Sudip Ghoshal

 89 total views

স্বপ্নবিষয়ক কিছু কথা
সুদীপ ঘোষাল

মাঝে মাঝে স্বপ্নে দেখি,আমার সমস্ত দাঁত খুলে গেছে মাড়ি থেকে আর মুখভর্তি দাঁত নিয়ে আমি কথা বলতে পারছি না।আবার কোনদিন দেখি উড়ে উড়ে যাচ্ছি পাখির মত। দুম করে মাটিতে আছাড় খেলেও লাগছে না একদম।স্বপ্ন হল ধারাবাহিক কতগুলো ছবি ও আবেগের সমষ্টি যা ঘুমের সময় মানুষের মনের মধ্যে আসে। এগুলো কল্পনা হতে পারে, অবচেতন মনের কথা হতে পারে, বা অন্য কিছুও হতে পারে, শ্রেণীবিন্যাস করা বেশ কষ্টকর। সাধারনত মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখে, তবে সবগুলো মনে রাখতে পারে না।স্বপ্নের অর্থ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন লোক ভিন্ন ভিন্ন মতামত পোষণ করেছে যা সময় এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছে। অনেকেই স্বপ্ন সম্পর্কে ফ্রয়েডীয় তত্ত্বকে সমর্থন করেন যে স্বপ্ন মূলত মানুষের গোপন আকাঙ্ক্ষা এবং আবেগগুলির বহিঃপ্রকাশ । অন্যান্য বিশিষ্ট থিওরিগুলোতে সুপারিশ করা হয়েছে যে স্বপ্ন মেমরি গঠন, সমস্যা সমাধান এবং মস্তিষ্ককে সক্রিয়করণ করতে সাহায্য করে । প্রায় ৫০০০ বছর আগে মেসোপটেমিয়ায় স্বপ্ন সম্পর্কে যে প্রাচীন রেকর্ডগুলি পাওয়া গিয়েছিল তা মূলত কাদামাটি দিয়ে তৈরি ট্যাবলেটগুলিতে নথিভুক্ত ছিল। গ্রিক এবং রোমান যুগে মানুষ বিশ্বাস করতেন যে স্বপ্নগুলি এক বা একাধিক দেবতার কাছ থেকে প্রত্যক্ষ বার্তা অথবা মৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে আসা বার্তা যা প্রধানত ভবিষ্যদ্বাণী হিসাবে গণ্য করা হতো । কিছু কিছু সংস্কৃতির লোক স্বপ্নের চর্চা করত স্বপ্ন চাষের উদ্দেশ্য ।
চীনা ইতিহাসে, মানুষ আত্মার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে লিখেছিলেন, যার মধ্যে একটি স্বপ্নের রাজ্যে যাত্রার সময় শরীর থেকে মুক্তি পায় এবং অন্যটি দেহে অবস্থান করে, যদিও শুরু থেকেই এই বিশ্বাস ও স্বপ্নের ব্যাখ্যা দার্শনিক ওয়াং চং (২৭- ৯৭ খ্রিষ্টাব্দ) দ্বারা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। ৯০০ এবং ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে লিখিত ভারতীয় পাঠ উপনিষদে স্বপ্নের দুটি অর্থের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। প্রথমটি বলে যে, স্বপ্ন হল মনের ভিতরের নিছক ইচ্ছার অভিব্যক্তি মাত্র। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ঘুমের সময় আত্মা দেহ ত্যাগ করে এবং জাগ্রত হওয়ার আগ পর্যন্ত ঐটি দ্বারা দেহ পরিচালিত হয়।

গ্রিকরা মিশরীয়দের সাথে তাদের বিশ্বাসকে এক করে নিয়েছিল, যেমন কীভাবে ভাল ও মন্দ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা যায় এবং স্বপ্নগুলোকে সন্নিবেশ করা যায়। গ্রিকের স্বপ্ন দেবতা মরফিয়াস, যারা মন্দিরগুলিতে ঘুমাতো তাদের জন্য সতর্কবাণী ও ভবিষ্যদ্বাণী পাঠিয়েছিলেন। স্বপ্নের ব্যাপারে গ্রীকদের প্রাথমিক বিশ্বাস ছিল যে, তাদের দেবতারা স্বপ্নদর্শীদের কাছে সশরীরে দেখা দিতেন, যেখানে তারা কীহোলের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতেন, ঐশ্বরিক বার্তা দেওয়ার পর একই ভাবে তারা প্রস্থান করতেন।

পঞ্চম খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে এন্টিফন স্বপ্ন নিয়ে প্রথম গ্রীক বই লিখেছিলেন। সেই শতাব্দীতে, অন্যান্য সংস্কৃতি গ্রিকদের বিশ্বাসকে প্রভাবিত ছিল যে, আত্মা ঘুমানোর সময় শরীর ছেড়ে চলে যায়। হিপোক্রেটিক স্বপ্ন নিয়ে একটি সহজ তত্ত্ব দিয়েছিলেন: দিনের বেলা মানুষের আত্মা স্বপ্ন সংক্রান্ত চিত্র গ্রহণ করে এবং রাতের বেলা পূর্ণাঙ্গ একটি ছবিতে রূপদান করে। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল বিশ্বাস করতেন যে স্বপ্ন হল শারীরিক কার্যকলাপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *