাত আকৃতির পেনিস রয়েছে। কমপক্ষে ৪০০ থেকে ৬০০ জন পুরুষের পেনিস পরীক্ষা করার পরই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।জৈবিক লিঙ্গ বা যৌনতা হল, যা কোন নির্দিষ্ট জীবের প্রজনন-সংক্রান্ত কার্যপ্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, পুরুষ ও নারী হিসেবে, যা উদ্ভিদ ও প্রাণীতে যৌন প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে প্রজাতিসমূহের বংশবিস্তার ঘটায়। বহু প্রজাতির জীব সম্প্রদায় রয়েছে যেগুলো প্রধানত নারী ও পুরুষ হিসেবে দুটি আলাদা শ্রেণীতে বিভক্ত, এই শ্রেণী দুটির প্রতিটিই পৃথকভাবে এক একটি যৌনতা বা জৈবিক লিঙ্গ বা সেক্স হিসেবে পরিচিত। যৌন প্রজনন হল জীবজগতের মাঝে একটি সাধারণ প্রজনন বা সন্তান জন্মদান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার জন্য একই প্রজাতির দুটি বিপরীত যৌনতার জীবের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংযোগের প্রয়োজন হয়। উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয়ের দ্বারাই যৌন প্রজনন প্রক্রিয়া ঘটে থাকে। এছাড়া কিছু ছত্রাক এবং বিভিন্ন এককোষী জীবেও এই প্রক্রিয়া দেখা যায়। যৌন প্রজনন প্রক্রিয়ায় একাধিক উৎস থেকে আগত জেনেটিক বৈশিষ্ট্য মিলিত ও মিশ্রিত হয়।গ্যামেট নামক বিশেষায়িত কোষদ্বয় মিলিত হয়ে সন্তান গঠন করে, যা পিতা ও মাতা উভয়ের কাছ থেকে বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। গ্যামেটদ্বয় গঠন ও কার্যপ্রণালীর দিক থেকে একই রকম হতে পারে, কিন্তু বহু ক্ষেত্রে এটি বিবর্তিত হয়ে গ্যামেটের ভিন্নতা দেখা যেতে পারে, এমন ক্ষেত্রে দুটি নির্দিষ্ট-যৌনতা বিশিষ্ট পৃথক গ্যামেট পাওয়া যায়।এবার আসি উভলিঙ্গ মানুষ মানসিকভাবে খুবই বিপর্যয়ের মধ্যে থাকেন কেন? কারণ তারা প্রাকৃতিক নিয়মে তাদের আসল পরিচয় কী, সেটা খোঁজা তাদের জন্য খুবই কষ্টের একটা প্রক্রিয়া হয়ে ওঠে। দেখা গেছে শিশু বয়সে অস্ত্রোপচার করে তার লিঙ্গ নির্ধারণ করে দেবার পর প্রাপ্ত বয়সে এসে সে হয়ত বিশাল দোটানায় ভুগছে যে আসলে তার লিঙ্গ সঠিকভাবে নির্ধারিত হয়েছিল কীনা।চিকিৎসকরা বলছেন চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে কারো লিঙ্গ নির্ধারণ করার বিষয়টাকে তারা কখনই হালকাভাবে নেন না। তারা শিশুর জেনেটিক পরীক্ষা করেন। তারপর একাধিক চিকিৎসক ও জেনেটিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং বাপমায়ের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই এসব অপরাশেন করা হয়ে থাকে।তবে উভলিঙ্গদের নিয়ে যারা কাজ করেন তারা মনে করেন, শিশু বয়সে শারীরিক কারণে প্রয়োজন না হলে এধরনের অস্ত্রোপচার না করানোই উচিত। কারণ ঐ শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর সে নিজে কী হতে চায় সে সম্পর্কে সে যদি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে তাহলে ভবিষ্যতে তার মানসিক বিপর্যয় হয়ত কিছুটা কম হতে পারে।উভলিঙ্গ শিশু হয়ে জন্মানো ও পরে নারী হিসাবে বড় হয়ে ওঠা তিনজন বিবিসিকে বলেছেন তাদের কঠিন মানসিক লড়াই আর কীভাবে তারা বিষয়টা মানিয়ে নিয়েছিলেন তার কাহিনি।বৈদিক যুগের আদি পর্বে নারীরা জীবনের সকল ক্ষেত্রেই পুরুষের সঙ্গে সমানাধিকার ভোগ করেছে। পতঞ্জলি বা কাত্যায়ণের মতো প্রাচীণ ভারতীয় বৈয়াকরণের লেখা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে আদি বৈদিক যুগে নারীরা শিক্ষিত ছিলেন। ঋক বেদের শ্লোক থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে নারীরা পরিণত বয়সে বিবাহ করতেন এবং সম্ভবত স্বয়ম্বরা নামক প্রথায় নিজের স্বামী নির্বাচনের বা গান্ধর্ব বিবাহ নামক প্রথায় সহবাসের স্বাধীনতা তাদের ছিল। ঋক বেদ, উপনিষদের মতো আদি গ্রন্থে বহু প্রাজ্ঞ ও ভবিষ্যদ্রষ্টা নারীর উল্লেখ আছে, গার্গী ও মৈত্রেয়ী যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।সামাজিক লিঙ্গ হল নারীত্ব ও পুরুষত্ব সংক্রান্ত ও এদের মধ্যস্থিত পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্যসমুহের সীমা। বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক দৃষ্টিকোণের উপর ভিত্তি করে উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোতে জৈবিক লিঙ্গ (নারী, পুরুষ কিংবা আন্তঃলিঙ্গ প্রকরণে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অবস্থা), যৌনতা-ভিত্তিক সামাজিক কাঠামো লিঙ্গ পরিচয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।ঐতিহ্যগতভাবে, যে সকল লোক মানুষকে পুরুষ বা নারী হিসেবে চিহ্নিত করে অথবা পুরুষ বা স্ত্রী লিঙ্গের সর্বনাম ব্যবহার করে তারা সাধারণত লিঙ্গ দ্বৈততার একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে, আর যারা এ সকল শ্রেণীর বাইরে থাকে তাদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক বিস্তৃত পরিভাষা হিসেবে অদ্বৈত পরিভাষা ব্যবহার করা হয়। কিছু সংস্কৃতিতে নির্দিষ্ট কিছু লিঙ্গ ভূমিকা আছে, যেগুলো নারী কিংবা পুরুষ হতে আলাদা, যেমন দক্ষিণ এশিয়ার হিজড়া জনগোষ্ঠী। এদেরকে প্রায়শই তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে নির্দেশ করা হয়।সমীক্ষা অনুযায়ী, সবাই না হলেও ৭৭ শতাংশ নারী প্রেমিক বা স্বামীর সঙ্গে প্রতারণা করেন।আবার উল্টোটাও ঘটে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রতিবেশীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। প্রতিবেশী বা ঘরের চাকর, ঝি যাকে পায় তাকেই চেপে ধরে পরকীয়া। সমীক্ষায় এও দেখা গেছে, পরকীয়ার জন্য অনেক ডেটিং অ্যাপ আছে। সেখানে ক্রমেই ভিড় বাড়ছে। ভারত ভিত্তিক কোন একটি অ্যাপে এখন সদস্য সংখ্যা ৬ লাখের উপরে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগের বয়স ৩৪ থেকে ৩৯। এদের মধ্যে আবার নারীর সংখ্যা বেশি।গবেষণা থেকে জানা যায়, বিবাহিত নারীরাই পরপুরুষের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন। এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। তারা একঘেয়ে জীবন থেকে কিছুটা বিরতি চান। কেউ কেউ একঘেয়েমি কাটাতে সমকামীও হয়ে যান।আমার বন্ধু সুমন বেশ পন্ডিত মানুষ। তার কাছে গেলে সে পরকীয়ার ইতিহাস বর্ণনা করল পুরোনো আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত। সে বললো,মহাভারতের আদিপর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সময়ে যে কোনও নারী ও পুরুষের মধ্যে যৌন সম্পর্ক-কে অস্বাভাবিক বলে দেখাই হত না। বরং যে কোনও নারীর সঙ্গে যে কোনও পুরুষের মিলন স্বাভাবিক বলেই মনে করা হত। এমনকী এক নারীর একাধিক পুরুষের সঙ্গে এবং এক পুরুষের একাধিক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক-কে মর্যাদা সহকারেই বিবেচনা করা হত।ইন্টারনেটের দৌলতে বাঙালি তথা সারা ভারত যৌনতা প্রদর্শনে সাবালক হচ্ছে।ছোট ছেলেমেয়েদের হাতে বড় ট্যাব, মোবাইল। এক ক্লিকে সহজেই পেয়ে যায় মম্মি সেক্স,গে,লেসবিয়ান বা ব্রাদার্স সিস্টারস সেক্স। হাসবেন্ড ওয়াইফ সেক্স যেন একঘেয়ে আনস্মার্ট সেক্স হয়ে পড়েছে। আমরা হায় হায় করছি কিন্তু দুনিয়া কি আমাদের হা হুতাশে থেমে থাকবে। অনেকে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কিন্তু বিষরয়টি গুরুত্বহীন নয়। এড়িয়ে যাওয়া জ্যেঠু আড়ালে হয়ত পরকীয়ায় মত্ত হাতির মত দাপাচ্ছেন কিন্তু সামনে ভিজে বেড়ালটি হয়ে আছেন। এমন ভাব যেন ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানেন না। প্রাচীনকাল থেকেই অসাম্য যৌনতা বা পরকীয়ার মত ঘটনা দেখা যায়। সাহিত্যে যৌনতার বিষয়ে অনেকের আপত্তি আছে কিন্তু যৌনতা থেকেও ভালো সাহিত্য হতে পারে। রে রে করে তেড়ে আসার কোন কারণ নেই। মহাভারত,রামায়ণ বা অনেক সাহিত্যে যৌনতার বিষয় খোলাখুলিভাবে বলা আছে।তাহলে বর্তমান সাহিত্যে যৌনতা খোলাখুলিভাবে বর্ণনা করলে তাকে চটি বই বলার কোন অর্থ হয় না। কামলীলায় পুরুষদের প্রাধান্য আর বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যাবে না। নারী তলে আর পুরুষ উপরে এই প্রথার অবসান হতে চলেছে। অবশ্য অনেক পুরুষ নারীকে উপরে স্থান দিয়ে বেশি তৃপ্ত হয়।যাক এবার আলোচনা করব পুরোনো প্রথা নিয়ে। কাম পরিপূর্ণ হয় ভালোবাসা থাকলে। তা না হলে যান্ত্রিক নিয়মে পরিণত হয়।বিদ্যাপতির মাথুরের একটি বহু পরিচিত পদ, এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর। পরপুরুষের প্রতি বিরহের বোধ আসলে সুখের। সুখ এবং দুঃখ দুই ই। অর্থাৎ প্রেমের তীব্র না পাওয়াও একরকম পরকীয়ার সন্ধান দেয়, এক গভীর আত্মকেন্দ্রিকতা মুক্তি পায়, আহ্লাদ হয় নতুন কামলীলায়, অনুভবনের মধ্যে নিজেকে আবিষ্কারের। পূর্বের মিলনস্মৃতি হেরে যায় নবকামরূপ নদীর কাছে।পুরুষর ও নারি নিজেদের শারীরবৃত্তীয় হরমোনের কারণে, সুখ বা দুঃখে উপনীত হয় । কামলীলা শুধু সুখ নয়, প্রচন্ড দুঃখেরও মূল কারণ। উৎস হল এই বিরহের পদটি।রাধা বললেন, “ঝম্পি ঘন গরজন্তি সন্তত, ভুবন বরিখন্তিয়া, কান্ত পাহুন কাম দারুণ, সঘন খরশর হন্তিয়া।”প্রকৃতি রাজ্যে এই মিলনের উৎসব, অথচ আমার গৃহ শূন্য। রাধা তখন নিজের জন্য এক নতুন স্বপ্নলোক বুনলেন। মনে পড়বে আলব্যর কামু র সেই বিবাহিত মহিলার নিশাচরবৃত্তি। এ হেন অ্যাডাল্টেরি ১৫,১৬ শতকের মহিলাকে সাজে কিনা তা ভাবার অতীত। কিন্তু বিদ্যাপতি রাধাকে বিন্দাস একক আত্মরতিতে মগ্ন করে সুখানুভবে ব্রতী দেখালেন। হয়ত কবির অন্তরে কবির সচেতন দৃষ্টি তখনো সক্রিয়তা শেখেনি। এ হল সেই অর্ধমাগধী, যা তোমার আছে আর যা নেই দুইই। ভাষার বা শব্দের সিগনিফায়ার ও সিগনিফায়েড দুইই কবির অপুষ্ট অবচেতনের সংকেতজনিত। এ ভাষা তাই আজও পারিনি আমরা ডিকোড করতে। ফ্রয়েডের পিতৃতান্ত্রিক ভুল দিয়ে একে পড়া সমীচীন নয়। কারণ, যিনি কলম ধরেন, তিনি এখানে একমাত্র ভাবয়িতা নন। মনের অনেক আয়না। সর্বোপরি, প্রেয়সীর অসহায় অস্বীকার, সামাজিক নিষেধ, নিজেকে নিষেধ, এ সবই এখানে বহুস্তরীয় মননশীলতার গতিস্পন্দ তৈরি করেছে। তাই যাকে রাধা বলে ডাকা হল, সে আসলে এ সবের মিলিত একটি বাসনাপূরণের ডিল্ডো। সেক্স টয়। সেমিওটিক বিশ্বে হয়ত এই আমাদের প্রাচীনতম সাংকেতিক পুনর্বাসন। পৃথিবীর সেরা নিষিদ্ধ বস্তু বা ট্যাবু। তাই পলিঅ্যান্ড্রিকে ১৭ ও ১৮ শতকে গৌড়ীয় দর্শনের সাহায্য নিয়ে আমরা বৈধ করে নিলাম। আর নষ্ট করলাম আমাদের ইমপারফেক্ট্ যৌনতার প্রকৃত প্রমাণ। দস্তখত মিটিয়ে দিলাম চৈতন্যচরিতামৃত দিয়ে। চতুর্থ পরিচ্ছেদ আদিলীলা ও ৮ম মধ্যলীলায় বারংবার বলতে হল, আসলে রাধা হলেন কৃষ্ণের একটি শক্তি। হ্লাদিনীশক্তি, যা ত্রি শক্তির মূল নিয়ন্ত্রী। তিনি পরা শক্তির অন্যতমা, স্বকীয়া। পরকীয়া নন।ইন্দ্রের সঙ্গে সরস্বতীর সম্পর্ক যেমন ঘনিষ্ঠ তেমনি ঘনিষ্ঠ মরুৎ ও অশ্বিনীদ্বয়ের সঙ্গে। সরস্বতী কখনো ইন্দ্রের পত্নী আবার কখনো শত্রু, কখনোবা ইন্দ্রের চিকিৎসক। ঋগ্বেদেই আবার যে বাক-দেবীর সাথে ব্রহ্মার যৌনসংসর্গ দেখানো হয়েছে, সে বাক-দেবী সরস্বতী ভিন্ন আর কেউ নন।ইন্দ্র তার গুরুপত্নীকে গুরুর রূপ ধরে ধর্ষণ করায় তার দেহে সহস্র যোনীর চিহ্ন প্রকট হয়ে ফুটে ওঠে ঋষির অভিশাপে।পক্ষান্তরে, কোন কোন পুরাণকারের মতে ব্রহ্মা স্বীয় কন্যা সরস্বতীর সাথে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হন। কলকাতার জাদুঘরে রক্ষিত এক সুপ্রাচীন মূর্তিতে এর পক্ষে প্রমাণ মিলে, যেখানে দেখা যায় ব্রহ্মার বামজানুর উপর সরস্বতী বসে আছেন এবং তাঁর এক হাত ব্রহ্মার কাঁধে জড়িয়ে বেশ ঘনিষ্ঠ। নেপালে চতুর্দশ শতকের পাওয়া এক শিলালিপিতে আছে দেবী বন্দনা – “সারদা তুমি মাতৃরূপী, তুমি কামমূর্তি”! সারদা সরস্বতীরই নাম। এতো দেবতার সান্নিধ্য পেয়েছেন বলেই হয়তো মকবুল ফিদা হুসেনের আঁকা সরস্বতীর গায়ে কোন আব্রু নেই। অজস্র যৌনতা বা কামজ কাহিনি ছড়িয়ে আছে ভারতীয় পুরাণের পরতে পরতে। যার কারণে মেঘদূত, গীতগোবিন্দ সহ প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় কাব্যেও দেহজ রূপ বর্ণনার ছড়াছড়ি। চোখ-নাক-ঠোঁট-মুখ ইত্যাদি কম ধর্তব্য ছিল বিধায় পটল-বাঁশি-কমলার কোয়া-পানপাতা ইত্যাদি রূপকের তেমন পাত্তা দেখা যায় না। বরং পীনোন্নতবক্ষ-স্বর্ণাভ স্তনাগ্র-কদলীসদৃশউরু-বর্তুলাকার নিতম্ব ইত্যাদি রূপকের সেখানে জয়জয়কার। আর তাতেই যেন রূপের প্রকাশ আরো খোলতাই হয়েছে। আবার একইসাথে কুচ-জঘন-উরু এসব রীতিমত ভক্তিস্নাত হয়ে গেছে।তবে একথাও সত্য যে, প্রাচীন অনেক শব্দের ব্যবহার আজকাল সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ হয় বিধায় প্রাচীন শাস্ত্রপাঠে কোন কোন শব্দ পাঠকের মনে দ্বিধার জন্ম দিতে পারে। যেমন, প্রাচীন তন্ত্রমতে শিব দুর্গাকে বলছেন, “কুলবেশ্যা, মহাবেশ্যা, ব্রহ্মবেশ্যা প্রভৃতির মধ্যে তুমিই শ্রেষ্ঠ বেশ্যা। যোনিপীঠ সাধনায় তুমি প্রসন্না ও তুষ্টা হয়ে সাধকের সকল কামনা, বাসনা, অভীষ্ট সিদ্ধ করে থাকে। আদি নাম ছিল দেবর্ষি উশনা। গোড়ায় তিনি দেবদ্বেষী ছিলেন না। একবার দেবগণের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবার জন্য অসুররা দেবর্ষি উশনার মা ভূগুপত্নীর আশ্রমে আশ্রয় নিয়েছিল। দেবতারা সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি। বিষ্ণু তখন তার চক্র দিয়ে ভৃগুপত্নীর শিরচ্ছেদন করেন। এই ঘটনার পর দেবর্ষি উশনা দেবদ্বেষী হন। একদিন তিনি যোগবলে কুবেরকে বদ্ধ করে তার সমস্ত ধন অপহরণ করেন। কুবের মহাদেবের কাছে অভিযোগ করে। মহাদেব কুবেরের অভিযোগ শুনে শূল হস্তে উশনাকে মারতে আসেন। উশনা মহাদেবের শূলের ডগায় আশ্রয় নেন। মহাদেব উশনাকে ধরে মুখে পুরে গ্রাস করে ফেলেন। তার ফলে উশনা মহাদেবের পেটের ভিতর থেকে যায়। মহাদেব মহাহদের জলের মধ্যে দশ কোটি বৎসর তপস্যা করেন। পেটের ভিতর থাকার দরুন, এই তপস্যার ফল উশনাতেও অর্শায়। মহাদেব জল থেকে উঠলে, উশনা মহাদেবের পেট থেকে বেরিয়ে আসার জন্ত বারম্বার প্রার্থনা করে। মহাদেব বলে তুমি আমার শিশ্নমূখ দিয়ে নির্গত হও। মহাদেবের শিশ্নমুখ দিয়ে নির্গত হওয়ার দরুণ, তার নাম হয় শুক্র। মহাদেব শুক্রকে দেখে আবার শূল দিয়ে তাকে মারতে যান। এমন সময় ভগবতী বলেন শুক্র আমার পুত্র। তোমার পেট থেকে যে নির্গত হয়েছে, তাকে তুমি মারতে পার না।কিন্তু কাহিনীটার শেষ এখানে নয়। হরিবংশ অনুযায়ী বিষ্ণু শুক্রের মার শিরচ্ছেদ করেছিলেন বলে শুক্রের পিতা মহর্ষি ভৃগু ক্রুদ্ধ হয়ে বিষ্ণুকে অভিশাপ দেন যে স্ত্রীবধ-হেতু পাপের জন্য বিষ্ণুকে সাতবার মনুষ্যলোকে জন্মগ্রহণ করতে হবে। তারপর তিনি মন্ত্রবলে শুক্রজননীকে আবার জীবিত করে তোলেন। এই ঘটনার পর দেবতারা ভীষণ ভয় পেয়ে যায়। সবচেয়ে বেশী ভয় পান ইন্দ্র। কেননা মহাদেবের আদেশে শুক্র ব্রহ্মচারী হয়ে তপস্যা করেছিলেন এক প্রার্থিত বর পাবার জন্ত ! ইন্দ্র শুক্রের এই তপস্যা ভঙ্গ করবার জন্য নিজ কন্যা জয়ন্তীকে শুক্রের কাছে পাঠিয়ে দেন। দীর্ঘকাল তপস্যার পর শুক্র তার ইন্সিত বর পান। এদিকে জয়ন্তীর ইচ্ছানুসেের শুক্র অদৃশ্য হয়ে থেকে জয়ন্তীকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করেন। সেই সুযোগে বৃহস্পতি শুক্রের রূপ ধরে অসুরদের মধ্যে আসেন ও অসুররা তাকে প্রকৃত শুক্র ভেবে গুরু হিসাবে সংবৰ্দ্ধনা করেন। অদৃশ্য অবস্থায় থাকাকালীন শুক্রের ঔরসে ও জয়ন্তীর গর্ভে দেবযানী নামে এক কন্যা হয়। শুক্র যখন ফিরে এল, অসুররা তখন তাকে চিনতে না পেরে তাড়িয়ে দেয়। তারপর যখন তারা বৃহস্পতির ছলনা বুঝতে পারল, তখন তারা শুক্রকে গ্রহণ করে তার কোপ নিবৃত্ত করল।দেবতাদের কামচরিত্র খুব দূর্বল ও ছলনাময়ী ছিল। অসুর বা মানুষ কুমুক হবে এটা স্বভাবিক কিন্তু দেবতাদের লুকিয়ে চুরিয়ে পরস্ত্রী বা কন্যার সঙ্গে যৌনমিলনকে আপনি কোন চোখে দেখবেন। তাহলে মানুষ লুকিয়ে চুরিয়ে মিলন করার শিক্ষা কার কাছে পেল। বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়ায় ভক্তির মাঝে। এইসব তথ্য পড়ে মনে হয় এখনকার নীলছবি নেহাতই ধার করা প্রতিচ্ছবি। আসলে বহুকাল আগে থেকেই যৌনশাস্ত্র পরিপুষ্ট। এখনকার ছেলেমেয়েরা ব্লুফিল্ম মোবাইলে বা কম্পিউটারে সার্চ করে দেখে নিজেদের আধুনিক প্রমাণ করতে চাইলেও আসলে এগুলি পৌরাণিক গল্প থেকে ধার করা বিদ্যা। যৌনাঙ্গ চোষণ,মর্দন,লেহন সবই সেকেলে বিদ্যা। নতুন কিছু আবিষ্কার করতে গেলে শুধু কামুক হলে হবে না, যথেষ্ট মগজেরও প্রয়োজন। আগামী কামলীলার আধুনিকিকরণ তাদের উপরই ন্যস্ত থাকুক।

    সুদীপ ঘোষাল নন্দনপাড় খাজুরডিহি পূর্ব বর্ধমান.

    তথ্য সংগৃহীত,উইকিপিডিয়া, বিভিন্ন পত্রপত্রিকা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *