Sudip Ghoshal

 211 total views

  1. #দীর্ঘ সময়ের ফসল

    (আগ্রহী বন্ধুদের জ্ঞাতার্থে)

    #কিছু কথা কিছু ব্যাথা —

    বাংলাভাষা- সাগরের একবিন্দু জল যদি স্পর্শ করতে পারি, সেই চেষ্টা থেকে লেখালেখির শুরু। আমার প্রিয় লেখকবৃন্দ,শ্রদ্ধেয় রবীন্দ্রনাথ বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর,শরৎচন্দ্র,মাণিক,নিমাই ও বনফুল ছাড়াও আরও অনেকে।এত পড়ার নেশা ছিলো যে চাকরির জন্য পড়তে ভুলে গেছি।জীবন টাকা ছাড়া অচল, এখন বুঝি। পড়ার নেশা ভালো কিন্তু হিসেব রেখে যে চলতে হয় বন্ধু। আর সে হিসেব জীবনে যে করতে পারে না সে হয়ে যায় আমার মত অসহায় এক তৃষ্ণার্ত চাতক।

    আমি স্নাতক হয়েছি হাওড়া শহরের নরসিংহ দত্ত কলেজ থেকে ১৯৮৫ সালে। তার আগে থেকেই লেখলেখি শুরু করি।থাকতাম লিলুয়া শহরে বাবার চাকরিসূত্রে। তারপর কাটোয়া শহরে আসি ২০০৩ সালে। কাটোয়ায় সকলের সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করি ২০০৬ সাল থেকে। এখনও অনেকেই আমাকে চেনেন না। সম্ভবও নয় সকলের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। নানা সাহিত্য অনুষ্ঠানে গেলে পরিচয় বাড়ে। কিন্তু কাজের চাপে শরীরে কুলোয় না। স্পন্ডেলাইটিস আছে। ফলে কলকাতার কফি হাউস বা শিয়ালদহের অনেক অনুষ্ঠানে আমি প্রাপ্ত পুরষ্কারগুলি আনতে পারি নি। এর জন্যে তাঁদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।দু একজন প্রায় জোর করে অর্থের বিনিময়ে পুরষ্কৃত করেছেন বা দিতে চেয়েছেন তাদেরকে বলতে ইচ্ছে হয়, নকল সাজে কি প্রয়োজন? আমার ছেঁড়া জামা অনেক ভালো।আমি আমার মত। পুরষ্কার পাওয়ার মত যোগ্যতা আমার নেই।
    পুরষ্কার নিতে রাজি নই। কারণ প্রথমত, আমি লিখতে জানি না,লিখতে শেখার বা পড়ার চেষ্টা করি।। অবসর সময়ে পরনিন্দা বাদ দিয়ে লেখার চেষ্টা করি। সময়টা ভালো কাটে। মন ভালো থাকে। দ্বিতীয়ত, আমি আমার মত থাকতে চাই।এটা অহংকার নয় আমার একান্ত মনের কথা বলতে পারেন।
    যারা লেখেন না তাদেরও বলছি, নিজের জীবনের কথা লিখুন, দেখবেন ভালো লাগবে। আমিও সেই দলের। নিজের জীবনের কথা লিখি,বন্ধুদের কথা লিখি, গাছ, পশু,পাখি, আকাশ,বাতাস,সকলের কথা লিখি।” যশ, প্রতিষ্ঠা শূকরীবিষ্ঠা” –গায়ে মাখতে ভালো লাগে না। আড্ডায় আমাকে চা আনতে বললেও এনে দেবো বন্ধুদের ভালোবাসায়।আসলে ভালোবাসা ধরে রাখাটাই মূলকথা।

    নিজের লেখার কথা বলতে গিয়ে লজ্জা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবু হিসাব রাখতে হয়। তা না হলে একই লেখা দু জায়গায় গেলে প্রকাশক ক্রুদ্ধ হন। টাকাপয়সা বড় কথা না হলেও লিখে কিছু আয় করলে মন্দ কি? সব লেখককে কিছু পারিশ্রমিক দিতে পারলে প্রকাশকের ভালো লাগে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও আছে। যাইহোক ১৯৯০ থেকে আজ পর্যন্ত কিছু উপন্যাস প্রকাশিত হলেও আমি তৃপ্ত নই।এই কারণে যে লেখার মত লিখতে পারলাম কই? বয়স বাড়ছে লেখা কমছে। তবে চেষ্টা করা ছাড়া গতি নেই। বাকিটা প্রণম্য পাঠকের হাতে ছেড়ে দিলাম। লেখাগুলির শব্দসংখ্যা ছিলো ত্রিশ হাজার থেকে দেড়লক্ষের মধ্যে। উপন্যাসিকাগুলি ৭৫০০ থেকে ৮০০০ শব্দের মধ্যে।

    ১) পান্ডুলিপি ওয়েবজিন –কর্কটকাল, ২)ভয় নেই অভয় আছে
    ৩) তান্ত্রিক পিসেমশাই ও আমরা দুজন — টেক টাচ টক ওয়েবজিন
    ৪) সৃষ্টিসুখ- উপন্যাসিকা ৪ টি
    ৫) এবং ছাপাছাপি -উপন্যাসিকা– তিনটির সংকলন
    ৬) ময়ূরাক্ষীর মিলনগাথা- ময়ূরাক্ষী পাবলিকেশন
    ৭) বইসই — দুটি উপন্যাস
    ৮)মিলনের পথে – প্রতিলিপি
    ৯) করোনাগ্রহের কথাকলি- সুইফটস বুকস
    ১০)জননী জন্মভূমিশ্চ- বইসই
    ১১) বাঘাযতীনের জাহাজ – জয়ঢাক
    ১২) হৃদয়কুসুম- স্টোরি আ্যন্ড আর্টিকেল
    ১৩)পটচিত্র–স্টোরি আ্যান্ড আর্টিকেল
    ১৪) ক্যাপটেন শ্যাম ও পোষা ভূত- বাংলা ক্যানভাস।
    ১৫) জীবনশয্যার নকশিকাঁথা – ধূসরবেলা
    ১৬) শঙ্কর ফিরে এলো ও জিহাকাংচু – উপন্যাসিকা- ধুলামন্দির।
    ১৭) খুঁজি মনের মাণিক – অংশুমালি( বার্লিন)
    ১৮) ঈশানীপাড়ের ইতিকথা- অংশুমালি
    ১৯) হে প্রেম – প্রভাত ফেরী পত্রিকা থেকে বড়গল্প প্রকাশিত। ( সিডনি)।
    ২০) মধুবনি – স্টোরি আ্যন্ড আর্টিকেল
    ২১) নদীজীবন- কৃত্তিবাসী ওয়েবজিন
    ২২) মেছোপেত্নী ও দুটি তেচোখা মাছের গল্প,বড়গল্প- থার্ড আই
    ২৩) একটি উপন্যাসিকা– ঋতবাক
    ২৪) কবির একুশ বসন্ত- ম্যাজিক ল্যাম্প

    ২৫)অণুগল্প সংকলন- আলপনা প্রকাশন
    ২৬)অণুগল্প সংকলন- পারক প্রকাশনী
    ২৭) তিন এ নেত্র- এবং ছাপাছাপি
    ২৮) অন্তরে আলো জ্বলে- সৃষ্টিসুখ
    ২৯)করোনাবেলার কথাকলি- সুইফটস বুক
    ৩০) খুঁজি মনের মাণিক- স্টোরি আর্টিকেল।
    ৩১) হিমযুগ– কথাকাহিনী ওয়েবজিন
    ৩২) হৃদমাঝারে – অর্বাচীন ওয়েবজিন
    প্রকাশের পথে যে বইগুলি তার তালিকা নিম্নে দিলাম।
    ১) অজয়পাড়ের উপকথা
    ২) হৃদমাঝারে
    ৩) গল্প সংকলন
    ৪)অণুগল্প সংকলন
    ৫) মহাজীবনের মণিকথা
    ৬) দশটি উপন্যাসের সংকলন
    ৭) পরিযায়ী শ্রমিক
    ৮) কোভিড নাইনটিন
    ৯) মিলনমেলার মাঠ
    ১০) আলোরঙের জীবনমালা
    ১১) উজান ভাটি
    ১২) ঘাসের শেকল
    ১৩) সত্যান্বেষী সুমন
    ১৪) জীবনরেখার চিত্রকথা

    সুদীপ ঘোষাল
    পূর্ববর্ধমান

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *