Sudip Ghoshal

রেডিও
সুদীপ ঘোষাল

এমন একদিন ছিল যখন রেডিও না থাকলে মন খারাপ হয়ে যেত।ভোরবেলায় মহালয়া শোনা, গান শোনা,নাটক শোনা এক অনন্য অনুভূতির ব্যাপার।আমার মা রেডিও তে নাটক শুনতেন। কখনও হাসতেন আবার কখনও বা কেঁদে ফেলতেন নাটক শুনে। ১৯৪৭ যখন ভারত স্বাধীনতা লাভ করলো তখন অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ১৮টি ট্রান্সমিটার সহ ৬টি সম্প্রচার কেন্দ্র ছিল। বেতার সম্প্রচারের ব্যাপ্তি ছিল ভৌগোলিক পরিসীমার ২.৫% এবং জনসংখ্যার ১১%। ভারতের স্বাধীনতার পর অল ইন্ডিয়া রেডিও’র দ্রুত বিকাশ ঘটে।
বর্তমানে অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ১৪৪টা মিডিয়াম ট্রান্সমিশন, ৫৪টি হাই ফ্রিকোয়েন্সী এবং ১৩৯টি সহ ২১৫টি সম্প্রচার কেন্দ্র সমন্বয়ে সম্প্রচার নেটওর্য়াক চালু আছে। অল ইন্ডিয়া রেডিও ভৌগোলিক পরিব্যাপ্তির ১৯.৪২% এবং ৯৯.১৩% জনসংখ্যাকে এই সম্প্রচার সেবা দিয়ে যাচ্ছে । অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যার জন্য অল ইন্ডিয়া রেডিও ২৪টি ভাষা এবং ১৪৬টি আঞ্চলিক ভাষায় এবং আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের জন্য ১৭টি ভারতীয় ও ১০টি বিদেশী ভাষা সমন্বয়ে সর্বমোট ২৭টি ভাষায় বেতার সম্প্রচার করছে।

এর পরে, ইউনেস্কো প্রথম এই দিনটি ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১২ বিশ্ব রেডিও দিবস হিসাবে পালন করে। তার পর থেকে বিশ্ব বেতার দিবসটি সারা বিশ্বে পালিত হতে শুরু করে। প্রকৃত পক্ষে ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ রেডিওর বার্ষিকীও। এটি ১৯৪৬ সালে একই দিনে শুরু হয়েছিল। প্রতি বছর ইউনেস্কো সারা বিশ্বের সম্প্রচারক, সংস্থা এবং সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় রেডিও দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এছাড়াও এই দিনে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে রেডিওর গুরুত্ব আলোচনা করা হয় এবং সচেতনতা ছড়িয়ে পড়ে। এটি আরও অবহিত করা হয় যে রেডিও এমন একটি পরিষেবা যার মাধ্যমে কেবল রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিই বলা যায় না। বরং, দুর্যোগের সময় যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমগুলি ব্যাহত হলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদেরও সহায়তা করা যেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *